২০১. আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে মানুষের কৃত-কর্মই প্রথম সোপান।
২০২. অ-নমনীয়তা কখনো ভালো ফল দেয় না। এটা সবসময় নেতিবাচকতা প্রকাশ করে। কাজেই, অন্যের মত-পথ, চিন্তা-ভাবনাকে গ্রহণ না করতে পারলেও; শ্রদ্ধা করাই শ্রেয়।
২০৩. এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না। আসলে, কোনটা করা যাবে, সেটা তো কেউ বলে না। নিষেধাজ্ঞার এই মূর্খ বেড়াজাল ভাঙতে হবে।
২০৪. শুধু গোষ্ঠী স্বার্থ উদ্ধারে নয়, সমগ্র মানবজাতি থেকে শুরু করে পুরো পৃথিবীর জন্য কাজ করুন।
২০৫. আজকে আপনি যেটাকে অপসংস্কৃতি বা অ-ব্যবহারযোগ্য (খারাপ কিছু) মনে করে ত্যাগ করছেন। এখান থেকে ১০ বছর পর আপনার পরবর্তী প্রজন্ম সেটাকেই অবলীলায় আচরণীয় করে তুলছে। কাজেই, পরিবর্তনকে সাদরে গ্রহন করা উচিত। এর জন্য, আন্তর্জাতিক পাঠক, দর্শক, শ্রোতা হয়ে উঠুন। দেখবেন, খুব সহজে পরিবর্তন গ্রহনীয় হয়ে উঠছে নিজের কাছে। তবে আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা সব সময় নতুনকে খারাপ মনে করি এবং এর খারাপ বিষয়গুলো তুলে ধরি। সে কারনে, পরিবর্তন বা নতুনত্বের খারাপগুলো বেশি বেশি চর্চা করছে নতুন প্রজন্ম। এই নেতিবাচক বৃত্ত ভাঙতে হবে। তার জন্য, পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহনের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
২০৬. সকালবেলা উঠে যখন দেখি গ্রামের রাস্তা দিয়ে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায় তখন দৃশ্যটা খুবই ভালো লাগে আমার। কারন, একটা সময় ছিলো যখন গ্রামের মানুষ পড়ালেখার চেয়ে বাড়ির কাজকর্মকে গুরুত্ব দিতো বেশি। তবে, পড়ালেখাকে এখন বেশির ভাগ বাবা-মা উন্নত জীবিকার মাধ্যম মনে করে। আসলে, পড়ালেখা তো মানুষের মৌলিক অধিকার। এটা পূরণ করা প্রত্যেক পিতা-মাতার দায়িত্ব-কর্তব্য।
২০৭. আমি মানুষ। মনুষ্যত্ববোধই আমার ধর্ম। এর বাইরে আর কোন পরিচয় নেই। কারন, মানুষের সাথে সম্পর্কিত প্রত্যেকটি বিষয় নির্দিষ্ট সময়ের পর উপযোগিতা হারালেও; মানুষ মানুষই রয়ে যায়।
২০৮. প্রত্যেকটা মানুষ বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহন করে। কিন্তু, সঠিক পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। আপনার অনেক প্রতিভা থাকতে পারে। কিন্তু, বিকশিত হওয়ার পথ না পেলে, ঐ মেধা মূল্যহীন।
২০৯. নেতিবাচক কথা সব সময় পিছুটান মারে। কাজেই, কেউ যদি আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলে তাহলে আপনি অনুভূতিহীন, ভাবলেশহীন বৃক্ষে পরিনত হয়ে যান। কারন, অযথা কেউ গাছে দঁড়ি বেঁধে টানাটানি করে না।
২১০. চাপ নিয়ে কাজ করলে সে কাজ কখনো ভালো হয় না। চাপে থাকলে সৃজনশীলতাও লোপ পায়।
২১১. আবেগ প্রকাশ করুন সহনীয় মাত্রার নিয়ন্ত্রিত গ্রহনযোগ্য যৌক্তিক আবেগ। তবে, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এটা শিথিলযোগ্য।
২১২. "সবার উপরে মানুষ সত্য, তার উপরে নাই।" এ কথাটা সবাই পড়ে। কিন্তু, বোঝে কয়জন বা কাজে পরিনত করতে পারে কয়জন!
