আমাদের মন-মানসিকতার এতটাই বিকারগ্রস্ত অবস্থা যে একজন পাগলের পাগলামী দেখে আমরা মজা পায়, বিনোদিত হই। এখানে সবচাইতে বড় ঘটনা হচ্ছে, আমাদের দেশের মস্তকহীন মিডিয়া। তারা বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যেন হিরো আলম সত্যিকারের একজন হিরো। কিন্তু, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনের সময় হিরো আলমদের মত ভাঁড়দের সামনে এনে কি বোঝাতে চাচ্ছে মস্তকহীন মিডিয়াগুলো?
তারা কি বোঝে না, এগুলো যতটা না ইতিবাচক প্রভাবক হিসেবে কাজ করে দেশ, সমাজ ও মানুষের জন্য, তার থেকে বেশি নেতিবাচক। আমার কাছে মনে হয় এগুলো পরিকল্পিত ভণ্ডামী। মিডিয়াগুলোর দূর্বলতা ঢাকার অপচেষ্টা মাত্র। স্বার্থবাদী রাজনীতিবিদেরা খুব সহজেই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফায়দা হাসিল করে যাচ্ছে। প্রতিবাদী মানুষেরা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে হিরো আলমদের মত ভাঁড়দের ভাঁড়ামীর গ্যাঁড়াকলে।
হিরো আলম একজন ভাঁড় এটা সে নিজের মত করে স্বীকার করে নিয়েছে। এটা যে সত্যি তাতে কোন সন্দেহ নেই। সে মানুষকে ওভাবে বিনোদিত করে, এটা সে স্বীকার করেছে।
এর চেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, হিরো আলম নিজের সীমাবদ্ধতার কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছে। যা আমাদের দেশের সাধারন রাজনীতিবিদেরা কখনোই করে না। হিরো আলম নির্বাচনে দাড়াতেই পারে। গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হিসেবে তার সে অধিকার রয়েছে। কিন্তু, আমরা এতটাই বিকারগ্রস্ত যে তাকে নিয়ে ট্রল করে মজা নিচ্ছি।
সে যদি সত্যিকার অর্থে নমিনেশন পেয়ে নির্বাচনে যায় এবং জিতে সংসদে যায়; বিষয়টা কেমন হবে একবার ভেবে দেখেন তো!
আমরা গণতন্ত্র গণতন্ত্র করে মুখে ফেনা তুলে ফেলছি। কিন্তু, গণতন্ত্র আসলে কি তা আমরা জানি না, বোঝা তো দূরে থাক। আমার মনে হয়েছে, সাধারন মানুষ গণতন্ত্র বলতে হিরো আলমদের মত ভাঁড়দের আরো বেশি ভাঁড় হতে উদ্বুদ্ধ করে মজা নেয়া বোঝে। এখানে কিছু বললে, গেলো গেলো বলে রব তোলে। কি ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতি। স্যোশাল মিডিয়ার এ যুগে বিষয়টা আরো বেশি নাজুক হয়ে উঠেছে। যে যার মত হুটহাট মন্তব্য করছে। কেউ হিরো আলমকে বাহ্ বাহ্ দিচ্ছে। আবার কেউ হিরো আলমের বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে মজা নিচ্ছে। হিরো আলমকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের মূল বিষয় থেকে তারা দূরে সরে যাচ্ছে।
বাঁদরের হাতে খুন্তা দিলে যে অবস্থা হয় আর কি! এ জন্য বুঝি, ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা ও প্রেসিডেন্ট আহমদ সুকর্ণ অবাধ গণতন্ত্র দিয়ে পরে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র কায়েম করেন তার দেশে। আসলে, সুফল-কুফল সব কিছুতেই আছে।
নির্বাচনের সময় যে বিষয়গুলো নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা-সমালোচনা হওয়ার কথা সেগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে হিরো আলমদের ভাঁড়ামিকে মস্তকহীন মিডিয়ার অতিশয়োক্তিতে।
লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড, ইশতেহার, মনোনয়ন-নমিনেশন, আগামীর উন্নয়ন বার্তা, প্রার্থীদের সুনাম-দূর্নাম নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। হিরো আলম যেহেতু মনোনয়ন প্রত্যাশী সেহেতু ব্যক্তি হিরো আলম নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তাই বলে অতিরিক্ত কোন কিছু ভালো না। কিন্তু, ভাড়ের ভাড়ামি নিয়ে পড়ে আছে কতিপয় মিডিয়া। বিশেষক্ষেত্রে বাড়াবাড়িও বঁটে। তাদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক। এখন তো দেখছি তার সাক্ষাৎকার নেয়ার হিড়িক পড়া অবস্থা। হিরো আলম দিয়ে নির্বাচনের মূল বিষয়গুলো থেকে সাধারন মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখা; কতটা নাজুক অবস্থা; ভাবতেই অবাক লাগে।
এখন দেশের বেশিরভাগ মানুষ দেশের খবর জানতে বিদেশী মিডিয়ার উপর নির্ভর করতে শুরু করেছে। দেশের মিডিয়গুলোর অপরিপক্ব, রুচিহীন, দায়িত্ববোধহীন, লাগামহীন আচরনে তাদের প্রতি মানুষ আস্থাহীন হয়ে পড়েছে। এর মাঝেও কিছু দেশী মিডিয়া আছে যারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ সকল মিডিয়াকে সাধুবাদ।
আমরা যারা টুকটাক ব্লগে লেখালেখি করি তারা পরিবেশের চাপে হিরো আলমদের নিয়ে লিখতে বাধ্য হচ্ছি। কি আর করার! দু'পাতা লিখে দিলাম।