সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা (৩০১-৪০০)


৩০১. আপনি যেমন অন্য মানুষকে ঠিক তেমনটা দেখতে চাওয়া চরম বোকামী! কারন, পৃথিবীতে কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত। এ হিসেবে, ভিন্ন ভিন্ন মানুষের আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি থাকাটা স্বাভাবিক।

৩০২. সন্তান খারাপ হলে প্রথমে দোষ হয় মা'র। সর্বোপরি মা-বাবার দোষ। কারন, সন্তান মা-বাবার দায়িত্ব-কর্তব্যের আওতায় থাকে। মা-বাবার দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে ব্যর্থতার জেরে সন্তান খারাপ হয়ে যায়। দায়ভার সন্তানের ঘাড়ে চাপানো, 'উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানো'র মত হয়ে যায়।

৩০৩. দেখা যায়, অনেক সময় অনেক মানুষকে আদিখ্যেতা করতে। এটা আসলে চরম মাত্রার একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির নাম। আদিখ্যেতা করা যাবে না। এটা অন্যকে বিব্রত করে। অনেক ক্ষেত্রে এটা ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়। যে কেউ যে কোন বিষয় নিয়ে আদিখ্যেতা করতে পারে। আদিখ্যেতা করা খুবই খারাপ! এটা একজন ব্যক্তির দূর্বল ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। চরিত্রের মাখামাখি এবং জগাখিচূড়ী মার্কা অবস্থার কারনে মানুষ আদিখ্যেতা করে নিজেকে অন্য বিষয়ে আড়াল করার চেষ্টা করে।

৩০৪. আমি নিজের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখি। নিজেকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। কারন, নিজের প্রতি আস্থা না থাকলে, নিজেকে ভালোবাসতে না জানলে অন্যের প্রতি আস্থা রাখা যায় না, অন্যকে ভালোবাসা যায় না।

৩০৫. ভালো মানুষ হওয়ার জন্য আপনার ইচ্ছায় যথেষ্ট। একজন মানুষকে কোন রকম লাভ ছাড়ায় সাহায্য করুন। দেখবেন, নিজের ভেতর অন্য রকম শান্তি অনুভব করবেন। এটাই তো একজন ভালো মানুষের অন্যতম গুন।

৩০৬. কঠোর পরিশ্রমের পর যে ফলটা অাসে ওটাই মেধার পরিচয়। আসলে মেধা বলে তেমন কিছু নেই। কঠোর পরিশ্রম আর মনে রাখার শক্তিই আপনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

৩০৭. জীবনে চলার জন্য টাকার প্রয়োজন আছে; এটা ঠিক। কিন্তু, টাকা দিয়ে মানুষের জ্ঞান বা প্রজ্ঞার পরিচয় মেলে না। জ্ঞান জিনিসটা মানুষের চিন্তা-চেতনার উন্নতি ও বিকাশ ঘটায়। আর টাকা অনেক সময় মানুষকে হিংস্র জন্তু জানোয়ারে পরিনত করে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোন জিনিসই ভালো ফল দেয় না; একমাত্র জ্ঞান ছাড়া।

৩০৮. দুধ লাথি মারা গরুতেও দেয় আবার শান্ত-শিষ্ট গরুতেও দেয়। এখন কথা হচ্ছে, লাথি মারা গরু ১০ কেজি দুধ দিলেও তা নেয়া বড়ই কষ্ট-সাধ্য। আর শান্ত-শিষ্ট গরু ১ কেজি দিলেও তা অনায়াসে নেয়া যায়।

৩০৯. আমি মনে করি, আস্তিকতা এবং নাস্তিকতা দুটোই কৌশলগত সামাজিক শ্রেণীকরণ। আর যে কোন ধরনের শ্রেণীকরণই মানুষের জন্য অমঙ্গলদায়ক। একমাত্র মানবতাবোধই মানুষের জন্য মঙ্গলদায়ক বিষয়। অর্থাৎ, মানুষকে মানুষ ভাবতে শেখায় যে বোধ সেটাই। রক্ত-মাংস, প্রাণের অধিকারী মানুষের একটাই শ্রেণীকরণ হতে পারে সেটা হচ্ছে, আমরা মানবজাতি।

৩১০. ভালো কাজ করলে একদিন তার ফল পাবেন। মৃত্যুর পর মানুষ দুনিয়ায় আপনার সৎকর্মের জয়গান গেয়ে যাবে।


৩১১. একাডেমিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে মানুষের জ্ঞান পরিমাপ করা যায় না। যে পড়ে, সে জানতে পারে। আর যার বোধ শক্তি রয়েছে, সে বুঝতে পারে। এখন না পড়ে, বোধ শক্তি বন্ধক রেখে দিলে তো মুশকিল। যন্ত্র ও প্রযুক্তির উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি ঘটলেও মানুষের চিন্তা-চেতনা ও মানসিকতার নিম্নগামিতাই পরিলক্ষিত হচ্ছে। মানব জাতির জন্য এটা অশনি-সংকেত।

৩১২. প্রচলিত অর্থে আমরা যাদেরকে ভালো মানুষ মনে করি, প্রকৃত অর্থে তারা বোকা নতুবা মুখোশধারী ভন্ড। ভালো মানুষ হওয়ার জন্য দরকার সৎ-বুদ্ধি। যেটা প্রচলিত অর্থের ভালো মানুষদের মধ্যে নেই।

৩১৩. সব সহ্য করতে পারি কিন্তু ভন্ডামী আর তেলবাজি সহ্য করতে পারি না। ভন্ডামী হচ্ছে, আপনি মানুষকে এক বলে করেন আর এক। অর্থাৎ, নিজে খারাপ হয়েও, কুকর্ম করেও ভালো সাজার বাহানা। তেলবাজি হচ্ছে, ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য অন্যকে ঠকানোর নিমিত্তে কথা এবং কাজ দ্বারা কাউকে সন্তুষ্ট করার ভান করে শুভঙ্করের ফাঁকি মারা।

