সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা (৫২১-৫৫০)

৫২১. আসুন সচেতন হই! অপরকে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করি! মূর্খতা, অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কার, ভণ্ডামী, অসভ্যতা, অভব্যতা, ক্ষতিকর দূষন, অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে সচেতন হই! একে-অন্যের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হই। সচেতনতা এন্টিসেপটিকের মত! এটা ক্ষতিকর বিষয় থেকে আপনাকে রক্ষা করবে! সচেতন হওয়াটা সহজ! শুধু বিষয় সম্পর্কে একটা সম্যক ধারনা থাকলে হবে! আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন কি করা উচিত আর কি করা উচিত নয়! একজন সভ্য মানুষ সবার আগে একজন সচেতন মানুষ!

৫২২. বাল্য-প্রেমের একটাই সমস্যা এটার কোন শেষ পরিনতি বলে কিছু নেই! বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীবনটা এলোমেলো করে দেয়। অযথা জীবন থেকে কিছু সময় নষ্ট হয়! সুতরাং, এটাতে মনোযোগ না দেয়ায় ভালো! পড়ালেখা করে নিজে আয়-রোজগার করতে শিখে এটা করাই শ্রেয়! বাপের টাকায় বাইক চালানোর মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই! স্ব-কর্মে নিজ-কৃতিত্ব গড়ে ওঠে!

৫২৩. আপনি আমাকে চড়, কিল-ঘুষি, থাপ্পড় মারলেও আমি আপনাকে কিছুই করব না। তবে, সেখানে একটা কথায় বলব যে আপনি একজন অসভ্য মানুষ। আপনি আমাকে হত্যা করতে উদ্ধ্যত হলে আমিও আপনাকে হত্যা করতে উদ্ধ্যত হব না। তবে, সেখানে প্রতিরোধ করব। কারন, হত্যার মত জঘণ্য কাজ অসভ্য ও বর্বর লোকেরাই করে।

৫২৪. শিক্ষার প্রথম ধাপটা হওয়া উচিত শিষ্টাচার দিয়ে। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত লোকজন যখন শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ প্রদর্শন করে তখন তাদের মা-বাবাদের জন্য করুণা হয়। তারা শেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় না জানি তারাও এর শিকার কিনা!

৫২৫. শত্রু কখনো বন্ধু হয় না! মানুষ মানুষের বন্ধু হয়। কিন্তু, মানুষের শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব কখনো বন্ধুত্বে গড়ায় না। যেটা অবশিষ্ট থাকে সেটা হচ্ছে স্বার্থ। দিনশেষে সে আপনার বুকে ছুরি মেরে প্রস্থান করবে। এটা হয়, হচ্ছে, হবে। ঐতিহাসিক সত্য।

৫২৬. অপরকে প্র্যাকটিক্যালি কোন কিছু শেখানোর আনন্দটা অপার! সে জানতো না, এখন জানে। বিষয়টা আনন্দদায়ক বঁটে!

৫২৭. গাঁধা পিটিয়ে মানুষ বানানো যায় নারে পাগলা! তবে, কোন মানুষ যদি গাঁধার মত হয়ে যায়! তাহলে অন্তত চেষ্টা করে দেখা যায়, আবারো মানুষে রূপান্তরের!

৫২৮. খচ্চর চিনেন ভাই খচ্চর? খচ্চর হচ্ছে ঘোড়া আর গাঁধার সংমিশ্রনে তৈরি হয়! মানুষের ভেতরেও শিক্ষিত আর অশিক্ষিতের সংমিশ্রনে কিছু খচ্চর সৃষ্টি হয়েছে! যাদেরকে আমরা সহজ বাংলায় বলি বেয়াদব, বদমায়েশ। মানে আদবকেতা তো কিছুই নাই; উল্টো বদমায়েশি করে। এদেরকে খচ্চর বললে এমন একটা ভাব করে, নিজেকে খচ্চর প্রমাণ করার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়! এটা স্পেসিফিক কেউ নয়! অনেকেই! তবে, সবাই না!

৫২৯. জানেন মোর ভারা,

মারামারি করে কারা!

