সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা (৬৭১-৬৮০)


৬৭১. হৃদপিণ্ডের কষ্ট বোঝার কোন ক্ষমতা নেই! যা বোঝার, যা করার সবই আমাদের এই দেড়-আড়াইয়ের মস্তিষ্কটাই করে!
৬৭২. লেখা এমন একটা জিনিস কখন আপনার মাথায় আসবে আপনি জানেন না। অন্যের সঙ্গে কথা বললে, এখানে-ওখানে একটু ঘোরাঘুরি করলে, আর ভাবতে থাকলে পেয়ে যেতে পারেন লেখালেখির অনেক উপাদান। অসর্তকতার কারনে অনেক লেখা আপনার মস্তিষ্ক হারিয়ে ফেলতে পারে। ডিজিটাল যন্ত্রে সাথে সাথে আইডিয়া সংরক্ষন করে রাখলে হারানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
৬৭৩. হুজুগে মাতাল হলে যা হয়! কোটি কোটি মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এখন ফেস এ্যাপের দখলে। ব্যক্তিগত তথ্য কিভাবে আমরা বেহাত করে ফেলি তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো ফেস এ্যাপ! প্রযুক্তির যেমন ইতিবাচক ব্যবহারের দিক রয়েছে, ঠিক তেমনি হাজারো নেতিবাচক ব্যবহারের দিক রয়েছে। বাস্তব জগতের প্রতারকও উচ্চতর আকারে এগুলোর মাধ্যমে মানুষের সব হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত। বাস্তব জীবনের চলাফেরায় একজন মানুষের যতটা না সচেতন হওয়ার দরকার তার শতকোটিগুণ বেশি সচেতন হওয়া দরকার প্রযুক্তির ব্যবহারে। প্রযুক্তি জীবনকে যতদ্রুত ও সহজ করে, ঠিক তেমনি এ প্রযুক্তি দ্রুত আপনাকে ফতুর, নাজেহাল ও নিঃশেষ করে দিতে পারে। যেকোন এ্যাপস ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এ্যাপস ডাউনলোডের পূর্বে বা ব্যবহারের পূর্বে দেখে নিন তার রিভিউ কেমন, কে বা কারা এটার নির্মাতা, কি কি পার্মিশন চায়। ধরুন, একটা ছবি তোলার এ্যাপস, তার তো আর কন্টাক্টস বা মেসেজের পার্মিশনের কোন দরকার নেই। এটা একটু ভাবলেই বুঝতে পারবেন। আবার এমন কিছু এ্যাপস যাদের ক্যামেরার পার্মিশনের কোন কাজ নেই। সুতরাং, যেসব এ্যাপস কাজের বাইরে পার্মিশন চাইবে তা ব্যবহারের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া জরুরি।
৬৭৪. প্রিয়া সাহা অতি উচ্চমাত্রার ডাহা মিথ্যাবাদী। দেশের খেয়ে-পরে সরাসরি দেশদ্রোহীতা; এর সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার চাই। ইম্পর্টেন্ট বিষয় হচ্ছে, এদেশের সংখ্যালঘু মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশ; তবুও তাদের শতকরা ২৫ ভাগ সরকারী চাকরীতে নিয়োজিত। এছাড়াও বিভিন্ন সেক্টরে তারা যেভাবে স্বাধীন কাজ-কর্ম করতে পারে, পার্শ্ববর্তী কোন দেশে এ ধরনের নজীর নেই। অন্তত সংখ্যালঘু হওয়ার কারনে তাদের মরতে হয় না; যেটা পার্শ্ববর্তী দেশে আমরা ঘটতে দেখি বা দেখছি।  