৪৭১. প্রেক্ষাপটের দোহায় দিয়ে অমানবিক, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বৈধতা জারির পায়তারা যারা চালায় এরা সমাজ, দেশ সর্বোপরি পৃথিবীর শত্রু।
৪৭২. কবিতার কবি, কখনো হোন ছবি, কখনো বা জীবন্ত কিংবদন্তি।
৪৭৩. গল্প হচ্ছে কল্পনা ও ভাষার সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ।
৪৭৪. আপনার পাশে পরিচিত বা অপরিচিত যেই থাকুক, সে মানুষ, এ বোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য প্রকাশ করুন বা কথা বলুন। সে কে বা কি করে বা তার পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান কি এটা বিবেচনায় নিয়ে কথা বলাটা নিজের ব্যক্তিহীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়; বোধসম্পন্ন ব্যক্তিমাত্রই বুঝে থাকেন।
৪৭৫. শুধু দেহের সৌন্দর্য মাকাল ফলের মত; মিছে মাটি।
মস্তিষ্কের সৌন্দর্যই প্রকৃত; খাঁটি।
সুতরাং, মস্তিষ্কের সৌন্দর্য বর্ধনে কাজ করুন।
সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে যাবে নিখিল বিশ্বটা।
লালিত্যবোধ সম্পন্ন মানুষ বড়ই অপ্রতুল।
৪৭৬. পিতামাতা সন্তানের জন্মদাতা ও সহযোগী মাত্র। আমার জানামতে, তারা প্রভু নয়। খুব বেশি কিছু হলে সেটা দায়িত্ব-কর্তব্য পালনকারী।
৪৭৭. পাবলিসিটি স্টান্টবাজ লোকদের থেকে সাবধান হোন। ভরা কলস আর খালি কলসে বাড়ি দিলে দু'রকম শব্দ হয়। যারা মানুষের জন্য কিছু করে তারা অনেকটাই প্রচার বিমুখ হয়। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে তারা কর্মে বিশ্বাসী। তাই তাদের কাজই নিদর্শন হিসেবে কাজ করে। তারা অযথা পাবলিসিটি স্টান্টবাজী করে না। পাবলিসিটির দিকে না ঝুকে কাজ করুন; মানুষ আপনাকে খুজে নেবে তাদের প্রয়োজনে। আপনি যদি আপনার ব্যক্তি-প্রয়োজনে মানুষের কাছে যান অবমূল্যায়িত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
৪৭৮. ফেসবুকের (স্যোশাল মিডিয়ার) পাতা ছেড়ে বইয়ের পাতা ও গাছের পাতায় চোখ রাখো। তাতে করে অন্তত মস্তিষ্ক ও চোখ ভালো থাকবে।
৪৭৯. আগে শুনতাম উচিত কথায় মামু বেজার। আর এখন দেখছি সত্যি কথায় বন্ধু আজার।
৪৮০. দেখেছি, যে সকল বড় ভাই, বন্ধু বা ছোটভাই রাজনীতি করত তাদের কাছে কত মানুষই না ধর্না দিতো একটু ভালো থাকার জন্য। কিন্তু দিনশেষে তারা খারাপ বলত রাজনীতি করা ছেলেদের। অকৃতজ্ঞ মানুষগুলো দেখে বড়ই আফসোস হতো। গিরগিটির মত রং বদলে উপকারীর উপর চড়াও কথাবার্তা বলতে সংকোচবোধও তাদের মধ্যে ছিল না। সমস্যায় পড়লে ইদুরের মত সুড়সুড় করে দৌড়াতো কোন না কোন নেতার কাছে। সমস্যা কেঁটে গেলে নেতার রাজনীতি আর তার চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে ছাড়ত। কিছু লোককে দেখেছি নিজের মতের সাথে যায় এমন নেতাদের খুবই প্রসংশা করত। যদিও ঐ সকল নেতারা ছাত্রদের জন্য রাজনীতি করত না। বরঞ্চ তারা নিজেকে ও দলকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করে। আমি কয়েকজনকে জানি যারা অন্যের সমস্যায় নিজেকে উজাড় করে দিতো। কিন্তু উপকারভোগীর দল তাদের সম্পর্কে আমার কাছে কত কটু কথায় না বলেছে। অকৃতজ্ঞের দল খায় একজনের আর ঢেকুরে সুর বের করে আরেকজনের।
৪৮১. যারা মারামারি বা হানাহানিতে বিশ্বাস করে বা এগুলো করে তারা বর্বর, হীন নীচ, ইতর। তাদের অনুন্নত মস্তিষ্ক দেশ ও জাতির উপর বোঝা স্বরুপ।
৪৮২. হতাশাগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকলে আপনি অতিশিঘ্রই হতাশায় নিমজ্জিত হবেন। খুজে খুজে আশাবাদী ইতিবাচক মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করুন। জীবনের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছে যাবেন। হতাশা এবং হতাশাগ্রস্ত মানুষ বিধ্বংসী বোমার চেয়ে ক্ষতিকারক। বোমা জীবন নেয়, আর এরা জীবনকে কুরে কুরে ধ্বংস করে দেয়।
৪৮৩. সত্য পক্ষে গেলে বেজায় খুশি। বিপক্ষে গেলে মহা অখুশি। সত্য গ্রহণে এত দ্বিধা কেন?
৪৮৪. যে যতই হোক মহান, যতই থাকুক তার মহত্ব!
বাতির পেছনের অংশ অন্ধকার! অমোঘ সত্য!
সত্য বলতে নাই কোন ভয় ও লজ্জা!
সত্য গ্রহনে নাই কোন দ্বিধা!
আছে কিছু দ্বন্দ্ব!
কারনটা খুবই সহজ, মন্দ লোকের ধন্ধ!
জানি না, আদৌ এগুলো হবে কিনা বন্ধ!
৪৮৫. অধিকাংশ মূর্খ বাবা-মা চাই তার সন্তান বড় হয়ে দ্রুত সংসারের হাল ধরুক। সন্তানের মৌলিক অধিকারগুলোকে ত্যাজ্য করে দিয়ে তাদের ঘাড়ে সংসারের জোয়াল তুলে দেয়। এভাবে চক্রাকারে চলতে থাকে অধিকারহীনতা।
৪৮৬. যে ব্যক্তির চিন্তা-ভাবনা গরিব। তার পরবর্তী প্রজন্মের সব কিছুই গরিব হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই।
৪৮৭. অনেককে দেখেছি বাপের ধন নিয়ে গৌরব করে। ভাই, আপনি কি করেছেন শুনি? ওটাতো আপনার বাবার কৃতিত্ব। নিজে কিছু করুন। তারপর বুক ফুলিয়ে কৃতিত্বের বড়াই করুন।
৪৮৮. টাকা দিয়ে সব কিছুর বিচার করা যায় নারে পাগলা! তাই যদি হতো, তাহলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় জ্ঞানী মানুষগুলো শিক্ষকতা না করে ব্যবসা করতেন!
৪৮৯. চীন দেশ ভাবে শিক্ষা নিয়ে আর আমরা ভাবি চাকরি নিয়ে! বিষয়টা খুবই আজব! চীনারা শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের মাপকাঠি হিসেবে দেখে। আর আমরা চাকরির বাহন হিসেবে দেখি। আজব!
৪৯০. কাউকে কটাক্ষ করে কথা বলাটা অনেক সহজ। কিন্তু, নিজে কটাক্ষ সহ্য করাটা বেশ কঠিন।