৫৫১. মানুষের মধ্যে তুলনামূলক অর্থে গাঁধা দু'রকমের! মূর্খের গাঁধা আর শিক্ষিতের গাঁধা! শিক্ষিতের গাঁধারা একাডেমিক নির্মোক ছেড়ে বিচিত্র বই পড়েন। নিজের মূর্খতা কিছুটা হলেও দূর হবে।
৫৫২. জীবন! গল্পের সমষ্টি! সমাহারে সমষ্টি! একের কৃষ্টি! অন্যের দৃষ্টি! নতুন সৃষ্টি! স্বপ্ন সুখের বৃষ্টি!
৫৫৩. বাংলা বলতে কৃত্রিম সৌন্দর্যের শহর নয়। গ্রাম-বাংলার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেই বোঝায়। ভালেবাসি বাংলা মায়ের প্রকৃতি আর তার সীমাহীন সৌন্দর্যকে। তুমি আমার অক্সিজেন; বেঁচে থাকার প্রেরণা।
৫৫৪. অ-স্বাস্থ্যকর কথাবার্তা বলে, আচরণ প্রদর্শন করে, গল্প শুনিয়ে লাভ হয় না! নিজের Efficiency বাড়াও ভাই!
৫৫৫. ২১ শে ফেব্রুয়ারী। বাঙালি চেতনার অন্যতম একটি উপাদান। মানুষ কতটা অমানুষ হলে আরেকজন মানুষের মায়ের মূখের ভাষা অর্থাৎ মাতৃভাষাকে মূখ থেকে কেঁড়ে নিতে উদ্ধ্যত হতে পারে, তা এই ২১ শে ফেব্রুয়ারী স্বরণ করিয়ে দেয়! ভালোবাসি মাতৃভাষা বাংলাকে। ভালোবাসি মাতৃভূমি বাংলাদেশকে। ভালোবাসি তাদেরকে যুগে যুগে যারা প্রাণ দিয়েছিল বাংলা ও বাঙালিত্ব রক্ষার জন্য। বাঙালি জাতি তাদের কাছে চির ঋণী হয়ে আছে। বাংলায় এখনো কিছু পাকিজাত আছে যারা পাকিদের অসভ্য, বর্বর কর্মকাণ্ড সমর্থন করে। আমি মনে করি, সে যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয় এবং সভ্য হয় তাহলে সে পাকিদের অসভ্য কর্মকাণ্ডকে কখনো সমর্থন করতে পারে না। আজকের এই মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বীর শহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলা আজ বিশ্ব দরবারে বিশেষ স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
৫৫৬. এই সেদিন সৈদি আরবের একজন কট্টোর সুন্নি মুসলিম একজন শিয়া মুসলিম মহিলার সামনে তার শিশু সন্তানকে গাড়ির কাঁচ দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। ছেলেটির নাম জাকারিয়া। শিশুটির মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিল; খবর মারফত জানতে পারলাম। একজন মা সন্তান জন্ম দিতে কতটা কষ্ট ভোগ করে; তা পর্যবেক্ষনশীল ব্যক্তিমাত্র বুঝে থাকেন। তবুও, দিনশেষে সন্তানের মূখ দেখে মায়ের মূখে আনন্দ-অশ্রু ফুটে। সেই মায়ের সামনে যদি এমন জঘণ্যভাবে কেউ তার শিশু সন্তানকে হত্যা করে; সত্যি কথা বলতে কি খারাপ লাগছে খুব, কথা বলতে পারছি না! যে লোকটি শিশু জাকারিয়াকে হত্যা করলো তার প্রতি ঘৃণার মাত্রা এতটাই জেগে উঠেছে যে ঐ লোকটার কথা মনে পড়লেই বমি বমি ভাব হচ্ছে। একটা মানুষ কতটা নিকৃষ্ট, অসভ্য, বর্বর হলে একটি শিশুকে তার মায়ের সামনে হত্যা করতে পারে শুধু ধর্মীয় মতাদর্শের পার্থক্যের কারনে; ভাবতেই শিউরে উঠছি। খবরটা পড়ার পর থেকে খুবই খারাপ লাগছে আমার। বহু জাকারিয়াকে এর আগে একই কারনে প্রাণ দিতে হয়েছে। আজ অব্দি এর কোন সমাধান করতে পারেনি কেউ। সবাই তার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার জন্য যুগে যুগে এরকম অজস্র হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর যেন কোন হত্যাকাণ্ড না ঘটে, সেরকম একটা সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে পিতামাতা অর্থাৎ অভিভাবকের দায়টা বেশি। কারন, সন্তানের বেঁড়ে উঠাটার প্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রন করে বাবা-মা। কখনো কখনো বাবা-মা সন্তানকে খোদার খাশি বলে ছেড়ে দেয়। এটা করা মহাভুল। জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় অবশ্যই একদিন দাড়ানো লাগবে। সেদিন কিন্তু কর্মফল অবশ্যই ভোগ করা লাগবে। তিল পরিমান ছাড় পাবেন না। এই সন্তানই একদিন আপনার ঘাড়ে লাঠি মারবে। সময় থাকতে সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার কাজে নেমে পড়েন। ছোটবেলা থেকে সন্তানের মধ্যে একটা ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে দিতে হবে। অনেক আগে একটা ভিডিওতে একটা লেখা পড়েছিলাম যে সফল মানুষ কখনো শেখা বা পড়া বন্ধ করে না। এই মূল্যবোধ আমাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। এখন ভাবলে আমি অবাক হই। কোথায় ছিল আমার চিন্তা-ভাবনা! আর আজ কোথায় এসে দাড়িয়েছে। আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানবতার জয়গান গায়!
