সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা (৫০১-৫১০)


৫০১. আমি আগে যা বলতাম, এখনও তাই বলি। পার্থক্য শুধু সময়ের। আর সময়ের মানুষগুলোর। ভালো কথার স্বরুপ ঘুরেফিরে একই হয়। আর খারাপ কথা ঘুরেফিরে বিভিন্ন রূপ পায়। সত্য সরল পথে চলে। মিথ্যা গরল পথে চলে। একটা মিথ্যা হাজারটা মিথ্যার জন্ম দেয়। সত্য সৎ ও সচেতন মানুষের জন্য। সাধারনে সত্য ধারণ করতে পারে না।

৫০২. আলোচনার মাঠে আপনি একজন আলোচক। খেলার মাঠে একজন বিপক্ষের প্রতিযোগী। সুতরাং, ব্যক্তিগত পরিচয় এখানে গৌণ। ব্যক্তিক পরিচয় মাঠের বাইরে প্রদর্শন করাই শ্রেয়। তানাহলে আলোচনা জমে না বা খেলা ফোটে না।

৫০৩. যে ব্যক্তি দেশের পতাকা উত্তোলন ও স্যালুট জানাতে অস্বীকার করে, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস পালন করে না বা করতে নিষেধ করে, বীর শহিদদের সম্মান করতে অস্বীকার করে, জীবিত প্রকৃত বীরযোদ্ধাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে তারা দেশদ্রোহী; এতে কোন সন্দেহ নেই। দূর হ' দাড় কাকের দল। তোদের উপর লানাত বর্ষিত হোক! পাকিস্তানি প্রেতাত্মাকে মানুষ কখনো গ্রহণ করেনি। আর করবেও না।

৫০৪. ছাগল দিয়ে হাল চাষ হয় না। আর মূর্খের কাছে শিক্ষার মূল্যায়ন পাওয়া যায় না। কারন, দুটো বিপরীতমূখী। মূর্খের কাছে শিক্ষা চাকরির বাহন মাত্র। মূর্খরা চাকরির নামে চাকর হয়। জ্ঞানীরা মানুষকে সেবা দেয়। সার্ভিসে রেস্পন্সিবিলিটি থাকে। আর চাকরির নামের চাকররা হুকুম তালিম করে। দুটোর ভেতর আকাশ-পাতাল পার্থক্য আছে। যেটা মূর্খরা বোঝে না। ওহ্, তারা তো নিজেদের চিন্তাকে দীক্ষার নামে বন্ধক রাখে; বুঝবে কেমন করে!

৫০৫. শুনুন! আমি কাউকে নিজের প্রতিযোগী মনে করি না। নিজের সাথে নিজে প্রতিযোগিতা করি। আত্মিক ও বৈষয়িক উন্নয়নই মূলকথা। বোধশক্তি জাগ্রত হওয়ার পর থেকে নিজের উন্নয়নের পারদ মাপামাপি করি। যতদূর সম্ভব নিজেই সেটা করি। বাকি যেটা করি সেটা কৃষ্টি-কালচারগত। অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করাকে মানসিক অসুস্থ্যতা ও বোকামী বলে বোধ করি। নিজেই নিজের বড় সমালোচক। এক কথায় যাকে বলা হয় "আত্মসমালোচক"! আত্মসমালোচনা করে নিজেকে যেমন জানি, তেমনি আপনাকে জানতে ও নিজেকে চেনাতে খুব বেশি সময় লাগবে না আমার। আপন শক্তিতে জ্বলতে শিখেছি। জ্বলে উঠলে সব পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। চিন্তার সিড়ি বেয়ে প্রয়োজনে উপরে-নিচে উঠানামা করি। আমার উন্নয়নের পারদে আঘাত করলে সময়ের ডাকে সাড়া দিতে বাধ্য হবো। সুতরাং, পল্টিবাজ, মিথ্যাচারী, ভণ্ড, অতিমাত্রার স্বার্থপর, অন্ধ-ফাণ্ডামেন্টালিস্টগণ সাবধান। না মেরেই পঙ্গু বানিয়ে দেবো। আমি কাউকে বিশ্বাস করি না। আমার সাথে সম্পর্কিত প্রত্যেকটা মানুষকে আস্থার প্যারামিটারে ফেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি সব সময়। আস্থার সংকটে ভুগলে স্কেল অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করি। ফাজলামি করে কোন লাভ হবে না।

৫০৬. মন্তব্য করার আগে ভাবুন। প্রয়োজনে আগেই ভাবা প্র্যাকটিস করুন। কিছু মানুষ আছে। যারা নিজেদের মতের বিরুদ্ধে গেলে নেড়ি কুত্তার মত না বুঝে দূরে দাড়িয়ে দুরুদুরু বুকে ঘেউ ঘেউ করে। মন্তব্য করতে ঝাপিয়ে পড়ে। যত রকমের বাজে ও নেতিবাচক কথা আছে সব এদের নখদর্পণে। এদেরকে আমি বলি, speech Spews Affected People! ট্রেভর কক্স নামে একজন বিজ্ঞ মনোবিদ এক হাজার লোককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বিরক্তিকর ও বিশ্রী শব্দ কি? তখন অধিকাংশই বলেছিলেন, বমির শব্দ! কারন হিসেবে তারা বলেছিলেন, এটার সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অর্থাৎ, বমির শব্দ শুনলে আপনারও বমি বমি ভাব হবে। আসলেই বিশ্রী ও চরম বিরক্তিকর। বমির শব্দ শুনে বমি বমি ভাব হয় না এমন লোক পাওয়া মুশকিল। speech Spews Affected People দের মস্তিষ্ক পঁচা দূর্গন্ধময় ডোবার মত। যতই নাড়াতে থাকবেন ততই দূর্গন্ধ বের হবে ও ছড়াতে থাকবে। তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চাপে অধিকাংশই speech Spews এ আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এজন্য এধরনে লোকের কবলে পড়লে চুপ থাকাটাই সভ্যতার জন্য মঙ্গলদায়ক হবে বোধ করি। দূর্গন্ধ ছড়িয়ে জাতির ইতিবাচক ভবিষ্যৎ নষ্ট করার বোকামীর কোন মানে হয় না। আর যদি মূর্খের সমাজ হয় তাহলে একটু একটু করে আঘাত করুন। ব্যাথায় যেমন একটু একটু আঘাত করলে মজা লাগে তেমনি পরিস্থিতি অনুযায়ী মূর্খতায় ছোট-ছোট জ্ঞানীয় আঘাতে মজায় মজায় মূর্খতা দূরকরণে উদ্বুদ্ধ হৌন।