২১৩. আবেগ দিয়ে জীবন চলে না। গতিশীল জীবন চলে বাস্তবতা দিয়ে। আবেগ ক্ষনস্থায়ী, বাস্তবতা চিরস্থায়ী। এ কারনে, বাস্তবতার রেশ কাটে না। এই বাস্তবতার অন্যতম একটি উপাদান টাকা।
২১৪. মানুষ তার চিন্তা-ভাবনা এবং চেতনা দ্বারা পরিচালিত হয়। আর এই চিন্তা-ভাবনা এবং চেতনার জগতে প্রভাব ফেলতে সক্ষম পরিবার এবং পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থান, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল, শিক্ষা প্রভৃতি।
২১৫. আপনার সন্তানকে এমন শিক্ষা দিন; যেটার মাধ্যমে সে সুন্দর জীবন-জীবিকা গড়তে পারে।
২১৬. ধর্ম কি আর পোশাকে, বাহ্যিক-সৌন্দর্যে! ধর্ম আপনার কথা-বার্তায়, আচার-ব্যবহারে, আপনার কৃতকর্মে।
২১৭. দৈহিক সংসর্গের আকাঙ্খার অপর নাম প্রেম।
২১৮. আপনার সন্তানকে একাডেমিক শিক্ষার সাথে সহশিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহিত করুন। বই পড়লে মানুষের জ্ঞান বাড়ে, আর সহশিক্ষায় বাড়ে কাণ্ডজ্ঞান। বই পড়তে (একাডেমিক বইয়ের বাইরে) উৎসাহিত করুন। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নিতে সাহায্য করুন। এগুলো মানুষের মানসিক বিকাশ ঘটায়; চিন্তা-চেতনার স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখে।
২১৯. নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট আদর্শিক ভাবনা 'গোষ্ঠী চেতনা' প্রকাশ করে। সর্বজনীনতার কোন নিদর্শন সেখানে খুজে পাওয়া যায় না। মানবতাবোধ এবং মানবিক চেতনার দ্বারাই সর্বজনীনতার প্রকাশ পায়। কেননা, এখানে মানুষই সব; কোন ভেদ বা শ্রেণীকরণ নেই এখানে।
২২০. যন্ত্র-সভ্যতা ও প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে কিন্তু মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও চেতনা কতটুকু উন্নত হয়েছে সেটা ভাববার ও প্রতিকারের সময় এসেছে। কারন, বিজ্ঞানের উন্নত আবিষ্কারের দ্বারা উপকৃত হয়েও মানুষ বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে বা বিজ্ঞানকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে। যদিও বিজ্ঞান একটি তথ্য-উপাত্ত, প্রমানভিত্তিক প্রবহমান ধারা। নতুনত্বই যার (বিজ্ঞানের) ভিত্তি। তারপরও মানুষ নির্বোধের মত বিজ্ঞান নিয়ে অযথা বাকওয়াচ করে। দুটোর সমন্বয় না ঘটলে, একই ধারায় প্রবাহিত না হলে মানব সভ্যতা সমূহ ক্ষতির মূখে পতিত হবে। যদিও বর্তমানে আমরা এগুলো ব্যবহার করে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে দেখছি। ভবিষ্যতে সমস্যা আরো প্রকট হয়ে উঠতে পারে; এখনি প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে।
২২১. নির্বোধ, মূর্খ, অজ্ঞ এগুলো মানুষের গাত্রে লেখা থাকে না। মানুষের কথায় এবং আচার-ব্যবহারে প্রকাশ পায়।
২২২. ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা ইতিবাচক ফল দেয়। নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা নেতিবাচক ফল দেয়। এগুলো সরল কিন্তু এর প্রভাব বর্ননাতীত।
২২৩. মাথায় কিছু না থাকলে, আঙুলেও আসে না, ঠোঁটও চলে না; ইতিবাচক কর্মও অসম্ভব।
২২৪. প্রেমের ক্ষেত্রে আবেগ দু'জনকে একত্রিত করে, আর বাস্তবতা বিচ্ছেদের কবলে ফেলে দেয়। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়, এখনকার ছেলে-মেয়েরা ভালো লাগা আর ভালোবাসাকে এক করে ফেলে।
২২৫. চাহিদার পর চাহিদা মানুষকে অসুখী করে।
২২৬. মাথা ব্যাথা করলে মাথা কেটে ফেলা যেমন সমাধান নয় তেমন হত্যা কখনো জ্ঞান, বৈজ্ঞানিক সত্য এবং যুক্তিকে ধ্বংস করতে পারে না; আর বিজ্ঞানকে তো নয়ই। বিজ্ঞান চলমান এবং চাক্ষুস প্রামানিক বিষয়। বিজ্ঞানসহ বিজ্ঞানীকে কবরে রাখার পর ৪০০ বছর পরে আবার প্রয়োজনে মানুষ কবর খুড়ে বিজ্ঞানীকে না পেলেও বিজ্ঞানকে হাতড়ে মরে। এটাই বাস্তবতা!
