সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইয়াবা ও একটি নতুন আইনে পুরাতন প্রথার প্রয়োগ

দেখুন, দ্বিমত থাকাটা স্বাভাবিক। আর মত প্রকাশ করাটা আরো বেশি স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক হচ্ছে ভিন্নমত প্রকাশে বাঁধা দেয়া বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। মানুষ স্বভাবতই স্বাধীনচেতা। তাকে জোর করে আঁটকানো যায় না। সিস্টেমেটিক ওয়েতে কন্ট্রোল করার প্রয়াসই যথেষ্ট বোধ করি। তবে, সেটা অবশ্যই মানবিক হতে হবে। সবার সব কিছু ভালো লাগবে না এটাও স্বাভাবিক। যার যেটা ভালো লাগবে না সে সেটা বলবে এটাও স্বাভাবিক। তাই বলে অন্যের মতকে অসম্মান করা! তার জেরে অপদস্ত করা! এটাকে মানসিক সমস্যা বলে বোধ করি।

দেশে একটি আইন পাশ হলো। ইয়াবা সেবন, বহন ও বিক্রয় করার বিষয়ে। আইনের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক শুধু আমার মতটুকু প্রকাশ করছি। কারো ভালো না লাগলে এড়িয়ে যান। ভুল-ত্রুটি থাকাটা স্বাভাবিক। তথ্য-প্রমান ও যুক্তিসহকারে উপস্থাপন করতে পারলে অবশ্যই সংশোধন যোগ্য। তারপরও, ভুল-ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি অগ্রীম।

এই আইনটাকে অনেকে বাহ্-বা দিচ্ছে। এমনকি কতিপয় ইয়াবা সেবিও ফেসবুকে অনেক রঙ-চঙ মাখিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এটাকে কি বলব! বুঝতেছি না!

সেদিন তামাক নিরোধ দিবসে দেখলাম, যারা চোখের সামনে বিড়ি-সিগারেট খেয়ে বেড়াই, তারাই স্লোগান দিচ্ছে, "তামাকজাত দ্রব্যকে না বলুন"। এমনকি প্লাকার্ড, স্টিকারযুক্ত ক্যাপ মাথায় দিয়ে তারা শোভাযাত্রা বের করে! বিষয়টা যতটা না হাঁস্যকর, তার থেকে বেশি মর্মান্তিক, বেদনাদায়ক।

বিষয়টা অনেকটা এরকম, শরীয়া আইন চাই সবাই! কিন্তু, কেউ নবীর দেশ সৌদি আরবে গিয়ে বাস করতে চায় না!

ধর্মকে যুগে যুগে পবিত্র জ্ঞান করা হয়। আবার যুগে যুগে ভণ্ডরাই ধর্মের ছায়াতলে আবাস গড়ে তোলে। এটা আঁটকানো মুশকিল। তবে, বিষয়ের নিয়ন্ত্রন বিলকুল সম্ভব। মানুষকে শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে, সচেতন নাগরিক সমাজ গঠনের মধ্য দিয়ে।

আরো একটা বিষয়, অনেক সময় আইনের ফাঁক-ফোকর আর রাজনীতির জিয়ন-কাঠির শক্তি দিয়ে হত্যাকারীরা বেরিয়ে যায়। কিন্তু, সামান্য অপরাধে অনেকে মৃত্যুদণ্ডের মত সাজা পায়। অনেকে আছে বিনা অপরাধে জীবনটাই জেলে কাটিয়ে দেয়।

অনেক সময় এমনও হয় রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনে অনেকে জেল খেটে মরেন। এর সবচাইতে বড় উদাহরন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমার কাছে সবচেয়ে বড় উদাহরন আর কি হতে পারে তা জানা নেই। তিনি পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর চরম আক্রোশের শিকার হয়েছিলেন। যাদের ইতিহাস জ্ঞান আছে তারা নিঃসন্দেহে একমত পোষন করবেন। অবশ্য, উড়ো-রাজনীতিবিদদের সামনে এ সব বলে লাভ হয় না! তারা গণ-মানুষের চেয়েও একধাপ নিচে নেমে আচরণ প্রদর্শন করে। তারা কখনোই ভেবে-চিন্তে কথা বলে না। একচোখা টাইপের।

যাহোক, আমার জানামতে, মৃত্যুদন্ড একটি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বর্বরতা। এটা বর্তমান সময়ের জন্য কখনো যুগোপোযগী হতে পারে না। আধুনিক চেতনা ও রাষ্ট্রব্যবস্থায়, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সাথে এটা সরাসরি সাংঘর্ষিক।

কারন, বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে মৃত্যুদন্ডের সাথে অপরাধ-প্রবনতার পারদের উঠা-নামার সম্পর্ক নেই। এটা অবৈজ্ঞানিক।

তবে, সময়ের প্রেক্ষাপটে অপরাধীর শাস্তি পাওয়াটা এখনো বাঞ্চণীয়। এক্ষেত্রে অপরাধ এবং শাস্তির পারদটা একটু পরোখ্ করে সামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি দেওয়াটা করনীয় বলে মনে করি। ফেসবুকের একটা সমালোচিত পোস্ট আর মানুষকে হত্যার শাস্তি কখনো এক হতে পারে না। বিষয়টা একটু ভেবে দেখুন। মৃত্যুদন্ডকে তো আগেই প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বর্বরতা বলে জেনেছি।

ইয়াবার বিষয়ে প্রথম যে বিষয়টা প্রধান্য দেওয়া উচিত বলে মনে করি; সেটা হচ্ছে, আমদানী, চোরাচালান বন্ধ করা। ইয়াবা সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে দেয়া। ইয়াবার ক্ষতিকারক দিকগুলো মানুষের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস নেয়া। কারন, "খেতে দিয়ে পেটে লাত্থি মারা" বিষয়কে আরো বেশি কঠিন করে তোলে। আইনের চেয়ে সামাজিক, সাংস্কৃতিকভাবে যেকোন বিষয়কে সহজেই দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। কাজেই, এখন সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের জন্য যুব সমাজকে আন্দোলনে নামতে হবে। এটার মানে কিন্তু হরতাল না! রাস্তা অবরোধ করে, সর্বসাধারনের ভোগান্তি সৃষ্টি করে, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে কোন আন্দোলন হয় না। উপর্যপুরি গঠনমূলক সমালোচনা এবং গণ-মানুষকে বিষয়টি সম্বন্ধে স্পষ্ট-স্বচ্ছ ইতিবাচক ধারনা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টিকে মূখ্য করে তুলে একটি সফল আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে বলে বোধ করি।

দিল্লি সালতানাতের সময়কালে চেহালগানির দল (চাটুকার, ভণ্ড, মুনাফেকের দল) সুলতানা রাজিয়ার মত দক্ষ-চৌকোস সুলতানকে পর্যন্ত বাঁচতে দেয়নি। কারণ, তারা নারী নেতৃত্বকে কখনো মানতে পারেনি। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের পথ বন্ধ হয়ে আসছিলো তাই। যতই আপনি তাদের মন-যুগিয়ে চলার চেষ্টা করেন না কেন, তাদের মন ঢেঁকি ঢেঁকি। যার মনে ঢেঁকি ঢেঁকি সে চাঁদে গেলেও ধান ভাঁনে। সুতরাং, সাধু সাবধান।