উনার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে কোন দূর্ভিসন্ধি নিহিত আছে। দেশের যথাযথ কতৃপক্ষের সঠিক পদক্ষেপ কামনা করছি। দেশদ্রোহী জঙ্গি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা এখন আর শুধু নির্দিষ্ট ধর্মে বা কোন একক চিন্তা-ভাবনায় আটকে নেই। একক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেখলে আর হবে না; ওভাবে দেখার দিনশেষ। দেশদ্রোহী জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখন বহুমূখী হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনীতির বে-খেয়ালের শিকার যেন বাংলাদেশ না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেয়ার ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি ও জনগণকে দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলাদেশ এখন বিপুল সম্ভাবনার দেশ। হিংসুটেদের এদেশের পিছে লাগাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সুতরাং, এখনি এসব বিষয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেয়া দরকার বলে বোধ করি।
৬৭৫. মানুষ জন্মগতভাবেই সাম্প্রদায়িক; এতে কোন সন্দেহ নেই। সব মানুষই জন্মগত কারণে স্ব স্ব ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয় বহন করে। জন্মের পর সে যেগুলোতে অভ্যস্ত হয় বা তার বাবা-মা যেগুলোতে অভ্যস্ত করে তোলে পরবর্তী জীবনে সেগুলোর চর্চা বজায় রাখার অব্যাহত চেষ্টা বজায় রাখার আপ্রান চেষ্টা করে। তবে, এর বাইরে গিয়ে দু'একজনের পরিচয় মেলে যারা আংশিক অসাম্প্রদায়িক সাজার অভিনয় করেন। আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা বলতে জোরালো কোন আদর্শ দাড় করানো অসম্ভব বলে মনে করি। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। অনেকের অনেক রকমের হাজারো মত, অভিমত, চিন্তা-ভাবনা থাকতে পারে; এটা অস্বাভাবিক কিছু না। তবে আমি মনে করি, একমাত্র মানবিক মূল্যবোধ অর্থাৎ মানবতাবোধই সব মানুষকে একসুত্রে গেঁথে দিতে পারে। এখানে সব মানুষই মানুষ হিসেবে গণ্য। এখানে মানুষকে পরিচয় দেয়ার জন্য অন্য কোন ট্যাগ খোজার প্রয়োজনীয়তা নেই। পৃথিবীতে ধর্মের কারণে, জাতিগত কারণে ইত্যকর অন্য যত কারণ রয়েছে সে সবের জন্য বেঁচে থাকার যে ন্যায্য অধিকার রয়েছে সেগুলো থেকে আর বঞ্চিত হবে না।
৬৭৬. মানবতাবোধের আলোই উদ্ভাসিত করার চেষ্টাটা আমার বোধদয়ের কাল থেকেই। এ ব্যাপারে কোন ছাড় দেই না। এ ক্ষেত্রে কোন কিছুই আমাকে বাঁধে না। তবে, রক্তের দামে কেনা মাতৃভূমি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কেউ কোন অন্যায়মূলক কথা-কাজ বা দেশদ্রোহী কর্মকাণ্ড করলে কোন ছাড় দেয়নি আর দেবোও না; সে যে বা যারাই হোক। এ চেতনা আমার জীবনের উর্ধ্বে ধারণ করে আছে। ভালোবাসি প্রিয় বাংলাদেশ তোমাকে।
৬৭৭. সভ্য মানুষেরা গুজব ছড়ায় না। সভ্য মানুষেরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আরেকটি অপরাধ সংঘটন করে না। সভ্য মানুষেরা কাউকে হত্যা করতে পারে না। সভ্য মানুষেরা কারো ক্ষতি করে না। সভ্য মানুষেরা বেআইনি ও নীতিহীন কর্মকাণ্ড করে না। একটা সমাজ কতটুকু সভ্য তা নির্ভর করে সেদেশের জনগণ কতটুকু আইন ও নীতি-নৈতিকতা মেনে চলে তার উপর! আমরা কতটুকু সভ্য, তা জানতে বড় ইচ্ছা করছে?
