যদি বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিস্ময় কি? তাহলে একটাই উত্তর, আর তার কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ বলে কিছুই নেই। আর তা হচ্ছে, আপনি বেঁচে আছেন! মৃত্যু প্রতিনিয়তই আমাদেরকে তাঁড়া করে বেড়াচ্ছে। তবে, সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে কেউই মরতে চাই না; যদিও তাকে স্বর্গে পাঠানোর আগাম সন্দেশ প্রদান করা হয়ও! যেহেতু জন্মেছেন, সেহেতু মরতে আপনাকে হবেই। মানুষ মাত্রই স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করে (বাধক্যজনিত কারণে নিজের তৈরি ঘরে শুয়ে মরতে পারাটাই স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হয়)। তবে, বর্তমান দুনিয়ায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর হারটাই বেশি। যন্ত্রযুগের শুরুতেই এর আবির্ভাব ঘটে। যন্ত্রের গতি আবেগ কেড়ে নেওয়ার ফলে মনস্তাত্ত্বিক বৈকল্য যুক্ত হওয়ায়; এটার মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। রাস্তায় উঠতেই সৌম্য-সচেতন মানুষ ভয় পায়। না জানি কোনো উগ্র-বেপরোয়া মানুষ তাকে অজানা উপায়ে পটল তুলতে পাঠায়। তবে, নতুন মৃত্যুপুরীর সন্ধান পেয়েছি। আর সেটা হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় হত্যা, বিচারিক হত্যা, সীমান্ত পারের দায়ে গুলি করে নির্মম হত্যা, ন্যায্য আন্দোলনে বা স্বাভাবিক জনসমাগমস্থলে গাড়ি তুলে দিয়ে হত্যা, রাস্তায় পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে রেশারেশিতে হত্যা, অসভ্য সামাজিকতার যাতাকলে পিষ্টে হত্যা, ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে নিরীহ মানুষ হত্যা, ক্ষমতাযন্ত্রের ফাক-ফোকরে ফেলে হত্যা, উন্নয়নের যাতাকলে ফেলে হত্যা, এভাবে যদি মৃত্যুর ফর্দ খুলে বসি তাহলে অস্বাভাবিক মৃত্যুর খতিয়ান শেষ করতে ইহলীলা সাঙ্গ করার পরও উত্তরপুরুষেরও দায়িত্ব দিয়ে যেতে হবে। তাদের এ বিপদে ফেলতে চাই না। যে মারে, আর যে মরে, উভয়ই মানুষ। বিস্ময়ের বিস্ময় হচ্ছে, মানুষের আছে ভাব-ভাবনার এক বিপুল সম্ভাবনা। যা কিনা এই অস্বাভাবিক মৃত্যু রুখে সভ্যতার আলোয় উদ্ভাসিত করতে সক্ষম। সবার স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করি।
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।