২২৭. বিজ্ঞানের সংজ্ঞাঃ বিশেষ বিষয়ের তথ্য-উপাত্তভিত্তিক প্রামানিক জ্ঞান। আর বিজ্ঞানীর সংজ্ঞাঃ বিশেষ বিষয়ে যিনি জ্ঞানী।
২২৮. পরিশ্রম যদি সৌভাগ্যের কারন হতো তাহলে গাঁধা হতো বনের রাঁজা আর গ্রামের দিনমজুর হতো বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী। আসলে কৌশলই মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে। যার কৌশল যত উন্নত, আধুনিক, কার্যকর, সময়পোযোগী, বিজ্ঞানভিত্তিক তার ততই সার্বিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে; এতে কোন সন্দেহ নেই!
২২৯. আমি রাজনীতি করতে চাই না। রাজনীতি শিখতে চাই না। বুঝতে চাই, উপলব্ধি করতে চাই। কারন, রাজনীতি করা আর শেখার জন্য নেতার পিছে তৈল মর্দন করা লাগতে পারে। আর বুঝা এবং উপলব্ধির জন্য বিস্তর পাঠ এবং অভিজ্ঞতার বাণী শ্রবণই যথেষ্ট।
২৩০. সভ্যতা পিছুটান মারা শুরু করেছে। যদিও বর্তমান সভ্যতার উপাদানসমূহ পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। তবে, মানুষের চিন্তা-চেতনা এখনো মধ্যযুগীয় বর্বরতার কাঠামো থেকে উঠে উন্নত হতে পারেনি।
২৩১. নিজের আয়ু না থাকলে যেমন অন্যের আয়ু নিয়ে দীর্ঘজীবী হওয়া যায় না। ঠিক তেমনি, অন্যের সম্পদ-সম্পত্তি, মেধার জেরে ধনী বা জ্ঞানী হওয়া যায় না। নিজের না থাকলে পরের তাতে পোদ্দারী করলে মানুষ বোকা, দালাল বলে।
২৩২. যারা মানুষ হত্যার পক্ষে রসালো যুক্তি খাড়া করে তারা মনুষ্য-বিদ্বেষী, মানবতা বিরোধী। সেটা যেকোন ধরনের হত্যাকান্ড। প্রত্যেকটা মানুষের সুস্থ্য-স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। পরিবেশগত কতিপয় কারনে হয়তো কেউ কেউ খারাপ মানুষে পরিনত হয়। জন্মের সময় কেউ অপরাধী হয়ে তো জন্মায় না। পরিবেশ-পরিস্থিতি তাকে অপরাধীতে পরিনত করে। আর সাধারন মানুষকে হত্যা তো আরো চরম মাত্রার মানবতা-বিরোধী মনোভাব ও মনুষ্য-বিদ্বেষের পরিচয় বহন করে। পৃথিবীর বড় দুটি মহাসত্য হলো, পরিবর্তন এবং মৃত্যু। পরিবর্তনশীল বিশ্বে মৃত্যুর পর মানুুষের কৃতকর্মই মানুষের মাঝে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। কাজেই, সৎ-কর্ম করুন। পৃথিবী, প্রকৃতি এবং মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করুন।
২৩৩. সৎ, ইতিবাচক মানুষকে ঠকানো মানে নিজেকে ঠকানো। কারন, এখানে ক্রিয়ার বিপরীতমূখী প্রতিক্রিয়াই কাজ করে।
২৩৪. ধনী, জ্ঞানী, সম্মানী লোকদের সমালোচনা হিংসা, বিদ্বেষ ছাড়া কিছুই নয়। এগুলো সাধারনত তারাই করে যাদের ধন, জ্ঞান, সম্মান নেই, ঘাটতি আছে। তিনটা মিলিয়েই ইতিবাচক সৎ-মানুষ। কোন একটি বাদ পড়লে বুঝতে হবে সেখানে সমস্যা রয়েছে।
২৩৫. জ্ঞানী লোকের অর্থ-সম্পদ কম থাকে কিন্তু সম্মান থাকে পর্যাপ্ত। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দুটোই। যদিও জ্ঞানী লোক অনেক সময় বিদ্বেষের শিকার হয়।
২৩৬. পৃথিবীতে কেউ কারো নয়, কর্মটায় মানুষের।
২৩৭. সন্তান জন্ম দেয়া একটি বিনোদনমূলক কাজ হলেও সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলা চরম মাত্রার বহুমূখী একঘেয়েমি কাজ। যে কারনে বেশির ভাগ মানুষই সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। অধিকাংশ মাতা-পিতাই শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়ে ঘৃনাভরে একঘেয়েমিকে ত্যাগ করে। সন্তান মানুষ করা একটি একঘেয়েমিমূলক কাজ হওয়ায় পিতা-মাতার সাথে সন্তানের শেষ-পর্যন্ত চরম আকারের দূরত্ব তৈরি হয়। যা সন্তানকে অ-মানুষে পরিনত করে। একঘেয়েমির কারনে পিতা-মাতা সন্তানের সাথে দূর্ব্যবহার পর্যন্ত করে। যা ঐ সন্তানকে পিতা-মাতা বিদ্বেষী করে তোলে।
