সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা

০১. মূর্খের সমাজে বই ও জ্ঞানের মূল্য নেই। আছে টাকার। কিন্তু, জ্ঞানী এবং ধনী ওয়ারেন বাফেট্ বলেছেন, "The more you learn, The more you earn. The more you read, The more you learn."

০২. এখনো যারা মনে করে, টাকা এবং লবিং ছাড়া চাকরি হয় না; উহারা অতি মাত্রায় মূর্খ এবং জ্ঞানপাপী। বর্তমানের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ বলে বোধ করি। সময় বদলেছে। যোগ্যতা এবং পরিশ্রম আপনার কাঙ্খিত চাকরির চেয়ারে পৌছে দিবে বলে দৃঢ় আস্থা এবং বিশ্বাস রাখি।

০৩. সংগ্রাম ও সফলতার দৌড়ে আপনারাও সঙ্গী হতে পারতেন। তা না করে, পথকে কণ্টকাকীর্ণ করে দিলেন। কে জানি কার দুঃখে হেসেছিল; পরক্ষনে সেই বিনা অপরাধে দণ্ডিত হয়েছিল।

০৪. যার পড়তে ভালো লাগে না; তার কপালটাই খারাপ। কেননা, জগতে থেকেও জগৎ সম্পর্কে তার কোন জ্ঞান নাই। আপন নীড়ের সম্বন্ধে যে জানে না সে অভাগী।

০৫. মানুষ কূখ্যাতও হয়, আবার বিখ্যাতও হয়। পার্থক্য শুধু কর্মে।

০৬. মানুষ হিসেবে সবাই সমান। কেউ ছোট বা বড় নয়। ছোট বা বড় হয় মানুষের চিন্তা-চেতনা।

০৭. ক্রয়কৃত সব বই না পড়তে পারলেও, ক্রয় করি। কারণ, এটাই আমার একমাত্র বিলাসিতা।

০৮. "নানা মুনির নানান মত, যত মত তত পথ!" কিন্তু, আমার তো দরকার একটাই পথ! কোথায় গেলে পায়? ওটা তো নিজের কাছেই আছে! শুধু একটু স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা দরকার। তবে, কারো দ্বারা প্ররোচিত হওয়া যাবে না।

০৯. অভাবে স্বভাব নষ্ট, নষ্ট-স্বভাবে সৃষ্টি হয় কষ্ট, তাতে করে জীবন নষ্ট।

১০. লাগিয়ে কপাট, শুরু পাঠ, জ্ঞান আহরণ, করব আমরণ!

১১. বৃষ্টিস্নাত রাত, তুমি আমি দু'জন, নীরবে কথা চালাচালি, মেঘাচ্ছন্ন অন্ধ আকাশ, হঠাৎ বাজনাদ, তারপর বিজলি আলো, সারা শরীর কাপিয়ে ভিজিয়ে দিল অঙ্গ, ক্ষনিককালে সব শান্ত, নেই মেঘের গর্জন, নেই বিজলি আলোর ছড়াছড়ি, কোন বার্তা নেই, নেই বার্তা সঞ্চালন, দিনের আলো যেন অঙ্গের শত্রু, তাই দেহের মাঝে বাস এক অন্ধকারের, সেই আঁধার ভেঙে বের হয় নতুন আলো, নতুন সূর্য, যে বাচিয়ে রাখে প্রজন্ম।

১২. দেখেছি, অনেকে অযথা বিরোধীতা করে। কথা হচ্ছে, বিরোধীতা করার জন্য বিরোধীতা নয়। দ্বিমত থাকতেই পারে। তাই বলে, উল্টা-পাল্টা তথ্যহীন, যুক্তিহীন কথা বলে দিলাম হয়ে গেল! এমন করাটা নিঃসন্দেহে বোকামী নয় কি! বন্ধু হিসেবে কেউ কিছু না বললেও, একটা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি চলে আসে। না জানলে বললাম না! এটাই আমাদের জাতীয় অভ্যাস হওয়া উচিত বলে মনে করি। কারণ, না জেনে বললে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। তাতে করে সবার অমঙ্গল হয়। তারপরও, আপনি যেটা জেনেছেন তার সত্যতা যাচাই করে সবার সামনে উপস্থাপন করুন। সবার মঙ্গল হোক এই কামনা করি!

