সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা (৫৬১-৫৭০)


৫৬১. প্রযুক্তির ছন্নছাড়া প্রভাবে আমরা উচ্ছন্নে যাচ্ছি। একটা বিষয়কে সম্মান করতে গিয়ে বিশাল অসম্মান করে ফেলি; কিন্তু, আমাদের খেয়াল থাকে না। সর্বজনীন বিষয়গুলোকে আমরা রাজনীতিকীকরণ করে তার সর্বজনীনরূপটাকে ধ্বংস করে ফেলি। বিষয়টা যখন রাজনীতির মোড়কে হাজির হয় তখন আপনার বিরোধীরা সর্বজনীনতাকে নির্দিষ্ট রাজনীতির ছকে ফেলে ফায়দা উঠানোর চেষ্টা করে। সাধারন মানুষ পড়ে যায় বিপাকে। তারা বুঝে উঠতে পারে না কি করবে। কারন, এর পূর্বে সাধারন মানুষের অনুভূতি নিয়ে বহু মানুষ ভণ্ডামি করেছে। তাই তারা ভয় পায়, তাদের বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে। তাদের সবচেয়ে বড় ভয়টা হচ্ছে, 'রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলু-খাগড়ার প্রাণ যায়' এখানে। সাধারন মানুষের জীবনের মূল্য কত কম তা ইতিহাস পাঠ করলে বোঝা যায়। ইতিহাস যে কতটা বৈষম্যপ্রবণ তা পাঠ না করলে বুঝতাম না। সেখানে সাধারন মানুষের উপস্থিতি এতটাই কম যে বোঝা মুশকিল সময়ের আহ্বানটা কি ছিল তৎকালীন সময়ে। ইদানিং কেউ কেউ চেষ্টা করছে। কিন্তু, তাতে আর কতটুকুই বা হবে। রাজনীতি যদি জনস্বার্থে হতো তাহলে ইতিহাসও জনগণের কথা বলতে বাধ্য হতো। কিন্তু, আদৌ তা সম্ভব কিনা তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। রাজনীতির বিপরীত কোন তত্ত্ব চর্চা করতে হবে। যেটা আরো বেশি কার্যকর হবে। অথবা এটাকে এমনভাবে মডিফাই করে চর্চা করতে হবে যেন জনস্বার্থ রক্ষা পায় সবার আগে।

৫৬২. সমস্যার সমাধান না করে, ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করলে সেটার আকার একটা পর্যায়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি করে যে তা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্যের মত সৃষ্টিকারী মালিককে খেয়ে ফেলে। সুতরাং, আমাদের সবারই সমস্যা দেখা মাত্রই সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। সমস্যা চিহ্নিত করতে পারাটাও একটি বিশেষ দক্ষতা। এটা যার নাই, সে কখনো স্বাভাবিক চিন্তা-চেতনার মানুষ নয়। হয় সে পাগল, নতুবা মানুসিক বিকারগ্রস্ত। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমস্যা একদিন সমস্যার পাহাড় তৈরি করবে। সেদিন আর সমাধান করার মত শক্তি, সাহস ও প্রেরণা কোনটাই থাকবে না আপনার। ক্ষুদ্র ভেবে অবহেলা করলে আপনারই ক্ষতি; সুতরাং, এখন থেকেই সমস্যা সমাধানের প্র্যাকটিসে নেমে পড়ুন। 

৫৬৩. আবারও স্পষ্ট করে বলি, আমি কাউকে নিজের প্রতিযোগী ভাবি না। কেউ যদি ভাবে বা সেটা দেখায়; তাও আমি ভাবি না বা তার সাথে প্রতিযোগিতায় নামার মত অসুস্থ্য মানুসিকতা আমার নেই। কেউ যদি আমাকে আঘাত করে বা করতে চেষ্টা করে; তাকেও আমি কিছু বলব না বা সে রকম কিছু করার চেষ্টাও করব না। কারন, আমি অসুস্থ্য মানুসিকতা নিয়ে চলি না। হয়তোবা কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাব; সময়ের টানে। কারন, অসুস্থ্য চিন্তা-চেতনা সম্পন্ন বদ লোকের দৌরাত্ব্য বেড়ে গেলে, সৎ-সুচিন্তার লোক নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এটা হয় দু'জনের চিন্তা-ভাবনার আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কারনে। একজন বর্বর, অসভ্য; আরেকজন ঠিক এর বিপরীত। আমি স্রোতের প্রতিকূলে সাঁতার কাঁটা লোক। তবে, সব সময় না; প্রয়োজন বোধে, মাত্রা পরিমাণ। এখন না হয় একটু অনুকূলে গাঁ ভাসিয়ে দিলাম। ক্লান্তি দূর হলেই আবার না হয় শুরু করা যাবে। বই ভালোবাসি; এখন বই নিয়েই না হয় থাকলাম।