৫৫৭. ছ্যাচড়া চিনতে সময় লাগে না! লুতুপুতু, নারীবিদ্বেষী সাংকেতিক কথাবার্তা লিখে পোস্ট দাও! আর ভাবো সবাই বোকা! ছ্যাচড়াদের কোন আত্মসম্মান থাকে না এটা সবাই জানে! এরা মেসেঞ্জারে মেয়েদের সাথে কি করে সবাই জানে এবং বোঝে! ভণ্ডামি বাদ দিয়ে নিজের Best version তৈরিতে মগ্ন হও। নইলে দিনান্তে তুমি একজন পতিত মানুষ হিসেবে সমাজে পরিগণিত হবে!
৫৫৮. সত্যি কথা বলতে কি! বই পড়ার নেশায় যখন থেকে বুঁদ হওয়া শুরু করি তখন থেকেই মূলত কাউকে নিজের প্রতিযোগী মনে হয় না। নিজেকে নিজের প্রতিযোগী ভাবতেই বেশি ভালো লাগে; শান্তি অনুভব করি। কারন, অযথা অন্যকে নিজের প্রতিযোগী ভেবে নিজের সময় নষ্ট করার কোন মানে হয় না; চরম বোকামী এটা। আর অন্যকে নিজের প্রতিযোগী না ভাবার সবচেয়ে বড় কারন হচ্ছে সফলতা নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শন। সফলতার ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শন হচ্ছে, 'সফলতা মানে নিজের Best version তৈরি করা প্রত্যহ।' কেউ যদি আমাকে আপনার প্রতিযোগী ভেবে থাকেন তাহলে ভুল পথে অগ্রসর হয়েছেন। নিজের সময় অপচয়ের সবচেয়ে সেরা উপায়টা বেছে নিয়েছেন, জনাব! 'পরিবর্তন মহাসত্য'। এটা আমার সবচেয়ে বড় উপলব্ধি বলে মনে করি। কেউ যখন বলে, ভাই তুমি তো অনেক পরিবর্তন হয়ে গিয়েছো। আমার কাছে হাস্যকর শোনায় কথাটা। কারন, পরিবর্তন দু'ভাবে হতে পারে। ইতিবাচক ও নেতিবাচক। তবে, এ ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শন হচ্ছে পরিবর্তিত রূপটা হচ্ছে তার Updated version. দায়টা আপনার; তার Updated version টা ইতিবাচক হলে সেটার সাথে অবশ্যই আপনাকে খাপ খাওয়ায়ে নিতে হবে; নেতিবাচক হলে নিঃশেষ হওয়ার আগেই নিজ দায়িত্বে সেটা পরিত্যাগ করতে হবে। তা না পারলে আপনি একজন Back dated person বলে সভ্য সমাজে পরিগণিত হবেন। শেষে একটা কথা বলি, বাইরের জগতে চলতে গেলে আমাকে একটু comprofice করে চলতে হয়। তবে, ওটা আমার আসল রূপ না, ভাই! নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শনই correct version আমার।
৫৫৯. একজন ভোদাই মার্কা শিক্ষিত বড় ভাই অপ্রাপ্ত বয়স্ক (বয়সের পার্থক্যটাও অনেক ছিল) এক মেয়েকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করে। তো আমি ভাইকে বললাম, ভাই এটা আপনি কি করলেন? সে বলল, ওসব বাদ দাও তো! ওসব ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্র। আমি বললাম, না না ভাই; এটা হতে পারে না! কথাটা হাস্যকর! কথাটা দেশ ও জাতির জন্য হাস্যকর! সভ্য মানুষ এটা কখনো করতে পারে না। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি আমাকে অসভ্য বললে? আমি যথারীতি বলে দিলাম, জ্বি ভাই! সে তো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো আমার উপর! বিষয়টা ঠিক এ রকম, 'পাগলকে পাগল বললে সে ক্ষেপে যায়। যদিও সে পাগল।' অসভ্য কাজ সে করতেই পারে! কিন্তু, আপনি কখনোই বলতে পারেন না! হাহাহা!
৫৬০. বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে কখনো মানুষকে বিচার করতে নেই। সেটা হবে মহাভুল। কারন, একজন মানুষ বাইরে অনেক সুন্দর হতে পারে কিন্তু ভেতরটা তার জঘণ্য। তা যদি হয়, তাহলে বাইরের ঐ সৌন্দর্য ফলদায়ক গাছের ফলহীনতার মত। ছাগল দিয়ে হাল চাষ হয় না। তা সে যত বড় রামছাগলই হোক না কেন। মানুষকে বোকা বানাতে গেলে নিজেকে আগে বড় বোকায় পরিনত করতে হয়। ওটা না করায় ভালো! আমি মনে করি, 'ভালো কিছু করতে হলে, আগে নিজেকে ভালো মানুষ হতে হবে।' কোন প্রকার ভণ্ডামি করা যাবে না। ভণ্ডামির আরেক রূপ হচ্ছে মানুষের সঙ্গে পরোক্ষভাবে প্রতারণা করা। মানে, বিশাল রামছাগল হয়েও নিজেকে গরুর বেশে উপস্থাপন করে অন্যকে বাঁশ দেয়া।