৩১৪. ভাবতেছি, এখন থেকে ইতিহাস, দর্শন, মনোবিজ্ঞান পড়া বাদ দিয়ে সাহিত্য, সিনেমা পড়া শুরু করব। কারন, 'ভালোবাসি' এ কথাটি যতটা ঐতিহাসিক, দার্শনিক এবং মনোজাগতিক তারচেয়ে বেশি সাহিত্যিক, সিনেমাটিক ও নাটকীয় না হলে বিপরীতে গ্রহনযোগ্যতা পায় না।

৩১৫. স্বার্থের দ্বন্দ্বে আমরা পরস্পর পরস্পরের আত্মীয়-অনাত্মীয়। স্বার্থের কোলে আমরা সামাজিক। স্বার্থের হানিতে আমরা কখনো হয়ে যায় অসামাজিক। সামাজিক-অসামাজিকতার দ্বন্দ্বে হয়ে উঠি মানুষ-অমানুষ। বিচ্ছেদের সুর মানুষকে নিয়ে যায় নতুন দ্বন্দ্বের অভিমূখে।

৩১৬. দৃষ্টিকোন ও মতের অমিলটা স্বাভাবিক। মিলটা কাঁকতালীয়।

৩১৭. জ্ঞানী ব্যক্তি জ্ঞানীর সম্মান করে। আর ধার্মিক করে ধার্মিকের।

৩১৮. সনদপত্র দিয়ে জ্ঞান পরিমাপ করাটাও মূর্খতা। আপনার অনেক বড় মাপের ডিগ্রি থাকতে পারে। কিন্তু, আপনার জ্ঞানের পরিমাপ হবে আপনার কথা-বার্তা আর আচার-ব্যবহারে।

৩১৯.  চৈতন্যগত বৈপরীত্য যদি হঠাৎ করে সম্পর্কে ফাটল সৃষ্টি করে তাহলে সেখানে ভালোবাসা ছিলো না। এটাকে বলা যায়, মেনে নেয়ার প্রবনতা। এই অবদমিত মন একদিন জোরে বিস্ফারিত হয়ে অনাকাঙ্খিত বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। কাজেই, ভেবে-চিন্তে সম্পর্কের দিকে আগানো উচিৎ। সবাইকে বন্ধুত্বের তালিকায় রাখা ঠিক হবে না। স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখাই বাঞ্ছণীয় হবে।

৩২০. ফুলের সৌন্দর্য আছে বলে ফুলকে ঢেকে রাখা বোকামী ছাড়া কিছু নয়। যারা ফুল দেখলেই ছিড়ে নষ্ট করতে চাই তাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিন। ফুল মাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর। ফুলকে বস্তাবন্দি করলে তার সৌন্দর্য ঝলসে যায়। ফুলের সৌন্দর্য্য প্রকৃতির খোলা ময়দানেই পরিলক্ষিত হয়।

৩২১. যারা হুদাই ল্যাঁদাই তাদের এড়িয়ে চলাই শ্রেয়! কারন, অযথা সময় নষ্ট ছাড়া কিছুই হয় না। মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান দুটি সম্পদ হচ্ছে প্রাণবায়ু আর সময়। কাজেই, সময় নষ্ট করা মানে জীবন থেকে মূল্যবান জিনিস হারানো। হাজার-তঁপস্যা করলেও যা কখনো ফিরে পাওয়া যায় না।

৩২২. এটা গবেষনা নয়, শুধু পর্যবেক্ষন। গবেষনার জন্য আনুষঙ্গিক অনেক বিষয় থাকে। শুধু পর্যবেক্ষন দিয়ে হয় না।

৩২৩. সব কথা সব সময় পরিপূর্ণতা দিয়ে বলতে নেই। কারন, নিজের জ্ঞানকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয় সেটার দ্বারা।

৩২৪. ওরা কেনো ছবি তুলতে চাই বুঝি না! বানরের পাছার ছবিও তোলা যায়। কিন্তু, সেটা অর্থহীন!

৩২৫. সত্য কথাও অনেক সময় বলা যায় না। সময়ের অপেক্ষা করতে হয়।

৩২৬. সবাই টাকার লালসার আগুনে ঝলসানো জারিত মানুষ!

৩২৭. পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিক মনে হলো! কারন, পরিবর্তন, বিবর্তন এগুলো নিত্য ব্যাপার! মেনে নিতে না পারাটা তাদের নয়, নিজের ব্যাপার! (ব্যক্তিগত অভিমত, ভিন্নমত থাকতে পারে। ওটাও স্বাভাবিক! মেনে নিতে না পারাটাই আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়!)

৩২৮. সাধারন মানুষ সেখানে বেশি যায়, যেখানে প্রতারিত হয় বেশি। আর কর্পোরেট জগতের মানুষ সেখানেই বেশি ঘোরাঘুরি করে যেখানে প্রচারিত ও প্রতারিত করার সুযোগ বেশি।

৩২৯. চোরকে চোর বললে নাকি তার জাত যায়। আসলে, অপ্রিয় সত্য পাগলেও সহ্য করতে পারে না। যেমন, পাগলকে পাগল বললে সে ক্ষেপে যায়। যদিও বাস্তবে সে পাগল।

৩৩০. কীর্তিমানের কূকীর্তি, যে করে ফাঁস, তারই নাকি রয়েছে কু-প্রবৃত্তি! আজব তো!

