সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা

০১. ভালো পোশাক পরলেই মানুষ ভালো হয় না। ভালো হওয়ার জন্য ভালো পোশাকের সাথে সুন্দর আচার-ব্যবহার প্রয়োজন।

০২. লেখার পর প্রকাশ করার একটা চেতনা কাজ করে। তাই নিজের লেখাগুলো প্রকাশ করি বিভিন্ন উপায়ে।

০৩. রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। এটাই এখন দেশের বর্তমান অবস্থা। সব সরকারই দলের পক্ষে, জনগনের পক্ষে কোন সরকার এদেশে হয় না। আর বিরোধী দল মানে শুধুই সরকারের বিরোধীতা করার জন্য বিরোধী দল। ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তায় বিভোর থাকার অপর নাম বিরোধী দল। কার্যকর বিরোধী দলও এদেশে হয় না। একচোখা না হলে বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা না। জাত নাকি জাতীয় সমস্যা; তা আমার বুঝে আসে না! কি একটা কথা! দূর্বার আন্দোলন! হাঁস্যকর বঁটে! এজন্য যে, দলের জন্য দূর্বার আন্দোলন! জনগন রাস্তায় পিষ্ট হয়ে গাড়ির তলে পড়ে মরে তার জন্য আন্দোলন দূরে থাক একটু-আধটু বিবৃতিও জোটে না। এখন আজব এক শব্দ "রাজপথ"। রাজপথ এখন জনগনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পথ না; সেটা এখন জনগন মারার পথ, দলের স্বার্থ গোছানোর নামান্তর এক মহা সড়ক। এ হোক আর ও! যেই থাক ক্ষমতায়। তাতে জনগনের কি আসে যায়। জনগন মরে আর হননকারীর আত্মা ফুরফুরে মেজাজে দাঁত কেলিয়ে হাসে! জনগনের টাকায় চলা জন-সেবকও ক্ষমতার লোলুপ দৃষ্টি দিয়ে জনগনের অর্থ-স্বার্থের সাথে রাসলিলা খেলে। কিছু বললে তারাই আবার পিটাই তক্তা বানাই ছাড়ে জনতাকে। অনেকে আছে ফাঁকা বুলি দিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। আর সত্যিকারের প্রতিবাদকারীরা হয় হেনস্থার শিকার। বাস্তবতা মাঝে মাঝে এতটাই নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে যে, জীবন-যাত্রাকে দুর্বিষহ করে তোলে। রক্ষা কর পাঞ্জেরী!

০৪. যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবিকে রাজনীতিকীকরণ করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে যাচ্ছে একশ্রেণী। আর এটাকে কেন্দ্র করে যৌক্তিক ও ন্যার্য্য দাবিকে উপেক্ষা করার মহোৎসাব চলছে! এর সাথে দাবি আদায়ের যৌক্তিক ও ন্যায্য আন্দোলনকে নানান অন্যায় উপায়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রত্যেকটা ঘটনায় দু'একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। সেটাকে কেন্দ্র করে পুরো বিষয়টিকে এভাবে দেখাটা ভুল হবে বলে আমার মনে হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, অতীতে অনেকে এ রকম ভুল করে চরম মাশুল দিয়েছিল। (ব্যক্তিগত অভিমত)

০৫. শেখানো বুলি আওড়ানো আর নিজের বিদ্যা-বুদ্ধির জোরে বিচার-বিবেচনাপ্রসূত আওড়ানো বুলির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য বিদ্যমান।

০৬. আপনাদের কাছে যেটা অশ্লীল হিসাবে ধরা দেয়; আমার কাছে সেটা মোটিফ অব আর্ট হয়ে ধরা দেয়। আপনারা যেটাকে অশ্লীল বলেন, আমার কাছে সেটা জীবনের বাস্তবতা।

০৮. বারবার অনুশীলনই (একই কাজ বারবার করা) যেকোন বিষয়ের সাবলীলতাকে উত্তোরত্তর বৃদ্ধি করে। সহজ ও শ্রীবৃদ্ধি করে। মানুষের মস্তিষ্কে বিষয়টি গেঁথে যায়; ভুলে না।

০৯. বাঙালি বই পাগল জাতি হলে অনেক অনেক উন্নতি হত; কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাঙালি আরামপ্রিয় জাতি। বাঙালির এ আরামপ্রিয়তা তাকে অল্প সুখ দেয়। কর্মবিমূখ আরামপ্রিয়তা বৃহত্তর সুখ থেকে তাকে বঞ্চিত করে।

১০. বাহ্যিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে, ভেতরটাকে জাগানোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

১১. জিপিএ ৫ মানেই মেধাবী নয়; সেটা আগেই প্রমাণিত হয়ে গেছে। মেধা বলতে বোঝায়, নতুন কিছু সৃষ্টি করা। আবার সব নেতাই রাজনীতি বোঝে; এটা অমূলক ভাবনা। তেমনি সমাঝদার রাজনীতিবিদ মানেই উন্নয়ন হবে; এটা ভাবাও ভুল হবে। উন্নয়নের জন্য সৃজনশীল রাজনীতিবিদ প্রয়োজন।

