০১. কর্ম মানুষকে কখনো ঠকায় না। আপনার বর্তমানকে আপনি যেখানে যেভাবে ব্যয় করছেন ভবিষ্যতে ঠিক তেমনই ফল পাবেন।
০২. প্রত্যেকটা জিনিস ব্যবহারের কিছু নিয়ম-নীতি থাকে। আর এ নিয়ম-নীতি বহির্ভূত কাজ করলে সমস্যা হয়।
০৩. বাস্তবতা বিবর্জিত জ্ঞান মূল্যহীন।
০৪. সমাজে কিছু লোক বাস করে। যারা মনুষ্য সমাজে বাস করে। কিন্তু, অসামাজিক। সমাজবিচ্যুত।
০৫. আমাদের জানার পরিধি যত কম, আমাদের সন্দেহ প্রবনতা তত বেশি। আপনার জানার পরিধি যত বেশি হবে, আপনার কাছে যেকোন বিষয় স্বচ্ছ কাঁচের মত দেখাবে।
০৬. আমরা অজানার পেছনে ছুটি। এটাতে সমস্যা নাই। কিন্তু অতি অজানার পেছনে ছোটা মহাভুল। পরবর্তী জীবনে এর জন্য খেসারত গুনতে হয়।
০৭. জীবন একটাই। তাকে সুন্দর করে যাপন করুন।
০৮. মানুষের জীবন কত বিচিত্র!
০৯. আসলে আমাদের সমস্যা হল, আমরা কর্মের আগেই ফল প্রাপ্তির আশা করি। প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির মাঝে যে ফাঁক তৈরি হয় সেখানেই হতাশা গেড়ে বসে।
১০. আমরা মানুষ একে অন্যের পরিপূরক, প্রভু নয়।
১১. মরীচিকার পিছে ছুটে লাভ হয় না। মরিচিকা ধরা যায় না, ছোয়া যায় না। চোখের ভ্রম মাত্র।
১২. আবেগ ক্ষনস্থায়ী, বাস্তবতা চিরস্থায়ী।
১৩. এই সমাজে কিছু বাজে চরিত্র ছিল, আছে এবং থাকবে।
১৪. আপনি আপনার সময়ে বাস করুন।
১৫. জীবনের শেষপ্রান্তে অবশিষ্ট কিছু স্মৃতি।
১৬. কে কোন ধ্যানে আছে কিছু বলার নাই। এ জন্যই কাউকে এককভাবে ভালো বা খারাপ বলারও উপায় নাই।
১৭. জীবনে সীমাবদ্ধতা থাকবে। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়েই ভালো কিছু করতে হয়।
১৮. পৃথিবীর একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষ। কেননা, সে চিন্তা করতে পারে এবং চিন্তা করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারে।
১৯. আপনি জীবনে অনেক ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু, আপনার আচার-আচরণ, কথাবার্তা অ-মানুষের মত। তাহলে, আপনি ভালো মানুষ নয়। হয়তো কিছু ভালো কাজ করেছেন, এই। আবার, একজন খারাপ মানুষের সাথে আপনার ব্যবহার যদি তদ্রুপ হয়, তাহলেও আপনি ভালো মানুষ হতে পারলেন না!
২০. আসলে বয়স হলে সবাই বুঝতে পারে সব খেল। কিন্তু, মানুষ, সমাজ, ধর্ম, রাষ্ট্র প্রভৃতির চাপে অনেকে অনেক কিছুই বলতে পারে না। হায়রে পৃথিবী! হায়রে আমার স্বাধীনতা!