৩৩১. জীবনের বাস্তবতা জীবনকে কতদূর নিয়ে যাবে জানি না! তবে, আশাবাদী, ইতিবাচক, স্বপ্নচারী মানুষ হিসেবে আশাহত হচ্ছি না। বিকল্প থাকে। সেগুলো খুজে এগুতে হবে। স্বপ্নগুলোকে বস্তাবন্ধি না করে, খোলা আকাশের নিচে ছেড়ে দিলাম। ডালপালা মেলে শতরুপে অগ্রসর হতে থাকুক। মানুষের জীবনে এমন কিছু সময় থাকে যখন মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে খুব দিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে যায়। তবে, সেটা দীর্ঘমেয়াদী নয়, নিতান্তই সাময়িক। এগিয়ে চলার সংগ্রামে নতুনত্বের আহ্বানে সাড়া দিতে নব-চেতনায় নিত্য-পরিকল্পনা গ্রহণ। আসা-যাওয়া এটাই তো নিয়ম। এর মাঝে কতটুকু অর্জন সেটাই মূখ্য হয়ে উঠে। অর্জনের খতিয়ান ভরে উঠুক মানবিক চেতনায়।

৩৩২. গাঁধা বই বহন করে কিন্তু পড়তে পারে না বা জানেও না। বই তার কাছে নিরেট বোঝা স্বরুপ। বইয়ের জ্ঞান তার কাছে অপাংক্তেয়। তার ধান্দা থাকে বই বহন করলে মনিব কিছু খাবার দেবে। দেশের সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষা ব্যবস্থা গাঁধার বই বহন করার মত হয়ে পড়েছে। সবাই ভালো রেজাল্টের ধান্দায় পড়ে। শেষে একটা সার্টিফিকেট পাওয়া যায়! অনেকে তো রীতিমত গলাবাজি করে বলে, 'জ্ঞানার্জন করে কি হবে'! আমার কাছে এটা মানববিধ্বংসী অস্ত্রের চেয়ে ক্ষতিকারক কথা বলে মনে হয়। শিক্ষা মানুষের একটি মৌলিক মানবাধিকার। এর সাথে কোন আপোষ চলবে না, চলতে পারে না। অনেকে শিক্ষা এবং জীবিকাকে একাকার করে ফেলে। এখানে শিক্ষা এক জিনিস আর জীবিকা অন্য  জিনিস। চাকরির জন্য চাকরিদাতারা চায় দক্ষতা, সক্ষমতা। আর শিক্ষা মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়, চরিত্র গঠন করে, মানবিক হতে শেখায়।

৩৩৩. অন্যায়ের প্রতিবাদ না করলে একটা সময় দেখা যায়, সেটা নিজের সাথে, নিজের পরিবারের সাথে, আশেপাশের মানুষের সাথে ঘটে যায়। তাই, আসুন আমরা সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি। ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার হই। আসুন, সবাই মিলে সকল অন্যায়ের উৎস সন্ধান করে এর মূলোৎপাটন করি।

৩৩৪. সৎ ও সত্যকে মানুষ খুব সহজে অপদস্ত করে। ছোটবেলায় যখন বাবা প্রথমভাগ, দ্বিতীয়ভাগ বই কিনে দিয়েছিলো তখন ঐ বইতে লেখা ছিলো 'সদা সত্য কথা বলিবে'। 'কাউকে অন্যায়ভাবে ক্ষতি করিবে না'। বিষয়গুলো আমার শিশু মনে খুবই প্রভাব ফেলেছিলো। আমি সব সময় সত্য কথা বলা, সৎ থাকার চেষ্টা করতাম। কিন্তু, যখন বয়স বাড়তে লাগলো তখন পারিপার্শ্বিক সমাজে ধীরে ধীরে এগুলো অপাক্তেয় হতে শুরু করলো। আমি নিজের বৈষয়িক বিষয়ে হতাশ না হলেও এগুলো দেখে হতাশ হতে শুরু করলাম। মানুষ মানুষকে নিত্য-নতুনভাবে ঠকাচ্ছে, মিথ্যার ছড়াছড়ি চতুর্দিকে। এসব দেখে নিজেকে এখন সমাজের একজন বোকা মানুষ মনে হয়।

৩৩৫. চোর-বাটপার-ভন্ড, তিনের সাথে, কখনো বিপরীতে, অবাক করা কান্ড!

৩৩৬. আপন ভালো পাগলেও বোঝে। এ কারনে নিজের ব্যাপারে প্রত্যেকের আরো বেশি সচেতন হওয়া উচিত। ট্রাপে পড়তে সময় লাগে না। সবাই যদি সবার অবস্থান থেকে আরো বেশি সচেতন হয় তাহলে একটি সুন্দর, সভ্য সমাজ গড়তে সময় লাগবে না।

৩৩৭. মানুষ ধীরে ধীরেই বড় হয়। ধীরে ধীরে জ্ঞানী হয়। ধীরে ধীরে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করে। কাজেই, ভালো কিছু পাওয়ার জন্য ধৈর্য্য ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার মানুসিকতা তৈরি করতে হবে। অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকলে ভালো কিছু অসম্ভব।

৩৩৮. আমি রাজনীতিকে কখনো খারাপ বলি না বা ভাবিও না। কারন, একটি দেশের নীতি-নির্ধারনী পর্যায়ে থাকে এই রাজনীতিবিদেরা। তবে, রাজনীতির কতিপয় দুষ্টচক্রকে অবশ্যই খারাপ বলে জানি, বলি এবং ভাবি। রাজনীতির ভাল-মন্দ দুটো বৈশিষ্ট্যই রয়েছে। সভ্য জাতি সব সময়ই রাজনীতির ভালো বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করার চেষ্টা করে। অসভ্যদের কথা না বলাই শ্রেয়। কারন, নেতিবাচক কথারও প্রচন্ড প্রভাব রয়েছে। সেটা কথা-বার্তা, কাজ-কর্মে যতদূর সম্ভব না ফুটিয়ে তোলায় মঙ্গলদায়ক হবে বলে বোধ করি।

৩৩৯. সাময়িক সুখের মোহে মানুষ বৃহত্তর সুখকে বিসর্জন দেয়। বিষয়টা আজব লাগে!

