সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা (৫১১-৫২০)


৫১১. দেখুন, এতে কোন লুকোচুরি নেই! সত্য কথা বলতেও কোন দ্বিধা নেই! আমার লিখতে ভালো লাগে। তাই লিখি। লেখক বা কবিগণ তার পরিবেশ ও চিন্তা-ভাবনা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে লেখে। আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। সরাসরি বলি! আমার মত-পথ, চিন্তা-ভাবনা, আদর্শ, কথাবার্তা, আচার-ব্যবহার বা লেখালেখি আপনার ভালো লাগতেও পারে না লাগতেও পারে। ভালো লাগলে, ধন্যবাদ ও আপনার জন্য শুভকামনা। আর যদি একান্তই আপনার ভালো না লাগে, তাহলে এড়িয়ে যাওয়ায় শ্রেয় হবে বলে মনে করি। লেখালেখিকে কেন্দ্র করে অযথা একে-অন্যের ব্যক্তিগত শত্রু হওয়ার কোন মানেই হয় না। বরঞ্চ, এটা বোকামী মনে হয়। মনে করুন আমার লেখাগুলো ফালতু। কিছুই হয় না এসবে। তাই মনে করে এড়িয়ে যান। দয়া করে ব্যক্তিগত কোন ক্ষতি করবেন না। আমিও তো আপনার মত একজন মানুষ! জাতি হিসেবে আপনার একজন ভাই। আপনার মত আমারও স্বাভাবিক জীবনযাপনের পূর্ণ অধিকার আছে। সামান্য লেখালেখির কারনে আমাকে কেন বঞ্চিত করবেন তা থেকে। এটা মহা অন্যায়। স্বয়ং আল্লাহ, ইশ্বর বা ভগবান যেটাই বলেন না কেন, তিনিও এটা সহ্য করবে না।

৫১২. পড়লেই জ্ঞানী হওয়া যায় না। জ্ঞানী হওয়ার জন্য পড়ার সাথে সাথে ভাবতে হয়। এককথায় ভাবা প্র্যাকটিস করতে হয়। নিজের মধ্যে সুচিন্তার বিকাশ ঘটলেই যে কেউ জ্ঞানী মানুষ।

৫১৩. বিরুদ্ধমত সহ্য করতে না পারা সর্বশ্রেষ্ঠ মূর্খতা।

৫১৪. টিকে থাকার সংগ্রামে সবাই অপরাজিত থাকতে চাই। কিন্তু, জীবন তো জয়-পরাজয়ের সংমিশ্রন।

৫১৫. একজন হেরে যাওয়া মানুষের লজ্জা থাকতে নেই।

৫১৬. সৃষ্টিশীল কাজ কখনো ট্রেনিং দিয়ে ভালো করা যায় না। অনেক সময় এতে সময় নষ্ট হয়।

৫১৭. মানুষ এখন বুঝতে শিখেছে। এখন আর মানুষকে উল্টা-পাল্টা বুঝিয়ে কাজ হয় না। এখন বাস্তব ও কার্যকরী বিষয়ে মানুষের মনোযোগ বেশি। আবেগনির্ভর অকার্যকর বিষয়ে মানুষ বিমূখ। দূর্ঘটনাকে মানুষ দূর্ঘটনা ভাবতে শিখছে। ন্যায়-অন্যায়বোধ, মূল্যবোধ, শিষ্টাচারবোধে পরিবর্তন এসেছে।

৫১৩. জ্ঞানী মানুষ কখনোই কারো ক্ষতি করে না। কিন্তু, কেউ তার ক্ষতি করার চেষ্টা করলে কঠোরভাবে তা প্রতিহত করে।

৫১৪. যে ব্যক্তি খারাপ, তাকে আরো বেশি করে ভালোবাসা দিন। একদিন হয়তোবা সে ভালোও হয়ে যেতে পারে। কারন, মানুষই একমাত্র প্রাণী যার সম্ভাবনা অশেষ। খারাপ ব্যক্তির সাথে খারাপ ব্যবহার করলে খারাপেরই বিস্তার ঘটবে। কারন, সেখানে তো ভালোর কোন রেশই নেই।