২১. সমাজে কিছু লোক আছে যারা ছোটদেরকে দিয়ে অযাচিতভাবে কাজ করিয়ে নেয়, দূর্বলতার সুযোগে। কাজ শেষে ছুড়ে ফেলে দেয়। (দেখেছি)
২২. একজন মানুষের আসল পরিচয় ফুটে ওঠে তার কথাবার্তা এবং তার আচার-আচরণে।
২৩. শৈশব গেল কৈশোর গেল, যৌবন যাবে, একসময় নিজেও যাবো হারিয়ে।।
২৪. জীবনকে জীবনের জায়গা থেকে দেখতে হবে। অন্যকিছু ভাবলে ভুল হবে।
২৫. সময়গুলো খুব দ্রুত পার হয়ে গেল। এক সময় ভাবতাম কবে বড় হবো, আর এখন মনে হয় শৈশব ও কৈশোর যদি আবার ফিরে পেতাম।
২৬. আবেগ দিয়ে ভালোবাসা হয়। বাস্তবতা দিয়ে ভালোবাসা জয় করতে হয়।
২৭. বিশ্বাস ছিলো, আছে এবং থাকবে। এটা চিরন্তন।
২৮. এক সময় পড়েছিলাম, পলিগামি আর মনোগামি। মানে-একগামিতা আর বহুগামিতা। বিয়ে বলেন আর প্রেম দুটোর ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। মানুষের দুটো বৈশিষ্ট্য- এনিম্যালিটি আর হিউম্যানিটি। মানে-পশুত্ববোধ আর মনুষ্যত্ববোধ। মানুষের ভেতরে যখন এনিম্যালিটি কাজ করে তখন সে বহুগামি হয়ে যায়। কেননা, মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন মানুষ বাদে পৃথিবীর সকল প্রাণীর মধ্যে বহুগামিতা পরিলক্ষিত হয়।
২৯. মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির পিতামাতার বড় সমস্যা হলো-তারা সন্তানদের মোটেও বোঝেনা বা বোঝার চেষ্টাই করে না। সমস্যা হলে দিকনির্দেশনা না দিয়ে বকঝকা করে। হিতেবিপরীত। এজন্য সন্তানেরা বিপথগামী হয়ে যেতে থাকে বা জীবনে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে। তাদের আরো একটি সমস্যা হলো দোষারোপ করা। যেটা মানসিকভাবে প্রচন্ড আঘাত করে। প্রত্যেকটা মানুষের মানসিক বিকাশটা অত্যন্ত জরুরি। অল্প বয়স থেকে যদি নানা চাপাচাপির মধ্যে বেড়ে উঠতে থাকে তাহলে স্বাভাবিক বিকাশে বাঁধা পড়ে। এতে করে তারা খুব সহজে বিপথে চলে যেতে থাকে, জীবনে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে থাকে। কারণ, এ সময়টাতে এসকল পিতামাতা সন্তানকে প্রকৃতির হাতে ছেড়ে দেয়। তারা মনে করে দায়িত্ব শেষ। আসলে কি তাই?
৩০. যতই আমরা মিথ্যা বলি না কেন, সত্য প্রকাশ পাবেই। আসলে যাচাই বাছাই না করে কাউকে বিশ্বাস করতে নেই। অন্ধবিশ্বাস ক্ষতি ডেকে আনে। মোহ ভঙ্গ হতে সময় লাগে না। তখন শুধু কষ্টের গ্লানি বয়ে বেড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। জীবন একটাই, যদি কখনো জীবন নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয় তাহলে জীবন আর জীবনের যায়গায় থাকে না। হয়ে যায় অন্য কিছু। জীবন নিয়ে যদি কোন ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাহলে আপনি চলে যেতে পারেন অন্ধকার জগতে; এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। বাস্তবে আপনি যেটা দেখছেন, এটা হয়তোবা কিছুই না। এর অন্তরালে রয়েছে মাকাল ফল সদৃশ।
৩১. সব কিছুরই ভার্জিনিটি থাকে, ভার্জিনিটি নষ্ট হয়ে গেলে, তা হয়ে যায় সেকন্ডহ্যান্ড।।
