সিন্ডিকেট বলি আর ট্রেড ইউনিয়ন বা সেটা সভা-সমিতি অথবা কোন প্রতিষ্ঠান যেটাই বলি না কেন; সেটা গোষ্ঠী স্বার্থ উদ্ধার করলেও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বার্থ ক্ষুন্ন করে। ব্যক্তি স্বার্থের উপর চরম আঘাত হানে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো তো মানুষের জন্য। মানুষ তো আর প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়। সেজন্য কোন মানুষ যেন এগুলোর দ্বারা ক্ষতি বা প্রতিহিংসার স্বীকার না হয়। এককথায় কেউ কারো দ্বারা যেন ক্ষতি ও প্রতিহিংসার স্বীকার না হয়। সেদিকে খেয়াল রাখাটা অতীব জরুরি বলে বোধ করি। এটা এখন সময়ের দাবী। কথায় আছে প্রতিষেধক অপেক্ষা প্রতিরোধ উত্তম। এখন মানুষকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। প্রতিটা পদক্ষেপ হতে হবে সচেতন প্রক্রিয়ার। সচেতনতা একজন মানুষকে পূর্ণ মানুষে পরিনত করে। সচেতন মানুষের দ্বারা কখনো ভুল কাজ হওয়া অসম্ভব। ভালো মানুষ হওয়ার পূর্বশর্ত এই সচেতনতা। প্রকৃতার্থে যারা মানুষের সচেতনতা নিয়ে কাজ করে তারা নিঃসন্দেহে উচ্চতর মানুষ। কিছুদিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কম্পিউটার দোকানী অনেকের বিসিএস আবেদনে প্রতিবন্ধি বানিয়ে ১০০ টাকা করে পে করেছে। বাদবাকি ৬০০ টাকা পকেটে ঢুকিয়েছে। বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক ছাত্রদের দিক থেকে। আমি মনে করি, এ ঘটনার মূলে ছাত্রদের অসচেতনতায় দায়ী। এখন তো সব ছাত্র-ছাত্রীর কাছে টেলিটক সিম আছে। ফরমটা কম্পিউটার থেকে পূরণ করে টাকাটা নিজের টেলিটক সিম দিয়ে পে করতে পারতো। এটাতো আহামরি কিছু না। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি অসম্মানজনক ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এত অসচেতন হলে হবে কি করে! অসচেতন হলে দোকানী তো তামাশা করবেই। এমনিতে উচ্চ শিক্ষিত বেকারদের নিয়ে সবাই হাসাহাসি করে। তার উপর অসচেতনতা। তাছাড়া একটা বিসিএস একজন বেকারের জীবনে অনেক কিছু। অনেকের কাছে স্বপ্ন ও সাধনার বিষয়। অসচেতনতা বশত ভুল করলে সব শেষ। আর অসচেতন হলে সার্ভিসে ঢোকাটা অসম্ভব। আজকে যে মানুষটা বেকারত্বের কবলে পড়ে খাদের কিনারে আছে। হয়তোবা একদিন কর্মে যোগদান করে বেকারদের দিকে তাকিয়ে তার ঠোটের কোণে এক চিলতে কটু-হাসি ফুটবে। হায়রে মানুষ, হায়রে পৃথিবী। দুটো স্বরবর্ণ বদলে দিতে পারে জীবন ও কর্মপরিকল্পনার জগৎ। অ ও ই। নেতিবাচককে ইতিবাচক ও সম্ভব নয়কে অসম্ভব নয় ভাবুন। দেখবেন, দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনবোধ ইউটার্ন নেবে। যারা বেকার তাদের বলছি, অ ও ই দিয়ে ইউটার্ন নিন। সচেতন হোন। দেখবেন, আশপাশের চিটে-ভূষি সব কখন উড়ে যাবে বুঝতে পারবেন না। আপন মনে বিদায় নেবে। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে জয় করার চেষ্টা করুন। হতোদ্যম হলে সব শেষ হয়ে যাবে। আশাকে জিইয়ে রেখে কাজ করুন। সময় জবাব দেবে।
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।