সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চর্চিতবোধ

(অনেকদিন লেখালেখি বন্ধ ছিলো। মন উসখুস করছিলো। লেখার উপাদেয় তেমন কিছু পাচ্ছিলাম না। তাই নিজের সম্পর্কে দু'চার কথা লিখে দিলাম। বাকিটা পড়লে বুঝতে পারবেন।)

আমার খারাপ লাগে না। আমার কোন দুঃখ নেই। আমার ক্ষোভ নেই কারো প্রতি। আমি কখনো ইর্ষান্বিত হই না। রাগের পারদ সবসময় থিটা লেভেলে থাকে। অন্যের কথা, কাজে কখনো মনোঃকষ্টে ভুগি না। এটাকে আমার কাছে মনে হয় চরম বোকামী। এগুলোর রেশ যদি থেকেও থাকে সেটা পরিক্ষীণ প্রয়োগ। আমার যেটা ভালো লাগে সেটা করি। আর যেটা ভালো লাগে না তা থেকে দূরে থাকি। একশো হাত। সব মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখি। সামনে থাকা সব মানুষের সঙ্গে উচু-নিচু না ভেবে মন খুলে কথা বলি। মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করি। সব পরিস্থিতিতে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করি। এগুলো যেহেতু চর্চার বিষয় সেহেতু ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক। যৌক্তিক ভুল ধরিয়ে দিলে বা ধরতে পারলে শুধরানোর চেষ্টা করি। শুধরাতে না পারলে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কিছু অবশিষ্ট থাকে না আমার। আপনার যদি গালি দেয়ার ইচ্ছা থাকে। দিতে পারেন। পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট গালিটাও দিতে পারেন। তাতে আমার বিশেষ কিছু যায় আসে না। ব্যক্তিত্বের পরিচয় যে কেউ যেকোনো ভাবে দিতে পারে। এ স্বাধীনতা সবার আছে। তবে এটা সভ্য-অসভ্যের পার্থক্য টেনে দেয়। অনেকে নিজেকে অসভ্য পরিচয় দিয়ে নিজে আত্মতৃপ্তিতে ভোগে। এটা দেখে হাসি। কারন, হাসির রাজ্যে পৃথিবী অনন্ত সুন্দর। কিতাবী কথার প্রতি আমার কোন আস্থা নেই। কর্মে বিশ্বাসী। কাজ করে মানুষের আস্থায় থাকতে ভালো লাগে। হাজারো মানুষের সামনে নিজের ভুল স্বীকার করতেও আমি কুণ্ঠিত হই না। এটাকে আমি বীরত্বের পরিচায়ক মনে করি। যুক্তিবাদ, নির্ভরযোগ্য উৎসের তথ্য-উপাত্তের প্রমানলব্ধ কথা ও কাজ সাদরে গ্রহনে সর্বদা উন্মূখ থাকি। 'পৃথিবীতে কেউ কারো মত নয়; সবাই যার যার মত।' মানুষের ব্যাপারে আমার প্রথম উপলব্ধি এটাই। তাই মানুষের সাথে মানুষের তুলনা করাকে অজ্ঞতা মনে হয়। বই পড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় বইয়ের মধ্যে বুদ হয়ে থাকতে ভালো লাগে। তাই বলে মানব সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নয়। বরং মানুষের ভেতরে থেকেই এটা করি। শ্রবণমাত্রা অতিক্রম না করলে যেকোন কোলাহলপূর্ণ স্থানে বসে পড়ার চর্চা আছে। নিজেকে নামের বাইরে মানুষ হিসেবে পরিচয় দিই। কারন, আমরা মানুষ হিসেবে স্বতন্ত্র ও উন্নত; অন্যান্য প্রাণী থেকে। নিজেরা নিজেদের ভেতর জাতি সৃষ্টিকে স্বতন্ত্র প্রাণীর নির্বুদ্ধিতা মনে করি। আমরা চিন্তাযুক্ত উন্নত মানবজাতি। আপনার মতের সাথে আমার দ্বিমত হতে পারে। এটা স্বাভাবিক। তবে, আমি অবশ্যই আপনার মতকে সম্মান করি; গ্রহন না করতে পারলেও। ছোটবেলায় কোথাও মারামারি, গ্যাঞ্জাম হলে বাবা-মা সেখানে যেতে নিষেধ করতেন। বলতেন, 'এগুলো মূর্খতা'! তখন মূর্খতা মনে হতো। এখন মনে হয় এগুলো কুশিক্ষার ফল। অশিক্ষার চেয়ে কুশিক্ষা ক্ষতিকর। এজন্য সব সময় ভয়ে থাকতাম তখন। এই ভেবে যে আমি কি পড়তে পারব! নিজেকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারব! এখন মনে হয় শিক্ষা জিনিসটা নিরন্তর। পড়ালেখা করে নিজের বিচার-বিবেচনাবোধ থেকে শিখেছি, "বর্বরদের কোন আইন লাগে না। আইন হচ্ছে সভ্য মানুষের জন্য। বর্বররা মারামারিতে বিশ্বাস করে। সভ্য মানুষ আলোচনার ভিত্তিতে সমাধানে আস্থাশীল।" বর্বরতা পিছুটান মারে; ধ্বংসাত্মক হতে উদ্বুদ্ধ করে। সভ্যতা নিত্য নব-জীবনবোধের সৃজন করে। তাই সব সময় নতুনত্বের প্রতি টান কাজ করে। আসুন বিচিত্র বইয়ের জগতে সুশিক্ষার ছাচে নিজেকে সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলি। আমার জীবনে দু'জন ব্যক্তির প্রভাব সরাসরি আছে। এক. আমার দাদা। দুই. দাদার বন্ধু একই সাথে তিনি আমার আম্মার ফুপা। দ্বিতীয় ব্যক্তি সুফিঘরানার লোক ছিলেন। এই ব্যক্তিই আমাকে বিচিত্র বইয়ের জগতে অবাধ প্রবেশের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তিনি বলতেন, 'ছোটখাটো বই পড়িস না। বড় বড় বই পড়।' রামায়ন, মহাভারত পড়তে দিয়েছিলেন তিনি। তখন ক্লাস সেভেন কি এইটে পড়ি। ওসব তেমন বুঝতাম না। তবুও ভালো লাগতো। ধর্মীয় শিক্ষার হাতেখড়ি মা'র কাছে। আর এই মুরুব্বি সেটার পূর্ণতা এনে দিয়েছিলেন। আর আমার দাদা একাডেমিক দিক থেকে বন্ধুর চেয়ে প্রাগ্রসর ছিলেন। চিন্তা-ভাবনায়ও বেশ উন্নত ছিলেন। দাদাই প্রথম বিজ্ঞান বিষয়ক বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। তখন তো আর এত সহজপ্রাপ্য ছিলো না। তবুও, তিনি বিজ্ঞানের গল্প বলতেন। খানিকটা বিজ্ঞান আর খানিকটা নিজের কল্পনার মিশেলে। এখন বুঝি। ইতিহাসের গল্প, মিথ তো হড়হড় করে বলতেন। শুনে বেশ মজা পেতাম। পড়ায় আগ্রহও জন্মানো শুরু করে বেশ। ব্যক্তিদ্বয় ভবলীলা সাঙ্গ করে ফেলেছেন।

তাদের দোয়া আর সিক্ত ভালোবাসায় এগিয়ে চলেছি নিরন্তর।

বইয়ের রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হলে নিজেকে লাগে অবান্তর।