৬৭৮. কাপুরুষের পৌরুষত্বের হুংকার নারীর প্রতি নৃশংসতার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে। একটি মানবতাবাদী সমাজ, যেখানে নারী-পুরুষ বলে কোন ভেদ নেই। কিন্তু, একটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে শুধু হেয় করা নয়, তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে হত্যা করার করুন দৃশ্য এখন ভাইরাল! ধিক্কার কাপুরুষের পুরুষতান্ত্রিক ধ্বজভঙ্গ পৌরুষত্বকে! নারীর বেলায় তোমাদের পুরুষত্ব জেগে ওঠে, তাও সন্দেহের বশে! আর ধর্ষকের পক্ষ নাও! লজ্জা করে না পুরুষ তোমার! নারীর বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকারও তোমার কাছে নগণ্য। ছিহ! হে পুরুষ, নারীরাও এ সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নারীগণ ছাড়া তোমার অস্তিত্ব বিলীন। তোমাদের অসভ্য আচরনে একটি দুধের শিশু হারালো তার মাকে! এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কি বা হতে পারে! পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিষাক্ত ছোবলের শিকার একজন মা, একজন নারী! যতদিন মানবতাবদী সমাজ প্রতিষ্ঠিত না হবে ততদিন পুরুষতন্ত্রের ছোবলে লক্ষ নারী ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকবে।
৬৭৯. গত কয়েকদিন ধরে পাঁচ-ছ'টি গরুর হাট ঘুরে দেখলাম। উদ্দেশ্য ছিল, বাড়ি পোষার জন্য গরু কেনা। কিন্তু, প্রতিটা হাটে একটা জিনিস খুবই কষ্টদায়ক ছিল, গরুগুলোকে টানা রোদের মধ্যে বেঁধে রাখা। রোদের মধ্যে কোন কোন গরু জিহ্বা বের করে দিয়ে শুয়ে পড়েছে। তবুও, সেদিকে কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। সবাই ব্যস্ত টাকা গুণতে। মানুষ যখন অমানবিক হয়ে ওঠে তখন পৃথিবীর কোন কিছুর প্রতি তাদের বিন্দু পরিমান দয়া-মায়া অবশিষ্ট থাকে না। তারা বৈষয়িক চেতনার প্রতি এমনভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে যে হিতাহিত জ্ঞানশূণ্য হয়ে যায়। তার বহিঃপ্রকাশ এভাবেই প্রকাশিত হতে থাকে। এখানকার সমাজ ব্যবস্থা দিনকে দিন অমানবিক আর অশান্ত হয়ে উঠছে। কেউ কেউ এতে কেরোসিন ঢেলে আরো উত্তপ্ত করার পায়তারাও চালাচ্ছে। এসব এখন সোশ্যাল মিডিয়াসহ অন্যান্য শক্তিশালী মিডিয়াগুলোর কল্যানে চাক্ষুস। অসভ্য মানুষ গুজব ছড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে। গত কয়েকদিনে ছেলেধরা সন্দেহে কয়েকজনকে হত্যা করেছে গুজুববাদীরা। পরে হত্যার শিকার মানুষদের পরিচয় থেকে জানা যায় তারা নিতান্তই সাধারন গোছের মানুষ। সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনাটা ঘটেছে ঢাকা শহরের বাড্ডা এলাকায়। একজন মা তার ছোট শিশু সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গুজুববাদীদের হাতে সন্দেহবশত হত্যার শিকার হন। এটা যে কতবড় ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা তা পর্যবেক্ষনশীল ব্যক্তি মাত্রই বুঝবেন। মানুষ কতটা বৈষয়িক আর অমানবিক-অসভ্য হলে এ ধরনের দলবদ্ধ ফৌজদারী অপরাধ সংঘটন করতে পারে তা বোঝার জন্য সময় লাগে না।
৬৮০. সবার জীবন এক রকম না। 'পৃথিবীতে কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত।' সুতরাং, কথোপকথনকালে নিজের মত করে অন্যকে বিবেচনা করবেন না। অথবা নিজের মত করে অন্যকে পরামর্শ দিবেন না। এতে করে উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট ছাড়া কিছুই হবে না। আগে ব্যক্তি সম্পর্কে জানুন, তারপর তার সম্পর্কে ভেবে-চিন্তে মন্তব্য করুন, পরামর্শও দিতে পারেন, যদি ব্যক্তির আগ্রহ থাকে। অযথা করো বিরক্তির কারন না হওয়াটাই বুদ্ধিমানের পরিচয়।