৩২. নিজের ভালোত্ব বজায় রাখার জন্য, নিজেকে সামলাতে হয়, বিবেকটাকে কাজে লাগাতে হয়, উচিত-অনুচিত নিয়ে ভাবতে হয়। আর খারাপের জন্য, নিজের নিয়ন্ত্রন প্রকৃতির হাতে ছেড়ে দিয়ে স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়ায় যথেষ্ট।
৩৩. পৃথিবীর অন্য সব জাতির মধ্যে আকার-আকৃতিগত মিল থাকলেও বাঙ্গালি জাতির মধ্যে পারস্পারিক কোন মিল নাই।
৩৪. পৃথিবীতে মানুষ বড়ই অসহায়। আপনি যদি নিজে সচেতন না হোন, তাহলে এক সময় সবাই আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। এটাই এই বিচিত্র পৃথিবীর নিয়ম। আমরা সবাই চিন্তা করতে পারি। এটাই আমাদের মানুষ হতে সাহায্য করে। আপনি যদি চিন্তা করেন। তাহলে, আপনি কিছু না হোক নিজেকে জানতে পারবেন, চিনতে পারবেন। মানুষের স্বাভাবিক প্রবনতা হল সে চিন্তা করতে পারে। কিন্তু, তার এই স্বাভাবিক চিন্তাকে যদি একটু সমন্বিতভাবে করা যায় তাহলে সব কিছু সুন্দর হয়ে উঠত। বলাই বাহুল্য! আমরা মানুষ। দুটো জিনিস আমাদেরকে মানুষ হতে সাহায্য করে। প্রথমত, চিন্তা করার ক্ষমতা। দ্বিতীয়ত, এটার প্রয়োগ করার ক্ষমতা।
৩৫. খুজছি তোমায় জীবন ধরে। তবুও কেন জানি খুজে পেলাম না তোমায়। হে প্রিয়তমেষু, তোমাকে কোথায় গেলে খুজে পায়? বলে দাও আমায়। জীবনের বাঁকে বাঁকে তোমায় খুজে ফিরি, হে প্রিয়তমেষু। গোধুলির ন্যায় আলো-আধারি হয়ে রয়ে গেলে। ধরা তবু দিলে না। পথে-প্রান্তরে, মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়ায়। তবুও, দেখা পায় না তোমায়। তুমি কি শুনতে পাও?
৩৬. বিবেক এমনি এক জিনিস যার ব্যবহার সবাই জানে না। অল্প সংখ্যক মানুষ এর ব্যবহার করে মানুষ হয়ে ওঠে। অন্যরা এটার ব্যবহার না জানার কারনে প্রাণীই রয়ে যায়। বিবেকই মানুষকে মানুষ হতে সাহায্য করে। আর এটার অ-ব্যবহার, অপ-ব্যবহার মানুষকে জন্তু-জানোয়ারে পরিনত করে।
৩৭. আপনি যদি নতুনের সাথে খাপ খাইয়ে না নিতে পারেন। তাহলে আপনি নিশ্চিত পিছিয়ে পড়বেন। এটা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। যারা যত তাড়াতাড়ি নিজেদের নতুনের পথে ধাবিত করতে পারবে তারা তত দ্রুত এগিয়ে যাবে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উৎকষর্তা এত বেশি যে, আপনি যদি এটা আগেভাগে গ্রহন করতে না পারেন তাহলে এটা নিশ্চিত আপনি দাড়িয়ে থেকেও পিছিয়ে পড়বেন।
৩৮. জীবন কি জিনিস। আমরা বেশিরভাগ মানুষই জানি না। প্রচলিত কিছু ছন্দহীন ধরাবাঁধা নিয়মের বেড়াজালে পড়ে জীবনের মানে খোঁজার ফুরসতই থাকে না। পৃথিবীর সবচাইতে বড় জ্ঞান নিজেকে চিনতে পারা, নিজেকে বুঝতে শেখা। বেশিরভাগ মানুষ টাকা-পয়সা, ধন-দৌলতের পিছে ছুটতে গিয়ে নিজেকে দেখার, জানার, বোঝার সময় পায় না।
৩৯. যদি কারো দোষ ধরতে যাই বা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে চাই, তাহলে নিজের দোষ-ত্রুটির কথাগুলো যেন আগে ভাবি।
৪০. পৃথিবীতে সবাই (সব মানুষই) রাজনীতিবিদ। নিজের জন্য সবাই রাজনীতি করে।
৪১. নিজের মতাদর্শে অন্যকে পরিচালিত করার জন্য মানুষ সদা তৎপর থাকে। মিথ্যা বলে হলেও অনেক সময় কাজটি করে মানুষ। আবার দেখা যায়, অনেক সময় চাপাচাপির ঘটনা ঘটে। এর জন্য সমাজে বিশৃংখলা দেখা দেয়।