৫০৭. দূর্মূল্যের বাজারে কেউ কেউ ফ্রিতে ফাজলামি করে। একজন আমাকে বললো, ভাই আপনি কি করেন? আমি বললাম, পড়ি আর লিখি। সে বললো, লেখালেখি করতে গেলে প্রচুর পড়তে হবে। বললাম তো পড়ি আর লিখি। মানে হুদাই পাবলিকের কবলে পড়লে যা হয় আর কি! সব যায়গায় নিজেকে জাহির করতে চাই। আমি বললাম, ভাই আপনি নিশ্চয়ই লেখালেখি করেন? সে বলল, না আমার লিখতে ভালো লাগে না। আমি বললাম, তাহলে বুঝলেন কেমন করে যে লিখতে গেলে প্রচুর পড়তে হয়? সে বলল, না মানে, একজন বলেছিলো তাই! আমি বললাম, না পড়েও লেখা যায়। সে তো অবাক! কিভাবে? বললাম, চিন্তা-ভাবনা করে। লেখার মূলই তো এই চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি। তার সাথে লেখকের জানার পরিধি ও উপলব্ধির ক্ষমতা যত বিস্তর হবে লেখার শ্রীও তত বৃদ্ধি পাবে।

৫০৮. একটা জিনিস খেয়াল করে দেখলাম যে, স্থানীয় রাজনীতিতে কিশোরদের ব্যবহার করার একটা ন্যাক্কারজনক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনীতি সম্পৃক্ত এই কিশোরদের হাতে থাকার কথা ছিলো বই-খাতা-কলম। কিন্তু তাদের হাতে উঠে গেল রাজনীতির কালো লাঠি। এটা কারা করলো? উত্তর খুবই সহজ। স্থানীয় রাজনীতিবিদগণ। এখানে সবচেয়ে বড় দায় হচ্ছে ঐ কিশোরদের পিতামাতা, অভিভাবক ও স্থানীয় রাজনীতিবিদগণ। নিজেদের প্রয়োজনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এভাবে ধ্বংস করে দেয়াটা বড় ধরনের ভুল। একটি সুস্থ্য-সুন্দর জাতি গঠনে অসুস্থ্য রাজনীতির আগে শিক্ষা দরকার। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। মেরুদণ্ড না থাকলে যেমন মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী সোজা হয়ে দাড়াতে পারে না, ঠিক তেমনি শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাড়াতে পারে না। শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা শুধু চাকরির বাজারে নয়। জীবনযাত্রা সুন্দর করার ক্ষেত্রে অপরিহার্য বিষয় হচ্ছে শিক্ষা। চাকরি নাই বলে পড়ালেখা করব না, এটা চরম মাত্রার বোকামী। নিজের ম্যান পাওয়ার জাহির করার জন্য জাতিকে অশিক্ষিত করে রাখার যে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন আপনি। এই অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীই আপনাকে একদিন ধ্বংস করে দেবে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত জনগণ সব সময় সুশৃংখল হয় ও সব সময় সুন্দরের পক্ষে থাকে। শিক্ষিত জাতি গঠনে ভূমিকা রাখুন। নিজে সুন্দর ও সুশৃংখল হোন। আপনার ম্যান পাওয়ার লাগবে না। সবাই আপনাকে সশ্রদ্ধভাবে স্বাগতম জানাবে।

৫০৯. যেদেশের শিক্ষকগণ পেশায় নিয়োজিত থাকাকালীন সময়ে রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়। সেদেশের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়তে খুব বেশি সময় লাগে না। আপনার যদি সরাসরি রাজনীতি করার ইচ্ছা থাকে তাহলে শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দিন। একই সাথে দুটো করলে শিক্ষকতার মত একটি সুক্ষ্মদায়িত্ব পালনে আপনি সরাসরি ব্যর্থ হবেন। এখন রাজনীতিও একটি পেশা হয়ে গেছে। সুতরাং, দুটো দায়িত্ব এক সাথে পালন করা কঠিন। জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে চাইলে শিক্ষকতা করুন। আর দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে চাইলে রাজনীতি করুন। দুটো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুটোই মহৎ। যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা যায়।

৫১০. আমরা যা করি সবই বেঁচে থাকার প্যারামিটারে করি। জীবনযাত্রা সহজ-সরল ও সুন্দর করার তাগিদেই করি। বেঁচে থাকার আকুতি সব মানুষেরই আছে, থাকবে।