সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বেকারত্ব অভিশাপ নয়ঃ জীবনবেদ অর্জনের মোক্ষম সময়

বেকারদের আবেগ-অনুভূতি নিয়ে সবাই খেলা করে। আড়-চোখে বিকৃত-মজা নেয়। কুকালে ব্যাঙেও হাতিরে চাটি মারে। যদি সত্যিকার একজন বেকার হয়ে থাকেন, তাহলে বুঝবেন খেলাটা কত জটিল। চরম সত্য হচ্ছে, নির্বিশেষে বেকারদের আবেগ-অনুভূতি সব সময় উপেক্ষিত হয়। এটি একটি বাস্তব ও চরম পাষাণমূর্তির অবস্থা। যা কতিপয় লোকে বোঝে না। বেকারত্ব মানুষ ও জগৎ উপলব্ধিতে সাহায্য করে। যদি অলস না হয়ে প্রকৃত বেকার হয়ে থাকেন, তাহলে লজ্জা না পেয়ে নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে মানুষের সামনে যান। সচেতন প্রক্রিয়ায় কথা বলুন। প্রত্যেকটা মানুষ সম্পর্কে সূক্ষ্মতিসূক্ষ্মভাবে বুঝতে সমর্থ হবেন। এড়িয়ে গেলে লোকসান। কুক্ষণে কে কেমন আচরন করে। এমনকি আচরন প্রদর্শনের মোটিফটাও উপলব্ধিতে দক্ষ হবেন। বিশেষক্ষেত্রে অতীব গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে জানতে, বুঝতে ও উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন। সচেতনতায় ঘাটতি থাকলে সেটাও পূরণ হয়ে যাবে। যা হয়তোবা এহেন পরিস্থিতিতে মানুষের সম্মুখীন না হলে ইত্যাকার বিষয়ে সারাজীবন অজ্ঞই থেকে যেতেন।  তাই বলে নৈরাশ্য হবেন না। এটাকে অনুপ্রেরণার বাতি-ঘর বানিয়ে নিন। নিজের মানসিক-অবস্থার উত্তরোত্তর শ্রীবিন্যাস ঘটবে। সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ায় বাছ-বিচারে ভালো ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটা নিতে শিখবেন। কারন, এটা পুরোপুরি প্র্যাকটিক্যাল। যদিও তাত্ত্বিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। তবে, ব্যবহারিক দিকটাই নিত্য ঘটমান। আপনার বেকারত্ব নিয়ে কেউ কেউ রাজনীতি করবে। আবার কেউ বিনোদন নেয়ার চেষ্টা করবে। কেউবা মনোবল ভেঙে দিয়ে ব্যক্তিগত ফায়দা লোটার চেষ্টা করবে। হাজারো কুমন্ত্রণা নিরুদ্যম হতে উদ্বুদ্ধ করবে। অনেকে আপনার প্রতি হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে চলাফেরা করবে। কুট-ব্যবহার প্রদর্শন করবে। যেন ব্যক্তির চেয়ে আপনার উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি না ঘটে। আমি বলছি, আপনি নৈরাশ্য হবেন না। নিজের মনোবলে আঘাত লাগতে দিবেন না। বেকার শব্দ যখন আপনার গায়ে লেপ্টেছে তখন অনুভূতির পারদ থিটা লেভেলে নামিয়ে আনুন। মুনি-ঋষিগণ এ লেভেলেও জাগ্রত থাকতে পারতেন। এই লেভেলে পৌছে তারা মহাজাগতিক চেতনার অরণ্যে ঘুরে বেড়াতেন। সুতরাং, আপনারও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। পারলে, কিছু সময়ের জন্য আপনিও সুখদুঃখবোধ ঝেঁটিয়ে বিদায় দিন। দেখবেন, এই বাজে লোকগুলোই আপনার সুদিনে নমস্তে নমস্তে করবে। শেষে অমোঘ জিয়ন-কাঠি, নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পিছে অটল থাকুন। সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে লেগে থাকুন। সফলতা আসতে বাধ্য। পরশ্রীকাতর হবেন না। পরশ্রীকাতর উন্মাদদের থেকে দূরে থাকুন। এটা আপনার আভিজাত্যের পরিচয় বহন করবে। চিত্তবিক্ষোভে আত্মভোলা হয়ে স্বল্প শুভাকাঙ্খীর সাথে দূর্ব্যবহার অকাম্য। একাকিত্বের কবলে পড়তে পারেন। বেকারত্ব সাময়িক। কিন্তু, এটা আপনার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পূর্ণতা এনে দেবে। সন্ধিক্ষণে জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বোধ ও ধারণা গড়ে উঠবে। এককথায় আমরা যেটাকে বলি "জীবনদর্শন"।