সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা (৬৫১-৬৬০)


৬৫১. আপনার কোন শত্রু নেই! তাই তো! শত্রু কি জিনিস দেখতে চান? তাহলে, কোন সাত-পাঁচ না ভেবে পাবলিক প্লেসে শুধু সত্য কথা প্রকাশ করুন। দেখবেন চারিদিকটাই আপনার শত্রু হয়ে গেছে!
৬৫২. যারা রিফাত হত্যাকাণ্ড নিয়ে মিন্নির চরিত্র বিশ্লেষন করে তাকে ভিলেন বানানোর চেষ্টায় লিপ্ত বা এ কারনে পুরুষ হিসেবে রিফাতের অসহায়ত্বকে তুলে ধরার বাহানা শুরু করেছেন। তারা আসলে ভুলে যাচ্ছেন যে এখানে একটি সংগঠিত খুনের ঘটনা ঘটেছে। আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্তের ভিত্তিতে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে কালকে হয়তোবা আপনার নামটিও রিফাতের যায়গায় পত্রিকার পাতায় কালো অক্ষরে লেখা হতে পারে; এটা অসম্ভব কিছু নয়। এজন্য কারো ব্যক্তিগত চরিত্র হরণ না করে সামাজিক দায়বদ্ধতার যায়গা থেকে ব্যাখ্যা খুজুন। কেন এ ধরনের সুসংগঠিত অপরাধ চক্র দিন দিন বেড়ে চলেছে। কার্যকারনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষন করে উপস্থাপন করুন। প্রয়োজনে মাঠে নামুন। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আপনাকে গালি দিতেও কুণ্ঠিতবোধ করবে না। রিফাতকে হয়তোবা আর আমরা ফিরে পাবো না। কিন্তু, বিচারহীনতায় আপনার এই ত্যানা প্যাঁচানো বাঁতুলতাপূর্ণ বাক্য-বাণ অপরাধী চক্রের অপরাধ প্রবণতায় নিঃসন্দেহে শান দেবে। এ দায় আপনি কখনো এড়াতে পারবেন না। ভাবের ঘরে চুরি আর করবেন না। প্রকৃতির বিচারে কোন ছাড় নেই। ওসি মোয়াজ্জেমের মোবাইল ক্যামেরার সামনে নুসরাত মুখ ঢেকে কথা বলছিল বলে সে মুখ থেকে হাত সরাতে বাধ্য করেছিল। ঠিক যেদিন ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার হয় ঐ দিন সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে ওসি মোয়াজ্জেম মুখ ঢাকতে বাধ্য হয়েছিল। উপরওয়ালা সবই বোঝেন! তাকে ধোকা দেয়ার প্রচেষ্টা মহা-বোকামী বৈ কিছুই না।
৬৫৩. জানি না কে কিভাবে নিবে বিষয়টা। তবুও, নিজের অব্যক্ত কিছু অসহায় অনুভূতি ব্যক্ত করা ছাড়া উপায় কি! পত্রিকার পাতা খুললেই, শিক্ষক কতৃক ছাত্রী ধর্ষন, শ্লীলতাহানী, নির্যাতন-নিপীড়নের খবরে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি কয়েকদিন যাবৎ। জাতির সংকটময় ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হতে হচ্ছে! কোন দিকে আগাচ্ছে সমাজ। যেদেশের শিক্ষকগণ দ্বারা শিক্ষার্থীরা এ ধরনের ন্যাক্কারজনক জুলুম-অত্যাচারের শিকার হয়; সেদেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলা যায়ই! কতিপয় জাতি গড়ার কারিগরগণ যদি বেজাতের মত কর্মকাণ্ড সংঘটন করে তাহলে এটা ভাবা ছাড়া আর কি বা করতে পারি! আল্লাহ সকলকে সঠিকটা বোঝার তৌফিক দান করুক!
৬৫৪. ধর্ষকের আত্মপক্ষ সমর্থন কিসের! এরকম অপরাধ যারা করে, তারা হিংস্র নরপশু; ক্ষতিকর মানব কীট অথবা অনিষ্টকর পতঙ্গ! গ্রাম-গঞ্জে কুকুরের একটি বিশেষ রোগ হলে বলে হন্যে কুকুর। যখন কোন কুকুর হন্যে হয়ে যায় তখন তার বিকৃত মস্তিষ্কে একটা জিনিসই কাজ করে, সে সামনে যাকে পায় তাকে কামড়ায়। যাকে কামড়ায় তার জলাতঙ্ক হয়; ওষুধ আবিষ্কারের পূর্বে নাকি এতে অনেকে মারাও গেছে! এমতাবস্থায় সচেতন মহল ঐ হন্যে কুকুরকে বিশেষ পদ্ধতিতে হত্যা করে। ক্ষতিকারক কীট-পতঙ্গ সমাজে না রাখায় শ্রেয়। তানাহলে, সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। দ্বিতীয়পক্ষে, সচেতন মহলের কাজ হচ্ছে, বীচ-নির্মূল অভিযানে নামা। ধর্ষকের বীচ উৎপাদনকারী উপাদান সমূহ সমূলে উৎপাটনে কাজে নামা। তবেই না ধর্ষক ও ধর্ষকামী কীট-পতঙ্গের উৎপাদন বন্ধ হবে। সমাজ হবে কলুষ মুক্ত। সব দোষ তো আর কীট-পতঙ্গের না! উৎপাদনকারী সমাজেরও কিছুটা বঁটে! বীচ উৎপাদনকারী উপাদান উৎপাটিত হোক।
৬৫৫. খুবই অবাক লাগে! যখন দেখি ধর্ষকের পক্ষে, খুনির পক্ষে মানুষ কথা বলে। তারও নাকি বেঁচে থাকার অধিকার আছে! হায়রে, নির্বোধের দল। সৃষ্টিকর্তা তোমাদের যে চিন্তা করার শক্তি দিলো, বিবেচনার শক্তি দিলো, তা কি বন্ধক রেখেছো! তোমাদের মস্তিষ্কে কি পঁচন ধরেছে!