২৩৮. আপনি যখন সামাজিক বা পারিবারিক বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখি বা গবেষণা করবেন তখন অবশ্যই নিজের ব্যক্তিত্ববোধের দিকে নজর রাখবেন। তানাহলে, আপনার আমও যাবে ছালাও যাবে। আগে ব্যক্তিত্ব তারপর বাকি বিষয়গুলো। কারন, ব্যক্তিত্বহীন লোকের যে কোন কিছুই গ্রহনযোগ্যতা হারায়।
২৩৯. কিছু মানুষ রয়েছে যারা একজনের কথা অন্যজনের সাথে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে। এরা পরজীবী। নিজেদের আসলে তেমন কিছু করার নেই। তাই তারা অন্যের বিষয় নিয়ে খারাপভাবে নাড়াচাড়া করতে থাকে। ঐ, কাজ না থাকলে যা হয়! মানুষ অকাজ করে।
২৪০. সম্ভাবনা অসীম কিন্তু আমরা আমাদের সক্ষমতাকে, চিন্তা-শক্তিকে করে ফেলেছি সসীম! যে কারনে আমরা সর্বদা অভাব-বোধের তাড়নায় ভুগে থাকি।
২৪১. আপনি যত বড় লোকই হোন না কেনো! আপনার অনেক খ্যাতি, ঐশ্চর্য্য, থাকতে পারে সুনাম-জনপ্রীতি; আবার এগুলো নাও থাকতে পারে অনেকের। কিন্তু, আপনি পৃথিবীতে অন্যান্য জীবের মত একটি জীব মাত্র। পৃথিবীতে আপনার দৈহিক অবস্থান সাময়িক; কিন্তু আপনার ইতিবাচক কৃতকর্ম আপনাকে পৃথিবীর বুকে দীর্ঘজীবী করবে। অন্যের নিজস্বতাকে কখনো আঘাত করবেন না। আপনার সাথে সম্পর্কিত অন্যের কোন বিষয়ে সমস্যা ঘটলে বুঝিয়ে বলুন। নাহলে, ত্যাগেই মঙ্গল নিহিত।
২৪২. 'বিশ্বাস' হলো সস্তা জিনিস। ঠুনকো বিষয়। 'বিশ্বাস' বাজার-ঘাটেও কিনতে পাওয়া যায়। একটু খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন। 'বিশ্বাস' চোখের ভ্রম ছাড়া কিছু নয়। 'আস্থা' ছাড়া বিকল্প নাই।
২৪৩. কিছু মানুষ রয়েছে যারা অন্যকে সর্বদা জ্ঞান দিতে ভালোবাসে; মানুষের সামনে ভালো কথা বলতে ভালোবাসে। কিন্তু, নিজেরা ভালো কাজে অষ্টরম্ভা। উহারা কীট-পতঙ্গ। অন্যের দেহ খোদায় করতে ভালোবাসে। এদের থেকে সাবধান থাকুন। পাছে বহু নেতিবাচক কর্মকান্ডের পরিচয় মেলে তাদের।
২৪৪. কতিপয় মানুষ রয়েছে যারা মানুষের সামনে নিজেদেরকে অনেক বড় করে উপস্থাপন করতে ভালোবাসে। ধরা পড়লে কাচুমাচু করে! তবে উহারা অপমানিত হয় কম। কারন, উহারা একই কর্ম (নিজেকে বড় করে তুলে ধরে) বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলে উপস্থাপন করে থাকে। এরা সাধারনত বাঁচাল টাইপের লোক। কথা বলার উপাদান না পেয়ে ওটাই করে। কাজ না থাকায়, অকাজ করে।
২৪৫. যে সমাজে সমালোচনা অগ্রহনযোগ্য, সে সমাজের সমালোচকরা বোকা; তবে অনেক জ্ঞানী। কেননা, অযথা সময়ের অপচয়; উলু বনে মুক্তা ছড়ানো। তবে সমালোচকরা সমাজের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী; এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে, ঐ সমাজের সমালোচনার চেয়ে সমাজ-সেবামূলক কর্মকান্ড অনেক শ্রেয়। যদিও সমাজ-সমালোচনাও একটি সমাজ-সেবামূলক কাজ। কিন্তু ঐ সমাজের লোক তো নালায়েক আদমী! সমালোচনা শুদ্ধতা তৈরি করে। ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে দেয় সমালোচনা।
২৪৬. প্রত্যেকটা মানুষ তার নিজস্ব অঙ্গন অর্থাৎ ব্যক্তিগত বিষয়ের বাইরে সম-অধিকারের দাবিদার। এটা তার অবশ্য-প্রাপ্য।
২৪৭. মানুষ ততক্ষন পর্যন্ত তার অবস্থান পরিবর্তন করে না যতক্ষন পর্যন্ত সে ঐ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে। অযথা, ভালো কথা বলে লাভ হয় না। উপলদ্ধিতে না পৌছালে।
২৪৮. পৃথিবীতে প্রচুর আপেক্ষিক শব্দ ও বিষয় রয়েছে। এগুলোর কোনটিকে এক্সাক্ট বলা চলে না। কেননা, এগুলো একেক জনের কাছে একেক রকম। তবে, বিজ্ঞান একদিন এই আপেক্ষিক শব্দ ও বিষয়গুলোকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে আশা করি।
২৪৯. নিজেকে বা নিজেদের জ্ঞানী দাবি করে যদি মূর্খের মত, বোকার মত কাজ করি তাহলে বিষয়টা হাঁস্যকর হয়ে যায় না!