৪২. ব্যক্তিস্বার্থ একটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু যদি এটি অন্যায়ভাবে হাসিল করা হয়। সেটা চরম খারাপ জিনিস। ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করার জন্য মানুষ পৃথিবীর চরমতম খারাপ কাজটি করতেও কসুর/দ্বিধা করে না।
৪৩. অন্যের মতাদর্শে পরিচালিত না হয়ে, নিজের চিন্তা-চেতনা, পরিকল্পনা অনুযায়ী চলাই শ্রেয়।
৪৪. যার সঙ্গে আপনি বসবাস করবেন মানুষটির সম্পর্কে ভাল ধারনা নিয়ে নিন। যদি দেখেন, আপনি চিপায় পড়ে গেছেন বা লোকটা খালি কলসি তাহলে সঙ্গ ত্যাগ করুন অথবা অন্যত্র বসবাসের চেষ্টা করুন। মানুষের স্বাভাবিক বিকাশটা অত্যন্ত জরুরি।
৪৫. অন্যকে বোকা ভাবা সহজ। কিন্তু, নিজেকে বোকা বানানো অতি সহজ।
৪৬. প্রত্যেক পিতাই হয়তো চান সন্তান তার অসমাপ্ত কাজ ও স্বপ্নকে এগিয়ে নেবে। মৃত্যুর পরও তিনি সন্তানের মাঝে নিজেকে দেখতে চান।
৪৭. মানবিক দৃষ্টিকোন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা যখন মানুষের ভেতর থেকে উঠে যায় তখন মানুষের ভেতর নানান ধরনের খারাপ বৈশিষ্ট জেকে বসে।
৪৮. মানুষ স্বভাবতই একে অন্যের সমালোচক।
৪৯. সম্পর্ক জিনিসটা সদা গতিশীল ও পরিবর্তনশীল।
৫০. পৃথিবীতে কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত।
৫১. কাঁক এবং কোঁকিল দুটোই কালো পাখি। এখন আমরা যদি কাঁককে কোঁকিল ভাবি তাহলে নিশ্চয়ই সেটা অবাস্তব এবং মহাভুল। কাউয়া তো কাউয়াই। শত ভালোবাসা দিলেও তার মূখ দিয়ে বাঁজখাইনাদ ছাড়া কিছুই বাহির হবে না।
৫২. শিক্ষা মানুষের একটি মৌলিক মানবাধিকার। এর সাথে কোন আপোষ চলবে না, চলতে পারে না। অনেকে শিক্ষা এবং জীবিকাকে একাকার করে ফেলে। এখানে শিক্ষা এক জিনিস আর জীবিকা অন্য জিনিস। চাকরির জন্য চাকরিদাতারা চায় দক্ষতা। আর শিক্ষা মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়, চরিত্র গঠন করে, মানবিক হতে শেখায়।
৫৩. সৌন্দয্য উপলব্ধির জন্য সৌন্দয্যবোধ থাকতে হয়। এটা কেউ দেয় না, নিজেকে তৈরি করে নিতে হয়। শিক্ষা এবং জ্ঞানের চর্চাই বোধ তৈরি করে।
৫৪. ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকরা ভিন্ন ভিন্ন রুপে আগমন করলেও, বিশ্বাসঘাতকতার স্বরুপ এক ও অভিন্ন।
৫৫. মানুষকে জানতে হলে মানুষকে ভালবাসতে হবে, মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে, মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে মন খুলে। তাহলে, মানুষ এবং বর্তমান সমাজের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন। তবে একটা কথা, পাগলের সাথে কথা বললে কিন্তু পাগল সম্পর্কেই জানতে পারবেন।
৫৬. আপনি যদি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন লোক হোন। তাহলে আপনি প্রত্যেক মানুষকে তার অবস্থান বিবেচনায় নিবেন। নিজের অবস্থান বিবেচনায় নেয়ার প্রশ্নই আসে না।