১৩. একই কথার অনেক অর্থ হয়! যে যেভাবে নেয়! তার কাছে ঠিক সেভাবে ধরা দেয়।

১৪. শিক্ষিত, অশিক্ষিত, মূর্খ এগুলো শুধুই ফর্মাল শব্দ। অনেকে এটাকে অহংবোধের যায়গা থেকে দেখার চেষ্টা করে। তবে একটা কথা, প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিয়ে এগুলোর বিচার করা ভুল। কারণ, স্বশিক্ষিত লোক মাত্রই সুশিক্ষিত।

১৫. প্রথম কথা বাংলাদেশে কোন শরীয়া আইন নেই। আর সাধারন মানুষ শরীয়া আইন সম্পর্কে কিছুই জানে না, বোঝা তো দূরে থাক। যারা শরীয়া আইন সম্পর্কে জানে তারা কেউই সৌদি আরবে বাস করতে চাইবে না; তবে, তারা সবাই ইউরোপের সেক্যূলার দেশগুলোতে বিনা দ্বিধায় বসবাসের অনুমতি চাইবে। বিয়ের ক্ষেত্রে সামাজিকতা রক্ষার দায়ে হুজুর ডেকে একটু দোয়া করে; যেটা বর্তমান বিয়ে ব্যবস্থায় অনাবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে; তবুও মানুষ সামাজিকতার খাতিরে এটা করে। একটু চেষ্টা করলে বোঝা সম্ভব। কারন, এটা বাস্তবতা! ইসলামের নামে শুধু সম্পত্তি ভাগাভাগি চলে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের অধিকারহীন করার মহা-পায়তারা বলে যেটাকে। যারা নারীর সমান অধিকারের কথা বলে তারা ধর্ষনের জন্য পোশাকের দোহায় দেয় না। কারন, ধর্ষনের সাথে একজন মানুষের মানসিক অবস্থান, কৃষ্টি-সংস্কৃতি, বিকারগ্রস্ততাসহ আরো কিছু বিষয় কাজ করে। যেখানে পোশাক কোন ফ্যাক্টর নয়। ম্যাটার করে না। আর কে কার সাথে সেক্স করবে সেটা তার ব্যক্তিত্ব, রুচিবোধের উপর নির্ভর করে। এটা মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়, যেখানে কারো হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। অবশ্য, ধর্ষনের বিষয়টা আলাদা। কারন, সেখানে পারস্পরিক সম্মতির কোন বালাই থাকে না। সেই তো মানুষ যে তার কু-মনোবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে। পোশাক যদি ধর্ষনের কারন হত, তাহলে যারা ইসলামের বাইরে তাদের দেশে ধর্ষনের উৎসব চলত। আসুন সমতা ভিত্তিক সমাজ গঠনে আমরা সবাই কাজ করি; কাল্পনিক-ফালতু চিন্তা-ভাবনা বাদ দিয়ে মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করি।

১৬. ভালোবাসা বলে কিছু নেই! দায়িত্ব-কর্তব্য, চাওয়া-পাওয়ার মত বাস্তবতাকে আমরা নাম দিয়েছি ভালোবাসা। আর যদি সেটাকে দু'জন ব্যক্তির একান্ত-ঘনিষ্ঠতাকে বোঝায় তাহলে সেটা হয়ে যায় প্রেম। আর প্রেমকে সংজ্ঞায়িত করলে দাড়ায়, সেখানে জৈবিক তাড়নাজাত কিছু ব্যাপার-স্যাপার চলে আসে। আর এটা স্বাভাবিক ঘটনা। প্রকৃতি নির্ধারিত বিষয়। এখন আর শুধু মনের টানে প্রেম হয় না। জৈবিক তাড়না জড়িত। একটু চিন্তা করলেই বোঝা সম্ভব। কাজেই, যাদের বিবাহ-বহির্ভূত যৌনতায় এলার্জি আছে বা সমাজ-চক্ষুর ভয় আছে তাদের এসবে না জড়ানোয় ভালো। তাতে করে শুধু নিজের না আরো অনেকের ক্ষতি হতে পারে। চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী বাবা-মা, মুরুব্বিদের উপর ভরসা রেখে আল্লা আল্লা করা উচিত।