১২. সমালোচনা মানেই বিরোধীতা নয়। যারা সমালোচনা মানে বিরোধীতা মনে করে; বুঝে নিবেন এর মধ্যে কোন দূর্ভিসন্ধি আছে। সমালোচনা মানে সমস্যাকে গভীর থেকে চিহ্নিত করে প্রকাশ করা, শুদ্ধতার অবস্থান তৈরি করা। যারা সমালোচনা মানে বিরোধীতা মনে করে; তারা সমস্যাকে জিইয়ে রেখে প্রকটতা বৃদ্ধি করে। বোধ করি, এটাই তাদের পতন/ধ্বংস ডেকে আনে।

১৩. ছোটলেখা মানে, অল্প কথায় যৌক্তিকভাবে নির্ভরযোগ্য প্রকৃত উৎস-সমৃদ্ধ যুক্তিসিদ্ধ তথ্য-উপাত্তের প্রমাণভিত্তিক গবেষণালব্ধ বিষয়ভিত্তিক রূপকাশ্রয়ী কৌশলী বুদ্ধিদীপ্ত সরস-মন্তব্য অথবা মনের ভাব বা মত প্রকাশ। এটা কোন সাধারন মন্তব্য নয়। এর মধ্যে গভীর চিন্তা-দর্শন ও উচ্চতর বোধ-বুদ্ধি এবং জীবনবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে; স্বল্প বাক্যে।

১৪. জ্ঞানী মানুষ ও মূর্খের মূল্যায়ন কখনো এক হয় না। এ জন্য, মূর্খের কথায় প্রত্যুক্তি করা বোকামী। সময় নষ্ট ছাড়া কিছুই হয় না।

১৫. জোর করে কারো উপর কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়-অপরাধ। আপনার যদি কোন সমস্যা না হয় তাহলে কেন মানুষের স্বাধীন কর্মে হস্তক্ষেপ করবেন!

১৬. যে পাশে থাকে সেই তো আপন। দূরত্ব আপনত্ব খেয়ে ফেলে। দূরত্ব পরবর্তী সম্পর্ক ফর্মাল হয়ে যায়।

১৭. মানুষের মাঝে দুধরনের সত্তা বিরাজমান। এক. মানব সত্তা। দুই. প্রাণী সত্তা। অনেক মানুষ আছে যারা শুধু প্রাণী; মানুষ হতে পারিনি। কারন, তারা মানুষ হওয়ার জন্য যে মানবিক গুনাবলি দরকার তা অর্জন করতে পারিনি।

১৮. পৃথিবীতে শেষ বলে কোন কথা নেই! ঘটমান ঘটনার বাস্তবতা নিত্য সত্য! এর উর্ধ্বে কোন সত্য আছে বলে জানা নেই! আর আমি যখন বললাম, কুরান মানে বিজ্ঞান তখন কোন জিজ্ঞাসা ছাড়া যে ব্যক্তি নির্দিধায় ঠুনকো বিশ্বাসের জোরে মেনে নেয়। তার জ্ঞানের পরিধি কতটুকু সেটা বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সুতরাং, চুপ হয়ে গেলাম! সময়ের অপচয় রোধকল্পে!

১৯. ১০০ বছর আগে মানুষ যে গাড়ি চালাত এখন কি আর সেটা চালাবে! প্রশ্নই আসে না! এখন তো যাদের অঢেল টাকা আছে তারা নিত্য নতুন গাড়ি চালায়। কাজেই, আমাদেরকে পুরাতন চিন্তা-ভাবনা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখতে হবে। যে জাতি যত দ্রুত নতুনত্বকে গ্রহণ করতে পারে; পুরাতনকে ঝেড়ে ফেলে। সে জাতি তত দ্রুত বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগে এগিয়ে যায়।

২০. মানুষ যখন ইহজাগতিক কোন সত্তার কাছে সমাধান না পায়, তখন কাল্পনিক সত্তার কাছে নিজেকে অর্পণ করে; ন্যায়-বিচার পাওয়ার আশায়। যদিও সেটা বৃথা প্রচেষ্টা মাত্র। তবে, জ্ঞানী ও সচেতন মানুষের এ দুটোর কোনটির প্রয়োজন হয় না।

২১. ভালোলাগা ও ভালোবাসা জিনিসটাও দৈনন্দিন অভ্যাসবশত নির্দিষ্ট সময় পরে আর ভালোলাগে না বা অপাংক্তেয় লাগে।

২২. ইতিবাচক সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য মস্তিষ্কে বিশুদ্ধ অক্সিজেন প্রয়োজন। তার জন্য প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা প্রয়োজন। শহুরে কর্কশ-কংক্রিট ইতিবাচকতার সাথে সৃজনশীলতাও ধ্বংস করে দেয়। কর্কশ-কংক্রিটের প্রতাপে সৃষ্ট সবই কৃত্রিম। সেখানে মানবিক ভাবনার কোন বহিঃপ্রকাশ ঘটে না।

