সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অভ্যাস ও নিয়মের বাইরের কথা

( বিঃদ্রঃ- যাদের প্রবল অনুভূতিগত সমস্যা রয়েছে; দয়া করে তারা এটা পড়বেন না। পড়ে অনুভূতিতে আঘাত পেলে তার দায়ভার একান্তই আপনার। পড়তে নিষেধ করার কারণ, আমি আপনার অনুভূতিকে সম্মান করি। আর লেখার কারণ, আপনার অনুভূতিগত সমস্যা একান্তই আপনার;  সেটা আমার মত-প্রকাশে বাঁধা হতে পারে না। এটা অন্যায়! মত-প্রকাশের স্বাধীনতায় অবৈধ-নোংরা হস্তক্ষেপ। যেটা ভালো লাগে না তা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। জীবনটা অনেক সহজ ও সুন্দর হয়ে যায়। তাই পড়তে নিষেধ করছি। কি দরকার ভাই, নিজের সমস্যাকে অন্যের ঘাড়ে চাপানোর। এটা না পড়লে কিছু হবে না। একটুতে যাদের অনুভূতির প্রবল জোয়ার জাগে, অনুভূতির চাপ সামলাতে পারেন না, নিয়ন্ত্রন করতে পারেন না; তাদের প্রতি আহ্বান রইলো যতদ্রুত সম্ভব একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরনাপন্ন হোন। তবে, বোদ্ধাদের আহ্বান জানাচ্ছি পড়ে মতামত উপস্থাপনের জন্য। যাদের পড়তে নিষেধ করেছি, তারা এখানেই ক্ষান্ত দেন! ধন্যবাদ)

অভ্যাস এবং নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারাটাই নতুনত্ব। যেটা পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসে। আর গণ অর্থে আমরা যাদেরকে বুঝি, তারা এই অভ্যাস এবং নিয়ম ভাঙার প্রথম শত্রু। তারা পরিবর্তন প্রক্রিয়ার সাথে কিছুটা পরিচিত হলেও নিয়ম আর অভ্যাসের বাইরের কোন কিছুই গ্রহণ করতে পারে না। যদিও তারা সংখ্যায় বেশি। তাদের কথার বা অকেজো সমালোচনার উপর ভর করলে সর্বনাশের মাথায় বাড়ি। কারণ, তারা কখনোই চিন্তার চর্চা করে না। না ভেবেই কথা বলে। তলিয়ে ভাবে না। চিন্তার চর্চা করে না। ভাবা প্রাকটিস করে না। অর্থাৎ, প্রবৃত্তির উপর ভর করে প্রলুব্ধ হয়ে কাজ করে। ঝোকের উপর ভর দিয়ে চলে। কথায় না পারলে লজিক্যাল ফ্যালাসি দেয়, বায়বীয় কথাবার্তা বলে। সাধারন মানুষ অনেক সময় সামরিক শাসনের বৈধতা জারি করে। কারণ, তাদের ভেতর গণতন্ত্র সম্পর্কে স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট কোন ধারণা নেই। যেটা এখনো পর্যন্ত তৈরি করা সম্ভব হয়নি। গণ-ভোটের মাধ্যমে যদি কোন পলিসি নির্ধারণ করতে যায়, তাহলে সর্বপ্রথম তারা বিরোধী পক্ষের মতকে দমন করার নীতি গ্রহণ করবে। আর গণের উপর ভর করার সমস্যাটা এখানে। তারা সব সময় প্রথা, নিয়ম বা অভ্যাসের বাইরের যে কোন কিছুকেই ধ্বংস করে দিতে চায়। কিন্তু, জগতের যত নতুন কল্যানকর সৃষ্টি সবই অভ্যাসের বাইরে থেকে এসেছে। গণের ভাবনা-চিন্তাহীন কর্মে সর্বত্রই নেতিবাচকতার বিস্তর প্রকাশ ঘটে। কিন্তু, নতুনত্ব সৃষ্টির পেছনে সদা ইতিবাচকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আরো একটি বিষয়, সেটা হচ্ছে, আপনি যতই মঙ্গলদায়ক জিনিস সাধারনের সামনে উপস্থাপন করেন না কেন সেটা যদি নিয়ম বা অভ্যাসের বাইরে হয়ে থাকে তাহলে সেটা প্রত্যাখ্যান করবে।