৫৬৪. "মূলো চোরের কখনো ফাঁসি হয় না!" আরেক অর্থে আমরা যাকে ছ্যাচড়া চোর বলি; তার কখনো ফাঁসি হয় না। বড় জোর দু'ছ মাসের জেল। তাই তাকে দৌড়ের উপর রাখতে হয়। কারন, সে চুরি করবেই। আর আপনি যদি তাকে ধরে পুলিশে দেন; তাহলে আপনার সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না। আর ধরার পর গণ ধোলায় খেয়ে যদি মারা যায় তাহলে তো আপনার জেল-জরিমানা বা অন্য কোন শাস্তিও হতে পারে। যা আপনি কখনো ভাবেন নাই জীবনে।

৫৬৫. একজন মানুষ দশজনের কাছে দশ রকম। তাই বলে কি লোকটি দশ রকম পারসোনালিটি সম্পন্ন? মোটেও নয়! ব্যক্তির পারসোনালিটি একটাই! কিন্তু, দশ জনের মেন্টালিটি দশ রকম। যার মেন্টালিটি যেমন, লোকটির ব্যক্তিত্ব তার কাছে ঠিক তেমন ভাবে ধরা দেবে। কারন, একজন মানুষ দশ ধরনের পারসোনালিটির অধিকারী হতে পারে না! এটা আমার মতে, হাস্যকর বঁটে! কার্যত, যখন কাউকে নিয়ে কূৎসা রটানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হবেন তখন আগে নিজের দিকে তাকাবেন। দেখবেন, সূর্যকিরণও টিপ্পনী মেরে আপনার দিকে তাকিয়ে হাসছে। তখন নিজেই নিজের দিকে তাকিয়ে অব্যর্থ লজ্জিত হওয়া ছাড়া কিছু করার থাকবে না! কাজেই, কর্মে-চিন্তায় উত্তমপুরুষের একবচন চর্চা করা একান্ত কাম্য বলে বোধ করি। একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের মূল্যায়ন কেমন হবে তা নির্ভর করবে যে ব্যক্তি মূল্যায়ন করবে তার ব্যক্তিত্ব/ মেন্টালিটির উপর। আবার অনেক মানুষ যখন একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের মূল্যায়ন করবে তখন বিশেষভাবে দৃষ্টিকোণ/ দৃষ্টিভঙ্গি যেটাই বলি না কেন; সেটা চলে আসবে।

৫৬৬. এক চাষার দুটো গাধা ছিল। সে দেখতে চাইল যে, দুটোর মধ্যে কে বেশি একগুঁয়ে। দুটোকে সে একটা পনেরো ফুট লম্বা দড়ি দিয়ে বাঁধল। সে পঁশিচ ফুট তফাতে দুটো খড়ের গাদা রেখে ছেড়ে দিল। দুটো গাধাই নিজের নিজের খড়ের গাদার দিকে দড়ি টানতে লাগল। হ্যাঁচকা মেরে টানতে টানতে তারা পরস্পরের দমবন্ধ করে দিতে লাগল। কিন্তু তারা গাধাই ছিল। তারা যে যার দিকে টেনেই যেতে লাগল। আর অবশেষে পরস্পরকে দমবন্ধ করে মেরে ফেলল। তারা দুজনে একসঙ্গে এক দিকে গিয়ে প্রথমে একটা খড়ের গাদা খেয়ে তারপর আরেকটার দিকে গিয়ে সেটাও খেতে পারত। কিন্তু তারা তা করল না। কেন? কারন তারা গাধা ছিল। তারা পরস্পরকে শ্বাসরোধ করে মেরেই ফেলল।