২৫০. প্রযুক্তির ছোয়ায় এসে যদি নিজে বোকামী করেন তাহলে সেটা আপনার চিন্তা-চেতনার পিছুটান ছাড়া কিছু নয়। কেননা, প্রযুক্তি মানুষের উন্নত চিন্তা-চেতনা ও আধুনিকতার ফল।
২৫১. পৃথিবীর মধ্যে আরেক পৃথিবী তার নাম জেলখানা। শাস্তি প্রদান একটি প্রাচীন অমানবিক প্রথা। অপরাধ প্রশমনে কাউন্সেলিং, সংশোধনই আধুনিক, উন্নত মানবিক পদ্ধতি।
২৫২. যে সব ধর্মীয় আলোচক ধর্মীয় আলোচনা করার জন্য চুক্তি করে টাকা নেয় তাদেরকে আমি ধর্ম ব্যবসায়ী বলি। আপনি কি বলেন?
২৫৩. সেই বউমা (ছেলের বউ) ভালো যার শাশুড়ি তাকে ভালো বলে। আর সেই শাশুড়ি ভালো যার বউমা তাকে ভালো বলে।
২৫৪. একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে সেদেশের শিক্ষা-ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ-ব্যবস্থার উপর।
২৫৫. স্বপ্ন দেখা শিখতে হবে। স্বপ্ন দেখা ভুলে গেলে হবে না। আশা থাকতে হবে। আশাহত, নৈরাশ্য হওয়া চলবে না। স্বপ্ন, আশা এগুলো মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা যোগায়। স্বপ্ন, আশা থাকলে তবেই এগুলো বাস্তবে রুপ নেয়; না থাকলে অসম্ভব। তবে, স্বপ্ন, আশার সাথে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনামাফিক কর্মযজ্ঞ না থাকলেও অসম্ভব; কিছুই হবে না। দিনশেষে মহাশূন্যের অতল-গহ্বরে হারিয়ে যেতে হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই।
২৫৬. আপনি যদি কোন ঘটনা বলতে চান তাহলে বাস্তব এবং সত্য ঘটনা বলুন; আবেগ প্রকাশ করবেন না। আর যদি কারো কাছ থেকে শোনা কথা হয় তাহলে নির্ভরযোগ্য তথ্যসুত্র দিন; যেটা ঘটনাকে প্রুভ করে। তানাহলে, দরকার নাই বলার। আর যদি মতামত প্রকাশ করতে চান তাহলে যৌক্তিভাবে প্রকাশ করুন; নিজের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিন।
২৫৭. আসলে আমি লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি; বলতে নয়। কেননা, লেখা লিখে এডিট করে প্রকাশ করা যায়; কথা বলার সময় ভেবে বলার জন্য খুব কম সময় পাওয়া যায়। তবে, শুনতে বা পারস্পরিক আলোচনা করতে ভালো লাগে। এখান থেকে অনেক ইতিবাচক এবং নতুন কিছু বেরিয়ে আসে।
২৫৮. টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত মানুষকে মানুষ করে না; মনুষ্যত্ববোধই মানুষকে মানুষ করে। বিজ্ঞানভিত্তিক মানবতাবাদী জ্ঞানের চর্চা মনুষ্যত্ববোধ তৈরি করে।
২৫৯. আর দু'তিন প্রজন্ম পরেই পৃথিবীর সকল অশিক্ষা-কুশিক্ষা, মূর্খতা, ধর্ম নামক কুসংস্কারসহ অন্যান্য জঞ্জাল দূর হয়ে যাবে।
২৬০. মানুষ সম্পর্কে জানতে খুব ভালো লাগে। এটা করতে গিয়ে অনেক সময় বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। যদিও কিছু কিছু সময় নিজেই ইচ্ছা করে বিড়ম্বনায় পড়ি। সেটা আমাকে অতিরিক্ত অভিজ্ঞতা এনে দেয়; মানুষকে জানা সহজ হয়।
২৬১. কুসংস্কারের মূলে আঘাত না হানলে দূর হবে না। দীর্ঘদিনের জিইয়ে রাখা কুসংস্কার জঞ্জালে পরিনত হয়েছে। পুড়িয়ে ভস্ম করে দিতে হবে উহা। মানুষের চিন্তা চেতনাকে শিকল পরিয়ে রেখেছে। চিন্তাকে মুক্ত করতে হবে; জল্লাদের মুষ্টি থেকে। চিন্তার মুক্তির সাথে নারী মুক্তি ও মানব মুক্তি একসুত্রে গাঁথা।