তবে কারো যদি সমস্যা না থাকে তাহলে সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার বলে মনে করি। ইন্টারফেয়ার না করাই ভদ্রতার পরিচয় মনে করি।

১৭. আমরা না বুঝে হাহা, হোহো, হেহে, হিহি করি বলে আমাদের সমস্যা কাঁটে না! কোথায় ইন্ডিয়া কোনো আইন পাশ করে আর আমরা বাংলাদেশে বসে বলি গেলো গেলো দেশটা রসাতলে গেলো। অথচ, আমাদের অগোচরে আমাদের জন্য কতশত কালাকানুন তৈরি হচ্ছে নিজ দেশে তার কোন খোজ-খবরই আমরা রাখি না। সারা জীবনই কি মূর্খই থেকে যাবে জাতি!

১৮. কোঁটার কাঁটা নিয়ে দু'টা কথাঃ এখানে রাজনৈতিক ক্যাঁচাল রয়েছে। তাই বেশি কিছু বললে হ্যারাসমেন্ট ফ্রি। তাই বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না। পক্ষ-বিপক্ষ থাকলে সেখানে পরিপূর্ণ মত প্রকাশ করাটা মুশকিল। যার পক্ষে যায়, সে বাহবা দেয়। আর যার বিপক্ষে যায় সে গালি দিয়ে, হ্যারাস করে ধুয়ে-মুছে ছাপ করার পাঁয়তারা করে। শুধু নিজের মত টুকুই তুলে ধরছি। পাকিস্তান আমলে কোঁটা সিস্টেমের কারনে আমাদের পূর্বপুরুষরা চাকরি বঞ্চিত ছিলেন। বৈষম্য প্রবল হওয়াটা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কারন। বৈষম্য দূরীকরণে মুক্তিযুদ্ধারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। তারা জাতির শ্রেষ্ঠ-সন্তান। তারা যে চেতনা নিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, তাদের সে চেতনাকে আমরা কেন আবার পাকিস্তানি প্রেতাত্মার কাছে সমার্পন করছি।

১৯. ঘৃনা-বিদ্বেষ এগুলো মানুষের ভেতরে ঢোকানো হয়! এটা মানুষের জন্মগত কোন বিষয় নয়। কাল্পনিক লাভ দেখিয়ে মানুষের ভিতর ঘৃনা-বিদ্বেষের বীজ বপন করা হয়।

২০. যারা বোঝে, তাদের কথা একই রকম; ইতিবাচক। আর যারা বোঝে না, তাদের কথা বিভিন্ন রকম; নেতিবাচক। তবে, ঘৃনা-বিদ্বেষ, হিংসা ছড়ানো মানুষগুলো অন্যরকম।

২১. নারীর ঠোটে অজানা এক আকর্ষন শক্তি আছে। যে দর্শন সবাই পায় না। কেউ কেউ পায় তবে তার ভেতর আকর্ষনের অনুভূতিটাই থাকে না। এটা পাওয়ার জন্য লোভ এবং ভয়কে দূরে রাখতে হবে।

২২. আপনি যেটা জানেন, সেটা প্রকাশ করুন। যেটা জানেন না, সেটা জেনে নিন। এখন জানা এবং জানানো খুবই সহজ। মানুষের ফেস মানুষ মনে রাখে না। সভ্যতায় আপনার অবদান কতটুকু সেটাই আপনার ফেস।

২৩. ভালো মা-বাবা পেয়েছি। ভালো বন্ধু পেয়েছি। ভালো ছোট-বড় ভাই-বোনও পেয়েছি। ভালো রুমমেটও। অনেক ভালো ভালো বই পড়ারও সৌভাগ্য হয়েছে। জীবনে না পাওয়া একটাই। সেটা হচ্ছে, ভালো সোলমেটস পায়নি এ জীবনে।

২৪. I want to create a web series movie about thinking of mass people.

২৫. একজন মানুষ মারা গেলে কয়েকটি কথা মানুষ বলে। যথাঃ ক. আহ্ মানুষটা মরে গেল! খ. মনে মনে খারাপ বললেও ভালোত্বের তকমা দিয়ে দেয়। গ. আহারে লোক এই-সেই আরো কত কি; আসলে যাইহোক! আমার কাছে কথাগুলো বোগাস টাইপের মনে হয়!

