১০১. না জেনে, না বুঝে বিশ্বাস করা! ঐ বিশ্বাসের কোন ভিত্তি নেই! এ ধরণের বিশ্বাস ভয়ংকর এবং ক্ষতিকারক!
১০২. সমাজে একশ্রেণীর লোক ছিল, আছে, থাকবে। যারা মানুষকে মুখস্ত বিদ্যার মাধ্যমে মূর্খ বানিয়ে রাখতে সচেষ্ট। তারা মানুষকে চিন্তা করতে দিতে চায় না। প্রশ্ন করতে দিতে চায় না। প্রশ্ন করলে তারা ক্ষেপে যায়। এগুলো করার জন্য তারা ভন্ডামীর আশ্রয় নেয়। মানুষকে আনুগত্যশীল হতে বাধ্য করে। যা মানবতার চরম লঙ্ঘন। সকল জ্ঞানের উৎস হলো, প্রশ্ন এবং চিন্তাশক্তি।
১০৩. একশ্রেণীর চোগোলখোর, চাটুকার লোক আছে যারা মানুষকে ইনিয়েবিনিয়ে খেতে চায়। একাজে এদের সব চেয়ে সহজলভ্য অস্ত্র হলো ধর্মের ন্যায় পবিত্র জিনিস।
১০৪. দল করলে একপক্ষ আপনাকে রক্ষা করবে। আর নিরপেক্ষ থাকলে উভয় দিক থেকে আক্রমনের শিকার হবেন।
১০৫. সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো মরে না, ফুরায় না। যদিও সেটা হয়, বিন্দু পরিমান। ভালোবাসায় বাঁধা-বিপত্তি, ঝড়-তুফান, ঝক্কি-ঝামেলা আসবে। তারপরও ভালোবাসা টিকে থাকবে, যদি সেটা সত্যিকারের ভালোবাসা হয়। সত্যিকারের ভালোবাসা লোহার মত, আগুনে পুড়ে উপযুক্ত রুপ পায়। আর মিথ্যা ভালোবাসা কাঠের মত, আগুনে পুড়ে ভষ্ম হয়ে যায়। সত্যিকারের ভালোবাসা নিঃশেষে অবিভাজ্য।
১০৬. কিছু মানুষ আছে, যাদের পেট ভরা গল্প। কাজে অষ্টরম্ভা!
১০৭. সবাইকে সহনশীল এবং সহিষ্ণু হওয়া উচিত এবং দরকার।
১০৮. মুক্তমন নিয়ে চিন্তা করতে হবে। গোড়ামী, অন্ধবিশ্বাস, বদ্ধমূল ধারণা নিয়ে পড়ে থাকলে, শুধু নিজের না, নিজের দ্বারা অন্যেরও ক্ষতি হয়ে যায়।
১০৯. মানুষকে ভালোবাসলে অধিকার খোঁজে। অযাচিত অধিকার খাঁটানোর চেষ্টা করে। এটা ভ্রান্ত-ধারণা যে, কেউ ভালোবাসলে তার সব আমার। সবারই ব্যক্তিগত অনেক ব্যাপার থাকে। যা কখনো অন্যের জন্য উপযুক্ত নয়।
১১০. কে জ্যেষ্ঠ আর কে কনিষ্ঠ। যে পারে, সেই শ্রেষ্ঠ।
১১১. কোন সুস্থ্য-স্বাভাবিক মানুষ, মানুষকে হত্যা করতে পারে না বা হত্যার নির্দেশ বা সমর্থন করতে পারে না। যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, তবে দেশে আইন আছে, আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। তাই বলে, তাকে আইন-বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করাটাই মহা-অন্যায়। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়াটা কোন কালেই স্বীকৃত নয়। বরং, এটা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
১১২. আসলে, গাঁধা পিটিয়ে ঘোড়া বাঁনানো যায় না।
১১৩. একজন ভালো মানুষ বা মহা-মানব যদি খারাপ কাজ করে, তবে কাজটা কিন্তু খারাপ। সে হিসাবে লোকটাকে সামগ্রিকভাবে খারাপ না বলা গেলেও, সে একটা খারাপ কাজ করেছে, এটা স্বীকার করা উচিৎ। আর একটা কথা, মহা-মানব হোক আর যেই হোক, মানুষ মাত্রই ভুল করে।
১১৪. কিছু মানুষকে কিছুদিনের জন্য বোকা বানানো গেলেও সব মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা বানানো যায় না।