২৬২. টাকা ছাড়া ধর্ম-কর্ম কিছুই হয় না। যার টাকা আছে তার ধর্ম-কর্ম সবই হয়।
২৬৩. জীবনটা একান্তই নিজের। কাজেই নিজের মত করে বাঁচুন। নিজস্বতায় কাউকে ঢুকতে দিবেন না।
২৬৪. রিয়েল লাভ। যেখানে আবেগের সাথে বাস্তবতার মিশেলে তৈরি হয় অন্য রকম এক রসায়ন। ত্রুটি-বিচ্যূতি থাকবে এখানে; তবে, তার ছেড়া সুর উঠে না।
২৬৫. কিছু বিষয় আমাকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। ভেবে হাসিও পায়, দুঃখবোধও জাগ্রত হয়। মানুষের বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও বুদ্ধির সামনে হতবুদ্ধি হতে দেখে। স্বাধীন মানুষের পরাধীন চিন্তা-চেতনা দেখে। মানুষ হয়েও মনুষ্য বিদ্বেষী চিন্তা-চেতনা ও কর্ম দেখে।
২৬৬. আমি লেখালেখি করি। এগুলো আপনার-আমার, সবার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা বাস্তব এবং চুলচেরা বিশ্লেষণমূলক কথা। হয়তোবা একটু মডিফাই করি। তাছাড়া কিছু নয়। কাউকে ইন্ডিকেট করা হয় না এখানে। সর্বজনীন কথা। মিল-অমিলের খতিয়ানে কাঁকতালীয়। তবে, মঙ্গলদায়ক; এতে কোন সন্দেহ আছে বলে মনে হয় না। যেহেতু বাস্তববাদী লেখা সেহেতু আবেগ-পরায়ণ যে কেউ অনেক সময় আঘাত পেতে পারেন। কিন্তু, বাস্তবতা তো তার আপন গতিতে চলে। আমি শুধু সেটাকে ধরে ধরে লেখায় রুপদান করি।
২৬৭. যে বোঝে তার যুদ্ধ করা লাগে না। কৌশল এবং বুদ্ধিমত্তার জোরেই সে উত্তীর্ণ হয়।
২৬৮. আপনি লিখতে চাইলে লিখতে পারেন। কিন্তু, সব কিছু প্রকাশ করবেন না বা পারবেন না। আপনার বিবেক সায় দিবে না; নতুবা, আপনি পরিস্থিতির স্বীকার।
২৬৯. ভদ্র আর অভদ্র এবং বেয়াদব ও আদবের মধ্যে পার্থক্য তার আচার-ব্যবহারে। আর আচার-ব্যবহার নিয়ন্ত্রন করে মানুষের চিন্তা-চেতনা। মানুষের আচারনগত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য।
২৭০. বুদ্ধির খেলায় সেই জয়ী হয়; যে ঘটমানের নীরব দর্শনে উপলব্ধি পেয়ে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপন্থা গ্রহন করে কর্ম সম্পাদন করতে পারে।
২৭১. পূরুষের প্রেম বহির্মূখী; নারীর প্রেম অন্তর্মূখী।
২৭২. পরিকল্পনা যত মার্জিত, রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন এবং কৌশলপূর্ণ হবে কর্মও তত সুন্দর হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই।
২৭৩. যুক্তি খন্ডন করা গেলেও বাস্তবতা খন্ডন করা যায় না। এমনকি যুক্তি দিয়েও বাস্তবতাকে খন্ডন করা যায় না।
২৭৪. আবেগও একটি বাস্তবতা। আর প্রেম হচ্ছে একটি আবেগীয় বাস্তবতা।
২৭৫. আমি মানুষ। এটাই আমার প্রথম এবং শেষ পরিচয়। মানুষ হয়ে জন্মেছি। মরতেও চাই মানুষ হয়ে। আমি কোন বাদ বা ইজম দ্বারা আসক্ত নই। আমি মানুষ। এই বোধই আমাকে পরিচালিত করে। মানুষ হওয়ার জন্য মানবিক গুনাবলি অর্জন করতে হয়। ধার্মিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারন, ধর্ম অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানবিক গুনাবলি অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাই!
