সে সমাজকে আমি মানি না,
যে সমাজ অভুক্ত রেখে,
আত্মসম্মানবোধ শেখায়।
সে সমাজকে আমি ঘৃণা করি,
যে সমাজ অনার কিলিং শেখায়,
আত্মসম্মানবোধ করতে বজায়।
সে সমাজকে ফালতু ভাবি,
যে সমাজ ভালোবাসার বদলে,
ঘৃনা, হিংসা-বিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা শেখায়।
সে সমাজকে আমি তাচ্ছিল্য করি,
যে সমাজ জীবন বাঁচানো না শিখিয়ে,
হত্যার বৈধতা দিতে শেখায়।
সে সমাজকে আমি হেয় করি,
যে সমাজ আমাকে সততার চেয়ে,
টাকা উপার্জনে উৎসাহ যোগায়।
সে সমাজ নিয়ে রসিকতার খেলা খেলি,
যে সমাজ মানুষকে মানুষ না বলে,
বস্তাপচা উদ্ধৃতিতে দেয় পরিচয়।
সে সমাজকে আমি ঘৃণা করি,
যে সমাজ প্রেম-ভালোবাসাকে না মেনে,
অন্ধত্ব, বন্দিত্ব, দাসত্বের জীবন যোগায়।
সে সমাজকে আমি ছেড়া-জুতা মারি,
যে সমাজ আমার গায়ের রঙ দেখিয়ে,
কৃষ্ণাঙ্গ, শেতাঙ্গ, পতেঙ্গ বোঝায়।
সে সমাজের মূলে মূড়ো-ঝাঁটা মারি,
যে সমাজ পোশাকের দোহায় দিয়ে,
ধর্ষনের মত জঘণ্য নিকৃষ্ট অপরাধের,
সংকীর্ণচিত্ত বৈধতা জারি করায়,
কায়া-চর্চা নয়, শায়ার পরিমাপ বোঝায়।
সে সমাজকে আমি অসুস্থ্য মনে করি,
যে সমাজ সৎ পথের সন্ধান না দিয়ে,
অন্যায়, দূর্নীতি করতে শেখায়।
সে সমাজকে আমি পাত্তা দিই না,
যে সমাজ আমার জীবিকার তাগিদে,
অন্যায় উপার্জনকে বৈধতা দেয়।
সে সমাজের আমি ধার ধারি না,
যে সমাজ আমাকে মানুষে মানুষে,
অন্যায়ভাবে ভেদাভেদ করতে শেখায়।
সে সমাজের কথা আমি ভাবি না,
যে সমাজ জ্ঞান ও জ্ঞানীর চেয়ে,
মূর্খ টাকাওয়ালা বাঁচালের সম্মান দেখায়,
ভণ্ডের ষোলআনা সমর্থন জোগায়।
যেখানে জ্ঞান ও জ্ঞানীর কদর নাই,
সে সমাজের ধ্বংস নিশ্চয়।
আমাদের পরিচয় একটাই,
মানুষ; আমি বা আমরা সবাই।
আমি যে একজন বিদ্রোহী সত্তা,
আমার ভেতরে রয়েছে এক আত্মা,
এসব দেখে সে এখন অবাধ্য কর্তা,
ইহারা আমার মনকে করেছে হত্যা।
আমি আমার ভেতরে নেই,
হারিয়ে ফেলেছি সব খেই,
মূখে যা আসে তাই বলি,
নিজের মত করে চলি।
এমন একটা সমাজের চিন্তা আমি করি,
সতত প্রবহমান সৎ, সততা, ভালোবাসা,
যেখানে আছে বেঁচে থাকার তাগিদ,
আরো আছে উৎসাহ, উদ্দীপনা, আশা,
আছে জীবন-প্রত্যাশা,
জ্ঞানমূলক ইতিবাচকতায় ভরা,
নেই কোন মানব-আবর্জনা,
নেই জীর্ণ-জরা,
কূপমণ্ডুকহীন মুক্তধরা।
যেখানে মানুষ হয় মানুষ,
নেই মানুষরূপী জন্তু,
বন্ধনটা দেখতে একদম বোনা তন্তু।
সবার প্রতি রইলো একটাই আহ্বান,
একটাই তাগিদ আমরা হবো মানুষ,
থাকবে না কোন পিছুটান,
একত্রে গাইব মোরা মানবতার জয়গান।