কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের জন্য আপনাকে প্রচুর পড়ালেখা করতে হবে। অশিক্ষিত বা আধা-শিক্ষিত জীবন নিয়ে হতাশায় ভোগা জনগণ যখন আমাকে বলে, 'পড়ালেখা করে কি হবে?' তখন আমি একটা কথায় বলি, 'পড়ালেখা জীবনকে সুন্দর করে।' শিক্ষিত লোকের কৃতকর্ম আর একজন অশিক্ষিত বা আধা-শিক্ষিত লোকের কর্মকাণ্ড কখনো এক হয় না। অশিক্ষিত বা আধা-শিক্ষিত লোকের কর্মকাণ্ডে কখনো আপনি সৌন্দর্য খুজে পাবেন না। আচার-ব্যবহারের সৌন্দর্যের কথা তো বাদই দিলাম। তবে, এখানে আমি 'স্বশিক্ষার' কথায় বলছি। কারন, অধিকাংশ একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত লোকজন একাডেমিক জীবন শেষ তো পড়ালেখা শেষ বলে জানে। 'যে পড়তে জানে না, আর যে পড়তে জেনেও পড়ে না, উভয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এদের একজন অশিক্ষিত আর একজন আধা-শিক্ষিত ব্যক্তি বলে গণ্য।' একাডেমিক শিক্ষা আপনার জীবিকার সন্ধান দিতে পারে বড়জোর অথবা অকার্যকর শিক্ষিতের তকমা জুটিয়ে দিতে পারে। তবে, বহির্জাগতিক পড়ালেখার জগৎটাই আপনাকে জীবনবোধের সন্ধান দিবে। আপনার আচার-আচারন, কর্মকাণ্ড, চিন্তা-ভাবনা, ভাব-ভাবনার প্রকাশ প্রক্রিয়া নির্ধারণসহ কমিউনিটি নির্ধারণ করে দেবে একাডেমিক পড়ালেখার বাইরের পড়ালেখার জগৎ। একাডেমিক পড়ালেখার বাইরের পড়ালেখার কিছু আঙ্গিক তুলে ধরার চেষ্টা করছি। যথা,
ক. দৈনিক পত্রিকা পড়া। এটা প্রত্যেক জীবন-সচেতন ব্যক্তিমাত্রই করে থাকেন। অতিপতি করে দৈনিক পত্রিকা পড়াটা আপনার উন্নত ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ছাড়াও যেকোন ঘটনার পূর্বাপর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষন করতে শেখায়। যেটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে করে ইতিবাচক ও স্বাভাবিক।
খ. দৈনিক সাহিত্য পাঠ উন্নত মনস্তত্ত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে এই সাহিত্য। ভাবনার আকাশে বিচরণ করতে শেখায় সাহিত্য। সাহিত্য নিজস্বতাকে আবিষ্কার করতে শেখায়।
গ. জীবনী অধ্যয়ন স্বপ্ন দেখতে শেখায়। ধরুন, আপনি কোন বিখ্যাত ব্যক্তির জীবনী বা তার স্ব-ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঘটনাবলি অধ্যয়ন করলেন; এটা আপনার জীবনের উপর ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে; এতে কোন সন্দেহ নেই। বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের জীবনী অধ্যয়ন করলে জানা যায় তারা পূর্ববর্তী বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের জীবনী দ্বারা প্রভাবিত এবং তার ইতিবাচক জীবনধারাও অনেককে প্রভাবিত করবে; এটাই স্বাভাবিক।
ঘ. ইতিহাস পাঠ করলে যেকোন ব্যক্তির বিচক্ষণ দক্ষতা বাড়ে। যেটা প্রযুক্তি-প্রতারণার যুগে খুবই প্রয়োজন বলে বোধ করি। রাজ-রাজড়াদের জীবনধারা ও তাদের নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিঃসন্দেহে বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে নতুবা বিচক্ষনহীনতা তাদের অতলগহ্বরে নিক্ষেপ করেছিল তা উপলব্ধি করতে শেখাবে; এটাই বা কম কিসে!
ঙ. আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তির এসপার-ওসপার জানা না থাকলে আপনি যেকোন সময় পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নির্বোধ প্রমাণিত হবেন মূহুর্তে; এতে কোন সন্দেহ নেই। এমনকি প্রতারণা, হেনস্থার শিকারও হবেন মূহুর্তেই। এ পাঠ অতীব জরুরি।
চ. সর্বশেষ যে বিষয়টি উঠে আসে সেটা হচ্ছে, 'ভাষাগত দক্ষতা'। এটা না থাকলে আপনি নিজের কথাটুকু অন্যের কাছে উপস্থাপন করবেন কিভাবে ভেবে দেখুন তো একবার! নিজের ভেতরকার জড়তা কাটিয়ে নিজস্ব ভাব-ভাবনা সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করতে আপনাকে মোটামুটি দু'তিনটে ভাষার উপর দখল রাখতেই হবে। আমি দেখেছি, অধিকাংশই মাতৃভাষাতে দু'চার লাইন লেখা দূরে থাক গুছিয়ে কথাটুকুই বলতে অক্ষম। এ থেকে পরিত্রানের জন্য ভাষাগত দক্ষতা খুবই প্রয়োজন।
উপরিউক্ত বিষয়গুলো আপনাকে ব্যক্তিগত চর্চা ও প্রচেষ্টায় অর্জন করতে হবে। কেউই উদ্বুদ্ধ হয়ে আপনাকে দেবে না; সেটা সম্ভবও নয়। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো দিক-নির্দেশক মাত্র। বাকি সব করতে হবে আপনাকেই।