সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিধেয় কথা


মত ও পথ ভিন্ন হতে পারে। এটা স্বাভাবিক। তাই বলে তোমার মত ও আচরনীয় পথকে উন্নত ভেবে আমার ওপর চাপিয়ে দিবে; কে হে বন্ধু তুমি। তোমার ভেতরে অমানবিক গলদ আছে। আমি কেন প্রশ্নাতীতভাবে তা মেনে নেব। মরে গেলেও আমার স্বকীয়তা হারাতে চাই না। হয়তোবা অন্যায়মূলকভাবে মানুষকে কিঞ্চিত গণতন্ত্রহীন, অধিকারবঞ্চিত করে দমিয়ে রাখা যায়। কিন্তু সেটা দীর্ঘস্থায়ী নয়। মানুষ মরতে পারে কিন্তু তার চিন্তা-ভাবনা প্রবহমান। আমি জানি, কারন আমি চিন্তা চক্ষে অবলোকন করে দেখেছি, তোমার আছে কিছু ভণ্ডামী। আমার সামনের দু'চোখ ভুল দেখতে পারে। কিন্তু আমার তৃতীয় চক্ষু ভুল নির্দেশ করে কম। আমার প্রিয়পাত্র হতে পারো তুমি। আমি সেটা ভাবি। সে মোতাবেক চলাফেরাও করি। কিন্তু তুমি যে তোমার ব্যক্তি চিন্তার কারনে আমাকে সেটা ভাবো না সেটাও জানি। কিন্তু আমি ওটাতে কখনো আস্থাশীল নই। আমি আমার অবস্থান থেকে পরিষ্কার থাকতে চাই। কে কি করে বা কে কি বলে এটাতে আমার বিশেষ কিছু সমস্যা হয় না। যদি সেটা পূর্ণ জীবন ঘনিষ্ঠ না হয়। মত ও জীবনাচারের ভিন্নতা জেনেও সবকিছু অনেক আগেই শেষ করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম সব কিছুর উর্ধ্বে সম্পর্কের বোঝাপড়াটা জীবিত থাকুক। আমি বৈচিত্রের মাঝে ঐক্য ধরতে চেয়েছিলাম। কারন, প্রকৃত বন্ধুত্বটা ছিল পুরাতন ও সরল; মত-পথের ভিন্নতাটা আজকের ও বন্ধুর। কিন্তু তুমি সম্পর্কটাকে জিইয়ে রেখেছিলে অন্য উদ্দেশ্যে। আমি জানি, নির্দিষ্ট সময় পর বন্ধুত্বের অর্থ অন্য রকম হয়ে যায়। তবুও চেষ্টা করছিলাম সেটাকে উপেক্ষা করার। কিন্তু পারলাম কই। ব্যর্থ হলাম। এ দায় নিশ্চয়ই আমার। কারন, ভুলটা তো আমিই করেছিলাম। সময়ের কাজ সময়তে করাটাই সর্বোৎকৃষ্ট জেনেও সেটা করিনি তাই। ভেবো না একা হয়ে গেলাম। সবকিছুতে বিকল্প সবসময়ই থাকে। সুহৃদ মিলতে কতক্ষন। জানি না কেমন থাকবে। তবে ভালো থাকুক স্বার্থ ও দ্বন্দ্বের কোলে মাথা নত না করা স্বার্থহীন, দ্বন্দ্বহীন অতীতগুলো।