৪৫১. প্রত্যেক বাবা বেঁচে থাকেন সন্তানের স্বপ্ন মাঝে। প্রত্যাশা পূরণের তাগিদে বাবারা হারিয়ে যান, দিগন্তের ওপারে নিকষ অন্ধকারে কোলাকুলির সাথে দিনান্তে মিলিয়ে যান!
৪৫২. বিরোধীতা মানে শুধু বিরোধীতা নয়! তার ভেতর ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রশ্নও থাকে।
৪৫৩ অতীতকে লোকানোর চেষ্টা করা যায়! মুছে ফেলা যায় না! তবে, দুটোই বোকামী!
৪৫৪. আমি মানুষকে টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত, ক্ষমতা-পাওয়ার দিয়ে বিচার করি না। মানুষের বিচার হওয়া উচিত তার আচার-ব্যবহার, কৃতকর্ম দিয়ে বলে বোধ করি।
৪৫৫. আপনাকে যদি বলা হয় পেছন দিকে হাঁটতে; পারবেন না; যদিও হাঁটার চেষ্টা করেন তবে সেটা কখনো মসৃণ হবে না। যেহেতু সামনের দিকে হাঁটা-চলা করাটা সহজ একই সাথে সাবলীল সেহেতু বর্তমানে বাস করুন ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য রেখে। বর্তমানও সামনে, ভবিষ্যতও। দুটোই সাবলীল।
৪৫৬. অনেকেই নিজেকে আরো বেশি উন্নত, আরো বেশি সভ্য প্রমাণ করতে গিয়ে অভব্য, অসভ্য আচরণের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে। জনাব! যদি গুরুপাক ভালোমত রপ্ত না করতেই পারেন; আপনার জন্য সহজ-পাচ্যই বেশি সাবলীল বলে বোধ করি। তাতে করে পীড়াদায়গ্রস্ত হতে হয় না।
৪৫৭. চুরি করা বাদ দিয়ে ভিক্ষা করলে তাকে ঠিক উন্নতি বলা চলে না। অভ্যাসের লেজুড়িপণা বৈ কিছুই নয়। আবার চুরি করা বাদ দিয়ে ডাকাতি করলে সেটাকে প্রমোশন বলা চলে না। অধঃপতন বলা যায়।
৪৫৮. উৎসাহিত হয়ে কাজ করা ভালো। তবে, অতি-উৎসাহীর দল দিনান্তে আস্তাকূড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। দেখার কেউ থাকে না। মর্মপীড়াদায়গ্রস্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগিতে হয়।
৪৫৯.. অনুভূতির আঘাত একটি সস্তা বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। তারচেয়ে বড় কথা, এটা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, সাধু সাবধান।
৪৬০. একটা বিরাট শব্দ আছে। সেটা হচ্ছে, "মহানুভবতা"। আক্ষরিক অর্থে যা দাড়ায় সেটা হচ্ছে সংকীর্ণতামুক্ত মনোভাব, উদারতা। অনেকেই তার মত বা পথকে মহানুভব বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলে। কিন্তু, উহা ফাঁকা বুলি মাত্র।
৪৬১. চিন্তা-ভাবনায় লোকালের সাথে বৈশ্বিক, কথা-কাজ হতেই বাধ্য সাংঘর্ষিক।
৪৬২. প্রয়োজন বোধ হওয়ার আগেই কোন কিছুর প্রাপ্তি ঘটলে তাতে করে দেখা যায় লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। যখন কোন কিছু প্রয়োজনের তাগিদে কেউ আবিষ্কার করে সেটার মোটিফ একরকম। আবার ঐ একই জিনিস কাওকে যদি বিনা-প্রয়োজনে ব্যবসায়িক সেন্সে শুধুমাত্র চিত্তকে সহজ করার তাগিদে দেয়া হয় তার মোটিফটা দাড়ায় এই যে তখন ব্যক্তি অলস ও একগুয়ে হয়ে যায়। তখন নিজের ভেতরকার নেতিবাচকতার সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটায় ব্যক্তি।
৪৬৩. ধর্ম ও রাজনীতি। দুটো বিষয়ই মানুষের জন্য সৃষ্ট। দুটোই আলোচনা করার বিষয়। তবে, ধর্মের ব্যাপারে আলোচনার আগে অনুভূতি প্রধান বাঁধা। আর রাজনীতির আলোচনার ব্যাপারে রাজনৈতিক মতাদর্শই প্রধান বাঁধা। তবে, আমি মনে করি, যাই করি না কেন দেখতে হবে তাতে মানবকল্যানের কিছু আছে কিনা। না হলে তা অবশ্যই বর্জণীয়; যদি সেটা মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর, ভীতিকর বা কোন রকম কল্যানকর না হয়।
৪৬৪. দায়িত্ব-কর্তব্যের চেয়ে আবেগটা বেশি। অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি যখন বিফল হয় তখন জ্ঞানী ব্যক্তিরা বিফলতার কারন খুজে আর সাধারন মানুষ বিফলতা ঢাকতে অন্য কোন অকেজো জিনিস খোজে।
৪৬৫. রাজনীতিতে কত নিত্য-নতুন সমীকরণ। তবে, রাজনীতিতে স্বার্থের উর্ধ্বে কিছু নেই। "রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই" এটা আসলে পল্টিবাজ, ধোকাবাজ, লেজুড়বাজ প্রভৃতি লোকের মূখ দ্বারাই উচ্চারিত হওয়া সম্ভব। কারন, স্বার্থে আঘাত পড়লে সবাই নড়ে যায়।
৪৬৬. আপনি যেই হোন আর যাই হোন তাতে আমার বিশেষ কিছু যায় আসে না। তাই বলে যাচ্ছে-তাই করে কিছু বলতে পারেন না। আমারও আত্মসম্মানবোধ আছে। আর সবাই চেষ্টা করে নিজের আত্মসম্মানবোধ ধরে রাখার। এমনকি আপনিও; আদৌ যদি থেকে থাকে। আমার অনুভূতি আমাকে খুব বেশি নাড়াতে না পারলেও, আত্মসম্মানবোধে আঘাত লাগলে আমি নড়তে নয় লড়তে বাধ্য।
৪৬৭. প্রত্যক্ষভাবে (জানায়) কেউ খারাপকে গ্রহণ করতে চাই না। কিন্তু, পরোক্ষভাবে (অজানায়) একই জিনিস সাদরে গ্রহণ করে।
৪৬৮. আপনার যতটুকু প্রয়োজন আপনি ঠিক ততটুকুই গ্রহণ করুন। কেননা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে কোন জিনিসই ক্ষতিকর।
৪৬৯. বস্তু-জগতের ইতিবাচক পরিবর্তন তখনই সম্ভব যখন মানুষের মস্তিষ্কজাত চিন্তা-ভাবনার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে।
৪৭০. প্রবহমান ঘটনাবলির অভ্যন্তরীণ ঘটমানতা না বুঝে মন্তব্য করা আর নিজের ভেতরকার অজ্ঞতা, দীন-হীন নীচতাকে বাইরে বের করে আনা সমান কথা। সুতরাং, সব ব্যাপারে নিজের আত্মসম্মানবোধ বজায় রেখে চলার চেষ্টা করুন; আদৌ যদি থেকে থাকে।