৩৪০. মানুষকে ঠকানো যায় সহজে।  কিন্তু, এটার নেতিবাচক রেশটা রয়ে যায় দীর্ঘকাল।


৩৪১. দেশটা অবাস্তব উপদেশ আর অকেজো সমালোচনায় ভরে গেছে। সবাই জ্ঞানী। মেধাবীতে দেশ পরিপূর্ণ। কিন্তু, "আলোকিত মানুষ" এর বড়ই অভাব। উলুবনে মুক্তা ছড়াতে সবাই উস্তাদ। মুক্তা না থাকলেও, যার যা আছে, সে তাই নিয়ে উলুবনে ছড়ানোর জন্য ঝাপিয়ে পড়ে।

৩৪২. একজন ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা থাকতেই পারে! তবে, আমরা তার মহত্বকে বাড়িয়ে দিচ্ছি অযথা সমালোচনা করে। ব্যক্তি হিসেবে তার একটা গুরুত্ব আছে, এটা ঠিক! তাই বলে, তাকে এত হোমরা-চোমরা ভাবার বা তাকে নিয়ে এত সমালোচনা করে মহান বানানোর বা ত্যায্য করার কোন গুরুত্ব আছে বলে মনে করি না।

৩৪৩. বিচিত্র সব মানুষের সাথে মেলামেশা। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা। হতাশা একটি সংক্রামক মানসিক ব্যাধি। কাজেই, হতাশাগ্রস্ত মানুষদের পাশে থাকলে আপনার পরিনতিও অবনতির দিকে ধাবিত হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই। সুতরাং, হতাশায় নিমজ্জিত মানুষদেরকে মানসিক রোগী বললে অত্যূক্তি হবে না। এড়িয়ে চলাই শ্রেয় বোধ করি।

৩৪৪. একজন মা সন্তান জন্মদানের কষ্ট উপভোগ করতে পারে। কিন্তু, সন্তানের যন্ত্রনাদায়ক কর্মকান্ড সহ্য করতে পারে না। সন্তান জন্ম দেয়ার চেয়ে মানুষেরর মত মানুষ করা কঠিন।

৩৪৫. ঘটমান ঘটনার বাস্তবতা নিত্য সত্য।

৩৪৬. ধর্ষনের কারন হিসেবে নারীর পোশাককে দায়ী করে অনেক সময় শিয়াল আর মুরগির উদাহরন টানা হয়। আসলে, মানুষ কতটা নিচে নামলে এমন ধরনের কথা বলতে পারে তা আমার বোধে আসে না! মানুষকে পশু-প্রাণীর সাথে তুলনা! হায়রে কপাল!

৩৪৭. ভালোলাগা আর ভালোবাসা এক নয়। কিন্তু, ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা শুরু হয়।

৩৪৮. একটা আঘাতই ভেঙ্গে দিতে পারে অত্যাচার, অন্যায়, শোষন, কুসংস্কার ও হিংস্রতার শক্ত ভিত্তিকে। প্রত্যেকটা অন্যায়মূলক কর্মকাণ্ডের মূলে আঘাত দিয়েই সেটাকে সমাজ থেকে ঠেঙিয়ে বিদায় করা হয়েছে। সূতরাং, এক্ষেত্রে কারো না কারো কিন্তু ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক আঘাত দিতে হয়েছে। কারণ, এগুলো এ সমাজেরই কোন মানুষ বা তাদের সম্মিলিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যেমে সৃষ্ট।

৩৫০. প্রধান ব্রত আমি যেন কখনো অমানুষ না হয়ে যায়। সেটা খেয়াল রাখা।

৩৫১. মানুষ একটি প্রাণী অথবা জন্তু। তার আরেকটি পরিচয় সে কখনো কখনো উন্নত, সভ্য প্রাণী মানুষ।

৩৫২. একজন মানুষের আচরণগত জড়তা বা ভুল অথবা সংস্কৃতিগত পার্থক্য থাকতে পারে; এটা স্বাভাবিক। এটা নিয়ে অসংলগ্ন মন্তব্য বা কটু-কথা বলা অস্বাভাবিক।

৩৫৩. জীবনের প্রথম শিক্ষা ছিলো, "সব সময় সত্য কথা বলবি। মিথ্যা থেকে ১০০ হাত দূরে থাকবি।" "কারো সাথে ঝগড়া করবি না।" "কেউ মারলে মার খেয়ে বাড়ি আসবি, তুই মারবি না। মারামারি যারা করে তারা ভালো না। আর যদি মারামারি করিস, তোকে উল্টো পিটাবো আমি।" "কেউ কষ্ট পায় এমন কথা বলবি না, তেমন কাজও করবি না। "কথাগুলো সরল-শিশুমনে প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তার করেছিলো। কিন্তু, যখনই এগুলো মেনে চলার চেষ্টা করেছি তখনই পদে পদে হেনস্তা আর বাজে উপদেশের খপ্পরে পড়েছি। না'হলে মানুষ ঠকিয়ে চলে গেছে। মনে হয়, নিজের গালে নিজেই থাপ্পড় মারলাম। মা'গো তোমার দেয়া শিক্ষা আজও মধুর সুরে কানে  বাজে। কিন্তু, এ জগতের মানুষ বড়ই বিচিত্র, সেই সাথে নিষ্ঠুরও বটে। তবে, যখন দু'একজন ভালো মানুষের দেখা পায় তখন বরাবরই তোমার কথা কেন জানি মনে পড়ে।

৩৫৪. সস্তা অনুভূতি দেখে বলতে বাধ্য হচ্ছি "এ মা তোর কুকুর আগে সামলা। আমার জ্ঞান বিতরনের দরকার নেই।"

