সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা (৬৯১-৭১৫)


৬৯১. না জেনে-বুঝে কাজ করা, কথা বলা; অন্ধ লোকের দৌড়াদৌড়ির মত। ঠুলোঠুলি খেয়ে হাত-পা, মাথা ফাঁটানো ছাড়া কিছুই হয়না।
৬৯২. সবাই অন্যদের নিয়ে ব্যস্ত। নিজের কাজটা কেউ ঠিকমত করে না। অথচ, সবাই নিজেকে দেশপ্রেমী বলে গর্ববোধ করতেও কুণ্ঠিত হয় না। আপনি নিজের কাজটা ঠিকমত করুন; তবেই সেটা হবে আসল দেশপ্রেম। কাজ না করলে উন্নতি আসে না। তাই আপনি যদি দেশপ্রেমিক হতে চান, তবে আপনাকে নিজের কাজটা ঠিকমত করতে হবে। কাজ না করে স্বাধীনতা খোজা, সরকারকে দোষারোপ করা, মূর্খদের কাজ। নিজের কাজটা ইতিবাচক ও সৎভাবে করুন। দেখবেন, চাওয়ার তুলনায় আপনি অনেক বেশি পেয়ে গেছেন।
৬৯৩. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনার সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাধীনে। এই বাংলার মাটিতে শিক্ষিত চোরদের শিকড় সমূলে উৎপাটিত হবে ইনশাল্লাহ! প্রক্রিয়াটি চলছে! এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। বর্তমানে দূর্নীতি ও দলের নাম ভাঙিয়ে যারা সন্ত্রাসী ও অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘটন করে আসছিল এবং যারা সাধারন মানুষকে নানাভাবে হেনস্থা করে আসছিল, তাদের বিরুদ্ধে যে শুদ্ধি অভিযান ও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজীরবিহিন একটি ঘটনা হয়ে থাকবে। অতীতে আর কোন সরকার প্রধানের এরকম সৎ-সাহস ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব ছিল না; ইতিহাস পাঠে জানা যায়।
৬৯৪. মূর্খ মানুষ আর গরুর লাঙল সমান। যারা গরুর লাঙল দেখেছেন, তারা জানেন যে, ঐটা বিশাল যায়গা জুড়ে যায়। কিন্তু, চাষ হয় খুব সীমিত যায়গা। অশিক্ষা এক জিনিস, আর মূর্খতা আর এক জিনিস। শিক্ষিত লোকও মূর্খতায় লিপ্ত হতে পারে। আবার একাডেমিক শিক্ষা নেই। কিন্তু, স্বশিক্ষায় শিক্ষিত বহু লোককে আমি জানি। যারা এত সুন্দর ও যৌক্তিক কথাবার্তা বলেন যে ভাবতেই অবাক লাগে।
৬৯৫. জানি না জীবনটা ঘটনাবহুল কিনা। তবে এটা জানি যে, কষ্টগুলো ঘটনাবহুল। আরো কষ্টদায়ক হচ্ছে, কষ্টগুলো রাখার মত স্পেস এত বড় দুনিয়ায় নাই। আশ্চর্যজনকও বঁটে।
৬৯৬. একজন ব্যক্তি কেমন তা জানা যায় ৪টি জিনিস থেকে। যথাঃ ১. একাডেমিক জ্ঞান। ২. নিজস্ব জানাশোনা ও বোধের পরিধি। ৩. পারিবারিক জীবন কাঠামো। ৪. সামাজিক ও মানসিক বিকাশের ধারা। কেমন বলতে তার ইচ্ছা-আকাঙ্খা, রুচি, অভিব্যক্তি, ব্যক্তিত্ব, আচার-আচারণ, চিন্তা-ভাবনার অবস্থান ইত্যাদি।
৬৯৭. আমি আমার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি হাইওয়ে দিয়ে। সুতরাং, কানাগলির গল্প বলে লাভ হবে না। ও পাতা অনেক আগেই পড়ে ফেলেছি। মুষলধারে বৃষ্টিপাতের পূর্বে যেমন একটা শান্ত-স্থির পরিবেশ বিরাজ করে; মেঘমালা ঘনীভূত হতে থেকে; এখন আমি ঠিক তাই।
