সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আত্মারাত্মীয় ও পরমাত্মীয়

একটি প্রবাদ আছে, 'বিপদে বন্ধুর পরিচয়'! কিন্তু, আপনি এটা পাবেন কিনা, সেটা নির্ভর করছে আপনার বন্ধু নির্বাচনের উপর! আপনার আপদকালে অধিকাংশই হাসি-ঠাট্টা করে, তামাশা করে মজা নিবে। এমনকি প্রতিশ্রুতি দিয়েও অনেকে আপনার সঠিক সময়ে সঠিকটা হতে না দিয়ে বিকৃত মজা লুটবে; এককথায় আপনার ক্ষতি করবে। হাজারো নেতিবাচক মানবের মাঝে দু'তিন বা চারজন মানুষ পাবেন; যারা বিপদের সারথি, পরমাত্মীয়। বাকিরা চটকদার বাক্যবাণে আপনাকে হতাশার সাগরে নিমজ্জিত করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকবে। আপনি যদি আপদমস্তক ইতিবাচক মানব সন্তান না হোন; তাহলে আপনি হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাবেন। বিকৃতমনারা আপনার এ অবস্থা দেখে বিনোদিত হবে। দুনিয়ার বাস্তবতায় একটি নিজস্ব প্রবাদ বলতে চাই, 'তোমার আছে, আমার আছে, আসো ভাই খায়! আমার আছে, তোমার নাই, কিসের বাড়ার ভাই।' আপনি যখন বিপদে পড়বেন, কিছু মানুষ আহা-উহু করবে। কিন্তু, কেউই একমুঠো ভাত দিয়ে বলবে না বাবা বা ভাই খাও। সময় থাকতে দক্ষতা বাড়ান। পূর্ব-পূরুষ হিসেবে উত্তর-পূরুষদের বলতে চাই, 'যে সমাজ ব্যবস্থা ভাত না দিয়ে, পেটে লাথি মারে; সে সমাজের মূখে ঝাঁটার বাড়ি মারেন।' দক্ষতা বাড়িয়ে নিজের ভাত উপার্জনের পথ, পরিবারের সদস্যদের ভালো রাখার পথ উপার্জন করুন। বই পড়ুন, পরিবারকে সময় দিন। ক্যারিয়ার প্লানিংয়ের জন্য নেটওয়ার্কিং করুন। বাউল গুরু লালন কিন্তু মহাবাণী দিয়ে গেছেন, 'সময় গেলে, সাধন হবে না।' এগুলো সব স্ব-ইচ্ছা-প্রণোদিত হয়ে করতে হবে; নিজের জন্য, পরিবারের জন্য। বাবা-মার সাথে কখনো ভুলেও দূর্ব্যবহার করবেন না; সব বর্বাদ হয়ে যাবে। তারা আপনার স্বর্গ। সব যায়গা থেকে প্রত্যাখ্যাত হবেন; কিন্তু, বাবা-মা আপনাকে দূরে সরিয়ে দেবে না কখনোই। এমনকি আপনি দূর্ব্যবহার করে থাকলেও না। মায়ের ক্ষেত্রে তো প্রশ্নই আসে না। বাবা-মাকে ভালোবাসুন; বাবা মা ক্ষমার মহা-উৎস। তাদেরকে সময় দিন; নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করুন। তাদের সঙ্গ আপনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করবে। বাবা-মা সন্তানের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। বাবা-মা আত্মারাত্মীয়। বাবা-মা আপনার মূল শেকড়। তাদেরকে ভুলে গেলে আপনি মূলহীন গাছের মত হয়ে যাবেন। একটু ঝড় লাগলেই পড়ে যাবেন, উঠে দাঁড়াতে পারবেন না। স্বার্থবাদীরা কেঁটে-কুঁটে দা-বঁটি করবে। এগুলো আবেগের বশে বলছি না। বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা বাবা-মার সাথে পরামর্শ করে কাজ করেন। একটু খোজ খবর নিলেই জানতে পারবেন।