হাজারো উদাহরন রয়েছে। তার মধ্য থেকে কিছু তুলে ধরলাম। যেগুলো গণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।

গুরু সক্রেটিসের কথা সবারই জানা। তিনি অভ্যাসের বাইরে কথা বলার কারণে সমাজ কতৃক নিগৃহিত হয়েছিলেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। শুধু নতুন ধরনের উন্নত কথা বলায় তাকে হেমলকের পেয়ালা ধরিয়ে দেয়া হয়।

কোপার্নিকাস ও গ্যালিলিওর কথাও সবার মনে আছে। কোপার্নিকাসকে আগুনে পুড়িয়েছে, গ্যালিলিওকে অন্ধ করেছে।

আর একটা কথা জ্ঞানী লোকদের পাগল-ছাগল বলে সম্বোধনের সম্মূখিন হতে হয়নি এমন লোক পাওয়া মুশকিল। জ্ঞানের যত শাখা-প্রশাখা রয়েছে তার প্রত্যেক অঙ্গনে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের সবারই এই গণ দ্বারা লাঞ্চনা-গঞ্জনার শিকার হতে হয়েছে কমবেশি। এমনকি অনেকের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নও সহ্য করতে হয়। রাষ্ট্রও এই নতুনত্বকে ক্ষমতার দোলাচলে গ্রহণ করতে পারেনি। রাষ্ট্র যে নতুনত্ব গ্রহন করতে পারেনি সেটাও এই গণ দ্বারা প্রত্যাখানের  পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ প্রভাবে।

তবে, ইদানিং একটা বিষয় প্রত্যক্ষ করছি যে কতিপয় লোক যাদের স্ব-মতের পক্ষের পূর্ববর্তী প্রজন্ম যে নতুন কথা বা আবিষ্কারগুলো প্রত্যাখান করেছিল তারা সেগুলোকে নতুন করে আত্মীকরণের  প্রবল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও এটার বিরুদ্ধে অনেক মানুষ প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন করছে। তবুও, তারা নির্লজ্জের মত একই কাজের পূনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। তবে আমার মনে হয় তাদের এহেন ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড সম্পূর্নটাই টিকে থাকার স্বার্থে। একটা কথা মনে রাখা দরকার যে, মিথ্যাচার করে টিকে থাকা যায় না। সত্য সর্বদা সরল পথে চলে। তাকে আটকানো যায় না। মৌসূমী বৃষ্টির মত। সময় হলে পথ বের করে বেরিয়ে যায়।

কবি নজরুরকে নিয়ে কটুক্তি করা মানুষের সংখ্যা তার পাঠকের চেয়ে তার সময়ে ঢের বেশিই ছিল। এমনকি তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে অনেকে কবিতা লিখেছিল পত্রিকায়। সাম্যবাদী চেতনার কারণে তাকে মোল্লা-মৌলভীরা মুরতাদ বলেও আখ্যায়িত করে। এখন যেটা দেখি, এই মোল্লা-মৌলভীর হাইব্রিড সংস্করণ কবি নজরুলকে মুসলমানদের কবি বলে প্রচারণা চালায়। পাকিস্তান আমলে নজরুলের সাহিত্যকে মুসলমানী করানোর চেষ্টা চলে। যদিও সেটা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এই হলো হালচাল! সিনেমা না দেখে নামেই যাদের আপত্তি জন্মে, তাদের দ্বারা এর বেশি কিছু সম্ভব না, এটা সাধারন বোধ দিয়েও বোঝা যায়। কবি নজরুল সাম্যের কবি। তিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার কবি। তিনি গজলও লিখেছেন আবার শ্যামা সঙ্গীতও লিখেছেন।

বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার কোনো বন্ধু ছিল না। বন্ধু ছিল না বলতে আড্ডা দেয়া বলতে আমরা যা বুঝি। তিনি বন্ধু পেতেছিলেন লেখার সাথে। সেই রবীন্দ্রনাথও গণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। বিষয়টা ভাবতেই অবাক লাগে। তিনি যখন সাহিত্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে গেলেন সবাই তাকে নিয়ে মাতামাতি করতে লাগলো। কিন্তু, যারা মাতামাতি করে তারা তার সাহিত্য পাঠে অতটা মনোযোগী না।

রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের একটা সরল সমীকরন আছে। সেটা হচ্ছে হিন্দু-মুসলমানের কবি। কিন্তু, তারা উভয়েই মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির সম্পর্ক গড়তে চেয়েছিলেন নিজেদের ব্যক্তি অবস্থান থেকে। অবশ্য, তাদের সম্পর্কে এটা আমার নিজের পড়াশোনার যায়গা থেকে উপলব্ধি। তবে, সাম্যের চেতনায় নজরুল প্রাগ্রসর। এবং সেটা তার সাহিত্য পাঠে উপলব্ধি করা যায়।

এবার একটু বৈশ্বিকভাবে বিষয়টাকে দেখার চেষ্টা করি।

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট বলতে বুঝি রোহিঙ্গা ইস্যূ, কাশ্মির সমস্যা, ফিলিস্তিন-ইসরাইল সমস্যা, উইঘুর সমস্যা।

এগুলো নিয়ে সারা বিশ্ব সোচ্চার আছে। তবে মুসলিমরা সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। কারণ ঐ অঞ্চলগুলো মুসলিম প্রধান অঞ্চল। মানবতা মানবতা বলে চিৎকার করে। মানবতাবাদীদের গালি দিয়ে, ধুয়ে মুছে ছাপ করে দেয়ার পরিস্থিতি ঘটায়। কিন্তু, যখন দেখি মুসলিম দেশগুলোতে অন্যান্য ধর্ম-মতের মানুষেরা মুসলিম কতৃক নির্যাতিত হয় তখন অন্যান্য মুসলিমরা বাহবা দেয়। সেটার পক্ষে প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ সমর্থন যোগায়। এটা চরম অমানবিক!

আমার জানা মতে, অন্যান্য ধর্মের মানুষেরাও একই রকম ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায়। কারণ, ঘটনার রকমফের হতে পারে কিন্তু চৈতন্যগত মোটিফটা একই। মানবতা মানুষ-নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান। মানবতা সর্বজনীন।

ছোটবেলা থেকে মানুষের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে। মানুষের সম্পর্কে, তাদের জীবনের গল্প শুনতে ভালো লাগে। সেই সুবাদে অনেকের সাথে কথা হয়। কথা বলার সময় দু'একজন মানুষ এতটাই বিশ্রি আচরণ প্রদর্শন করে; বলে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। হিংস্র জন্তু-জানোয়ারের চেয়েও খারাপ। একটা গল্প মনে পড়ে গেল।

আমাদের গ্রামে একটা লোক ছিল। তিনি সারাদিন খেত-খামারে কাজ করতেন। মুসলমান মানুষ। সে হিসাবে মোল্লা-মৌলভীরা তাকে মসজিদে যাওয়ার দাওয়াত দিত, অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলে তাকে পটানোর চেষ্টা করতো। মাঝে মাঝে বলত, মুরুব্বি কিছু বলেন। তখন লোকটি বলত, তুমি বলো, আমি শুনি। মৌলভী সাহেব সারাদিন তার সাথে বয়ান করে সন্ধ্যায় ক্লান্ত মনে চলে যাবেন এমন সময় লোকটি বলত, শোনো বাবা তোমারে আমি একটা কথা বলি? জ্বি বলেন! "বাবা, তোমার কথা আমি নিলাম না"।

কি বুঝলেন! সমাজে এই 'নিলাম না' টাইপের লোকজন বেশি। এ জন্য দিনদিন সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করতেছে। একটা কথা, সমস্যার সমাধান না করে দোষারোপ করার সংস্কৃতি গড়ে তুললে সমস্যার বিকৃতি ঘটে বিকট হয়ে দাড়ায় সমস্যা। এ জন্য সমস্যার সমাধান করা উচিত, দোষারোপ করতে নেই।