৬৯৮. ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের একটা সুক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। যেটা বিজ্ঞানীরা স্বীকার করে নিলেও, ধার্মিকরা ধর্মকে বিজ্ঞান প্রমাণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু, সেটা কোনও দিনও সম্ভব নয়। কারন, বিজ্ঞান বিজ্ঞানই; আর ধর্ম ধর্মই। ধর্ম ছাড়া মানুষ চলতে পারে। কিন্তু, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ছাড়া মানুষের একপা চলাও এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এবার আসি ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের সুক্ষ্ম পার্থক্যটা নিরূপনে। বিজ্ঞান হচ্ছে, 'সঠিক তথ্য-উপাত্ত-উপাদানের ভিত্তিতে ব্যবহারিক প্রমাণ এবং এটা প্রতিনিয়তই পরিবর্তনশীল।' আর ধর্ম হচ্ছে, 'কিছু নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা রীতি সিদ্ধ প্রথা ও কালা-কানুনের গ্রন্থিত বিবরণ।' যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়; ধর্মীয় কারনে। যদিও বিজ্ঞান বলে এগুলো বিলকুল পরিমার্জন করে মানুষের জীবন-যাত্রা আরো বেশি সুন্দর করা সম্ভব।
৬৯৯. আমি সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত ও ব্যথিত হই দুটো জিনিসে। এক. অসভ্যতা। দুই. মূর্খতা। কারন, এ দু'বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন লোক কখনো মানুষের কাতারে উঠতে পারে না। অনেক সময়, এরা হিংস্র জন্তু-জানোয়ারের চেয়েও খারাপ হয়ে ওঠে।
৭০০. বন্ধু হতে গেলে বন্ধুসূলভ আচার-আচরণের অধিকারী হতে হয়। অধিকাংশ মানুষের মধ্য এটা নেই। এজন্য বন্ধুত্বের সম্পর্কগুলো একপাক্ষিক নেতিবাচক স্বার্থবাদী হয়ে ওঠে।
৭০১. আপনি যদি টাকার কাঙাল হয়ে থাকেন; তাহলে ব্যবসা করুন। আর যদি দেশপ্রেমিক হোন তাহলে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করুন। আর যদি জ্ঞানের পাগল হোন; তাহলে শিক্ষক বা সাংবাদিক বা গবেষক হোন। আর যদি নিজস্বতা আবিষ্কার করতে না পারেন তাহলে চাকরি করুন।
৭০২. নিজেকে এত বৃহৎ কিছু ভাবার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই। সবাই আপনাকে মূল্যায়ন করবে মানুষ হিসেবে। অপর পাশের মানুষটিকে অমানুষ, অসভ্য, ইতর ইত্যাদি আপনি ভাবতেই পারেন; কিন্তু, আপনিও তার কাছে ব্যক্তিগত আচার-ব্যবহারের কারনে না-মানুষ। মানুষকে সম্মান করুন 'মাথা মেপে'; সম্পদ মেপে নয়।
৭০২. বেশি বোঝা পাপ; কম বোঝা খারাপ; পরিমান মত বোধে জমে আলাপ।
৭০৩. পড়ালেখা না শিখে কর্ম জগতে প্রবেশ করা আর ঢাল ছাড়া তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধে নামা সমান!
