অধিকাংশ মূর্খ অভিভাবক মেয়ে বিয়ে দিয়ে ভাবে খুব বাঁচা বেঁচে গেছি। সব দায়িত্ব শেষ। অর্থাৎ বিয়ে দেয়াটাকে তারা গুরু দায়িত্ব মনে করে। কিন্তু তারা এর থেকে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে আরো অনেক দায়িত্ব, এককথায় মৌলিক মানবাধিকার পালনকে গৌণ মনে করে। অনেকে আরো একধাপ এগিয়ে গিয়ে বলে, মেয়েদের ওসবের দরকার নেই। রান্না আর সংসারের কাজ পারলেই হলো। অর্থাৎ তারা মেয়েদের মেয়ে বলে অন্য কিছু বোঝাতে চাই; মানুষ মনে করে না। এটাকে আমি বলি দায়িত্বহীন লোকের দায়িত্ব থেকে প্রস্থানের অনিরাপদ কুসংস্কারাচ্ছন্ন সংকীর্ণ সড়ক-পথ। হাস্যকর বঁটে; তবে বেশিরভাগটাই দুঃখজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে! আর ছেলে বিয়ে দিয়ে ভাবে খুব মরা মরেছি; ছেলের বউ সব ভোগ করে; তাদের সাথে দূর্ব্যবহার করে ইত্যাদি ইত্যাদি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটাই প্রত্যক্ষ করেছি। ছেলে-মেয়ে বিয়ে দেয়ার পর তারা মনে করে দায়িত্ব-কর্তব্যের ষোলআনা পূর্ণ করে ফেলেছি। আয়েশ করে দিনাতিপাত করব; সংসার-রাজ্য সব আমার করতলগত হবে। এটা কোন ধরনের অভিভাবকত্ব বলে তা আমার বুঝে আসে না। এটাকে আমি বলি, ক্ষমতা কুক্ষিগত করে অন্যের ব্যক্তি-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের নোংরা পদক্ষেপ। আসলে অশিক্ষা যতটা না ক্ষতিকর, তার চেয়ে শত-কোটি-গুণ ভয়ঙ্কর ও অনিষ্টকর কুশিক্ষা আর কুসংস্কার। আমি চাই, প্রত্যেক মানব সন্তানের কুশিক্ষা আর কুসংস্কারমুক্ত মানসিকতার সাবলীল বিকাশ ঘটুক। তার জন্য চর্চার বিস্তার ঘটাতে হবে বুদ্ধি নয়, সুবুদ্ধির; চিন্তা নয়, সুচিন্তার; শিক্ষা নয়, সুশিক্ষার; দীক্ষা নয় দক্ষতার।
{বিঃদ্রঃ মতের অমিল হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সে রকম কিছু ঘটে থাকলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ায় শ্রেয় হবে বলে বোধ করি। অযথা তর্কে জড়িয়ে নির্বোধের আচরন প্রদর্শন করাটা উচিতবোধ হবে না বলে মনে করি। আর যদি কেউ যৌক্তিক বিতর্কে নামতে চান তাহলে আপনার অনুভূতিটাকে ঘরের সিন্ধুকে রেখে তালা মেরে আসুন। আমি ওটাকে (অনুভূতিতে আঘাত পাওয়াকে) মানসিক রোগ বলে মনে করি। এটার সাথে জড়িত ব্যক্তির সাথে বিতর্ক না করি।}