৫৬৭. মূর্খ মানুষ আর পুরোনো গরুর গাড়ির চাকা সমান তালে চলে। চলবে ধীরে, বিশ্রী বিকট শব্দে। তবে, তাদের ব্যাপারে  সবচেয়ে বড় সত্য হচ্ছে তারা কখনো পিছুটান ছাড়তে পারে না; ঠিক ঐ গরুর গাড়ির চাকার মত। এক পা আগালে, দুই পা পিছিয়ে যায়। তাদের পরামর্শে কাজ করা আর ব্রেকলেস গাড়ি চালানো একই কথা। যেকোন মূহুর্তে একসিডেন্ট হতেই বাধ্য। তবে একটা কথা মূর্খতা কিন্তু পড়ালেখা না জানা দিয়ে মাপা যায় না; একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত লোকজনও মূর্খ হয়। বিশেষ করে তাদের আচারণ, কথা, কর্মে তার প্রমাণ মেলে।

৫৬৮. ডান বা বাম কোনটাই ভালো না। মধ্যপন্থাই সর্বোত্তম। দু'পা ছাড়া একপায়ে ভর করে যেমন চলা যায় না; ঠিক তেমনি আপনাকে মাঝামাঝি কোন একটা অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। যাদের এক'পা বা এক'হাত নেই তাদেরকে আমরা বলি প্রতিবন্ধী।

৫৬৯. জীবনের বাস্তবতাগুলো তখনই ধরা দেবে,

যখন আপনি একটু একটু করে পরিনতির দিকে অগ্রসর হবেন।

যতই পরিনত হবেন,

ততই আপনি খাঁটি/খারাপের দিকে এগুতো থাকবেন।

দিনশেষে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির খতিয়ানে আপনি একজন নিঃস্ব জড়-পদার্থ।

যার থাকে না কোন প্রাণ।

সেও একদিন ধ্বংস হয়ে ফসিলে পরিনত হবে।

৫৭০. একই জিনিস একেক জনের কাছে একেক রকম। সুতরাং, অন্যের বাজে সমালোচনায় কান-মন না দিয়ে নিজের স্ট্র্যাটেজিক প্লানানুযায়ী এগিয়ে যান সফলতা আসবে; অবশ্যই। আপনি যদি অন্যের অকেজো সমালোচনায় কান-মন দেন তাহলে আপনি এগোতে পারবেন না কখনোই। এখানে একটা জিনিসই হয়, এটেনশন সিকারদের নিয়ে ভাবতে ভাবতে আপনি নিজের পরিকল্পনাটাই ভুলে বসে থাকবেন। এই জগতে চলতে গেলে টাকার যেমন প্রয়োজন আছে, ঠিক তেমনি আপনার স্ট্র্যাটেজি, আপনার প্লান, আপনার দক্ষতা আপনাকে আপনার লক্ষ্যে পৌছে দেবে; যদি সেটা সুপরিকল্পিতভাবে নিতে পারেন। হ্যাঁ এটা ঠিক যে আপনাকে সমাজে থাকতে হবে, সমাজের মানুষের কথা শুনতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে কৌশলী হতে হবে। তানাহলে আপনি কোনভাবেই এগোতে পারবেন না। ফেসবুকের একই পোস্টে কেউ শুধু লাইক দেয়, কেউ লাভ সাইন দেয়, আবার কেউ হাহাহা সাইন দেয়, কেউ স্যাড সাইন দিয়ে বসে থাকে। কারো দুঃসংবাদ শুনে অনেকে হাহাহা রিয়্যাক্টও দেয়! এদের সবাইকে নিয়ে যদি আপনি ভাবতে থাকেন, কেন সে এটা বা ওটা দিলো। তাহলে আপনি নেহাতই একজন বোকা। তাদের নিয়ে ভাবার কোন দরকার আছে! নিজের কর্ম ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ভাবুন; অন্তত শেষ জীবনে গিয়ে হা-হুতাশ করা লাগবে না। সবাই ভালো থাকবেন; সুস্থ থাকবেন; সবার জীবন সুন্দর হোক; সে কামনায় করি!