৩৫৫. সুস্থ্য-মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক পাগলেরা পৃথিবীতে বড় বড় পরিবর্তন এনেছে। অর্থাৎ, যারা প্রচলিত নিয়ম-নীতি, আচার-প্রথা, চিন্তা-চেতনার নিগড়ে আবদ্ধ না থেকে নতুন ভাবে চিন্তা করে। যারা নতুনত্বের নেশায় পাগলামী করে। সাধারণের তাদের পাগল মনে করার কারণ সাধারণের সাথে তাদের চিন্তা-চেতনার অমিল। এই অমিলই বড় বড় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে পৃথিবীতে। তবে, সাধারণরা কিছু না দিতে পারলেও এ পাগলরা পৃথিবীকে অনেক কিছু দেয়। "নিয়ম ভাঙার মধ্যেই ইতিবাচক কল্যানকর পরিবর্তন নিহিত।" কল্যান যারা এনেছে তাদের সাথে সাধারনের পার্থক্য এখানে যে তারা নিয়ম ভেঙে নতুনত্ব, ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। আর সাধারণ পিছুটানের নিয়মকে আকড়ে পড়ে থাকে। যা জগৎকে পিছন দিকে নিয়ে যায়। পৃথিবীতে সব কিছু গতিশীল। নিজেকে আবদ্ধ করে রাখলে পতন অনিবার্য।

৩৫৬. চাকরি পাওয়াটা মেধার ব্যাপার নয়, পরিশ্রমের। মেধা হচ্ছে নতুন কিছু করা।

৩৫৮. সাদা কাপড়ে দাগ লাগলে সেটা খুবই দৃষ্টিকটু লাগে এবং সবারই চোখে পড়ে। এতই দৃষ্টিকটু লাগে যে মানুষ বলতে বাধ্য হয়। নিজেকে সাদা কাপড় দাবি করবেন আর অন্যায়-অপরাধের দাগ বয়ে বেড়াবেন। লোকে তো বলবেই। অবাক হওয়ার কিছু নেই। দুঃখ পাওয়ারও কিছু নেই। সত্যকে গলা টিপে হত্যা করতে চাওয়া বোকামী। জগতে সর্বকালে কিছু সত্য সন্ধানী মানুষ জন্মে। সত্যকে তারা খুজে বের করে এবং মানুষের মাঝে সত্যকে উন্মুক্ত করে দেয়।

৩৫৯. জমি চাষ না করলে যেমন আগাছা জন্মে ঠিক তেমনি জ্ঞানের চর্চা না করলে মস্তিষ্কে আগাছা জন্মে। কিছু মানুষের কথা শুনে মনে হয় আগাছা-মস্তিষ্ক। তাদের মস্তিষ্ক যে আগাছা সমৃদ্ধ তা তাদের কথা-বার্তা শুনে বোঝা যায়। আবার কিছু মানুষ আছে যারা পরগাছা। এক সম্বন্ধে আরেকের কাছে কূৎসা রটিয়ে বেড়ায়। নিজের তো ভালো কোন সৎ-গুণ নেই। তাই এই কুকর্ম করে বেড়ায়। মানুষের প্রত্যেকটা কাজে যদি জ্ঞানের ছোয়া থাকে সেটা অনেক সুন্দর হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই।


৩৬০. মানুষের ভালবাসাটাও কৃত্রিম হয়! আগে শুনতাম! এখন দেখছি! উপলব্ধিটাও হাড়ে হাড়ে! তবে একটা বিষয়, সৌজন্যতা কখনো ভালোবাসার নিদর্শন হতে পারে না! ওটা শুধুই সৌজন্যতা! যেটা মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে, আত্ম-সম্মানবোধ বজায় রাখার খাতিরে করে থাকে! স্বার্থপর সবাই হতে পারে, কিন্তু মানুষকে ভলবাসতে সবাই পারে না। কারন দার্শনিক হব্স বলেন, "মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক"। যতক্ষন মানুষ স্বভাবের উর্ধ্বে না উঠতে  পারে ততক্ষন সম্ভব নয়!

৩৬১. আপনার কথা, লেখায় যদি তথ্য-উপাত্তের যৌক্তিক তথ্যসুত্র ও উপস্থাপনায় যৌক্তিক ভিত্তি থাকে তাহলে সেটা মানুষের আস্থায় পৌছাতে সময় লাগবে না বলে বোধ করি।

৩৬২. সমালোচনাও একটি আর্ট/শিল্প। যদি সেটা যৌক্তিক ও গঠনমূলক হয়।

৩৬৩. জীব-যন্তুরা আসলেই অনেক আধুনিক! নগরায়ণের করুণ-রসাত্মক দৃশ্য দেখলে বোঝা যায়। মানব সৃষ্ট বজ্র দুর্গন্ধ নাগপাশ। বিশেষ করে মস্তিষ্ক-পঁচা গন্ধে টিকে থাকা দায়!

৩৬৪. আপনি একজন মানুষকে ইচ্ছামত অপমান করার উদ্দেশ্য নিয়ে তার সামনে উপস্থিত! মনে রাখবেন, আপনার পাতানো ফাঁদে আপনি নিজেও পড়তে পারেন; সমূহ সম্ভাবনা থেকেই যায়। ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমূখী প্রতিক্রিয়ার কথা ভুলে গেলে হবে নাহ!

