সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চাকরি প্রার্থী ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা


আগেই বলে রাখি, সব কিছু সবার জন্য না। হয়তোবা আপনি বিজ্ঞ পন্ডিত। আপনার জন্য লেখাটা নয়। এড়িয়ে যেতে পারেন। কিন্তু, যাদের প্রয়োজন বোধ হবে তারা নিশ্চয়ই পড়বেন। আশা করি উপকৃত হবেন। উপকৃত হলে আপনার পড়াটা সার্থক হবে; এবং নিজেকে কৃতার্থ মনে করব। এখানে আমি কোন বইয়ের বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য কথা বলছি না। জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি মাত্র।

যাহোক, মূল কথায় আসি। অনেক চাকরি প্রার্থী ভাই-বোন আমার কাছে প্রশ্ন করেন যে ভাই কোন বই পড়ব। যদিও আমি একজন চাকরি প্রার্থী তবুও নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের জন্য কিছু পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করছি। মোটকথা, আমি যে বিষয়গুলো ফলো করছি সেগুলো বলব আর কি! বর্তমান সময় খুবই প্রতিযোগিতামূলক। আপনি যে কাজই করেন না কেন, আপনাকে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জয় ছিনিয়ে আনতে হবে। তবে, কারো ক্ষতি করে নয়; নিশ্চয়ই, সুস্থ-স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। তার জন্য চাই সঠিক কর্ম-পরিকল্পনা এবং সেটার বাস্তবায়ন। তাহলেই আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। প্রথমে ভেবে-চিন্তে আপনাকে একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। তারপর সিলেবাসের আলোকে পরিকল্পনানুযায়ী রুটিন তৈরি করে কাজে লেগে যেতে হবে। এরপর কিছু বই বাছাই করতে হবে। যেগুলো পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন এবং পড়া শেষে মোটামুটি আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারবেন যে আমি পারব; সে রকম কিছু বই। তবে, চাকরির বাজারে বর্তমানে একটা কথা বাস্তব এবং বেশ প্রচলিত হয়ে গেছে যে, যারা ইংরেজি এবং গণিত ভালো পারেন তাদের জন্য বিষয়টা কিছুটা সহজ হয়ে যায়। এবং আমি পর্যবেক্ষন করে দেখেছি যে, অধিকাংশ চাকরি প্রার্থী ভাই-বোনের এ দুটো বিষয়েই বেশি সমস্যা। যাদের এ দুটো বিষয়ে সমস্যা তারা ডানে-বায়ে না তাকিয়ে এ দুটো নিয়ে লেগে যান। তবে, গাদা-চুক্তি না পড়ে, প্র্যাকটিস হয় এমন বই বাছাই করাটা যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত হবে বলে বোধ করি। এছাড়া অনেকেই জানেন না যে প্রতিটি চাকরির পরিক্ষার জন্য একটি করে সিলেবাস থাকে। আর যদি নাও থাকে তবে বিগত সালে আসা প্রশ্নের ধরনানুযায়ী প্রতি বছর প্রশ্ন করে থাকেন কতৃপক্ষ। সেটা সবার আগে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। তানাহলে, আপনি নিঃসন্দেহে গাদা-চুক্তি মার্কা পড়ালেখা করবেন এতে কোন সন্দেহ নেই।

এখানে আর একটা কথা বলি, এখন শুধু উচ্চ শিক্ষা চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অনেক কিছু। যেটা আপনাকে নিজ উদ্যোগে অর্জন করে নিতে হবে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদেরকে ওগুলো অর্জনে সহায়ত করতে ব্যর্থ। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা একটা কাজই করেছে। সেটা হচ্ছে আপনি কোন লেভেল পর্যন্ত পড়লে কোন কোন চাকরির পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন তার ব্যবস্থা। বাদবাকি সব আপনার নিজ থেকে অর্জন করতে হবে। এটাই বা কম কিসে!

কথায় আছে, 'সময় গেলে সাধন হবে না!' সময় থাকতে ভাবুন। প্রয়োজনে ভাবা প্র্যাকটিস করুন। এখান থেকে ১০/১২ বছর আগে যখন আমি ইউনিভার্সিটি এডমিশন প্রার্থী ছিলাম তখন যারা চাকরি প্রার্থী ছিলেন তাদের বলতাম ভাই একাডেমিক পড়ালেখা আর চাকরির পরিক্ষার পড়ালেখা সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু, আমি জুনিয়র হওয়ায় তারা আমাকে থোড়ায় কেয়ার দিতো না। বলত, 'টাকা আর মামু-খালু ছাড়া চাকরি হয় না!' আমি বলতাম ভাই, এগুলো তো সঠিক পথ না। আর এভাবে হয় না। যারা এগুলো বলে তারা হয় ধান্ধাবাজ নতুবা অজুহাত প্রবণ লোক। এখন অনেকে বলে তোমার কথা সত্য ছিল। ওটা ফলো না করে আমরা আজও চাকরিহীন। শুধু শুধু সরকার আর সিস্টেমের দোহায় দিয়ে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি ডেকে এনেছি আর সময় নষ্ট করেছি। কথায় বলে, 'গরিবের কথা বাসি হলে ফলে।'

এখনো যাদের সময় আছে তারা যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতিতে আগে বিনিয়োগ করুন। অযথা চাকরির পরিক্ষা দিয়ে সময়, শ্রম আর অর্থের অপচয় করে পরিবারের দুঃখ-দূর্দশা না বাড়িয়ে প্রয়োজনে সময় নিয়ে ভাবুন যে কিভাবে প্রস্তুতি নিলে আপনি সফল হতে পারবেন। প্রত্যেক চাকরি প্রার্থী তার প্রস্তুতি এবং যোগ্যতানুযায়ী চাকরি পাক সে কামনা করি। কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন; কোন প্রকার সংকোচ ছাড়াই। এ দুয়ার উন্মুক্ত! সবার জন্য শুভ কামনা। ধন্যবাদ!