১১৫. (ক) যে জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অস্বীকার করে, সে জাতির পতন অনিবার্য। (খ) যে জাতি জ্ঞান ও জ্ঞানীর কদর করতে জানে না, সে জাতির উন্নয়ন অসম্ভব।
১১৬. মানুষের জীবনে কিছু অস্বস্তীকর বাস্তবতা থাকে। যা মানুষ কখনো স্বীকার করে না। সামনে চলে আসলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে যায় মানুষ।
১১৭. ধর্ম টিকে থাকবে, মূর্খ, অন্ধ, ভণ্ডদের মধ্যে। তবে, ভণ্ডরা ধর্মকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ফায়দা লুটবে। আর ধর্মান্ধরা সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে। মূর্খরা কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে। আর নীতিবান-শিক্ষিত-সমাজ এসব ত্যাগ করে নাস্তিক বা ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদীতে রুপান্তরিত হবে।
১১৮. ভালো কাজ করার আগে, ভালো কথা বলার আগে, নিজেকে সর্বপ্রথম ভালো মানুষ হতে হবে।
১১৯. আপনি আপনার মতের পক্ষে মানুষকে টানতে জোর-জবরদস্তি, গালাগালি, মারামারি, হেনস্থা করতে পারেন। আর আমি নিজের মত কেনো প্রকাশ করতে পারবো না?
১২০. আমি জীবিকাবাদী নয়, জীবনবাদী।
১২২. আপনার সন্তানকে এমন শিক্ষা দিন। যেটা জীবন এবং জীবিকা উভয় ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারে।
১২৩. মানুষ পোষাক পরে, লজ্জা নিবারণের জন্য। আর ধর্ম পরে, নিজের ভণ্ডামী এবং অপরাধ, ঢাকার জন্য! খারাপ-চেতনা চরিতার্থ করার জন্য। এটাই বাস্তব যে, পৃথিবীতে দুই ধরণের লোক আছে, ক. ভালো মানুষ, খ. খারাপ মানুষ। এটা বোঝার জন্য ধর্ম কোন মাধ্যেম নয়। কারণ, সব ধর্মই নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে দাবী করে এবং অন্য ধর্মের লোকদের ঢালাওভাবে খারাপ বলে।
১২৪. শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। আর চাকরী হলো জীবিকা। শিক্ষিত হোন বা না হোন জীবিকা থেমে থাকবে না। তবে, চাকরির দোহায় দিয়ে যদি উচ্চ শিক্ষা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেন। শিক্ষা ওখানেই থেমে গেলো। নিজের মৌলিক অধিকার পূরণে ব্যর্থ হলেন, নিজেকে বঞ্চিত করলেন। কারণ, অধিকার কেউ দেয় না, আদায় করে নিতে হয়। অন্যরা হয় তো সুযোগ করে দিতে পারে সর্বোচ্চ। ধারণ করার ক্ষমতা নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। আর তার জন্য চাই সঠিক শিক্ষা।
১২৫. আপনাকে আমি কিছু দেবো, সেটা নেয়ার মত ক্ষমতা তো আপনার থাকতে হবে। নাহলে, সে যায়গাটা আমাকে তৈরি করে নিতে হবে পূনরায়।
১২৬. প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের মত করে কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। তবে অন্যকে নিয়ে কথা বলার সময় সমানুভূতি নিয়ে কথা বলতে হয়। না হলে সেটা গ্রহনযোগ্যতা হারায়।