৩৬৫. গভীর রাত সৎ-অসৎ কর্মের ১০০ ভাগ উপযুক্ত সময়। সৎকর্মের মধ্যে জ্ঞানচর্চার মোক্ষম সময়। সুনসান পরিবেশ, পিনপন নীরবতা, কোলাহলবিহীন দুনিয়া; এ যেন অন্য এক পৃথিবী। তাই, জ্ঞান-সাধনায় মত্ত আমি একজন মধ্যরাতের জ্ঞানসাধক।

৩৬৬. এখনো যারা মনে করে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সাথে থাকলে ভালো হতো বা বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়ে ক্ষতি হয়েছে। তাদের জন্য এই "মর্মান্তিক টোটকা"! যদিও জানি, তারা পাকিজাত! তারপরও, উপশমের জন্য রোগের চিকিৎসাগত প্রচেষ্টা তো চালাতে হয়! তাই! আর সবচাইতে বড় কথা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস না জেনে কথা বলা লোকের সংখ্যাই বেশি। কাজেই, মুক্তিযুদ্ধের নির্ভরযোগ্য প্রকৃত উৎস-সমৃদ্ধ যৌক্তিক তথ্য-উপাত্তের প্রমাণভিত্তিক গবেষণালব্ধ ইতিহাস পাঠের আহ্বান জানাচ্ছি সকলকে।

৩৬৭. যে অন্যের গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করতে পারে না নিঃসন্দেহে সে স্বৈরাচার অথবা ভণ্ড। তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। সমালোচনা পরিশুদ্ধিতার অবস্থান তৈরি করে। যদি গ্রহনের যোগ্যতা থাকে।

৩৬৮. আগে একটা কথা একটু ভাগাভাগি করে নেই; সেটা হচ্ছে, লেখাটা লেখার সময় চোখ দিয়ে দু'ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়েছিল। গানটা শোনার সময় অনেক চিন্তা কাজ করছিল মস্তিষ্কে। তার মধ্যে প্রথম, তোমার কথা বারবার মনে হচ্ছিলো। তবে প্রত্যেকবার মনে হচ্ছিলো তোমাকে হারিয়ে ফেলেছি। তুমি যোজন যোজন দূরত্বে চলে গেছো।  আমি বারবারই স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে ভালোবাসার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, মনে হয় ব্যর্থ হয়েছি। গড়তে পারিনি। যেটুকু পেরেছি তাও ভেঙে গেলো স্বার্থবাদী দৈব-শক্তির কবলে পড়ে। এটা প্রেমের সম্পর্ক ছিল না; বন্ধুত্বের, স্বার্থের নয়; আত্মা ও আত্মিক চেতনার। ভাই ভাইকে ভালোবাসবে এটাই তো স্বাভাবিক! কিন্তু, আমার ভালোবাসা মূল্যহীন, মূল্যায়নহীন হয়ে গেছে। কোন প্রতিদান চাই না; শুধুই ভালোবাসতে চাই। কিন্তু, সে সুযোগটাও হাতছাড়া হয়ে গেছে। ভালো থেকো; ভালো রেখো পাশের মানুষগুলোকে। আমি তো উলুখাগড়া! আমাকে নিয়ে আর ভাবতে হবে না। প্রয়োজনবোধে নিজেকে রিচার্জ করে নিচ্ছি। তোমার ডাকে সাড়া দেয়ার যোগ্যতা মনে হয় হারিয়ে ফেলেছি। তাই সাময়িকভাবে মাঝে একটা কল্পিত রেখা টেনে দিলাম। মন থেকে নয়; বাহ্যিকভাবে। সময়ের টানে আবারো খুলে যেতে পারে। তোমার জন্য ভালোবাসার সদর ও খিড়কি দুয়ার সব সময় খোলা। ভালোবাসা চিরন্তন! শুভকামনা! ( খোলা চিঠি)

৩৬৯. সৃজনশীল কর্মকাণ্ড দেখলে আমারও সেটা করতে মুঞ্চায়। সৃষ্টির পর উন্মুক্ত করে দেয়ার মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক মানসিক প্রশান্তি কাজ করে। এখানে কোন পৈশাচিকতা কাজ করে না। যে সৃষ্টির পিছে পৈশাচিক আনন্দ পাওয়ার আবেদন কাজ করে সে সৃষ্টি সর্বজনগ্রাহ্যতা হারায়।

৩৭০. এগুলো তো কথা না! এগুলো "কথার কথা"! আসল কথা বললে পাগলও তেড়ে মারতে আসে! তাই "কথার কথা" বলি!

৩৭১. নিজেরা করলে অজুহাত! বাকিরা করলে দু'হাত!

৩৭২. মানুষের বাইরের সৌন্দর্যের সাথে ভেতরের সৌন্দর্য যদি একিভূত হয়; সেক্ষেত্র বলতে হয়, শুধুই ওয়াও।

৩৭৩. আমি যা বলি বা লিখি তার মধ্যে একটা সার্বিক সুক্ষ্ম পর্যবেক্ষন থাকে। কাউকে বা কোন গোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট করে বা সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলি না বা লিখি না। কেউ বা তারা যদি তেমনটা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে বিষয়টি মোটেও কাঁকতালীয় নয়; বিষয়টি পর্যবেক্ষনগত মিল।

৩৭৪. যে সমাজে খারাপ মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায় সে সমাজে স্বল্প সংখ্যক ভণ্ডের জন্ম হয়। তারা পদ্ধতিগতভাবে অমানুষদের ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করে। এমনকি এ ভণ্ডের দল নিজের জন্য সব সৎ করে নেয়। বাকিদের জন্য অন্যান্য পদ্ধতিগত ব্যবস্থা রাখে। সেখানে অমানুষদের কবলে পড়ে ভালো মানুষ জন্মাতে পারে না। ভণ্ডরা কিন্তু প্রচুর বুদ্ধিমান হয়।

৩৭৫. যখন শরীরের শক্তির সাথে মনের শক্তি একত্রিত হয় তখন উন্নতি হতে বাধ্য। শরীরের শক্তি বাড়াতে যথাযথ খাদ্যগ্রহণ প্রয়োজন। মনের শক্তি বাড়ানোর জন্য জ্ঞান চর্চার বিকল্প নেই।

৩৭৬. মূর্খ মানুষ তিন ধরনের। এক. শুয়ে পড়লে আর উঠে না; অসামাজিক, অমানুষও বলা যায়। দুই. বোঝা চাপিয়ে দিলে টানতে থাকে; কোন রকম বিচার-বিবেচনা ছাড়াই। তিন. যা হয় হোক টাইপের; কাণ্ডজ্ঞানহীন।

৩৭৭. আপনি, তুমি, তুই বলার চেয়ে ইউ বলাতে সব হয়ে যায়। অর্থাৎ, একের ভিতর সব। আলাদা আলাদা করে সম্বোধনের প্রয়োজন হয় না।

৩৭৮. এখানে আমি তোমাদের মত করে বলি এবং চলি। তাই সচরাচার ভূলগুলোও তোমাদের মতই হয়। নিজের মত করে যদি বলি বা চলি তাহলে তোমাদেরকে বুঝতে সমস্যা হয়। তাই!

