সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পড়ালেখা একটি মৌলিক মানবাধিকারঃ যারা পড়ালেখাকে চাকরির বাহন মনে করে তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

আমাদের এখানে এখনো অনেকে মনে করে যে পড়ালেখা করা মানে দিন শেষে চাকরি করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। ভুল! আপনি যেটা ভাবছেন সেটা ভুল। পড়ালেখা হচ্ছে একজন মানুষের মৌলিক-মানবাধিকার।

আপনি এখনো ৫০ বছর আগের চিন্তা-চেতনার নিগড়ে আবদ্ধ হয়ে পড়ে আছেন মহাশয়! একটা সময় ছিল যখন খুব কম লোকই উচ্চ-শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ-সুবিধা পেত। ঐ সময় মানুষ পড়ালেখার প্রতি এত সচেতন ছিল না। পড়ালেখা করাটা তখনকার সময় শুধু ধনীক শ্রেণীর জন্য বলে গন্য করা হত।

আর গরীব মানুষেরা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান এ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। শিক্ষা পর্যন্ত আর তারা আগাতে পারত না। কারণ, ঐ তিনটিতেই তারা আটকে যেত। ৪র্থ নম্বর অধিকার আর তাদের ভাগ্যে জুটত না। কপাল বলেন আর তাদের নিজেদের দোষ বলেন, যাই বলেন না কেন! এটাই ছিল তখনকার বাস্তবতা।

তখন যারা একটু উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ পেত তারা ভালো কোন চাকরি পেয়ে যেত। আর এখন তথ্য-প্রযুক্তির বিপ্লবের ফলে মানুষ অনেক সচেতন। নিজের অধিকারের ব্যাপারে প্রত্যেক মানুষই আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। আগেকার দিনে মোল্লা-মৌলভীরা সাধারণ মানুষকে অনেক ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করত। এখন মানুষ ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক সহজে যে কোন ধর্মীয় বিষয় জানার সুযোগ পাচ্ছে। কোনটা সঠিক বা বেঠিক তা জানার জন্য এখন আর পরামর্শকের শরনাপন্ন হওয়া লাগে না। একটু পড়ালেখা করা থাকলেই চাইলে খুব সহজেই নিজেই জানা সম্ভব। ইন্টারনেটের কল্যানে।

আগে জমিজমা সংক্রান্ত যেকোন সমস্যা নিয়ে উকিল-মূহুরির কাছে ছুটতে হতো মূর্খ মানুষদের। আর এখন সব কিছু ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার কারণে পড়ালেখা এবং কম্পিউটার, ইন্টারনেট সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকলে খুব সহজে যে কোন আইনি ঝামেলা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। অবশ্য, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বিষয়গুলোকে আরো বেশি প্রাগ্রসর করেছে। পড়ালেখার গুরুত্ব তো শুধু চাকরির বাজারে না। এর বাইরে শিক্ষার আরো অনেক গুরুত্ব বিদ্যমান। তবে, এখানে আমাদের আরো একটি কথা মাথায় রাখা দরকার সেটা হচ্ছে, শিক্ষা কিন্তু শুধু প্রাতিষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্ব-শিক্ষার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে স্ব-শিক্ষার সমন্বয় করতে পারলে জীবনটা অন্য রকম ইতিবাচকতায় ভরে যাবে।

কিন্তু, আমরা শিক্ষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারছি না শুধু শিক্ষাকে চাকরির বাহন মনে করার কারণে। শিক্ষিত জাতি গঠনে এ ধরনের চিন্তা-চেতনা পরিহার করা অতীব জরুরি বলে বোধ করি।