১২৭. প্রত্যেকটা জিনিসের একটা নির্দিষ্ট উপযোগিতা থাকে। সময়ের তাগিদে, বিবর্তনের ফলে, পরিবর্তনের কবলে পড়ে ধর্ম-কর্ম, যাইহোক সবকিছু তার উপযোগিতা হারায়।
১২৮. বিশ্বাস নয়, আস্থা রাখতে শিখতে হবে। কারণ, আস্থাহীনতা দেখা দেয়, তবে বিশ্বাস ঘাতক হয়। না জেনে, না বুঝে হয় বিশ্বাস, আর দেখে-শুনে-জেনে-বুঝে তৈরি হয় আস্থা। আস্থা পরিবর্তনশীল, বিশ্বাস স্থীর। এজন্য আমরা বিজ্ঞানের উপর আস্থা রাখতে পারি, তবে ধর্মে বিশ্বাস নয়। কারণ, বিজ্ঞান চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। গবেষণা-প্রমাণ ছাড়া বিজ্ঞান হয় না। আর ধর্ম কাল্পনিক, অবাস্তবে বিশ্বাস ধরিয়ে দেয়। যেটার আসলে কোন ভিত্তি নেই। এ হিসাবে বিশ্বাস একটি ক্ষতিকারক ভাইরাস।
১২৯. মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখুন। অন্য কোন ট্যাগ দিয়ে নয়। কারণ, মানুষ মানুষই।
১৩০. যেখানে মানবতা নেই। তা মানুষের জন্য অনুপোযোগী। অনুপোযোগী বিষয় টিকিয়ে রাখা বা সংরক্ষণ করা ভুল বা বোকামী।
১৩১. পুরাতনপন্থী লোকেরা সবসময়ই নতুনকে সহজে গ্রহণ করতে পারে না। গাঁধার মত জল ঘোলা করে তারপর খায়। যতই আপনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন না কেনো! নতুনত্বের খারাপটাই সে ধরে বসে থাকবে।
১৩২. মানুষ যখন ভুল করে তখন সে বুঝতে পারে না। তাই সে ভুল করে।
১৩৩. মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে যাও, কোন কষ্ট থাকবে না জীবনে। জীবন হবে জীবনের মত।
১৩৪. বর্ণ এবং ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদই পৃথিবীতে বিশৃংখলা সৃষ্টি, মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি, মানুষ হত্যা এবং গণহত্যার অন্যতম প্রধাণ কারণ।
১৩৫. মানুষ হিসেবে কেউ পরিপূর্ণ নয়। এজন্য, কাউকে আপনি এককভাবে ভালো বা খারাপ বলতে পারেন না।
১৩৬. আমরা সবাই মানুষ! এই কথাটা যদি কেউ ধারণ করতে পারে। তাহলে তার মধ্যে কোন অহংবোধ, ঘৃনাবোধ, মনুষত্যহীনতা কাজ করতে পারে না।
১৩৭. আমরা সবাই ভালো! এটা কেউ কেউ জানে! আসলে, কেউ কোন ব্যাপারে পরিপূর্ন নয়। আংশিক।
১৩৮. প্রেম করো যত্রতত্র,
বিয়ে করো ভালো,
কপালে আসবে সুখ,
নাহলে জীবন অন্ধকার কালো।
১৩৯. জীবনের পড়ন্ত বিকালে,
নিসঙ্গতায় সঙ্গীহীন,
জীবনটা ভরে গেছে,
বিষাক্ত নিকোটিন।
চলে যেতে হবে একদিন,
এটাই নিয়তি,
খাটে না কোন মিনতি,
গতিহীনের এটাই গতি।
১৪০. কিছু মানুষ আছে যারা অযথা ভাব-সাব নিয়ে বেড়ায়। এদের আসলে নিজের সম্পর্কে কোন ধারণায় নেই। যদি থাকত তাহলে নিজের অবস্থান অনুযায়ী চলা-ফেরা করত, কথাবার্তা বলত। নিজের যা নেই সেটা প্রকাশ করতে যাওয়ার মধ্যে কোন কৃতিত্ব বা বাহাদুরি নেই। বরঞ্চ, যাদের থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ করে না; মানুষ তাদেরকেই নমস্তে জানায়।
১৪১. আবেগটা ক্ষনস্থায়ী। এজন্য আবেগকে ধরে রাখা যায় না। আবেগের বশবর্তী হয়ে কোন কাজ করলে তা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বাস্তবতাকে মেনে নয়, জেনে; সিদ্ধান্ত নেয়া এবং পরিকল্পনা করা উচিত।
