সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এককথায় বেয়াদব চেনার উপায়


এককথায় বেয়াদব চেনার উপায় "আচার-ব্যবহারে অসুস্থ্য ও অস্বাভাবিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে তার"! অস্বাভাবিকতার পারদ "যেটা কাম্য নয় সেগুলোর মাত্রা প্রদর্শনের উপর নির্ভর করে"! একজন মানুষ বাহ্যিকভাবে যা ভেতর থেকে তেমন নাও হতে পারেন। এক্ষেত্রে আমি যেটা করি বা হয়, উভয়ের আত্মমর্যাদাবোধ রক্ষার্থে এড়িয়ে চলি। তবে কখনো তাকে ঘৃনা করি না বা মন থেকে কখনো ঘৃনাবোধ জন্মে না। মানুষ তো আমরা। দেখা হলে সৌজন্যমূলক কথাবার্তা বলে প্রস্থান করি। তাছাড়া, অনেকেই সুযোগ-সুবিধা হেতু উন্নত আচার-ব্যবহারে পারদর্শী হয়ে ওঠেন না বলে আমার মনে হয়। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে দেখেছি, কিছু কিছু শিক্ষিত পরিবারের সন্তানেরা কখনো-সখনো অনায্য ও কদর্য আচারন প্রদর্শন করে। এখানে দুটো বিষয় পরোখ করতে সক্ষম হয়েছি। এক. এ ধরনের পরিবারের সন্তানের কাম্য স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত। দুই. পরিবারের বড়দের দ্বারা ব্যক্তি জীবনে অনায্য হস্তক্ষেপের বা ক্ষেত্রবিশেষ নির্যাতনের শিকার হয়। এরা ভয়ে তটস্থ থাকে সব সময়। দিনশেষে উচ্ছুন্নে যায়। অসুস্থ্য ও অস্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। নিজেকে অন্যদের সঙ্গে মেলাতে না পেরে অনেক সময় খড়গহস্ত হয়ে ক্ষতি করে বসে। যেটা একেবারেই কাম্য নয়। পিতামাতার সন্তানের ব্যাপারে আরো বেশি সচেতন হওয়া উচিত বলে বোধ করি। মানুষের পিতামাতার দায়-দায়িত্ব, কর্তব্য অনেক বেশি। পশু-প্রাণীদের সন্তানেরা যখন জন্মগ্রহণ করে তখন তারা মায়ের গর্ভ থেকে বেরিয়ে অল্পক্ষণ পরেই দৌড়াতে শুরু করে! তাদের মা'র দায়িত্ব দুধ খাওয়ানো পর্যন্ত। বাবা তো অনেক আগেই দায়িত্ব পালন করে বিদায় নেয়। আর মানুষের বাচ্চা জন্মের পর কান্নাকাটি করে। কারন, সে অসহায়। হয়েই কিছু করতে অক্ষম। শুধু হয়েই নয়। জন্মের পর থেকে বোধ শক্তি জাগ্রত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই অসহায়ত্ব চলে। তাই মানব সন্তানের পিতামাতার দায়িত্ব-কর্তব্য বেঁচে থাকার আগ পর্যন্ত শেষ হয় না। মাঝে-মধ্যে একটা বিষয় দেখে অবাক লাগে। পিতামাতারা সন্তানের ভুলের কারনে অন্যায়মূলকভাবে শারীরিক ও মানুসিকভাবে আঘাত করে। আরে, ওরাতো নরম কাঁদা। ওদেরকে যেভাবে গড়ে তোলা হবে সেভাবেই তো তারা গড়ে উঠবে। যাতে সে সৎ, সুন্দর মানুষ হতে পারে সেজন্যই তো প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে পিতামাতার অধীনস্ত তারা। নিজের ব্যর্থতার দায় সন্তানের উপর চাপানোটা অন্যায় বলে বোধ করি। এটাও মনে রাখা দরকার, 'ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়'। দিনশেষে এটাই প্রতীয়মান হতে দেখেছি। অনেকে এক্ষেত্রে মরা যুক্তি দেয় যে তারা বকাঝকা বা প্রহার করেন সন্তানের মঙ্গলের জন্য। বুঝদার লোকের কাছে এটা হাস্যকর শোনায়। শিশুদের কাছ থেকে নেতিবাচক উপায়ে যতটানা ভালোত্ব আদায় করতে পারবেন তার থেকে ইতিবাচক উপায়ে শতকোটিগুণ পারবেন। এ পরীক্ষিত সত্যের ব্যাপারে শিশুমনোরোগ বিশেষজ্ঞগণ সম্মিলিতভাবে একই মত পোষণ করেছেন।