২৩. কবিতা মানে, গভীর উপলব্ধি ও উচ্চতর শব্দের উচ্চমার্গীয় চর্চা।

২৪. মূর্খরা পেছন থেকে চাপাতি চালাতে পারে, সম্মূখে কলম চালানো তাদের পক্ষে অসাধ্য কাজ।

২৫. ছোট্ট একখান দেশ,

মানুষ আমরা অনেক বেশি,

কষ্টে-সৃষ্টে বাঁচি,

মাতৃভূমি তবুও তোমায় ভালোবাসি,

গর্বিত আমি বাংলাদেশি।

২৬. সুন্দর কথা  বলা মানুষগুলোও মতের অমিল হলে হিংস্রমূর্তি ধারণ করে। আজব লাগে বিষয়টা! এসব দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায়।

২৭. আপনার সাফল্য লাভে তাদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন, যারা আপনার দুর্দিনে, আপদে-বিপদে পাশে ছিল, সর্বদা অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। আপনার অভাবে যারা স্বভাব নষ্ট করেনি। স্বভাবে যারা আপনার সাথে কু-আচরণ প্রদর্শন করেনি। বাকিরা  তেলবাজ, স্বার্থপর ছাড়া কিছু নয়। দুটো ভালো কথা দিয়ে তাদের অগ্রাহ্য করুন।

২৮. টাকা চাই না; বই চাই। তার জন্য যতটুকু টাকা প্রয়োজন ততটুকু টাকা চাই।

২৯. লেখার পর প্রকাশের তাগিদ অনুভব হয়; তাই প্রকাশ করি।

৩০. তোমার সাথে বলা কথাগুলো একদিন স্মৃতিকথা হয়ে ফিরে আসবে। তোমার সাথে প্রদর্শন করা আচরণগুলো একদিন স্মৃতিগাঁথা হয়ে মনের কোণে উঁকি দেবে। সেদিন হাসবো ঠিকই; তবে, হারানোর বেদনায় অশ্রু সজল হয়ে উঠবে অক্ষি। সেটা তোমাকে নয়, সময়টাকে হারানোর বেদনা। কারন, মানুষ ইহজাগতিক চৈতন্যের চেয়ে কল্পনা-বিলাসী বেশি। কাল্পনিকভাবে কষ্ট পেতেও মানুষ ভালোবাসে।

৩১. আসল গরীব তো সে, যার ঘরে ১০০ বই নেই! সে শুধু গরীব না, মূর্খও বঁটে!

৩২. আমি তোমার সমালোচনা করতে পারি, গালি দিতে পারি, তোমাকে নিয়ে, তোমার নেতাদের নিয়ে কুটুক্তি করতে পারি; এটা আমার বাক্-স্বাধীনতা, আমার অধিকার। কিন্তু, তুমি আমাকে নিয়ে বা আমার নেতাকে নিয়ে কোন কথা বলার অধিকার রাখো না; কারন, সেটা সরাসরি আমার অনুভূতিতে আঘাত করে। আমি তোমাকে জেলে ভরে দেবো নতুবা কতল করব।

৩৩. আমি আত্মনির্ভরশীল, কারো উপর নির্ভরশীল নয়! আর খালি পকেটে ঘুরে বেড়ানোর অভ্যাসটা রপ্ত করেছিলাম অনেক আগে। এজন্য ফালতু আত্মসম্মানবোধ নিয়ে ভাবি না।

৩৪. দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে সচেতন হোন। সব ভালোবাসা ওখানে নিহিত। দায়িত্ব-কর্তব্যহীন ভালোবাসা শুধু একটি অনুভূতির নাম। যার ইহজাগতিক কোন মূল্য নেই। দায়িত্ব-কর্তব্যের বাইরে সৌজন্য বজায় রাখলেই চলবে। আলগা পিরিত অসৌজন্যেরই নামান্তর। অতিমাত্রায় স্বার্থবাদীতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। অযথা কারো জন্য চোখের জল ফেলে নিজের বরাদ্ধ সময়কে নষ্ট করা চরম বোকামী। তার চেয়ে দায়িত্ব-কর্তব্য পালন আর সৌজন্য বজায় রাখার ব্যাপারে সচেতন হওয়া অতীব জরুরি। একজন সাদাসিধা মানুষের চেয়ে একজন সচেতন নাগরিক রাষ্ট্রের জন্য উন্নয়নমূলক, কল্যাণকর।

৩৫. দাদা বলত, ভালো-মন্দ মিলিয়েই জীবন। মানুষ ভালোটাই চায়। তারচেয়ে মন্দটা মানুষকে শেখায় বেশি। যা হচ্ছে, এর খুবই প্রয়োজন আছে। মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলো জানার জন্য। কে কেমন তা বোঝার জন্য। খোলোস পাল্টানো মানুষে জগৎটা ভরা। তাদেরকে চেনার জন্য ভালো-মন্দ দুটোরই দরকার আছে।