সময়টা ২০০৫-০৬ সাল। প্রচুর এফএম শুনতাম। সাধারনত ইংলিশ গানের প্রতি টানটা একটু বেশি ছিলো। হিন্দি গানও শুনতাম কমবেশি! তবে, ইংলিশ গান বরাবরই বেশি শুনতাম, এখনো শুনি! বাঙালি হিসেবে বাংলা গান তো আমি শুনিই! এর মধ্যে ইংলিশ ও হিন্দির রিমিক্স আর র্যাপটা আবার বেশি বেশি শুনতাম। আশপাশের লোকজন সমালোচনা করে বলত, 'কি সব গান শোনে'! আবার এটাও বলতো, 'কি শুনিস! বুঝিস ওর অর্থ'! আরো কত কথা! আমি বলতাম, আমার ভালো লাগে তাই শুনি। বিনোদনের জন্য শুনি। বোঝার জন্য শুনি না। এরপর যতরকমের গানের জ্ঞান আছে সব শুনতে হতো আমার।
সময় বদলেছে। এখন ২০১৯ সাল। মাঝখানে দেড় যুগের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। তখনকার দিনে ইচ্ছামত গান শোনার এত সুযোগ-সুবিধা কোনটাই ছিলো না! রেডিও বা এফএমের উপর নির্ভর করতে হতো। আর ছিলো ক্যাসেট প্লেয়ার। কিন্তু সেটা একটু ব্যয়বহুল হওয়ার কারনে গ্রামীণ জীবনে সবার পক্ষে সম্ভব ছিলো না। তাই অগত্য ২০০ টাকার এফএমের আশ্রয় নিতে হয়েছিলো। এর আগে অবশ্য জাপানি রেডিও ছিলো একমাত্র ভরসা। কিন্তু, এগুলো দ্বারা শব্দ দূষন হওয়ার কথা ভাবায় যেত না। কারন, ওগুলো ওভাবেই তৈরি। যাহোক, সেই সময়কার কথা মনে পড়লে এখন স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। কি দিনই না ছিলো! আহ্!
বর্তমানে সবাই মিলে পিকনিকের নামে বড় বড় সাউন্ড সিস্টেম দিয়ে গান বাজিয়ে অযথা শব্দ দূষন সৃষ্টি করে। যেটা সবার জন্য ক্ষতিকর। এটা জানার জন্য বেশি দূর যাওয়া লাগবে না! হাতের স্মার্টফোনই যথেষ্ট! গুগলে সার্চ করে দেখুন! শব্দ দূষনের ক্ষতিকর দিকগুলো। আমি যে সময়ে রিমিক্স গান শুনতাম তখনকার ডিজেগুলো অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ডিজে হতো। স্মুথ রিমিক্সের কদর আগেও ছিলো, এখনো আছে। কিন্তু, এখন প্রযুক্তির কল্যানে কি সব অদ্ভূত ডিজে তৈরি হচ্ছে। মিউজিকের কোন সামঞ্জস্য ধরে রাখতে পারে না। শুধু ঢিকঢিক করে। গান ও মিউজিকের মাধুর্যটাই নষ্ট করে দেয়। ফালতু! আর এ যুগের ছেলে-মেয়েরা ওটাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে নিজেকে স্মার্ট প্রমাণ করার তাগিদে! আনস্মার্ট গাই সব। যেটা অন্যের ক্ষতি করছে। গান শোনার পূর্নাঙ্গ স্বাধীনতা প্রত্যেক মানুষের রয়েছে। এটা কেউ হরণ করতে পারবে না। কিন্তু, সেটা যদি কারো ক্ষতি করে তবে সেটা অন্যায়-অপরাধ বঁটে! তাছাড়া হেভি সাউন্ডে গান শুনলে নিজেরই ক্ষতি হয়। শব্দ দূষন শ্রবণ শক্তি কমিয়ে দেয়, মস্তিষ্কেরও ক্ষতি করে প্রচুর! শব্দ দূষন মূলত নারীদের হার্টের প্রচুর ক্ষতি করে! যেটা খালি চোখে দেখা যায় না! এমনকি এর দ্বারা দূর্ঘটনা ঘটলেও মূর্খরা চিন্তা চক্ষেও দেখতে পায় না। আমার কথায় আস্থা রাখতে না পারলে গুগলে সার্চ দিন! অথবা বিজ্ঞ লোকদের কাছে জিজ্ঞেস করুন!