১৪২. জীবন তার আপন গতিতে এগিয়ে চলে। শুয়ে থাকুন, বসে থাকুন, চলাচল করুন বা কাজে; জীবন জীবনের গতিতে চলে। পৃথিবীতে সবকিছুই সদা পরিবর্তনশীল। কোন কিছুই থেমে নেই। এজন্য দুনিয়ায় সবই নশ্বর।
১৪৩. পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সত্যটা হলো, মৃত্যু। এটাকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। পৃথিবীতে প্রত্যেকটা জিনিস তার টিকে থাকার সক্ষমতা হারায়। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা, পাগলের প্রলাপ।
১৪৪. প্রত্যেকটা মানুষের স্বাধীনতা রয়েছে। কারো স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করাটা অন্যায়। স্বাধীনতার মূল্য তারাই বোঝে, যাদের নেই।
১৪৫. শৃংখলার মধ্যে থাকলে মানুষ নাকি মানুষ হয়। আরে, মানুষ তো মানুষই। নতুন করে মানুষ হওয়ার কি আছে! নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন একেবারে ভালোও নয়, আবার পুরোপুরি খারাপও নয়। জীবনকে উপভোগ করার জন্য ক্যাজুয়াল লাইফটাই বেটার মনে হয় আমার। কখনো নিয়মে, কখনোবা অন্য নিয়মে। আর বাস্তবতা হলো, পরিবর্তনময় বিশ্বে সম্পূর্ন নিয়মতান্ত্রিক হওয়া সম্ভব নয়।
১৪৬. অতি শৃংখলাবোধ মানুষের ভেতরকার মানুষটাকে মেরে ফেলে। সে মানুষ হওয়া সত্ত্বেও মানুষকে ঘৃনা করতে শেখে। বাস্তবতাবোধ বিবর্জিত হয়ে পড়ে। নিজস্বতা হারিয়ে ফেলে। নিজের আজগুবি চিন্তা-ভাবনা অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে উগ্র হয়ে যায়। সব সময় ভয়বোধের ভেতর ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
১৪৭. যদি কোন ব্যক্তির মধ্যে সামন্যতম মানবিক মূল্যবোধ থাকে। সে কখনো অন্যায়ভাবে কারো উপর কোন কিছু চাপিয়ে দিতে পারে না। কারো স্বাধীন স্বত্ত্বায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কারো নিজস্বতাকে কুরে কুরে ধ্বংস করতে পারে না। এটা মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
১৪৮. প্রত্যেকটা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে এবং স্বাধীনভাবে। ক্ষমতা এবং জনতার দাপট দেখিয়ে কারো বেঁচে থাকার অধিকার এবং স্বাধীনতাকে হরণ করার কোন অধিকার আপনার নেই। ক্ষমতা এবং জনতা স্বার্থের এবং দুদিনের। অধিকার এবং স্বাধীনতা আজীবনের। গালি এবং অভিশাপটাও চিরদিনের।
১৪৯. ১৪-২৫, বয়সটা বড়ই রঙিন। এই সময়টাতে চোখে যেন রঙিন চশমা পরানো থাকে। সময়টা কেটে গেলে, চশমা খুলে পড়ে যায়। তখন দুনিয়াটা অন্ধকার হয়ে যায়। পরে, জীবন-প্রদীপ জ্বাঁলাতে বড়ই কষ্ট হয়ে যায়।
১৫০. এলাকায় কিছু সিনিয়র এবং মুরুব্বি লোক থাকে যারা বলে, ও তুমি বুঝবা না। বয়স হোক, বুঝবা। আধা বয়সে এসেও একই কথা শোনা লাগে, তাদে র কাছ থেকে। কবে যে বড় হবো! মানে বিষয়টা এমন, তারা নিজেদের মহা-পন্ডিত মনে করে; কিন্তু তারা প্রকাশ করতে চায় না, এমন একটা ভাব। আসলে কিছুই না। হুদাই!