অসভ্য, বর্বর যারা,

এসব করে তারা!

৫৩০. আমি হলাম তরল! যে পাত্রে রাখবেন, সেরকম আকার ধারণ করব! কিন্তু আমাকে যদি উতপ্ত করেন, আর আপনি দূর্বল প্লাস্টিক হোন। তাহলে আপনি কিন্তু আমার ভেতরে একাকার হয়ে যাবেন। আর যদি কঠিন কোন পদার্থ হোন তাহলে সেটাও গলানোর মত দাহ্য মজুদ আছে। সবচেয়ে বড় কথা, তরল তার আপন ঠিকানা খুঁজে নেয় নেয়।

৫৩১. ব্যক্তি জীবনে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারাটাই একবিংশ শতাব্দির শ্রেষ্ঠ দক্ষতা! সবাই মিলে একত্রে কাজ করে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক স্বার্থ এমনভাবে উদ্ধার করা যাতে কারো ক্ষতি না হয়; এটা একবিংশ শতাব্দির অন্যতম দক্ষতা!

৫৩২. প্রবল বর্ষনের ফলে যে পানির স্রোত তৈরি হয়; তাকে আটকানো যায় না। বেরিয়ে যায় আপন ঠিকানায়! নিজের ভেতর জ্ঞানের প্রবল বর্ষন ঘটান। কেউ আপনাকে আটকে রাখতে পারবে না। আপনার যাত্রা হবে সুন্দর ও কল্যানের পথে! বই পড়ুন। বেশি বেশি করে। দুনিয়ার কেউ আপনাকে আটকাতে পারবে না।

৫৩৩. মেঘনার প্রবল স্রোতের মূখে কেউ যদি একটি গামছা নিয়ে ভাবে স্রোত আটকে দেবো! তাহলে সে বোকার স্বর্গে আছে!

৫৩৪. মিথ্যাও একটি সৃজনশীলতা। কিন্তু, অধিকাংশ মানুষ এটার অপরিমিত ও অন্যায়মূলক ব্যবহারের কারনে নিজের ও অন্যের অকল্যান বয়ে আনে।

৫৩৫. মত ও দ্বিমত প্রকাশ করার মত যোগ্য লোক যে সমাজে নেই, সে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত। একটা সময় নিজ দলের মধ্যে কোন্দল বাধিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। তাবৎ পৃথিবীর ইতিহাসে এটা ঐতিহাসিক সত্য। মানেন আর না মানেন; ঘটবে। আপনার মানা না মানা দিয়ে কিছু যায় আসে না!

৫৩৬. আপনি যেটাকে ভালোবাসা মনে করেন, সেটাকে ঠিক ভালোবাসা বলে না! কারন, মাঁকাল ফলও একটি সুন্দর ফল!

৫৩৭. যে দেশের মানুষ এক পেজের সচেতনতামূলক 'লিফলেট' না পড়ে ফেলে দেয়। সে দেশের মানুষ 'বই পড়বে'! এই ভাবনাটা মাথায় আনা মানে এর চেয়ে বড় বোকামী আর কিইবা হতে পারে। আর যারা বই পড়ে না তাদের মস্তিষ্কের অবস্থা কি হতে পারে একবার ভেবে দেখুন।

৫৩৮. ভালোবাসা বলতে আসলে অভ্যাসকে বোঝায়। প্রেমে থাকে জৈবিক তাড়না।

৫৩৯. জ্ঞানী আর মূর্খের দ্বন্দ্বের মূল যায়গাটা হচ্ছে, কর্ম-কথা-চিন্তায়।

৫৪০. জ্ঞান আর মূর্খতার মধ্যে সম্পর্কটা জল-তেলের মত।

৫৪১. সবই একদিন ইতিহাস হবে। তবে, ঘটনাচক্রে দু'একটি ঘটনা পাঠ করে মানুষ। সব ঘটনা যেমন ইতিহাস নয়; ঠিক তেমনি সব মানুষই ইতিহাসের অংশও হতে পারে না। ইতিহাসে ঠায় পায় বিখ্যাত আর কুখ্যাতরা। সাধারনের ঠায় হয় না ইতিহাসের বিশাল ক্যানভাসে। তারা ক্ষনিকের পাঠক মাত্র। নতুবা, সভ্যতার অসভ্য বোঝা।