গরুর ঘাড়ে লাঙল-জোয়াল থাকলেও সেটা কোন দিকে যাবে তা নির্ধারন করে যার হাতে লাঙলের তাড়া থাকে! সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যারা শিক্ষিত, জ্ঞানী তারাই অগ্রনী ভূমিকা গ্রহণ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন মূর্খ ও মূর্খতার প্রবল প্রখরতা বৃদ্ধি পায় তখন আর কিছু করার থাকে না। বিশৃংখলা অনিবার্য হয়ে দাড়ায়।

সমাজকে এই মূর্খ ও মূর্খতা থেকে মুক্ত করতে হবে। তার জন্য আমাদের সকলের স্ব-শিক্ষায় সুশিক্ষিত হতে হবে।

এবার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কিছু কথা বলি। মৃত্যুদণ্ড প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বর্বর সংস্কৃতি। আধুনিক ও উত্তরাধুনিক যুগে এটা বর্বরতার শামিল। বর্তমানে এটা অগ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। কারণ, একজন ব্যক্তি অন্যকে হত্যা করল বলে তাকেও হত্যা করা আরেকটি বর্বরতার নামান্তর। রাষ্ট্র কখনো খুনিকে অনুসরণ করতে পারে না। রাষ্ট্রচিন্তা আধুনিকতম একটি বিষয় এ হিসেবে যে, বিষয়টি বর্তমানে কার্যকর। এখান থেকে ১০০ বছর আগেও পৃথিবীর অনেকাংশ যায়গা উপনিবেশ ছিল। সে সময় পর্যন্ত চিন্তাটি অপাংক্তেয় ছিল।

মৃত্যুদণ্ড এমন একটি শাস্তি প্রথা যেটা নিরপরাধ মানুষকেও ভোগ করতে হয় আইনি মারপ্যাঁচে। এটা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার হরণ করে। এটা কখনো সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে না। মরে গেলে একজন মানুষের সকল চৈতন্য লোপ পায়। এখানে আমরা শাস্তি বলতে যা বুঝি তা কোন চৈতন্যহীন মানুষের পক্ষে কখনো বোঝা সম্ভব নয়। এমনিতে আমার শাস্তি প্রথায় আস্থা নেই। সংশোধনে প্রবল আস্থা আছে। তাই মৃত্যুদণ্ডের মত একটি অমানবিক প্রথাকে আমি কখনো সমর্থন করি না। এটা যে একটি শাস্তি সেটাও আমার বোধে পায় না।

আর মৃত্যুদণ্ড যদি জীবিতদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে হয় তাহলে বলবো এর থেকে মূর্খতা আর হয় না। কারন, ভয়ভীতি কেবল বাইরের শৃংখলা রক্ষা করে। আসলে ভেতরের শৃংখলাই মূখ্য যেটা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জাগানো সম্ভব নয়। ভেতর জাগাতে নৈতিক চেতনা ও ইতিবাচক মূল্যবোধের উপর্যুপরি চর্চা দরকার।

আর আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তায় মৃত্যুদণ্ড অগ্রহনযোগ্য এ হিসেবে যে, আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা মানবতাবাদের সম্প্রসারিত রূপ। আর মৃত্যুদণ্ড মানবতাবাদের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। সবচেয়ে বড় কথা, এ সময়ে যারা মারামারি, কাটাকাটি, খুনাখুনি করে তারা চরমতম বর্বর। তাদের সাথে আধুনিকতা যায় না। আধুনিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে স্বদেশপ্রেম ও মানবতাবাদের মধ্য দিয়ে। এসব কথা মধ্যযুগীয় বর্বর চিন্তার ধারকদের মাথায় ঢুকানো মুশকিল। কারণ, তারা বাস করে বর্তমানে আর চিন্তা-চেতনা বয়ে বেড়ায় মধ্যযুগের। এরা সমাজের অনিষ্টকর প্রাণী বিশেষ। এ অর্থে যে, মানুষ হওয়ার জন্য মানবিক গুনাবলির চর্চা করতে হয়। তারা চর্চা করে অন্য কিছু। প্রাণী এ অর্থে যে, তাদের প্রাণ আছে। যার প্রাণ আছে সে তো প্রাণী।

কোন বিষয় বুঝতে গেলে আগে ভাবতে হবে, চিন্তার চর্চা করতে হবে ইতিবাচক উপায়ে।