সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বালির বাঁধের গল্প

এক বছর আগেও যে বন্ধু বন্ধুকে ছাড়া দিন কল্পনা করতে পারত না; সেই বন্ধু আজ বৈষয়িক কারনে বন্ধুর খোজ নিতে ব্যর্থ হয়। কোন না কোন অনাকাঙ্খিত কারন বা অজুহাত খাড়া হয়ে যায় অপর পাশের লোকের। ডিজিটাল যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যানে দূরের মানুষের সাথে সহজে যোগাযোগের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সেটাও অপাংক্তেয় হয়ে দাড়ায়। বন্ধুত্ব জিনিসটা বালির বাঁধের মত। এটা দীর্ঘদীন ধরে রাখা মুশকিল। সাগর পাড়ে বালির বাঁধ নির্মান করলে ঢেউ এসে তা নিয়ে যায়। ঠিক তেমনি বৈষয়িক বাস্তবতা যখন এসে উপস্থিত হয় তখন বন্ধুত্বকে নিমিষেই ধ্বংস করে দেয়। রক্ষা করা মুশকিল। বৈষয়িক বাস্তবতার মধ্যে সবচেয়ে যে বিষয়টি কঠিন সেটা হচ্ছে ব্যক্তিক অবস্থান। একটু উচু-নিচু হলে সাময়িক সাক্ষাতে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হওয়াটা বাধ্যতামূলক হয়ে দাড়ায়। আড়চোখে তাকানো তো ফ্রিতে জোটে। বিরক্তিকর অকেজো উন্নয়ন বাণী তো আছেই। যেগুলো একেবারেই কাম্য নয়। ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা করে ন্যায়সঙ্গত আচরণ পাওয়া প্রত্যেক মানুষের কাছে প্রত্যেক মানুষের মানবিক অধিকার। অস্বীকারকারী এককথায় অসভ্য, বর্বর। আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি হচ্ছে, "মানবতাবাদ ও দেশপ্রেম"। যার ভেতর মানবতাবোধ নেই, সে দেশপ্রেমিক হতে পারে না কখনোই। কল্পনাতীত ব্যাপার; একই সাথে হাস্যকর! উন্নয়ন একটি বৈষয়িক ব্যাপার হলেও আপেক্ষিক। এই আছে তো এই নেই। কার কখন কি হবে কিছু বলার নেই। দেখা যাচ্ছে পূর্ববর্তী কোন বিনিয়োগে ব্যক্তি হঠাৎ উন্নয়নের শীর্ষে আরোহন করতে পারে। আবার পূর্ববর্তী কোন ভুলে কারো কারো অধঃপতন ঘটতে পারে। কিছু বিষয়ের পারদ চোখের আড়ালে উঠানামা করে। দেহের ভেতরকার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া গুলো যেমন খালি চোখে দেখা যায় না। বহির্জগতেও তেমন অনেক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াও অন্তরালে কাজ করে যায়। সুতরাং, সুধী সাবধান। সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাটা আখেরে আপনারই কল্যাণ বয়ে আনবে। কাজেই, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে, উচু-নিচু সমান মনে করে, ভুল-চুক মেনে নিয়ে সবার সাথে মেলামেশার দক্ষতা অর্জন করুন। বৈষয়িকতায় বেশি ডুবে থাকলে নিজের দৈহিক ও আত্মিক অবনতি ঘটে। পুরোপুরি ডমেস্টিক না হয়ে সামষ্টিক ও ডমেস্টিকের কম্বিনেশন করে চলাটাই শ্রেয় বলে বোধ করি। ভাল-মন্দ মিলিয়েই মানুষ তো আমরা সবাই। জন্ম-মৃত্যু সবার হয়। মাঝখানের সময়টাতেই যত সমস্যা। আর মানুষই একমাত্র প্রাণী যে নিজের সমস্যা সমাধানসহ নিরীহ প্রাণীদেরও উপকার করতে পারে। কারন, মানুষের রয়েছে সীমাহীন চিন্তা করার শক্তি; যা অনিঃশেষ। কিন্তু, কতিপয় মানুষের ভুল সিদ্ধান্তের কারনে পারিপার্শ্বিকতা হয়ে ওঠে বিষময়। চিন্তা করার শক্তি মানুষকে একত্রে বসবাস করতে উৎসাহিত করে। যদি এটার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তবেই আমরা উন্নতি তো করতেই পারব তাছাড়া একে-অন্যের সহযোগিতার ভিত্তিতে সময়কে অতিক্রম করতে পারব। আসুন বৈষয়িকতায় ডুবে না থেকে নিজের অফুরন্ত সীমাহীন চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের ও অন্যের ডমেস্টিক ও সামষ্টিক উন্নয়ন নিশ্চিত করি। সব কিছুতে পরিবর্তন হবে। এটা চিরন্তন সত্য। কিন্তু, ভালোবাসা মরে না। ভালোবাসা চিরন্তন। নিজেকে ভালোবাসুন। অপরকে ভালোবাসতে শিখুন। নিজের দুনিয়াটা কল্পনাতীত সুন্দর হবে। আমরা জানি যে ভুল করা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। অস্বাভাবিক হচ্ছে ভুল স্বীকার না করা ও শুধরানোর চেষ্টা না করা বা ব্যর্থ হওয়া। আসল বীর সে যে নিজের ভুল বা দূর্বলতা অসংকোচে স্বীকার করতে পারে। সর্বশেষ, ক্ষমা করতে শিখুন। ক্ষমা মহৎ গুণ। ক্ষমা চাওয়ার চেয়ে ক্ষমা করে দেয়া উত্তম। কেউ ভুল করলে তাকে ক্ষমা করে দিন। বেঁচে থাকার আনন্দ উপভোগ করুন ক্ষমার মহত্বে।