৫৭. পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষই নিজের জীবনের অপ্রিয় সত্যগুলো শুনতে বিব্রতবোধ করে এবং শুনতে চায় না। এবং এগুলো গুম করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। বেশিরভাগ মানুষ একটা সময় গিয়ে এগুলো ভুলে যায়। কতিপয় লোক দীর্ঘদিন মনে রেখে একটা সময় নিজ স্বার্থে অপ্রিয় সত্যগুলো আবার টেনে আনে। যা আগের তুলনায় অনেক বিরক্তিকর এবং যন্ত্রনাদায়ক।
৫৮. বিশ্ব-জগত এখন মাঁকাল ফলের জন্ম দিচ্ছে বেশি।
৫৯. নিজেকে বোকা বানানো খুব সহজ। যেমনঃ কেউ যদি বলে আমি বুঝি। সে কিন্তু, ইতিমধ্যে বোকা প্রমাণিত। কারণ, বুঝলে সেটা বলা লাগে না।
৬০. পরিবর্তনের কারণে বিশ্বাস ক্ষনস্থায়ী। পরিবর্তন মহা-সত্য, বিশ্বাস টলোমলো।
৬১. আনুগত্যশীল নয় শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। কেননা, আনুগত্যশীলতা সৃজনশীলতাকে হত্যা করে। আনুগত্যশীলতা মানুষের চিন্তা করার শক্তি খেয়ে ফেলে। শ্রদ্ধাশীলতা মানুষকে মানবিক করে গড়ে তোলে।
৬২. বুদ্ধি জিনিসটা প্রায়োগিক। নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবাটা বোকামী।
৬৩. যারা নিজেদের ভিতকে শক্ত করতে চাও, তারা দু'হাত ভরে যৌক্তিক সমালোচনা আহবান করো।
৬৪. সময়তো আর থেমে থাকে না। এজন্য, নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতির বেড়াজালে সময়কে ধরে রাখার চেষ্টা বোকামী। সময়পোযোগী হয়ে চলতে হয়। তানাহলে, দাড়িয়ে থেকে পিছিয়ে পড়তে হয়।
৬৫. পরিবর্তনের হাল ধরতে শিখতে হবে। তাহলে, উন্নতি। নাহলে, অবনতি।
৬৬. কুনো ব্যাঙ হয়ে, নিজেকে হাতি ভাবাটা হাস্যকর, নিরেট বিনোদন!
৬৭. সমাজে কিছু হাস্যকর লোক আছে। যারা কৌতুকাভিনেতা নয়। কিন্তু, তারা মানুষের বিনোদনের পাত্র। তারা অভিনয় নয়, তাদের কাজ দ্বারা মানুষকে হাসায়। একদম হুদাই!
৬৮. গোড়ামী সম্পন্ন লোক, মানে যারা নির্দিষ্ট বিশ্বাসের বাইরে যেতে পারে না। এরা মানুষ, সমাজ এবং পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর। কারণ, পরিবর্তনকে তারা মানে না, অগ্রাহ্য করে। পুরাতন অকার্যকর প্রথা, বিশ্বাসকে আকড়ে বেঁচে থাকতে চায়। কিন্তু, পৃথিবী তো সদা পরিবর্তনশীল। আজকের যে ন্যানো প্রযুক্তি তা একদিনে গড়ে ওঠেনি। এক সচেতন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ত পরিবর্তনের ফসল। তারা আবার এ পরিবর্তনের ফল ভোগ করেও সদা পরিবর্তনের বিরোধীতা করে। ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার পরিবেশই পারে মানুষকে সহনশীল করে গড়ে তুলতে।
৬৯. মানুষকে তার ভালো কাজের জন্য অবশ্যই প্রশংসা করতে হবে, উচিত। তাই বলে প্রশংসার নামে অতিবাচনিক কিছু করা অনুচিত, অন্যায়! কারণ, অতিশায়ন কখনো ভালো ফল দেয় না। ক্ষতি করে। হিতে-বিপরীত হয়।
৭০. একজন মানুষ যদি কোন ভুল করে। তবে তার পেছনে কোন না কোন কারণ থাকে। কারণটা খুজে বাহির করতে পারলে ভুল সংশোধন করা সহজ হয়। এটা খুব একটি সাধারণ বোধ। যা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। চিন্তা করলেই পাওয়া যায়। হেস একবার কতিপয় পিতামাতাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তাদের সন্তান ভুল করলে কি করবেন? জবাবে, শিক্ষিত, রুচিশীল উচ্চবিত্ত পরিবারের বাবা-মায়েরা বলেন, সন্তানের ভুলের কারণটা খুজে বাহির করবেন এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। আর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের বাবা-মায়েরা বলেন, আচ্ছা করে চড়-থাপ্পর মেরে ছেড়ে দেবো।