২৬. দারুন একটা জিনিস শিখলাম! সেটা হচ্ছে, রুটেড করা। এখানে প্রযুক্তির রুটেড যদি সম্ভব হয় তাহলে অবশ্যই মানুষের মাইন্ড রুটেড করা আরো বেশি সম্ভব। বিশেষ করে বিজ্ঞান যেভাবে এগিয়ে গেছে তাতে করে এটা আরো বেশি সম্ভব। অবশ্য এটা একটা প্রসেস। অনেকে বলতে পারেন যে, মানুষের মনের কোন পরিবর্তন সম্ভব নয়। কারন, এর কোন নির্দিষ্টতা নেই। তারা আসলে সাইকোলজির টেকনোলজিক্যাল অগ্রগতির ব্যাপারে কোন জ্ঞান রাখেন বলে মনে হয় না! অপরাধীর মাইন্ড রুটেড করে সংশোধন করা অবশ্যই সম্ভব। সাজা অপাংক্তেয়! যারা বলে মানুষের সংশোধন সম্ভব নয়, তারা আসলে আধুনিকতাকে স্বীকার করেন বলে মনে হয় না। তারা জীবনের পরিবর্তন চাই, অর্থনৈতিক পরিবর্তন চাই, উন্নতি চাই। কিন্তু, তারা আধুনিকতার ভিত্তি "সিস্টেমে চেঞ্জ" দেখতে চান না। হাঁস্যকর বঁটে! পরিবর্তন মহাসত্য। ভালো এবং নতুন কিছু চাইলে অবশ্যই আপনাকে পরিবর্তন মেনে আগাতে হবে। তবে, সেটা অবশ্যই ইতিবাচক হতে হবে। এটা খারাপ, ওটা খারাপ বলে বলে রব তুললে তো শুধু হবে না! এগুলো থেকে পরিত্রানের জন্য এগুলোতে পরিবর্তন আনতে হবে। খারাপ খারাপ করে ভালো চাই ভালো চাই বলে ইতিবাচক পরিবর্তনটাকেও যদি অস্বীকার করেন তাহলে তো বুঝতে হবে আপনার মাথায় সমস্যা আছে! উপলব্ধির বোধটাই যে আপনার নাই সেটা আগে আপনাকে বোঝাতে হবে বলে বোধ করি! ওহ্, আপনার তো বোধই নাই! সুতরাং, আপনার বোঝানোর প্রশ্নই আসে না! সেটা হবে আমার চরমতম বোকামী!

২৭. শিক্ষিত মানুষ যখন কুসংস্কারে বিশ্বাস করে, কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, কুসংস্কারে জড়িয়ে পড়ে তখন বড়ই দুঃখ লাগে! আমার মনে হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গলদটা এখানেই! মানুষের ভেতরটাকে জাগাতে পারে না। স্ব-শিক্ষার গুরুত্বটা এক্ষেত্রে প্রবল! আর প্রাতিষ্ঠানিক ও স্ব-শিক্ষার মিলনই গড়তে পারে একজন কুসংস্কার-বিচ্ছিন্ন মানুষ। শিক্ষিত মানুষ যখন কুসংস্কারে বিশ্বাস করে, কুসংস্কারে জড়িয়ে পড়ে তখন কেমনটা লাগে! একটা সামাজিক বিপ্লব দরকার! যেখানে কিছু তরুন-যুবক সমাজ সংস্কারক প্রয়োজন! নতুন প্রজন্মই পারে এই বিপ্লবকে ত্বরান্তিত করতে! বড় বড় পাথর দিয়ে রাস্তা বানানো যায় না। মেশিনে ভেঙে ছোট ছোট করার পর সেটা রাস্তা তৈরির উপযোগী উপাদানে পরিনত হয়। ঠিক তেমনি সমাজে গেঁড়ে থাকা কুসংস্কারগুলোকে তাড়াতে হলে ছোট ছোট আঘাতে সেগুলোকে দূর করতে হবে।

