সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বহুবিবাহ ও সামাজিক বাস্তবতা

এখানে প্রথমে যে কথাটা না বললেই নয় সেটা হচ্ছে, অনেকে বহুবিবাহকে সমর্থন করে। কিন্তু, কেউই চাওয়া দূরে থাক এটা মেনে নেবে না যে তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করুক। আমার জানামতে, পুরাতন কোন প্রথার সমর্থনে বা ব্যক্তিপূজারীর দল ব্যক্তি-চেতনা ও ব্যক্তিকে সুরক্ষার তাগিদে এটাতে মত জোগায়। কিন্তু, নিজের পরিবারের সাথে ঘটুক তা কেউই চায় না! আজব লাগে! যাদের সাথে এরকম ঘটেছে। বিশেষ করে ঐ পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রশ্ন করে দেখুন; তাদের ক্ষোভের মাত্রাটা কেমন! আর যাদের সাথে ঘটেনি তাদের কাছে প্রশ্ন করুন এই মর্মে যে তাদের বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করতে চায়। দেখবেন উত্তরটা কিভাবে আসে! আপনার ষোলআনা পূর্ণ করে ছেড়ে দেবে।

তাছাড়া, শুধু বহুবিবাহ নয়, দ্বিতীয় বিয়ে করা ব্যক্তিকে সমাজ খুব ভালো ভাবে নেয় না। আমি দেখেছি, ছেলে-মেয়ে বিয়ে দেয়ার সময় যারা একটু উচু মাপের লোক বলে সমাজ-স্বীকৃত তারা কখনো এ ধরনের পরিবারের সাথে সম্বন্ধ করতে চাই না। আর প্রথম স্ত্রীর বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রী হলে সামাজিক ও পারিবারিক ক্যাঁচাল লেগেই থাকে। এটা আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। যতগুলো দেখেছি সবগুলোই একই রকম সমস্যায় জর্জরিত। স্থান, কালের ভিন্নতা হলেও মোটিফটা মোটামুটি একই। সাধারনত, কোন মহিলা চাইবে না যে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করুক বা একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করুক। এমনকি যে মহিলার সন্তান হয় না, সেও তার স্বামীকে অন্য স্ত্রী গ্রহণে সম্মতি দেয় না। আমি স্বচক্ষে দেখেছি এ ধরনের ঘটনা।

বিয়ের সাথে শুধু জৈবিক তাড়না জড়িত নয়। এর সাথে একটি নতুনত্বের টান থাকে। দুটি পরিবার, দুটি মানুষের একত্রে বসবাসের অঙ্গীকারের সামাজিক স্বীকৃতি।

আমার ব্যক্তিগতভাবে বিয়ে নামক অতি-জাগতিক বিষয়ে আগ্রহ একেবারে কম। তবুও, সামাজিক, পারিবারিক বিষয় হওয়ায় একাগ্রতার চেয়ে আকর্ষনের একটা অনুভূতি কাজ করে। তবে সেটা খুব বেশিও না।

যারা বহুবিবাহকে সমর্থন করে তারা মূলত নিজের বহুগামিতাকে উন্মোচন করে। আর বহুগামিতাকে লোকে খুব খারাপ দৃষ্টিভঙ্গিতে নেয়; এটা এখানে সবাই জানে। যারা পতিতাবৃত্তি গ্রহণ করেছে বা বাধ্য হয়েছে তাদেরকে সমাজ ঘৃনার চোখে দেখে। কারন, তারা একগামিতা ছেড়ে বহুগামিতায় ধাবিত। যদিও বিজ্ঞান বলে মানুষের মস্তিষ্কে যৌনতায় বহুগামিতার অবস্থান চিরকালীন। কিন্তু, সভ্য হওয়ার তাগিদে সভ্যতার বিচারে মানুষ সেটাকে অবদমিত করে রাখে। যৌনতা একটি স্বাভাবিক বিষয় হওয়া স্বত্ত্বেও বহুগামিতা পরিলক্ষিত হলে চরিত্রহীন বলে উপাধী সেঁটে দিতে সময় নেয় না সমাজ ও কথিত সামাজিক মানুষের দল!

উপায়ন্তর না পেয়ে অবদমিত করে রাখে। এই অবদমিত মস্তিষ্কে নানা ধরনের কুসংস্কার জেঁকে বসে। যা মানুষকে পশ্চাৎপদতার দিকে নিয়ে যায়। যৌনতার বিষয়ে মানুষের সঠিক জ্ঞানের অভাব হেতু মানুষ সাময়িক সুখ উপভোগের মানসে বহুগামিতার দিকে ধাবিত হয় বা সমর্থন যোগায়।

কিন্তু, একগামিতাও আপনাকে এ সুখ দিতে পারে যদি সঠিক যৌন জ্ঞান থাকে। আর একটা সময় পর যৌনতার চেয়ে পরিবার কেন্দ্রিক সুখটা মূখ্য হয়ে ওঠে। তখন মানুষ বহুগামিতাকে অগ্রাহ্য করে অবলীলায় চলতে পারে। কিন্তু, ক্ষণে ক্ষণে যৌন জীবনে মানুষের মনের অসভ্যতাগুলো মাথা চাঁড়া দিয়ে ওঠে। ফলে বিভিন্ন ফিলীয় চরিত্রগুলো ফুটে ওঠে। কেউ কেউ পেডোফিলের মত একটি অমানবিক চরিত্র গ্রহণ করে। ("পেডোফিলিয়া" একটি রোগের নাম। এটা একটা মানসিক রোগ। যারা পেডোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত তাদের বলা হয় ‘পেডোফিল’ বা ‘পেডোফাইল’। পেডোফাইলরা শিশুদের প্রতি যৌনাসক্ত থাকে। শিশু বলতে সব শিশু, ছেলে, মেয়ে কেউ বাদ যায় না পেডোফাইলদের বিকৃত লালসা থেকে। পেডোফাইলদের বিকৃত মানসিকতার শিকার হয়ে এক একটি নিষ্পাপ শিশু যে কী পরিমাণ ভয়ংকর কষ্ট, ক্ষত, আতংক নিয়ে বেড়ে ওঠে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।)

আগেই বলেছি বহুবিবাহ আর বহুগামিতা এক। পার্থক্য একটাই, সামাজিক স্বীকৃতি। আমার জানামতে, কামাসক্ত মানুষ বহুগামিতাকে অকুণ্ঠ সমর্থন জোগায়। যারা মানুষ তারা নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। পশু-প্রাণীরাই নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। মানুষ আর পশুপ্রাণীর মধ্যে বড় পার্থক্যটা এখানে। গুরু সক্রেটিস বলেছিলেন, "নিজেকে জানো"। যারা নিজেকে জানে, তারা অন্যদেরকে খুব সহজেই বুঝতে পারে। যারা মানুষ তারা নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বলে পৃথিবীটাকেও তারা নিয়ন্ত্রণ করছে।

নিজের ভেতরকার ইতিবাচক মানুষটাকে জাগাতে হবে। সে আপনার ভেতরকার সকল নেতিবাচক চেতনাকে রদ করবে, নিয়ন্ত্রণ করবে।