৭১. আমরা চাইলেই পৃথিবী থেকে খারাপকে উৎখাত বা নিশ্চিহ্ন করতে পারবো না। তবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। খারাপ না থাকলে ভালো কি জিনিস সে বোধই মানুষের তৈরি হতো না।
৭২. গাঁধা বই বহন করে কিন্তু পড়তে পারে না বা জানেও না। বই তার কাছে নিরেট বোঝা স্বরুপ। বইয়ের জ্ঞান তার কাছে অপাংক্তেয়। তার ধান্দা থাকে বই বহন করলে মনিব কিছু খাবার দেবে।।
৭৩. একজন মানুষ আপনার সাথে দূর্ব্যবহার করলো বলে আপনিও যদি তার সাথে অনুরুপ ব্যবহার করেন। তাহলে দু'জনই একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
৭৪. মাঁকাল ফল তলায় পড়লে ফেঁটে যায় এবং তার ভেতরকার পঁচা দূর্গন্ধ বাহির হয়ে আসে। তখন তার বাহ্যিক সৌন্দয্য মূল্যহীন হয়ে পড়ে। যতদিন সে উপরে থাকে তার সৌন্দয্য প্রশংসা কুড়ায়। কিন্তু, সময় হলে তো আর সে গাছে থাকতে পারে না। তলায়ই পড়তে হয়।
৭৫. নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন লোক খুজে পাওয়া মুশকিল। কারণ, সবাই কোনো না কোনো বিষয়কে আকড়ে বেঁচে থাকে। যখনই আপনি কোনো বিষয়কে স্বীকৃতি দিলেন তথ্য-যুক্তি-প্রমাণ ছাড়ায়, তখনই আপনার নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রশ্নবিদ্ধ।
৭৬. কুকুরের চেয়ে কুকুরের লেজ বেশিই বেয়াড়া। কুকুর পিটালে কথা শোনে। কিন্তু, কুকুরের লেজে চুঙ্গা পরালেও সোজা হয় না।
৭৭. মানুষ এমনি এক প্রাণী বুঝালে বুঝতে চায় না। ঝাঁটা-লাথি না মারলে কাজ হয় না।।
৭৮. সম্পর্ক জিনিসটা এরকমই। ধীরে ধীরে মলিন হয়ে যায়।
৭৯. মানুষ সামাজিক জীব। একারণে, একে-অন্যের এত সমালোচনা।
৮০. ভুল মানুষের শেখার পথ তৈরি করে দেয়।
৮১. জীবনটা চলছে এক উদ্দেশ্যহীন গন্তব্যের দিকে। জানে না সীমানা তার। কোন একদিন যদি মনে পড়ে তার, সে কি আর ফেরা যায়! যাবে না! তবুও এই যাত্রা! হয়তোবা, একদিন থেমে যাবে।
৮২. আমরা সচরাচার যে ভুলটা সবসময় করি। তাহল, অন্যকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে সময় পার করে দেই। এটা করতে করতে নিজেকে নিয়ে ভাববার সময়ই পাইনা। আজব বিষয়! তাই না? নিজের সময় অন্যের জন্য অযথা বাকওয়াচ করে অপচয় করা।
৮৩. টাকা ছাড়া সবই ফাঁকা। টাকা ছাড়া কোনো নীতি বা তত্ত্বই টেকে না। অর্থই অনর্থের মূল। অর্থের পিছে ছুটতে ছুটতে একসময় মানুষ নিজের অস্তিত্বকে ভূলে যায়।
৮৪. আসলে, আমরা নিজের অজান্তে অনেক ভুল করি। যা আমরা দেখতে পায় না। এ ভুল গুলো সাধারনত অদৃশ্যমান। আর এ ভুলগুলো অনেক ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এ ভুলগুলো অদৃশ্যমান হলেও এ থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়। তার জন্য আমাদের দরকার “গনসচেতনতা”। গনসচেতনতার বিকল্প কিছুই নেই।