২৭৬. মানুষ যখন ভুল করে তখন সে বুঝতে পারে না। তাই সে ভুল করে।
২৭৭. মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে যাও, কোন কষ্ট থাকবে না জীবনে। জীবন হবে জীবনের মত।
২৭৮. বর্ণ এবং ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদই পৃথিবীতে বিশৃংখলা সৃষ্টি, মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি, মানুষ হত্যা এবং গণহত্যার অন্যতম প্রধাণ কারণ।
২৭৯. মানুষ হিসেবে কেউ পরিপূর্ণ নয়। এজন্য, কাউকে আপনি এককভাবে ভালো বা খারাপ বলতে পারেন না।
২৮০. একটি বিষয় ভেবে দেখলাম; যারা অপরাধ করে এবং কোন বিষয়ে এডিক্টেড থাকে তাদেরকে আসলে শাস্তি দিয়ে লাভ হয় না। বরং, তারা আরো বেশি ঐ বিষয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। কেননা, শাস্তি মানুষকে আসক্তি বা অপরাধ থেকে রক্ষা করে না। কৌতুহলই মানুষকে এডিকশনের দিকে ঠেলে দেয়। এজন্য, কাউন্সেলিং বা সংশোধনই মানুষকে অপরাধ বা আসক্তির কবল থেকে রক্ষা করতে পারে।
২৮১. এখানে প্রতিভার চেয়ে বয়সের সম্মান বেশি। এ কারনে উন্নয়ন বয়সের ফাঁক-ফোকর দিয়ে সরু হয় আসে।
২৮২. রাগ, দুঃখ, ক্ষোভ ইত্যকার বিষয়গুলো ভয়ংকর ক্ষতিকারক অনুভূতি নামক ভাইরাস। ভাইরাস ক্ষতিকারক হলেও বর্তমান।
২৮৩. সৃজনী শক্তির দাপটটা বেশি হওয়া জরুরি। বুদ্ধির প্রয়োজন আছে। খারাপ বা ভালো বিচক্ষন করার জন্য। ঠিক তো বলি। কিন্তু, সময় যখন বাস্তবতার কাঁটায় দোঁল খায় তখন বোকা হয়ে বসে থাকতে হয়। কিছুই করার থাকে না। তবে, সৃজনী শক্তি আর ইতিবাচক বুদ্ধি থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব।
২৮৪. সব মানুষেরই কিছু সুপ্ত প্রতিভা থাকে। এটাকে উপ্ত করার জন্য আনুষঙ্গিক কিছু বিষয় থাকে; যা নিজেকেই বুঝে নিতে হয়।
২৮৫. দু'পাঁচজন মানুষকে বোকা বানানো সহজ। কিন্তু, সব মানুষকে বোকা, পাগল ভাবাটা নিরেট বোকামী! যে ভাবে, সেই আসলে বড় বোকা।
২৮৬. না হলে; বিকল্প থাকে। অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে খুজুন। হয়তোবা, এর থেকে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। বিপরীতও হতে পারে। তবে, আপনার বোধ-বুদ্ধি দিয়ে সেটা এড়িয়ে যেতে পারেন।
২৮৭. 'আপন' বা 'পর' শব্দ দুটি প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হয়। এ দুটো নিত্য পরিবর্তনশীল শব্দ।
২৮৮. যখন আমি বলি, আমি মুসলমান বা হিন্দু বা বৌদ্ধ বা খ্রীষ্টান বা অন্যান্য। তখন বিভেদের একটা সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম সূচক এসে যায়। কিন্তু, যখন বলি 'আমি মানুষ' তখন মানুষে মানুষে আর কোন বিভেদ থাকে না। এক সাথে সুখে-দুঃখে আমরা সবাই সবার। এটা সম্ভব একমাত্র মানুষকে মানুষ ভাবতে শেখার মধ্যে।
২৮৯. বর্ণচোরা এবং গিরগিটি টাইপের লোকেরা ব্যক্তি-স্বার্থের পিছে ঘোরে। নিজের স্বার্থেই তারা ভোল পাল্টাতে কসূর করে না। আজব এক প্রাণী! উহাদের থেকে সাবধান থাকা উচিৎ। নতুবা, ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। হয়!