৫১৫. বিশ্বাস জিনিসটা এমনই হয়! যেমন, লৌকিকাচারে বিশ্বাসী লোকজন এক সময় অলৌকিক শক্তি, অলৌকিক ক্রিয়াকলাপ, জড়ের শক্তি, দৈত্য-দানব, ভূত-প্রেত, আত্মা-অদৃশ্য সত্তায় বিশ্বাস করত। যেটা এখন অপাংক্তেয় হয়ে পড়েছে। এসব কথা বললে সমাঝদার লোকজন হাসে! বলে, ভূত তো ভূত নয়, তোমার কথাটাই তো অদ্ভূত!

৫১৬. তেলবাজ/পল্টিবাজ চিনেন ভাই? তেলবাজ/পল্টিবাজ! আমি বলি, একসময় চরম বিরোধীতা করত! করতে না পারলেও! কিভাবে ধ্বংস করা যায় তাও ভাবত! আর এখন কি করে? এখন ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার তাগিদে ফ্রন্টে আসার জন্য স্যোশাল মিডিয়ায় (ভার্চুয়াল, পাবলিক প্লেসে) শেয়ার দেয় অনেক কিছু! (বুঝে নেন) যা দেখলে, নিজের অজান্তেই হেঁসে ফেলি! সারা জীবন আকাম করে এখন ভণ্ড সাঁধু সাজে! এদের বিচরণ ক্ষেত্র-টাকাওয়ালা আর ক্ষমতাবান মানুষদের আশেপাশে। নকলের চাকচিক্যে, আসল ভালোবাসা পড়ে যায় তলানিতে! এরা শুধু দলের না, দেশ ও জাতির শত্রু! এরা অতি উৎসাহী হয়ে এমন অনেক কাজ করে যা দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনে। এরা সারা জীবন নিজেরটা নিয়ে পড়ে থাকে। দেশ ও দশেরটা বোঝে না। তাই যেখানেই তেলবাজ/পল্টিবাজ পাবেন! সেখানেই প্রতিহত করুন! মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা এই তেলবাজ/পল্টিবাজরা। এদেরকে প্রতিহত না করতে পারলে, সোনার বাংলা হয়ে যাবে গোবি মরুভূমি! আসুন সকলে মিলে এদেরকে প্রতিহত করি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কার্যকর ভূমিকা রাখি। বঙ্গুবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশে, তেলবাজ আর পল্টিবাজ প্রতিহত হবে সাথে সাথে!

৫১৭. আমি দেয় ভালোবাসা! আর সে আমারে দেয় লাইক! বাহ্, চমৎকার বৈপরীত্য! এমন গনেশ উল্টানো ভালোবাসা আগে কখনো দেখিনি!

৫১৮. অশিক্ষিত সৎ লোকের সাথে মেশা যায় নির্দিধায়। কিন্তু শিক্ষিত অসৎ লোকের সাথে মিশতে গেলে ভাবতে হয়। চরম মাত্রার মুশকিল।

৫১৯. অপরাধ দমনের দুটো পথ আছে। ক. অপরাধীকে মেরে ফেলা। খ. অপরাধের মূলোৎপাটনে কাজ করা। প্রথমত, (ক) অপশনের মাধ্যমে এটার নিশ্চয়তা দেয়া যায়, যে অপরাধ করেছে সে আর অপরাধ করার কোন ধরনের সুযোগ পাবে না। কিন্তু ঐ অপরাধ আর কেউ করতে পারবে না, এটার কোন নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। দ্বিতীয়ত, (খ) অপশনের মাধ্যমে অপরাধ প্রবনতা কমানো সহজ না হলেও ফলপ্রসূ হবে এটা নিশ্চিত।

৫২০. জীবন হচ্ছে সমস্যার সমষ্টি। সমাধান করাই যার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য!