৬৫৬. ভয় পায়! ভয় পায়! মানুষ ভয় পায়! মানুষ বাঘকে ভয় পায়! মানুষ হন্যে কুকুরকে ভয় পায়! মানুষ ভল্লুকে ভয় পায়! মানুষ ধর্ষককে ভয় পায়! মানুষ খুনিকে ভয় পায়! মানুষ অত্যাচারিকে ভয় পায়! মানুষ ভণ্ডকে ভয় পায়! চারিদিকে ভয়ের জয়! তাই তো এত ক্ষয় আর অবক্ষয়! ও ভাই, কেন পাও ভয়? উউউফ, আবার জিগায়। আমি কথা বলতেও ভয় পায়! ভয় পায়! ভয় পায়! প্রার্থনা করি! ভয় পেতে পেতেই যেন মরে যায়। মরার পরে সবাই যেন কান্দে! করে হায় হায়! এই তো জীবন! সর্বসাকূল্যে আছে তার ভয় আর সংশয়! মরার মিছিলে আজ শামিল প্রলয়। সেও আসতে ভয় পায়! শয়তানও ভয় পায়! মানুষকেই সে ভয় পায়। মানুষের পাপের মাত্রা দেখে সে ভয় পায়! আর সে বলে, 'আমার আর দরকার নাই। করতে থাক পাপ তোরায়! আমি আর কি দেব তোদের ভয়! তোরায় তো দিয়েছিস আমায়, মহাভয়! আমি আর কি শয়তান! তোরায় তো বড় শয়তান, মোর মানুষরূপী শয়তান ভাই!' শয়তান বলে, 'আমার আর কোন দাবী নাই! তোদের দিয়ে দিলাম আমার সব রাজ্য ভাই!' সত্য বলে আমিও মাঝখানে নাকানিচুবানি খাই। আর দেখি, বাহ্! সবাই কেমনে পাপরাজ্য দখলে নিল; তাই! পাপের রসায়নে আজ আমরা বিস্ফোরিত নিত্য-নতুন ধাঁচের পাপাচার; শয়তানও ভেবে কিছু কুল-কিনারা নাহি পায়! সেও আজ রাজ্যহারা হয়ে হতবিহ্বল, হয়! পাপের সৃষ্টি যার হাতে, সেও আজ বেকার! তবুও, দূর্মূল্যের বাজারে পাপ আজ নিত্য! সমাজপতি, তুমি কি ছিড়ছো হায়! সিন্ধুপারে বসে কি চবকাও! দেখে যাও কি করছে সৃষ্টি, তার লীলায়!
৬৫৭. কবিরা তার সময়ে খুব বেশি সমাদৃত হন না। মরার পরেই হয়তোবা কিছুটা আদৃত হন। মৃত্যু পরবর্তী এক এক জুবিলিতে তাদের কদর একটু করে বাড়ে! এটাই বা কম কিসে।
৬৫৮. অশিক্ষিতের চেয়ে কুশিক্ষায় শিক্ষিত লোককে বেশি ভয় পায়! যদিও অশিক্ষায় কুশিক্ষার জন্ম দেয়!
৬৫৯. দু'কলম লিখলেই লেখক হওয়া যায় না। দুটো লাইন জোড়া দিলেই কবি হওয়া যায় না। সব যায়গাতে নিয়ম ভাঙলে সব হওয়া যায় না। তা যদি হতো, তাহলে কবি নজরুল বিদ্রোহী না হয়ে হতেন বিপ্লবী বা সংগ্রামী।
৬৬০. নিজের পকেট থেকে মানুষকে সাহায্য করুন। সাহায্যের নামে অন্যের পকেট ফাঁকা করবেন না! এটা অভিশাপ! অভিশাপ খুব খারাপ জিনিস! অভিশাপের শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দেখিয়ে দেন বলে আমার মনে হয়। খানিকটা বোধ করি নিজে চোখেও কয়েকটা দেখেছি।