যারা লেখালেখি করে তারা সুন্দর করে কথাও বলতে পারেন। কারন, লিখতে গেলে প্রচুর পড়তে হয়। দ্বিতীয়ত, লেখার পর লেখাটার প্রুফ দেখার সময় প্রত্যেকটা শব্দ থেকে বাক্য গঠনের ত্রুটি-বিচ্যূতি খেয়াল করতে হয়। যা কথা বলার সময় শব্দ চয়ন ও বাক্য গঠন নিয়ে খুব বেশি ভাবা লাগে না। তাছাড়া একজন লেখককে তার পাঠককে নিয়েও ভাবতে হয়। যা কথা বলার সময় শ্রোতা সম্বন্ধে ও তার দৃষ্টিভঙ্গিগত ব্যাপার নিয়ে খুব বেশি ভাবতে হয় না কথককে। কথোপকথন চলাকালে শ্রোতা সম্বন্ধে একজন দক্ষ লেখকের যে জ্ঞানার্জন বা অভিজ্ঞতা হয় তা লেখালেখির ক্ষেত্রেও তিনি দক্ষতার সাথে প্রয়োগও করতে পারেন। অনেকে বলে থাকেন যে লেখালেখিতে ভাত নাই। আমি বলি লেখালেখিতে ভাত না হলেও ভাত উপার্জনের পথটা বাতলে নেওয়ার মত ক্ষমতা বা শক্তি একজন লেখক অন্যদের চেয়ে ঢের অর্জন করতে পারেন; যদি সেই লেখকের সদিচ্ছা থেকে থাকে এবং যদি তিনি কর্মে অলস না হয়ে থাকেন। পৃথিবীতে সৎ ও স্বাধীন জীবনযাপনের জন্য লেখকদেরই সুযোগ-সুবিধা বেশি। তবে, কতিপয় উদাসীনতা অনেক ক্ষেত্রে তাদেরকে অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি দেয় না। লেখকের যেমন রয়েছে কর্মের স্বাধীনতা, ঠিক তেমনি রয়েছে অর্থনৈতিক মুক্তির সম্ভাবনাও। তবে, এটা একমাত্র জীবন-সচেতন লেখকরাই পেয়ে থাকেন। একজন লেখককে হতে হয় রাজনীতি সচেতন; কিন্তু, তিনি কখনোই রাজনীতিবিদ নন। রাজনীতি একটি আলাদা পেশার রূপ পরিগ্রহ করে। একজন রাজনীতিবিদ লেখালেখি করতে পারেন; কিন্তু, দিনশেষে তিনি একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিগণিত হবেন। তার পক্ষে পরিপূর্ণ লেখকীর স্বাদ পাওয়া অসম্ভব। তবে, একজন শিক্ষক কিন্তু একজন ভালো লেখকও হতে পারেন। কারন, তিনি অনেক পড়ালেখা করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বার্থে তাকে প্রচুর পড়তে হয় (যদিও অনেক শিক্ষক খুব কমই পড়ে থাকেন; তবে, তারা এ আলোচনার বাইরের উপাদান)। আর এই পড়াটাই লেখার মূল উপাদান। যার সাথে অভিজ্ঞতাটা ঝালাতে পারলেই হলো। লেখালেখির পিছে প্রত্যহ সময় ব্যয় করতে না পারলে কারো পক্ষে দক্ষ ও ভালো লেখক হওয়াটা দূরূহ ব্যাপার।
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।