সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিষয় চতুর্থ শিল্পবিপ্লব



চতুর্থ শিল্প বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, মেশিন লার্নিং, ইন্টারনেট অব থিংস, বায়োটেকনোলজির সঙ্গে অটোমেশন প্রযুক্তির মিশেলে শুরু হয়েছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব।  চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আধান হচ্ছে ৫ বা ৬ ইঞ্চির স্মার্টফোন। এটার মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সব যায়গায় বিস্তার লাভ করবে। যারা এটার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে, তারা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অংশীজন হতে পারবে। আর যারা বেঠিক ব্যবহারে নিজের সময়কে স্বহস্তে হত্যা করবে, তারা দাড়িয়ে থেকে অন্যদের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে পড়বে।


স্মার্ট ফোন সহজলভ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত, ব্যক্তিগত কম্পিউটারের আধিক্য ছিল। বর্তমানে অফিস-আদালতের দৈনন্দিন কাজ-কর্মের একটি বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছে স্মার্টফোন। তাছাড়া, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন তো পুরোটাই ঢুকে গেছে স্মার্টফোনের মধ্যে। বলতে দ্বিধা নেই, একটা সময় দেখা যাবে স্মার্টফোন নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থার বাইরে সস্তা প্রতিযোগিতার বাজার ব্যবস্থায় মাইক্রো বা ম্যাক্রো ডিভাইসের দাপটে ব্যয়বহুল ও সামান্যতম ভারি বস্তুও ঝেঁটিয়ে বিদায় নেবে। কারণ, মানুষ স্বভাবতই আরামপ্রিয় ও ফাঁকিবাজ। এখন তো লেখালেখিরও প্রয়োজন নেই। মোবাইলে স্ক্যানার এপ্লিকেশন দিয়ে ছবি তুলে অন্য একটি টেক্সট রিকগনিশন এপস দিয়ে সহজেই প্রয়োজনীয় লেখাটাকে কপি করে ওয়ার্ড এপসে প্রুফটা দেখে নিলেই হচ্ছে। তাছাড়া, ইন্টারেট কেন্দ্রিক সব ধরনের কার্যক্রম স্মার্টফোন দিয়ে করা যায়। ওয়ার্ড, এক্সেল, প্রিন্ট, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের কাজও করা যায় স্মার্টফোন দিয়ে। কত কিছুই না করা যায় ৫ বা ৬ ইঞ্চির স্মার্টফোনে। একের ভেতর দুনিয়া! শুধু আপনার ইতিবাচক মানসিকতা আর সদিচ্ছা থাকলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অংশীজন হতে পারবেন। তা না হলে, প্রতি পদে পদে লাত্থি-উষ্ঠা খেতে খেতে মরবেন। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার না জানলে, সামনে যে দিন আসছে, তাতে করে অদক্ষ লোকগুলোর সরকারী নোঙর-খানা খেয়ে অপমানিতের জীবন-যাত্রা নির্বাহ করা লাগবে বলে মনে হচ্ছে। নিজেকে প্রশ্ন করুন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অংশীজন হতে আপনি প্রস্তুত কিনা?