সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা (৬০১-৬১০)


৬০১. পড়ালেখা জিনিসটার প্রতি কৌতুহল বরাবরের মতই ছোটকাল থেকেই বলা যায়। আমি কখনোই বই-খাতা দেখলে বিরক্ত হই না। বরঞ্চ, ভালো লাগে। অনেকে বলে, যে পড়ালেখা আবিষ্কার করেছে তাকে পাইলে পিটাতাম। আমি তখন ভাবি উহুম আমি তার পদস্থলে শতকোটি নমস্তে পেশ করতাম। তবে, একবার একটু বিরক্ত হয়েছিলাম, সেটা পড়ালেখার প্রতি না আমার কতিপয় শিক্ষকের প্রতি। তিনি আমাকে খুব চাপাচাপি করতেন বেশি বেশি পড়ার জন্য। কিন্তু, আমি পড়ালেখার ক্ষেত্রে খুবই স্বাভাবিক গতির মানুষ সব সময়ই। সুস্থ-স্বাভাবিক মস্তিষ্কে পড়তে ভালোবাসি।

৬০২. একটা বিষয় বুঝলাম না! পড়ালেখার সাথে চাকরির সম্পর্কটাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা হচ্ছে। এমনকি সেটা খুব পরিকল্পিতভাবে। আমি যেটা বুঝি শিক্ষা জিনিসটা মানুষের মৌলিক অধিকারের আওতাভুক্ত! আর চাকরির সাথে দক্ষতা জড়িত। আজকে লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক ঘুরে বেড়ায় চাকরির জন্য। আর চাকরিদাতারা দক্ষ লোকের অভাবে বিদেশ থেকে কর্মী আমদানি করে। এটা খুব দুঃখজনক একটি ঘটনা। একবিংশ শতাব্দিতে এসে এই জিনিসটা অত্যন্ত নেতিবাচক বিষয় যে এখনো অনেকে মুখস্ত বিদ্যার উপর ভর করে চলে। আর দোষ দেয় সরকারকে। চাকরি নাই, চাকরি নাই করে হা-হুতাশ করে। অথচ, দক্ষ লোকের বড়ই অভাব এখানে। একবিংশ শতাব্দিতে দুটো জিনিস সবচেয়ে বেশি দরকার। যে দুটো জিনিস প্রত্যেক কর্মজীবী মানুষের দক্ষতা নিশ্চিত করবে। এক. ভাষাগত দক্ষতা। বিশেষ করে ইংরেজি ভাষার উপর দক্ষতা অর্জনই গুরুত্বপূর্ণ। দুই. প্রযুক্তিগত দক্ষতা। এ দুটো ছাড়া আপনি চাকরির বাজারে একজন অদক্ষ প্রার্থী। আরো একটি বিষয় লক্ষ্য করার মত, এখানে কেউ নিজের মত করে কিছু করতে চাই না। অলসতা এর অন্যতম একটি কারন। আমরা সবাই সরকারী চাকরি চাই। কেন? কারন, সরকারী চাকরিতে রিলাক্স করার মত যথেষ্ট সময় পাওয়া যায় বলে একটি মিথ প্রচলিত আছে। যা জাতি হিসেবে আমাদের আলস্যকে, ফাঁকিবাজিকে সামনে টেনে আনে।  এই ধরনের মানসিকতা আমাদেরকে জাতীয়ভাবে পিছিয়ে দিচ্ছে। এটাও দেখেছি, অনেকে চাকরির প্রস্তুতি ছাড়া পরিক্ষা দিতে যায়। বলে, অভিজ্ঞতা নিতে এসেছে! এতে করে হয় কি! চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান হ্যাজারর্ডের শিকার হয়ে নাস্তানাবুদ হয়ে যায়। আমি বুঝি কি! প্রস্তুতি ছাড়া শত শত চাকুরির পরীক্ষা না দিয়ে প্রস্তুতিতে আগে বিনিয়োগ করতে হবে।