২৯০. আমরা এখনো মধ্যযুগীয় বর্বরতার কাঠামো থেকে বাহির হতে পারিনি। আমরা এখনো মধ্যযুগীয় নেতিবাচক চিন্তার খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। যে কারনে, আধুনিক, উন্নত সভ্যতার অভ্যন্তরে থেকেও আমরা অসভ্যতাপূর্ণ আচরণ ও কর্ম করে থাকি।
২৯১. ঢাকা হচ্ছে কাঁকের শহর। ওখানে কোঁকিল খুজলে ভুল হবে। তাই, নিজে কোঁকিল হলেও কাঁকের বেশ ধারণ করা জরুরি বোধ করি। নাহলে, টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে এটাই ঘটে বলে বোধ করি।
২৯২. আসলেই, ভালোবাসা মূখের ভাষায় অপ্রকাশিতব্য অন্য রকম এক অনুভূতি! ভালোবাসার কোন সংজ্ঞা হয় না। কোন ভাষা দিয়েও প্রকাশ করা যায় না। এটাকে আবার প্রেম মনে করবেন না! প্রেমে ভালোবাসা থাকতে পারে। তবে, ভালোবাসায় প্রেম অনুপস্থিত।
২৯৩. আপনার যদি কারো কথায় বা কাজে অনুভূতিতে আঘাত লাগে; এটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত সমস্যা। সাইকিয়াট্রিস্ট বা ডক্টরের পরামর্শ নিন। নিজের সমস্যার জন্য অন্যের মত-প্রকাশের স্বাধীনতাকে কেনো হরণ করবেন। এটা তো মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। রীতি-মত মানবতা-বিরোধী অপরাধ।
২৯৪. মেয়েদের মানসিকতায় তাদেরকে অধিকারহীন করে! তারা নিজেরা নিজেদেরকে অধিকারহীন করে রাখতে মনে হয় ভালোবাসে! বিষয়টা আমাকে বিব্রত এবং বিস্মিত করে!
২৯৫. তবে, একটা বিষয় বুঝেছি। বিপদের বন্ধুই আসল। সুসময়ের বন্ধু আসলে ধান্ধাবাজ, স্বার্থপর হয়।
২৯৬. একটি ইতিবাচক প্রজন্মই পারে সুন্দর একটি জাতি গঠন করতে। তাই, একটি ইতিবাচক জাতি গঠনে একটি ইতিবাচক প্রজন্ম প্রয়োজন। এক্ষেত্রে একজন শিক্ষকই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তবে একটি কথা, ভাংড়ি দিয়ে ভালো কিছু প্রত্যাশা করাটা বোকামী।
২৯৭. প্রেম একটি ব্রান্ডি জিনিস হয়ে গেছে। এক বয়সে, সবাই প্রেম করার চেষ্টা করে; না পারলেও। আর শেষমেষ যদি না পারে তাহলে হা-হুতাশ করে বলে, আমার কপালে প্রেম নাই! যে ব্যক্তি প্রেমকে অবৈধ বা ঘৃন্য বলে অপপ্রচার চালায়, সেও প্রেম করে বা সুযোগ খোজে। হাঁস্যকর বঁটে!
২৯৮. মানুষ যখন ভালো মানুষের প্রশংসা করে তখন এমন করা করে যে, বিশ্বাস-যোগ্যতা হারায়। আবার যখন খারাপ মানুষের সমালোচনা করে তখন এমন করা করে যে, ধ্যান-ধারনার বাইরে চলে যায়। সঠিক অর্থাৎ হক কথা বলতে পারাটায় উত্তম চরিত্র ও ব্যক্তিত্বের লক্ষণ।
২৯৯. যারা ভালো কথা সহ্য করতে পারে না; তারা খারাপ; এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। আর যারা মানুষের মঙ্গল-কথা, মানবতার কথা সহ্য করতে পারে না; তারা মনুষ্য-বিদ্বেষী, মানবতা-বিরোধী; এতেও কোন সন্দেহ নেই।
৩০০. আপনি বয়সে বড় হতে পারেন; কিন্তু, আপনার কর্ম যদি অন্যায় এবং অবৈধ হয়ে থাকে তাহলে আপনার বড়ত্বের মাপকাঠিতে মাপাটা ভুল হবে। আপনি দাবিও করতে পারেন না। দাবি করাটাও ভুল হবে।