৫৪২. ছোটবেলার একটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। বিষয়টা হচ্ছে, তীর গুলতি। আমরা যখন ওটা দিয়ে খেলতাম তখন আগে ওটাকে পেছন দিকে টেনে ছেড়ে দিতাম। পেছন দিকের স্পেসটা কম হতো। কিন্তু ওটাতে যে গতি তৈরি হতো সেটা বলে বোঝানোর দরকার আছে বলে বোধ করি না। এখান থেকে যেটা আমরা শিখতে পারি সেটা হচ্ছে, সামনে যেতে চাইলে পেছনের দিকেও একটা মোটামুটি স্পেস দরকার। আমি ওটাকে বলি অনুপ্রেরণা আর ব্যাক সাপোর্ট। হতাশা আর ব্যর্থতার গ্লানি ঝেড়ে, বেঁচে থাকার জন্য এই স্পেসটা খুবই দরকার। তবে, এটা সব কিছুর মধ্যে থেকে খুঁজে নিতে হয়। মানুষের দু'একটা আশা জাগানিয়া ব্যর্থ স্লোগানে পাওয়া সম্ভব নয়। বাস্তবতা আর স্বপ্নের ঘোর আলাদা মোটিফ বহন করে। বাবা-মা যদি সঠিকভাবে মৌখিক নয়, বাস্তব-দায়িত্ব পালন করে তাহলে এগুলোর জন্য সন্তানকে বাইরে খুঁজতে যাওয়া লাগে না।

৫৪৩. বোটম্যান থিওরি। বেতনা নদী! ভালো লাগা, খারাপ লাগার সঙ্গী। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে নদী দেখতে যেতাম। নদী পার হওয়ার সময় মাঝি ঘাট থেকে স্রোতের প্রতিকূলে প্রথমে কিছুদূর গিয়ে নৌকা নদীর মাঝ বরাবর স্রোতের অনুকূলে বাইতে শুরু করত। দেখা যেত নৌকা অপর ঘাটে না গিয়ে ঘাট থেকে বেশ কিছু দূর ওপারে গিয়ে তীর বরাবর স্রোতের প্রতিকূলে ভিড়েছে। তখন আবার স্রোতের প্রতিকূলে নৌকা তীর ঘেঁষে হাল বেয়ে ঘাটে ভিড়াতো। মানুষের জীবনের সাথে বিশেষ করে সফল মানুষের সাথে এর প্রচুর মিল খুঁজে পায় আমি। ভেবে দেখুন তো; আপনিও মিল খুঁজে পাচ্ছেন কি না!

৫৪৪. বেকারদের উপর সবাই খড়গহস্ত হয়। বিষয়টা অনেকটা 'উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানো'র মত। যে সকল অপদার্থ অন্যায় করে, তারা শাস্তি না পেয়ে আরো স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন উপহার পাচ্ছে। এ যেন 'সোনার পাত্রে গোবর রাখা'! আর গরীব-মেধাবী সম্ভাবনাময় তরুন বেকাররা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘাঁ খেয়ে মরণাপন্ন হয়ে টিকে থাকার সংগ্রামে চিন্তা-ভাবনায় পঙ্গুত্ব বরন করে অর্থনৈতিক-প্রতিবন্ধী জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। তাদের চিন্তা-ভাবনায়ও প্রতিবন্ধী-দশা। অনেক সময় তারা মাঁকাল ফলকে আপেল ভেবে সংকুচিত চিত্তে খেয়ে ফেলছে। অবশেষে বদহজম হয়ে পারিবারিক বোঝা হয়ে সমাজের সমালোচনার ভাঙড়িতে পরিনত হচ্ছে। এ দায় কি শুধু দেশকর্তার! না না এটা হতে পারে না! এটা দেশ ও জাতির জন্য হাস্যকর! এ দায় পরিবার, সমাজ ও কৃষ্টি-কালচারেরও কোন অংশে কম নয়। গতানুগতিক চিন্তা-চেতনার বাইরে যেতে পারে না প্রবল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় তরুনরা। পারিবারিক গণ্ডি সমাজের পঙ্গু-প্রতিবন্ধী অন্ধ-কুসংস্কারের বেড়াজালে আটকে আছে। মরণকূপ থেকে মুক্তি চায় তরুন-যুবারা। প্রতিবন্ধী চিন্তা নয়; স্বাধীন কর্মের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে চায় তরুন সমাজ। তাদের সেই স্পেসটা ছেড়ে দেওয়া হোক। পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধী চিন্তা-চেতনা নিপাত যাক।