৬০৩. অনেক মানুষ আছে, যারা মনে করে অন্যের ক্ষতি করে সে ভালো থাকবে। সত্যি বলছি, এটা থেকে আপনি যে অনুসূচনা ভোগ করবেন তা আপনাকে শতগুণ বেশি খারাপ অবস্থানে নিয়ে যাবে। আর যদি আপনার অনুসূচনা না আসে তাহলে আপনি মানুষ না। হিংস্র জন্তু-জানোয়ার; মানুষরূপী। যাদের বোধ বলে কিছু নেই। কি দরকার ভাই, ভালো থাকার অনেক অনেক সৎ উপায় আছে। শুধু একটু নিজের মাথাটা খাটাতে হবে।

৬০৪. পড়ালেখা মানে চাকরি, বেতন ইত্যাদি নয়। পড়ালেখা, শিক্ষা মানুষের জীবনকে সুন্দর করে; বেঁচে থাকার, মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়। তাই এটা মানুষের মৌলিক অধিকার।

৬০৫. আপনার ভালো না লাগার দায়, কখনোই অন্যের নয়।

৬০৬. জানি! শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক ত্রুটি-বিচ্যূতি আছে। তাই বলে তো, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকার উপায় নেই। সেটা হবে, 'মাথা ব্যাথার কারনে মাথা কেঁটে ফেলার মত।' আমাদের সচেতনতায় পারে এগুলো থেকে আমাদেরকে পরিত্রান দিতে। সামষ্টিক সচেতনতায় পারে শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যূতি দূর করতে।

৬০৭. ধর্ষনের দায়, কেউ কি নেয়? ধর্ম বলে, ধর্ষকের কোন ধর্ম নেই! সমাজ বলে, যে তার বিচ্যূতি ঘটেছে! আইন বলে, ধর্ষকের বিচার প্রমাণের আগায়! পুলিশ বলে, ধর্ষকের শাস্তি হবেই হবে ভাই! আম-জনতা বলে, বাইরে বেরোলো কেন; জাত ঠ্যাকাতে ধর্ষনের ছোবলে তার ক্ষয়! সবাই বলে, কি উপায়, কি উপায়! আমরা করি হায়হায়! আসলে ধর্ষন বন্ধ করা সম্ভব নয়; ধর্ষক মানসিকতা যেখানে সমাজের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে গ্রোথিত!

৬০৮. চাকরি করে কখনো বিলিয়নিয়র হওয়া যায় নারে পাগলা!

৬০৯. কত স্বপ্ন কতভাবে মরে যায়, তার কোন ইয়ত্তা নাই। তবুও মানুষ স্বপ্ন দেখে। কারন, মানুষ স্বপ্নে বাঁচে। স্বপ্ন মানুষকে বাঁচতে প্রেরণা যোগায়। হাজারো স্বপ্নের মাঝে মানুষ নিজেরটাকে হাতড়ায়।

৬১০. প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য আপনাকে অবশ্যই পেছনে যেতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে আগানোর গতি বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতিবন্ধকতা পেরোনোর পর আপনাকে ব্রেক করতে হবে গতির সমতা আনয়নের জন্য। ছোটবেলায় তীরগুলতি দিয়ে খেলা করে নাই এমন গ্রামের ছেলে-মেয়ে পাওয়া মুশকিল। এখন হয়তোবা নাই। যাহোক, আমরা যখন তীরগুলতি নিয়ে খেলতাম তখন ওটার ভেতরে একটা মাটি দিয়ে তৈরি শক্ত গুলি ভরে পেছন দিকে জোরে টেনে ছেড়ে দিতাম। এরপর যা হওয়ার! ওর ভেতরে থাকা মাটির শক্ত গুলি শক্তি সঞ্চয় করে সামনের দিকে খুব গতিতে চলে যেত। আপনার যদি এরকম অবস্থা হয় যে আপনি গতিহীন। তাহলে এটার মত জীবনানুশীলন শুরু করুন। আসলে আমাদের বড় হতে গেলে পেছনে অর্থাৎ প্রয়োজন বোধে ছোট হতে হবে। কিন্তু আমাদের এই প্র্যাকটিসটাই নেই। আমরা সামনে আগাতে পারি না প্রতিবন্ধকতার ভয়ে; আবার ওটা অতিক্রমে যে গতি লাগে তার জন্য পেছাতেও ভয় পায়। তাই আমরা পারি না; বড় হতে। শুধু আকাঙ্খাই থেকে যায়; বড় হওয়ার। ক্যারিয়ারে ডাউন ফলটা ফেস করতে না পারলে, আপ হওয়াটা খুব ডিফিকাল্ট।