সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা (৫৭১-৫৮০)


৫৭১. একজন মানুষের ভালোত্ব বা মন্দত্ব বিচার করি তার আচার-ব্যবহার, কৃতকর্ম, সামাজিক সম্পর্কের শুদ্ধতম অবস্থান, নীতি-নৈতিকবোধ, মানবতাবোধ, জ্ঞান ও বিবেকবোধ ইত্যাদি দিয়ে। টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত দিয়ে আসলে মানুষের ভালোত্ব বা মন্দত্ব বিচার করা যায় না। টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত দিয়ে একটা অর্থনৈতিক স্ট্যাটাস গড়ে ওঠে যদিও, তবুও ওটা কখনো মানুষকে মানুষ বানায় না। অনেক ক্ষেত্রে অর্থ অনর্থের কারন হয়ে দাড়ায়। টাকা ছাড়া চলা যায় না বাস্তব জীবনে; এটা ঠিক। কিন্তু, সবার উর্ধ্বে মানুষ ও তার উন্নততর জীবনদর্শন। আমি মনে করি, তা অর্জনের জন্য মানবিক গুনাবলির চর্চা করতে হবে।

৫৭২. একজন মানুষ কখন আরেকজন মানুষকে প্রকৃত পক্ষে খারাপ জানে? যখন ঐ ব্যক্তির সঙ্গে প্রতিনিয়ত মিশতে থাকে এবং অপরজন সম্পর্কে তার জানার আর বাকি থাকে না কিছুই তখন সে বলে বা বলতে পারে পারতপক্ষে লোকটি খারাপ। খারাপের মোড কালচারভেদে পার্থক্য হয় যদিও, তবুও মোটিফ কিন্তু একই।

৫৭৩. আপনি কোনটাকে অপসংস্কৃতি মনে করেন?

(ক) ধর্ষকের অবাধ বিচরন?

(খ) নারীর স্বাধীনতা? 

৫৭৪. কাউকে নিয়ে মন্তব্য করার আগে ভাববেন। বিশেষ করে কোন নারীকে নিয়ে! কারন, একজন নারীই আপনার মা। আপনার মায়ের সঙ্গে যদি কেউ অন্যায় আচরন করে, তাহলে আপনার কেমন লাগবে! অন্যেরও একই অনুভূতি হয়, এটা মাথায় রাখবেন। একজন মেয়ে, সে আপনার বোন, ভাবি বা কোন আত্মীয়! তাদের সাথে যদি একই রকম ঘটনা ঘটে তখন! আমার জানামতে, ধর্ষক হোক বা যৌন নিপীড়ক বা ইভটিজার তাকে আপনি হত্যা করতে পর্যন্ত উদ্ধ্যত হবেন! আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, অন্য মানুষেরও একই অনুভূতি হয়। নারী হোক বা পূরুষ, আমরা সবাই তো মানুষ। সবারই তো পিতার ঔরসে আর মায়ের গর্ভে জন্ম। অবদান তো পিতা-মাতা উভয়েরই সমান! বরঞ্চ, মায়ের অবদানটা বেশি; কাণ্ডজ্ঞানের চোখ দিয়ে দেখুন, বুঝতে পারবেন। তাহলে অন্য মহিলার ব্যাপারে কেন এ বৈষম্য ভাই সকল? আপনার মা-বোনের সঙ্গে কেউ যদি অভব্য আচরন করে আপনার নিশ্চয়ই খারাপ লাগবে! তেমনি পৃথিবীর সকল মানুষের তাদের মা-বোন নিয়ে একই রকম অনুভূতি হয় ভাই! সুতরাং, আসুন আমরা সভ্যতার আলোয় আলোকিত হতে শিখি।

৫৭৫. তুমি একজন মানুষকে আঘাত করতে পারো। তার মানে এটা নয় যে তুমি তার থেকে শক্তিশালী। এটার এক্সাক্ট অর্থ তুমি অসভ্য। অনেকে নিজের অসভ্যতামী নিয়ে গর্ব করে। এটাকে আমি বলি মূর্খতা। অসভ্যতা আর মূর্খতা মিলে জগাখিচূড়ী অবস্থা।

৫৭৬. তুমি বলো সে অসভ্য, তাই আমিও অসভ্য হতে বাধ্য। সুতরাং, তোমরা দু'জনেই অসভ্য।

৫৭৭. একজন অসৎ লোক সমাজে অনিষ্টকর কীট-পতঙ্গের মত।

৫৭৮. খালি সিরিঞ্জ ফুটালে রক্ত ওঠে তাতে।

৫৭৯. একজন দক্ষ শিক্ষকের পরিচয় মেলে, তিনি কি পড়েছেন; তার চেয়ে, ছাত্রের জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের যথাযথ মূল্যায়ন ও মনের খোরাক জোগানোতে ( মনের খোরাক বলতে, মানসিক প্রশান্তি দেয়, এমন কিছু বা তাকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে, এমন কিছু)।

৫৮০. মানুষ কথা বলে। কেন? কারন, মানুষের মুখ আছে, তাই! মুখ আছে কেন? কথা বলার জন্য! সুতরাং, মানুষের কথার হাওয়ায় উদ্দেশ্যহীন তুলার ন্যায় না ভেসে, নিজেকে নিয়ে ভাবুন; কাজ করুন; কিছু করার না থাকলে, বিশ্রাম নিন, শুয়ে মনে মনে গান করুন; তাতে করে অন্তত মানসিক প্রশান্তি আসবে! ব্যর্থতার মুখে কখনো হতাশ হবেন না! কেননা, মানুষের জীবনটা ভঙ্গিল পর্বতের মত। আপনি সেখানে গাড়ি চালাতে গেলে আপনাকে কখনো উপরে উঠতে হবে, আবার কখনো নিচে নামতে হবে। উত্থান-পতনই আপনাকে আপনার লক্ষ্যে পৌছে নিয়ে যাবে। এটাতে অভ্যস্ত হতে না পারলে আপনি উদ্দেশ্যহীন গাছে ফাটা তুলার মত হয়ে যাবেন। উড়তে উড়তে কোথায় গিয়ে পড়বেন; বলা মুশকিল। কাজেই সাত-পাঁচ না ভেবে, উত্থান-পতনে সুক্ষ্ম ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আজই পরিকল্পনা করে ফেলুন; প্রয়োজনে সময় নিয়ে ভেবে পরিকল্পনা করুন। মরার সময় অন্তত আফসোস থাকবে না যে কিছুই করা হলো না আমার!