৫৪৫. গুড নেটওয়ার্কিং এর সবচেয়ে বড় সাইড ইফেক্ট হচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে আপনাকে খুব নিচে নামতে হবে। এই সৎসাহস না থাকলে আপনার পক্ষে নেটওয়ার্কিং জিনিসটাই হবে না। গুড তো আরো পরে। তবে, এই নিচে নামা বলতে কিন্তু খোদার খাশি হয়ে যাওয়া নয়। একটা সার্বিক ইতিবাচক প্রয়োজনীয় অবস্থান। যেখান থেকে উভয় পক্ষের ক্ষতিহীন ফায়দা উঠানো। বলা যায়, এটা একবিংশ শতাব্দির শ্রেষ্ঠ দক্ষতার বিষয়।

৫৪৬. প্রয়োজনে মানুষ কথা বলে না! অপ্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়া যায় প্রচুর। কিন্তু, কিছু মানুষ রয়েছে যারা আমার অনুভূতি জুড়ে রয়েছে। তাদের পরামর্শ বিদ্যূৎ গতিতে কাজ করে। কেউ বয়সে বড়, কেউবা বয়সে ছোট থেকে ছোটতর। তবুও, তাদের বুদ্ধিমত্তা আমাকে বিমোহিত করে। এ সকল মানুষের জন্যে সর্বস্ব বিলিয়ে দিতেও আমি কসূর করব না। তবে, তাদেরকে নিয়ে জনসম্মূখে খুব কমই আলোচনা করি। কারণ, তারা আমার অনুভূতি। বেঁচে থাকার অক্সিজেন। মানুষ তাদেরকে নিয়ে বাজে কিছু বললে সহ্য করা আমার পক্ষে মুশকিল হয়ে যায়। এ ব্যাপারে আমি একটু কৌশলী অবস্থান গ্রহন করি। আর মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়। আমার দাদাজী বলতেন, 'দোষে-গুণে মানুষ'। হতেই পারে তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে অনেক সমস্যা রয়েছে। থাকতেই পারে! অস্বাভাবিক কিছু নয়। সবার জীবনে এরকমটা হয়। আমি নিজেই একটা ভুলের ভাণ্ডার। তবে, একই ভুল বারবার করাটা আমার কাছে বিরক্তিকর। এ ব্যাপারে আমি খুবই সচেতন বলা যায়। এটা আমার নিজস্ব একটি বৈশিষ্ট্য। এভাবে অনেকের অন্য অনেক ভালো-মন্দ বৈশিষ্ট্য আছে। থাকবে; এটা নিয়ম রে ভাই! তাই বলে কারো অনুভূতি নিয়ে টানাটানি করাটা অন্যায় বলে বোধ করি। সবচেয়ে বড় কথা, আমি আমার লেখার প্রয়োজনে বড় স্বার্থপর। টাকা-পয়সা বা ধন-সম্পদ আমাকে খুব বেশি টানে না'রে ভাই! আমি আজীবনের পাঠক হতে চাই। আর নিজের অভিজ্ঞতা যতটুকু প্রকাশযোগ্য ততটুকু এই লেখালেখি করে প্রকাশ করার চেষ্টা করি। ভুল হলে লজিক্যাল ফ্যালাসি না দিয়ে যুক্তিসঙ্গতভাবে ধরিয়ে দিবেন। ক্ষতি করবেন না। আপনার মতকে আমি অবশ্যই সম্মান করি। কারণ, নিজেকে সভ্যতার আলোয় দেখতে পছন্দ করি। নিজের অসভ্যতা বা বর্বরতাকে কখনো বরদাশত করি না; মূহুর্তেই সংশোধিত হওয়ার চেষ্টা করি। ভালো থাকবেন; ভালো রাখবেন; কারো প্রতি অন্যায় করবেন না, ক্ষতি করবেন না। দেখবেন, বেঁচে থাকাটা নিজের কাছে অর্থবহ হয়ে উঠবে।