৭০৪. আত্মসচেতনতার যুগ চলে এসেছে। নিজেকে না জানলে; দাড়িয়ে থেকে পিছিয়ে যাবেন।
৭০৫. আলো বাড়ানো যায় দু'ভাবে। এক. অন্ধকার যত বেশি, আলো তত বেশি। দুই. আলোর জ্যোতি বাড়ি নিলে অল্প অন্ধকারেও বেশ ভালো দেখা যায়। সুতরাং, অন্ধকার বাড়িয়ে সমূহ বিপদ বাড়ানোর দরকার নাই।
৭০৬. জীবনের একসেস কাউকে দিবেন না। মোবাইলের মত যাচ্ছেতাইভাবে ব্যবহার করে ফেলে দিবে।
৭০৭. স্বপ্ন বা জীবনে কিছু একটা হতে চাওয়ার ইচ্ছাটাকে যদি ধরি গতিশীল একটি যান্ত্রিক যান। তাহলে, অনুপ্রেরণা বা কর্মোদ্যামটা হচ্ছে তার ফুয়েল। আপনার পাশের মানুষটাকে একটু ফুয়েল ধার দিয়ে দেখুন; আমি নিশ্চিত, সে তার আপন গতিতে ইতিবাচক কর্মে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। আমরা মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে তার কর্মোদ্যামটাকে নষ্ট করে ফেলি না বরঞ্চ মানুষটার ইতিবাচক মানসিকতাকে হত্যা করি। ফুয়েল ছাড়া যন্ত্র-যান যেমন অচল, ঠিক তেমনি কর্মোদ্যাম ছাড়া মানুষ অচল। কর্মোদ্যাম মানুষের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মানুষের সম্ভাবনাকে কখনো ধ্বংস করবেন না। সম্ভাবনা একটি অলিখিত বা অদৃশ্য ব্যাপার। নির্দিষ্ট সময় পর বাস্তব হয়।
৭০৮. প্রব্লেম এণ্ড পলিউশন; দেন সার্চ মোর সলিউশনস। ইউজলেস ম্যান হইও না। জাস্ট থিংক আউট সাইড দ্যা বক্স। সঠিক যায়গায় করলে ফায়ার; মেজাজ হবে হায়ার। সলিউশনটাও বের হবে প্রোপার।
৭০৯. এখন আর মানুষ হত্যা ও সম্পদ ধ্বংসের যুদ্ধ চলে না। এখন যেটা হয় ডিপ্লমেটিক ওয়ার। কোনরূপ বাহ্যিক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই স্বার্থ উদ্ধার করার সহজ ও বিকল্প মাধ্যম ডিপ্লমেসি। ডিপ্লমেসি বিষয়টি শুধু রাষ্ট্রীয় ব্যাপার না। এটাকে মোডিফাই করে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে প্রয়োগ করে সুন্দর জীবন ও সমাজ বিনির্মান করা সহজেই সম্ভব।
৭১০. বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যেসব মানুষের অত্যধিক আকর্ষনবোধ কাজ করে; তারা ভালো কিছু করতে পারে না। সেটা ব্যক্তি জীবন, সমাজ জীবন এমনকি রাষ্ট্রীয় জীবনে। দিনের অধিকাংশ সময় তাদের কেঁটে যায় বিপরীত লিঙ্গের মানুষকে নিজের প্রতি আকর্ষিত করার কাজে। ভালো কাজটা করবে কখন! প্রকৃতির অস্বাভাবিক নিয়মানুযায়ী এরা বহুগামী।
৭১১. নারী মা হিসেবে তো মহানই। একটি শিশুকে সুন্দর করে গড়ে তোলেন। চেষ্টায় কোন ঘাটতি থাকে না। তাছাড়া, নারীরা একটি সংসারকে গুছিয়ে সুন্দর পরিবেশ দান করেন। আবার, গোড়া পুরুষতান্ত্রিক বদ্ধমূল ধারণার একটি যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত দেশকে পূনর্গঠনেও নারী সিদ্ধহস্ত। নারীকে গৃহবন্দি করে রাখলে একটি দেশ শত বছর পিছিয়ে যায় সভ্যতার আলো থেকে। এজন্য, গোড়াবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সৌদি আরব নারীকে তার স্ব-মহিমায় মহত্ব অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