৩৭৯. ভালো মানুষকে পাগল বললে সে কিছু বলে না। কিন্তু, পাগলকে পাগল বললে সে পাগলা-কুত্তার চেয়েও জঘণ্য আচরণ করে।

৩৮০. শিশুরা নরম কাঁদার মত। মা-বাবা তাদেরকে যা বানায়। তারা তাতে পরিনত হয়। কেউ দেবতার পূজা করে, কেউ আল্লার ইবাদত করে, কেউ গির্জায় প্রার্থনা সঙ্গীত গায়, কেউ মানবতার গান গায়, কেউ জ্ঞান-সাধনা করে, কেউ টাকার পিছে ছুটতে ছুটতে জীবনের খেই হারিয়ে ফেলে। এর মধ্যে জ্ঞান-সাধনাটা আমার কাছে জগৎশ্রেষ্ঠ কর্ম মনে হয়।

৩৮১. যে ব্যক্তি যত দ্রুত জীবনের বাস্তবতাগুলোকে ইতিবাচক উপায়ে উপলব্ধি করতে পারবে সে তত দ্রুত জীবনবোধের সন্ধান পাবে।

৩৮২. পড়ালেখা করার জন্য তিনটা জিনিস অতীব জরুরি। এক. ইচ্ছাশক্তি। দুই. মনোযোগ দক্ষতা। তিন. ধৈর্য্য শক্তি। 

৩৮৩. আমার ব্যক্তিসত্তার কোন মূল্য নেই। আমার সাথে জুড়ে যাওয়া বস্তাপচা উদ্ধৃতিগুলোর (ট্যাগ) অনেক মূল্য। মানুষ এ জন্যই টাকার পিছে ছুটে। কিন্তু, প্রকৃত সুখ নিহিত জ্ঞান চর্চার মধ্যে।

৩৮৪. মূর্খ এবং ধর্মান্ধ সমাজের কুসংস্কার দূর করার জন্য পাথর খোদায় করার মত ছোট ছোট করে আঘাত করতে হয়। একটা সময় দেখা যাবে কুসংস্কারগুলো আপন ইচ্ছায় বিদায় নিয়েছে। ধর্ম ও ধর্মযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যা বন্ধ, সতীদাহ প্রথার উচ্ছেদ, বিধবা বিবাহ চালু, শ্রেণী বৈষম্য, আশরাফ ও আতরাফের চেতনার মূলোৎপাটন ইত্যাদি বিষয়ে সমাজকে জোরালো আঘাত করতে হয়েছিল। অনেক জ্ঞানী মানুষকে প্রাণও দিতে হয়েছিল এগুলোর দূরীকরণে। জ্ঞানের পিতা সক্রেটিসকেও প্রাণ দিতে হয়েছিল অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার নিয়ে কথা বলার জন্য। সুতরাং, বোঝা যাচ্ছে যে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করার জন্য আঘাত করতেই হবে। যদিও মূত্যুকে বরণ করতে হয়। মূত্যুকে কোন জ্ঞানী লোক ভয় পায় না। যার প্রমাণ গুরু সক্রেটিস। অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার একটি সমাজকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় এ অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার। আসুন সবাই মিলে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে না বলি। জ্ঞানকে, ধ্যান করি।

৩৮৫. রাতের অন্ধকারে কোথাও যদি এক চিলতে আলো জ্বলে সেটা আলোকবর্তিকার মত কাজ করে। সবাই একটুখানি আলোর ছোয়া পেতে সেখানে ছুটে আসে। জগতটা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেছে। কিছু সংখ্যক আলোকিত মানুষের প্রয়োজন। যাদের ছোয়ায় দুনিয়াটা আবারও আলোকময় হয়ে উঠতে পারে। একজন পাঞ্জেরীর প্রয়োজন। যিনি এই ঘুনে ধরা, পিছুটান মারা, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, ভবঘুরে, অন্ধ সমাজকে জাগিয়ে তুলবে, আলোর দিশা দিয়ে অমানিশা ঘুচাবে।


৩৮৬. ভালো পোশাক পরলেই মানুষ ভালো হয় না। ভালো হওয়ার জন্য ভালো পোশাকের সাথে সুন্দর আচার-ব্যবহার প্রয়োজন।

৩৮৭. লেখার পর প্রকাশ করার একটা চেতনা কাজ করে। তাই নিজের লেখাগুলো প্রকাশ করি বিভিন্ন উপায়ে।