১৫১. আপনারাই যদি এমন করেন তাহলে আর কোথায় যাবো! নীতিবাক্য শুনিয়ে নীতিহীন গর্হিত কাজ। তাও আবার অবৈধ, বেআইনি, নীতিহীন, গর্হিত, অসামাজিক। আল্লাহ! তোমার কাছে বিচার দিলাম!
১৫২. নীতি নয় ভালো-পরিস্থিতিই মানুষকে ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে। খারাপ পরিস্থিতি খারাপ। তবে কিছু ব্যাপার থাকে যা ভালো বা খারাপ কোনটার আওতায় ফেলানো যায় না।
১৫৩. একজন আদর্শবান শিক্ষকের আদর্শ, ছাত্রদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। আর একজন আদর্শহীন শিক্ষকের আদর্শহীনতা, ছাত্রদের বিপুল সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয়।
১৫৪. প্রত্যাশাটা এমন করা উচিত যেনো প্রাপ্তিটা যথাযথ হয়।
১৫৫. সে সমাজ আমাদের জন্য আতঙ্কের, যেখানে 'তোমার ভালোর জন্য' এ আশা জাগানিয়া শ্লোগানে দূর্বল করার গোপন মহড়া চলছে।
১৫৬. আপনি যখন কারো মতের বিরোধীতা করবেন তখন অবশ্যই তার বিপরীতে যৌক্তিক একটি মত তুলে ধরতে হবে। তানাহলে, আপনার মূর্খতা প্রকাশ পাবে।
১৫৭. আপনি যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে এটা আপনার সমস্যা। আবার আপনি যদি বুঝাতে না পারেন, তাহলে এটাও আপনার সমস্যা।
১৫৮. প্রতিভাবান ব্যক্তিমাত্রই পাগলামির টান থেকে মুক্ত নয়।
১৫৯. কারো সাথে সম্পর্ক খারাপ করে লাভ হয় না। ক্ষতিই হয়। মিলেমিশে থাকার মধ্যেই উভয়ের উন্নতি নিহিত।
১৬০. পৃথিবীর প্রত্যেকটা জিনিসই মানুষের জন্য জ্ঞানের এক মহা-আধার। বিচক্ষন ব্যক্তিমাত্র বোঝেন।
১৬১. সময়ের তাগিদ থাকে। এটা বুঝতে না পারলে, আপনি দাড়িয়ে থেকেও পিছিয়ে পড়বেন।
১৬২. অনেক ভেবে-চিন্তে প্রেমের এই সংজ্ঞাটা দাড় করিয়েছি। সেটা হচ্ছে, "জৈবিক তাড়নাজাত কারনে দুটি দেহের একত্রিত হওয়ার মনো-বাসনাই প্রেম।"
১৬৩. চিন্তার সাথে চেতনার মিল যদি না থাকে তাহলে ঐ চিন্তা গাছের শুকনো পাতার মত।
১৬৪. যাদের নিজেদের সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। তারা নিজেদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারে না।
১৬৫. পুরানো বা হারানো জিনিসগুলো আর ফিরে পাওয়া যায় না। যদিও যায়, সেটা নতুনরুপে ফিরে আসে। আগের মত হয় না। গতিশীল বিশ্বে এটাই বাস্তবতা।
১৬৬. আপনি যদি একটুতেই হতাশ হয়ে পড়েন। তাহলে, আপনার চেয়ে যারা খারাপ অবস্থায় রয়েছে তাদেরকে দেখুন। আর নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করুন।
১৬৭. যাদের সামনে মৃত্যু এবং সেটা একটু পরেই। সে জানে যে, একটু পরেই তাকে মরতে হবে। এমন পরিস্থিতির অনুভূতিটা আসলেই মহা-ভয়ঙ্কর।
১৬৮. মাঁকাল ফলও দেখতে সুন্দর! কিন্তু, তার ভেতরটা বিশ্রী!