৫৪৭. আমার জানামতে, এখানে মেয়েদের কোন সমস্যা নেই! এখানে সমস্যাটা হলো পুরুষতান্ত্রিক অসভ্য-মানসিকতার! সাম্য তাদের থেকে অনেক দূরে! নারীরা উচ্চশিক্ষিত হয়ে পুরুষের সমকক্ষতা অর্জন করুক, এটা তারা চাই না! আমি দেখেছি, যে সব মেয়েরা উচ্চশিক্ষিত হয়ে চাকরি করে। বিয়ের পর তাদের স্বামীরা মেয়েটির অ'মতে চাকরি ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপাচাপি করে। কারন, পুরুষটি ভাবে সে আমার স্ত্রী, সে আমার অধীনস্ত; প্রোপার্টি। সে কেন আমার উপ্রে উঠবে বা সে যদি চাকরি করে স্বাবলম্বী হয় তাহলে সে আমার চাপিয়ে দেয়া কথা শুনবে না, মানবে না। বেশিরভাগ উচ্চশিক্ষিত মেয়েদের ডিভোর্স হওয়ার অন্যতম কারন পুরুষের এই অসভ্যতা! আর এই অসভ্য, বর্বর পুরুষগুলো সব যায়গায় নারীদের দোষ খুজে পায়! আবার এরা এতটাই অসভ্য, বর্বর যে নিজেদের দোষ-ত্রুটিগুলোও নারীদের উপরে চাপিয়ে দিতে কসূর করে না! নিজেদের সমস্যার কারনও তারা নারীদের মধ্যে খোজে! এককথায় বলা যায়, চরম মাত্রার ব্যক্তিস্বার্থবাদী নারী বিদ্বেষী লোকজন এরা।

৫৪৮. মনে রাখবেন, দূর্গন্ধ শুধু পঁচা ফুল থেকেই আসে। সুন্দর ফুল থেকে নয়। ডাস্টবিনেই আপনি দূর্গন্ধ পাবেন,  সুগন্ধ পাবেন না। কেউ আপনার সাথে দূর্ব্যবহার করলো আর আপনিও তাই করলেন। তার মানে আপনিও তার মত দূর্গন্ধযুক্ত ডাস্টবিন হয়ে গেলেন। যারা আপনাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে। তাদের জীবনে অর্জনের যায়গাটা খুবই নড়বড়ে। এর চেয়ে যারা একটু উপরে তাদের মধ্যে আবার Ego চেপে বসে। সেও খারাপ মন্তব্য করে। তার সফলতার ভিত্তিটাও খুব দূর্বল। হয়তোবা বেশিদিন টিকবে না। অনেকে অনেক Hate Comment/ বাজে মন্তব্য করবে। আমরা যদি আমাদের কাজ বাদ দিয়ে তাদের মন্তব্যের উত্তর দেয়া শুরু করি, তাহলে আমাদের জীবন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু তাদের বাজে মন্তব্য শেষ হবে না। My life, My rules, My choice. আমার লাইফে যা ঘটবে তার ভাল-মন্দ সবই আমাকে ভোগ করতে হবে। যখনই কোন নেতিবাচক মন্তব্য আপনাকে আঘাত করবে তখনই কোন প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে তার জীবনটিকে দেখুন এবং বিচার করে দেখুন তার জীবন এবং আপনার জীবনের অর্জনগুলো দিয়ে। এমনিতেই আপনি শান্ত হয়ে যাবেন।