২৮. সত্য কথা বলাটাও মুশকিল। কথা বললে, কারো পক্ষে যায়, আর কারো বিপক্ষে। যার পক্ষে যায়, সে বাহ্-বা দেয়। আর যার বিপক্ষে যায়, সে রাগান্বিত হয়ে তেঁড়ে মারতে আসে। সময়ের তাগিদে মনে হয়, মিথ্যা নয়, সত্য বলাই পাপ। সত্য বললে জীবননাশও হতে পারে। মিথ্যা যেথা অলংকৃত, সত্য সেথা বিতাড়িত। ন্যায় হোক বা অন্যায়; সংখ্যাগুরু, ক্ষমতাধর, শক্তিশালীদের তোষামোদ করুন। জীবন হবে জ্যামহীন, কোমল-মসৃণ। তবে দিনশেষে আপনি একজন চাটুকার। কারন, সত্য সর্বদা সরল পথে চলে। বাঁধাকেও টপকে যায়। অনেকটা মৌসুমী বৃষ্টির মত। সময় হলে উপচে বেরিয়ে যায়। স্রোতের সাথে আপনিও বিলিন হয়ে যাবেন। তাছাড়াও মানুষ আপনাকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে। চাটুকারের দল সমাজের অলিখিত বোঝা। এরাই মিথ্যাকে অলংকৃত করতে উস্তাদ।

২৯. আপনি অনেক বড় মাস্তান বা দূর্ধর্ষ একজন মারামারিবাজ অথবা কিলার। নিজেকে অনেক বড় কিছু ভাবতেই পারেন। এটাও ভাবতে পারেন যে মানুষ আপনাকে ভয় পায়, তাই কাছে আসে না বা আসলেও ভয়ে কথা বলে না বা কম কথা বলে। সারাদিন বসে আপনি ভাবতে পারেন; সে স্বাধীনতা আপনার আছে। তবে আমার জানা মতে, আপনি ভুল জানেন। মানুষ আপনাকে ভয় পায় না, ঘৃনা করে। নিতান্তই উপায়ান্তর না দেখে আপনার কাছে যায়। বিকল্প জানা থাকলে হয়তোবা যেতো না। আর কথা না বলা বা কম বলার কারনটা হচ্ছে, আপনার আচার-ব্যবহার মানুষের রুচিবোধটাই উঠিয়ে নিয়েছে আপনার থেকে। ভক্ষন অযোগ্য কু-খাদ্য মানুষ তখনই খায় যখন তার আহার্য দ্রব্য থাকে না বা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়। এটাও বলতে পারেন যে আপনি কারো ধার ধারেন না বা আপনি যাই করেন না কেনো কেউ আপনাকে কিছুই বলতে সাহস পায় না। জানেন কি! হিংস্র জন্ত-জানোয়ারেরা যখন মানুষকে বা নিরীহ প্রাণীকে ভক্ষণ বা আহত করার জন্য তাঁড়া করে তখন মানুষ বা ঐ নিরীহ প্রাণীটি দৌড়ে পালায়; অক্ষত দেহে প্রাণটাকে রক্ষা করার জন্য। লড়তে যায় না। কারণ, অক্ষত দেহে ফেরার সম্ভাবনাটা ক্ষীণ। তাই!

ভাই, জীবনটা অনেক ছোট হতে পারে। কিন্তু, ইতিবাচক উপায়ে উপভোগ্য করে তোলা যায় খুব সহজে।

মানুষ যদি মানুষ না বলে; এই সুন্দর জীবনের কোন মূল্য আছে! পশু-প্রাণীকে হার মানিয়ে উচ্চতর পশু-প্রাণী হওয়াটা বীরত্বব্যঞ্জক নয়। মানুষ হতে হবে, ভাই। আর মানুষ হওয়ার জন্য মানবিক গুনাবলির চর্চা করতে হবে। আসুন ইতিবাচক উপায়ে জীবনটাকে উপভোগ্য করে গড়ে তুলি।

৩০. দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, ধনী-গরিব মাপার সূচক একটা না। টাকার অভাব মানেই সে গরীব না। কারো কারো জ্ঞান-কাণ্ডজ্ঞানেরও অভাব আছে। আসল গরীব তো সে যার বোধের অভাব। টাকা থাকলেও সে উপযুক্ত উপায়ে ব্যয় করতে পারে না। মানুষের মঙ্গল কামনায়ও সে ব্যর্থ হয়।