১৬৯. বিসিএস দিয়ে কি আসলেই মেধার যাচাই করা যায়! মেধার সাথে জড়িত সৃজনশীলতা, নতুন নতুন আবিষ্কার, চিন্তা-চেতনায় নতুনত্ব, মননের সুস্থ্য-স্বাভাবিক বিকাশ ইত্যাদি।
১৭০. আমরা সবাই ভাবি, হয়তোবা আমি সবচাইতে বেশি কষ্টে আছি। কিন্তু, আমাদের পাশের মানুষ যে আমাদের থেকে বেশি কষ্টে থাকতে পারে; এটা আমরা ভুলে যায়।
১৭১. আপনি মনে করছেন, আপনি আপনার পাশের মানুষ দ্বারা বিরক্ত। কিন্তু, একই কারনে পাশের মানুষটি আপনার উপর বিরক্ত হতে পারেন। এটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন।
১৭২. সমাজে কিছু মানুষ কীট-পতঙ্গ, আগাছার মত রয়েছে। যারা সমাজের মঙ্গল তো দূরে থাক; সমাজকে প্রতিনিয়ত কলুষিত, দূষিত করে চলেছে।
১৭৩. বদ্ধমূল চিন্তা নিয়ে পড়ে থাকলে; আপনি কখনো খোলা-মেলা চিন্তা করতে পারবেন না। এ দুটো পরস্পর বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। বদ্ধমূল চিন্তা মানুষের সুস্থ্য-স্বাভাবিক চিন্তা করার শক্তিকে ধ্বংস করে দেয়।
১৭৪. একজন মানুষ কখনো তার চিন্তার উর্ধ্বে যেতে পারে না। এ জন্য, চিন্তার জগতকে সুস্থ্য-স্বাভাবিক পথে বিকশিত হতে দিতে হবে। উন্মুক্ত চিন্তা করার শক্তি মানুষের চিন্তা করার সুস্থ্য-স্বাভাবিকতা বজায় রাখে।
১৭৫. আপনি চাইলে সবকিছু একবারে করতে পারবেন না। ধাপে ধাপে আপনাকে সবকিছু করতে হবে। যেমন, আপনি পাঁচতলার উপরে একলাফে উঠতে পারবেন না। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। ঠিক তেমনি।
১৭৬. গাঁধার পিঠে বই তুলে দিলে অনায়াসে সে এগুলো বয়ে বেড়াতে পারবে। কিন্তু, বোঝা তো দূরে থাক; পড়ারই শক্তি তার নেই। মানব সমাজে এরকম কিছু মানুষ রয়েছে।
১৭৭. যে জাতি সৃজনশীল মেধা-মননকে সম্মান ও স্বীকৃতি দিতে জানে না, তাদের পতন ও ধ্বংস অনিবার্য।
১৭৮. ভার্চুয়াল পোস্ট এবং মন্তব্য ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব মাপার মোক্ষম মাপকাঠি।
১৭৯. পরীক্ষা মেধা যাচাইয়ের কোন মাধ্যেম নয়। সার্টিফিকেট দেয়ার উপায় মাত্র!