৩৮৮. রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। এটাই এখন দেশের বর্তমান অবস্থা। সব সরকারই দলের পক্ষে, জনগনের পক্ষে কোন সরকার এদেশে হয় না। আর বিরোধী দল মানে শুধুই সরকারের বিরোধীতা করার জন্য বিরোধী দল। ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তায় বিভোর থাকার অপর নাম বিরোধী দল। কার্যকর বিরোধী দলও এদেশে হয় না। একচোখা না হলে বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা না। জাত নাকি জাতীয় সমস্যা; তা আমার বুঝে আসে না! কি একটা কথা! দূর্বার আন্দোলন! হাঁস্যকর বঁটে! এজন্য যে, দলের জন্য দূর্বার আন্দোলন! জনগন রাস্তায় পিষ্ট হয়ে গাড়ির তলে পড়ে মরে তার জন্য আন্দোলন দূরে থাক একটু-আধটু বিবৃতিও জোটে না। এখন আজব এক শব্দ "রাজপথ"। রাজপথ এখন জনগনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পথ না; সেটা এখন জনগন মারার পথ, দলের স্বার্থ গোছানোর নামান্তর এক মহা সড়ক। এ হোক আর ও! যেই থাক ক্ষমতায়। তাতে জনগনের কি আসে যায়। জনগন মরে আর হননকারীর আত্মা ফুরফুরে মেজাজে দাঁত কেলিয়ে হাসে! জনগনের টাকায় চলা জন-সেবকও ক্ষমতার লোলুপ দৃষ্টি দিয়ে জনগনের অর্থ-স্বার্থের সাথে রাসলিলা খেলে। কিছু বললে তারাই আবার পিটাই তক্তা বানাই ছাড়ে জনতাকে। অনেকে আছে ফাঁকা বুলি দিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। আর সত্যিকারের প্রতিবাদকারীরা হয় হেনস্থার শিকার। বাস্তবতা মাঝে মাঝে এতটাই নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে যে, জীবন-যাত্রাকে দুর্বিষহ করে তোলে। রক্ষা কর পাঞ্জেরী!

৩৮৯. যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবিকে রাজনীতিকীকরণ করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে যাচ্ছে একশ্রেণী। আর এটাকে কেন্দ্র করে যৌক্তিক ও ন্যার্য্য দাবিকে উপেক্ষা করার মহোৎসাব চলছে! এর সাথে দাবি আদায়ের যৌক্তিক ও ন্যায্য আন্দোলনকে নানান অন্যায় উপায়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রত্যেকটা ঘটনায় দু'একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। সেটাকে কেন্দ্র করে পুরো বিষয়টিকে এভাবে দেখাটা ভুল হবে বলে আমার মনে হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, অতীতে অনেকে এ রকম ভুল করে চরম মাশুল দিয়েছিল। (ব্যক্তিগত অভিমত)

৩৯০. শেখানো বুলি আওড়ানো আর নিজের বিদ্যা-বুদ্ধির জোরে বিচার-বিবেচনাপ্রসূত আওড়ানো বুলির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য বিদ্যমান।

৩৯১. আপনাদের কাছে যেটা অশ্লীল হিসাবে ধরা দেয়; আমার কাছে সেটা মোটিফ অব আর্ট হয়ে ধরা দেয়। আপনারা যেটাকে অশ্লীল বলেন, আমার কাছে সেটা জীবনের বাস্তবতা।

৩৯২. বারবার অনুশীলনই (একই কাজ বারবার করা) যেকোন বিষয়ের সাবলীলতাকে উত্তোরত্তর বৃদ্ধি করে। সহজ ও শ্রীবৃদ্ধি করে। মানুষের মস্তিষ্কে বিষয়টি গেঁথে যায়; ভুলে না।

৩৯৩. বাঙালি বই পাগল জাতি হলে অনেক অনেক উন্নতি হত; কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাঙালি আরামপ্রিয় জাতি। বাঙালির এ আরামপ্রিয়তা তাকে অল্প সুখ দেয়। কর্মবিমূখ আরামপ্রিয়তা বৃহত্তর সুখ থেকে তাকে বঞ্চিত করে।

৩৯৪. বাহ্যিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে, ভেতরটাকে জাগানোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

৩৯৫. জিপিএ ৫ মানেই মেধাবী নয়; সেটা আগেই প্রমাণিত হয়ে গেছে। মেধা বলতে বোঝায়, নতুন কিছু সৃষ্টি করা। আবার সব নেতাই রাজনীতি বোঝে; এটা অমূলক ভাবনা। তেমনি সমাঝদার রাজনীতিবিদ মানেই উন্নয়ন হবে; এটা ভাবাও ভুল হবে। উন্নয়নের জন্য সৃজনশীল রাজনীতিবিদ প্রয়োজন।

৩৯৬. সমালোচনা মানেই বিরোধীতা নয়। যারা সমালোচনা মানে বিরোধীতা মনে করে; বুঝে নিবেন এর মধ্যে কোন দূর্ভিসন্ধি আছে। সমালোচনা মানে সমস্যাকে গভীর থেকে চিহ্নিত করে প্রকাশ করা, শুদ্ধতার অবস্থান তৈরি করা। যারা সমালোচনা মানে বিরোধীতা মনে করে; তারা সমস্যাকে জিইয়ে রেখে প্রকটতা বৃদ্ধি করে। বোধ করি, এটাই তাদের পতন/ধ্বংস ডেকে আনে।

৩৯৭. ছোটলেখা মানে, অল্প কথায় যৌক্তিকভাবে নির্ভরযোগ্য প্রকৃত উৎস-সমৃদ্ধ যুক্তিসিদ্ধ তথ্য-উপাত্তের প্রমাণভিত্তিক গবেষণালব্ধ বিষয়ভিত্তিক রূপকাশ্রয়ী কৌশলী বুদ্ধিদীপ্ত সরস-মন্তব্য অথবা মনের ভাব বা মত প্রকাশ। এটা কোন সাধারন মন্তব্য নয়। এর মধ্যে গভীর চিন্তা-দর্শন ও উচ্চতর বোধ-বুদ্ধি এবং জীবনবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে; স্বল্প বাক্যে।

৩৯৮. জ্ঞানী মানুষ ও মূর্খের মূল্যায়ন কখনো এক হয় না। এ জন্য, মূর্খের কথায় প্রত্যুক্তি করা বোকামী। সময় নষ্ট ছাড়া কিছুই হয় না।

৩৯৯. জোর করে কারো উপর কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়-অপরাধ। আপনার যদি কোন সমস্যা না হয় তাহলে কেন মানুষের স্বাধীন কর্মে হস্তক্ষেপ করবেন!

৪০০. যে পাশে থাকে সেই তো আপন। দূরত্ব আপনত্ব খেয়ে ফেলে। দূরত্ব পরবর্তী সম্পর্ক ফর্মাল হয়ে যায়।