৮৫. প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির মধ্যে বিস্তর পার্থক্যের কারনে মানুষ হতাশার কাছে আত্মসমার্পন করে।
বর্তমানে মানুষের প্রত্যাশা আকাশ সমান-প্রাপ্তিটা সামান্যই।
৮৬. মানুষ হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে বড় বিস্ময়কর কম্পিউটার। একজন মানুষের মধ্যে যে সফটওয়্যার ইনস্টল করা আছে সে অটোমেটিক সেই কাজ করতেই থাকে। যেমন, একজন ছাত্র সে পড়ালেখা করে, কর্মজীবী মানুষ কাজ করে, শিক্ষক শিক্ষা দেয় প্রভৃতি।
৮৭. মানুষের জীবনে সবচাইতে বেশি প্রভাব ২টা জিনিসের। যথাঃ ১.পরিবার এবং ২.পরিবেশ। পরিবারঃ পরিবারে মানুষের বেড়ে উঠা, চরিত্র গঠন, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। এছাড়াও জীবন গঠনের সবচাইতে বড় সাপোর্টটা পরিবারই দিয়ে থাকে। পরিবেশঃ পরিবেশের প্রভাবে মানুষ কালচার হতে শেখে। পরিবেশই নির্ধারণ করে দেয় মানুষের ব্যক্তিত্ব। আচার-আচারণ নির্ধারিত হয় পরিবেশ দ্বারা।
৮৮. জীবনে একজন ভালো বন্ধুর দেখা পাওয়াটা সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার!
৮৯. পৃথিবীর সবচাইতে বড় এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বোকামী হল, অন্যের অনিচ্ছা সত্ত্বেও, তার ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক-গলানো।
৯০. সততা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে সম্পর্কের লালন করতে হয়। বিশ্বাস ভঙ্গ হলে সম্পর্কের ভিত্তি নষ্ট হয়।
৯১. আপনি যদি জানেন আপনি কি বানাতে চান, তাহলে ভালো কিছু করবেন বলে আশা করা যায়। ফাঁকিবাজি বিষয়টা থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়।
৯২. সাদা কাপড়ে দাগ লাগলে তা দৃষ্টিকটু দেখায়। দাগ থেকে সবসময় দারুন কিছু হয় না। বেশিরভাগ সময় খারাপ কিছুই হয়। যারা বেশি কথা বলে তাদের ভুল হয় বেশি।
৯৩. ২০ বছরের আগে অথবা ৩৫ বছরের পরে সন্তান ধারণজনিত কারণে মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্য ঝুকি বেড়ে যায়।
৯৪. শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শিশুদের বিকাশের জন্য মারাত্মক/ ক্ষতিকর।
৯৫. আমি মানুষ। এটাই আমার প্রথম পরিচয়। সভ্যতার উৎকর্ষতায় শিক্ষা এবং জ্ঞানই একমাত্র বাহন। এজন্য শিক্ষা এবং জ্ঞানে বিশ্বাস করি। শিক্ষা এবং জ্ঞানের উৎপত্তি চিন্তা থেকে। তাই চিন্তায় সমস্যার একমাত্র সমাধান। সমস্যা =চিন্তা = ফলাফল/পরিনতি।
৯৬. একজন শিক্ষক অনুপ্রেরণার যন্ত্র না হয়ে যদি ভয়-ভীতির কারণ হয়। তাহলে পরিস্থিতি কেমন হবে? একবারও ভেবে দেখেছেন?
৯৭. চাতক পাখি মুখে একফোটা পানি নিয়ে অনেক উপরে উঠতে পারে। কিন্তু, উটপাখির বিশাল ডানা থাকতেও সে উড়তে পারে না। আবার একটা ব্যতিক্রমও আছে, চিল শকুন যতই উপরে উঠুক নজর তার নিচেই থাকে।
৯৮. যুগের বিবর্তনে সব কিছুতে পরিবর্তন।
৯৯. নীতি কথা বলে যদি নিজেরই নীতিগত অবস্থান ভঙ্গুর হয় তাহলে সেটা ভন্ডামী ছাড়া আর কিছু নয়। আসলে সবই স্বার্থবাদী চিন্তা -ভাবনা।
১০০. পরিবর্তন সবচাইতে বড় বাস্তবতা।