১৮০. স্বার্থের লড়াইয়ের চেয়ে আদর্শিক লড়াইটা অনেক বেশি ঝুকিপূর্ণ।
১৮১. যুদ্ধ ততক্ষন সম্ভব, যতক্ষন উভয় পক্ষের রসদ থাকে।
১৮২. অনুকরন, অনুসরন নয়; নিজস্বতা গড়ে তুলুন। সেটাই হবে আপনার কৃতিত্ব।
১৮৩. অজ্ঞদের সাথে তর্কে নামা আর নিজের বোকামী প্রকাশ করা একই কথা।
১৮৪. অন্যের উপর নিজের মত-পথ চাপিয়ে দেয়া, অন্যায় বোধের সামিল।
১৮৫. অনুভূতির দোহায় দিয়ে অন্যের যৌক্তক মত প্রকাশ করতে না দেয়া; মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
১৮৬. বিচ্ছিন্নতার নীতি কখনো কারো জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না। মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যে রয়েছে সবার উন্নতি।
১৮৭. একমূখী জ্ঞানের অধিকারীদের সাথে তর্কযুদ্ধে নামলে; শেষে গালি শুনতে হয় নতুবা শারীরিক, মানসিক হেনস্থা ও আক্রোশের শিকার হতে হয়।
১৮৮. কোন কাজ করার আগে নিজের অপরিসীম চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগান। দেখবেন ফলটা ভালো হবে আশাতীত।
১৮৯. একজন মানুষের দুটো কাজ বেশি করে করা প্রয়োজন। এক. পড়া, দুই. চিন্তা করা।
১৯০. একজন মানুষের যদি সুযোগ থাকে, উন্নত, সভ্য পরিবেশ দেয়া হয় তাহলে সেও ভালো মানুষ হতে পারে, ভালো কাজ করতে পারে।
১৯১. আপনি যদি নিজের অবস্থান থেকে সৎ থাকেন; পৃথিবীর কোন শক্তি নাই আপনাকে বেঁধে রাখার।
১৯২. অ-শিক্ষার চেয়ে, মূর্খতা এবং কু-শিক্ষা ভয়ঙ্কর। শুধু ভয়ঙ্কর নয়, মহা ভয়ঙ্কর।
১৯৩. নিজের ভুল বা নিজের দূর্বলতা মেনে নিয়ে উন্নতির চেষ্টা করা উচিত। সবচেয়ে বড় কথা, নিজের যা নেই তা দেখাতে গেলে বেশিরভাগ সময় বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। আর মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। ভণ্ডামী, ভূখামী বুঝতে তাদের সময় লাগে না।
১৯৪. স্বপ্নের পথে ছুটে চলেছি নিরন্তর। শুধুই স্বপ্নবাজী। স্বপ্ন না দেখলে, স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে কিভাবে? তাই, হোক বা না হোক স্বপ্ন দেখি সব সময়।
১৯৫. উৎসাহিত করতে না পারলে, দরকার নাই। তবে, নিরুৎসাহিত করবেন না। কারন, এটার দ্বারা একটি বা অজস্র স্বপ্নের মৃত্যু ঘটতে পারে।
১৯৬. মানুষ হত্যা করে বা গনহত্যা চালিয়ে কেউ যদি প্রেক্ষাপটের কথা বলে। নিদেনপক্ষে, সে বড়-মাপের চরমপন্থী উগ্র সন্ত্রাসী। আর যারা এটকে সমর্থন করে; তারাও একই গর্ভস্থ। কারন, মানুষ হত্যা (সেটা যেভাবেই হোক) নিকৃষ্ট, ঘৃন্য, জঘণ্য, বিকৃত-মস্তিষ্কপ্রসূত অপরাধ। এটাকে প্রেক্ষাপটের বিবেচনায় নিয়ে কথা বললে, সেটা চরম মাত্রার অপরাধমূলক ভুল।
১৯৭. History মূলত Discover করে। Inventional কিছু না।
১৯৮. পশু প্রাণীর একটি বিশেষ আচরণ হচ্ছে, সে যদি দেখে তার অন্যায় অবস্থানকে কেউ ভেঙ্গে দিতে চেষ্টা করছে তাহলে সে তেড়ে মারতে/আঘাত করতে আসে! পশুর অনেক শক্তি। কিন্তু, পশু-শক্তির মধ্যে বোধের অভাব থাকায় তা নিজ কল্যানে ব্যয়িত হতে পারে না।
১৯৯. আলোচনা, পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহিষ্ণুতা, ইতিবাচক বিনিময়ের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই কল্যানময় করে তোলে জীবনকে।
২০০. অবিবেচনা-প্রসূত কথাবার্তা গাছের মরা পাতার মত। গাছে একটু আঘাত করলেই পড়ে যায়। ধোপে টেকে না।