৭১২. সাম্প্রতিক কিছু দূর্ঘটনা ও বেকারত্ব বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের কুত্তা-বিলাইয়ের চেয়েও নিচুতে ফেলে দিয়েছে। আগে মানুষ এদের সম্মানের দৃষ্টিতে দেখতো। এখন দেখছি কীট-পতঙ্গের মত মনে করে। আর যারা চাকরি পেয়েছে বা পাচ্ছে, এদের নিয়ে যারা পায়নি, তারা আরেক মুশকিলে পড়েছে। বিড়ম্বনার শেষ নেই। যারা চাকরি পেয়েছে, তারাই জানে কত ধানে কত চাল। কত চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সোনার হরিণের দেখা মেলে। কিন্তু, মূর্খের সমাজ এটা বোঝে না। এর বাইরে আপনি যদি স্বাধীন পেশা, অর্থাৎ ব্যবসায়ী বা উদোক্তা হতে চেষ্টা করতে চাইবেন তখন আরেক জ্বালা। এমনিতে বেকার, তার উপর ফান্ড কালেকশনের ঝামেলা। উপরি মূর্খের সমাজ মুখের উপর নেতিবাচক দু'কথা শুনিয়ে ছাড়বে। ল্যাও ঠ্যালা! মনে হবে, ইহলীলা যদি এখনই সাঙ্গ হতো তো ভালো হয়! আবার আপনি প্রতিষ্ঠিত হলে এরা আপনার পিছে তৈল-মর্দন করতে এক-একটা মস্ত উস্তাদ বনে যায়। আপনার পকেট যখন ফাঁকা এরা এমন একটা ভাব-সাব নিয়ে চলে যে তোমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট আছে তো কি হয়েছে! তোমার পকেট ফাঁকা মানে তুমি জিরো! আরে ভাই, টাকা দিয়ে সব কিছু বিচার করা যায় না। আজকের বেকারত্ব ক্ষনস্থায়ী। কিন্তু, আপনার আচারণের দায় আপনাকে সারাজীবন বহন করতে হবে। এর মধ্যে আরেক শ্রেণীর মানুষ রয়েছে। যেটা খুবই বিরক্তিকর ও কষ্টদায়ক এদের কাজ হচ্ছে আশ্বাসে বিশ্বাসভঙ্গ করা। আশা দিয়ে আশাহত করাই এদের নীতি। বিকল্প নষ্ট করার মহা উস্তাদ এরা। যাইহোক, অনেক কিছু বললাম। কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয়; সার্বিক একটা পরিস্থিতির বর্ণনা দিলাম মাত্র। ব্যর্থ মানুষের খবর কেউ রাখে না। সবাই সফলদের স্বপ্নগাঁথা শুনতে অভ্যস্ত। কিন্তু, ব্যর্থতা আপনাকে সবচেয়ে বেশি শেখায়। ব্যর্থতা আপনার পারিবারিক জীবন, সমাজ জীবন বিষিয়ে তুলবে। তবে, একদিন ব্যর্থতার অলি-গলি পেরিয়ে আপনি এক চিলতে নির্যাসে পরিণত হবেন। তখন সবাই আপনাকে নয়, আপনার অর্জিত নির্যাসটুকু শোষণ করার চেষ্টা করবে। এজন্য নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন। আপনার ভালোবাসাই আপনার জন্য যথেষ্ট। অন্যের ভালোবাসাটা হয় সামাজিকতার ফল; নতুবা, মেকি। নিজের ভালোবাসাটা আপনার জন্য একান্তই প্রয়োজন।
৭১৩. আমি একজন মানুষ। সমস্যার সমাধানে আস্থাবাদী। প্রয়োজনে সমস্যা খুঁজে তার সমাধান করি। এর বাইরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়তে ভালোবাসি। অবসরে আনন্দ করতে ভালোবাসি; যেটা আমার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
৭১৪. মানুষ হিসেবে আমি আপনাকে অসম্মান করি না। তবে, সম্মান দেয়ার সময় অবশ্যই আপনার মাথা মেপে সম্মান দেবো। কারণ, কচুর পাতায় পানি দাড়ায় না!
৭১৫. জ্ঞানী যোগ বুদ্ধিমান লোকেরা আশ-পাশের সব মানুষের সঙ্গে মেশে। কিন্তু নিজস্বতা হারায় না।