৫৪৯. দিনশেষে আপনি যখন বুঝতে পারবেন যে সারাদিন আপনার সাথে একজন মানুষ যে আচরণ প্রদর্শন করলো আসলে তা সে নয়! সে অন্যকিছু! তখন তার প্রতি আপনার অনুভূতিগুলো ভেঙে নিঃসন্দেহে চূরমার হয়ে যাবে। এখন মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস বা আস্থা ধরে রাখা মুশকিল। বন্ধুত্বের মানে হচ্ছে বাবা-মার সাথে না বলা কথাগুলো বলা বা তার থেকেও অন্তরঙ্গতা। যদি সেখানে শুধু স্বার্থ আর স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকে সেটাকে ঠিক বন্ধুত্ব বলা যায় না। বন্ধুত্ব যদি শুধুই প্রয়োজনের তাগিদে হয় তাহলে সে রকম বন্ধুত্ব দরকার নেই। আবার এক পক্ষের প্রয়োজনে বন্ধুত্ব; আর আরেক পক্ষের শুধুই সময়ের অপচয়। এটারও কোন মানে হয় না। এক পক্ষের চূড়ান্ত ক্ষতি হয়। তবে, সব সময় বন্ধুত্বের মানে ধরে রাখা যায় না; পরিবর্তনশীল এ বিশ্বে। তবুও, সম্পর্কগুলো ক্যাজুয়াল হিসেবে রয়ে যায় আজীবন। কিন্তু, হারিয়ে যায় শুধু অন্তরঙ্গতা। এটা নির্দিষ্ট সময় পর আর থাকে না। আর দূরত্বও অন্তরঙ্গতা কেঁড়ে নেয়। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে সবই নিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই এটা নিয়ে হা-হুতাশ করার কিছু নেই। আহ্বান ও সাড়া প্রদানের ভিত্তিতে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এটা যদি উভয় পক্ষে না থাকে তাহলে সেরকম বন্ধুত্ব না রেখে ফরমাল সম্পর্কটাই এখানে বেস্ট। আর একটা কথা বলি, বন্ধুত্ব বয়স মেপে হয় না। আবার সিনিয়র-জুনিয়র একাডেমিক সেশন দিয়ে হয় না। এসব খুব সুক্ষ বিষয়। সামাজিক জীবনের সহজ-সরল অবস্থানে এগুলো ভাবা লাগে না। কিন্তু, ফরমালিটিস মেইনটেইন করতে গেলেই এটা সব কিছুর আগে সামনে চলে আসে। আবার অফিসিয়াল ফর্মালিটিসের ক্ষেত্রে বস কেন্দ্রিক সিনিয়ারিটির একটা ব্যাপার জড়িত। এখানে সম্মানের চেয়ে কমাণ্ড মেনে চলাটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেকের এগুলোর ব্যাপারে স্পষ্ট কোন ধারণা গড়ে ওঠে না। যে কারনে পদে পদে অপমান-অপদস্থ হতে হয়। অনেক সময় কেউ কিছু না বললেও আপনার ব্যক্তিত্বে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করে। যেটা আপনার জীবন, আপনার ক্যারিয়ারের উপরও নেতিবাচক  প্রভাব বিস্তার করে। এজন্য আমাদের এসব ব্যাপারে আরো বেশি সচেতন হওয়া দরকার। জীবন তো একটাই ভাই! সুন্দর করে যাপন করার চেষ্টা তো করতেই হবে। একে-অন্যের সহযোগী হই! যেন কেউ আমার উপর প্রভূত্ব বিস্তার না করতে পারে সেটা সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে। জীবনটা একান্ত আমার; দায়টাও আমার! ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। এজন্য 'ভাবতে হবে; ভাবা প্র্যাকটিস করতে হবে'।

৫৫০. পুরাতন জিনিসের একটা ডিমান্ড আছে! এটা আমরা সবাই জানি! তাই বলে, সব পুরাতন জিনিসের নয়! কিছু পুরাতন জিনিস আছে যা অকেজো হয়ে অনিষ্টকর বস্তুতে পরিনত হয়। তখন সেগুলোকে আমরা ডাস্টবিনে অথবা ভাগাড়ে ফেলে দিই।