বর্তমানে একটি বিষয় খুবই প্রভাব বিস্তার করছে সমাজে। সেটা হচ্ছে, স্মার্টফোন। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে সময়ের প্রেক্ষিতে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই স্মার্টফোন। এটা তো বললাম ভালো দিক। মুদ্রার অপর পিঠে এটার মন্দ দিকটা এবার বলি। তার আগে বলে রাখি, প্রত্যেকটা জিনিসের দুটো দিক থাকে। ভালো এবং মন্দ। যে যেভাবে ব্যবহার করে, তার কাছে জিনিসটা বা বিষয়টা সে রকমই। দেখার পার্থক্য; দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। যাহোক, কর্মজীবী মানুষের কাছে স্মার্টফোন খুবই প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। কিন্তু, ইদানিং স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের মাঝে স্মার্টফোন ব্যবহারের ঝোঁক, মাত্রাটা খুবই চাউর হয়ে উঠেছে। তাদের যুক্তি হচ্ছে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা। অপরপক্ষে, তারা এটার অপব্যবহার করে। ফেসবুক মেসেঞ্জারে (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে) প্রেমের রাসলিলা চালায়। দিনশেষে পড়ালেখা লাটে ওঠে। ভাইরে, জীবনটা একান্তই নিজের; কিভাবে সাজাবে সেটা একান্ত তোমারই ব্যাপার। মা-বাবা, মুরুব্বিরা তোমাকে দিক-নির্দেশনা দিতে পারে, সহযোগিতা করতে পারে; এর বেশি কিছু না। অনেকে বলে পড়ালেখা করে কি হবে; চাকরি নাই। প্রথমত, শিক্ষাটা মৌলিক অধিকার। দ্বিতীয়ত, চাকরি পাওয়ার মত করে তো পড়ালেখা করা চাই। সারাদিন ফেসবুক মেসেঞ্জারে সপ্তসুরে প্রেমের গান পরিবেশন করে; যাই করে পাশ করার জন্য পড়ে কি আর চাকরি পাওয়া যায়! তোমাদের কীর্তিকলাপ আমার ভেতর সপ্তসুরের হাস্যরসবোধের উদ্রেক ঘটায়! অর্থাৎ, তোমাদের কর্ম উপরতলার মানুষের কাছে তোমাদেরকে হাসির পাত্রে পরিনত করে। এত নিচে নামার কি দরকার, ভাই! প্রেম কর; কোন সমস্যা নাই। তার আগে প্রেম কি জিনিস সেটা তো জানা দরকার। প্রেম হচ্ছে, "জৈবিক তাড়নাজাত কারনে দুটি দেহের একত্রিত হওয়ার মনোবাসনা"। প্রেম প্রথমত দু'প্রকার। যথা: প্লেটনিক প্রেম আর ফ্রয়েডীয় প্রেম। প্লেটনিক প্রেম হচ্ছে নিষ্কাম। এখন আর চলে না। আর ফ্রয়েডীয় প্রেম হচ্ছে সকাম। যেটা বর্তমান। ফ্রয়েডীয় প্রেমের সাথে বয়সের একটা ব্যাপার আছে। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া এবং বোধশক্তি জাগ্রত হওয়া। যেহেতু সকাম। যাতে করে জীবনে কোন ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ না হয়। একটা ভুল সিদ্ধান্ত মানুষকে দাড় করিয়ে পিছিয়ে দেয়। যে ব্যক্তি যত দ্রুত জীবনের বাস্তবতাগুলোকে ইতিবাচক উপায়ে উপলব্ধি করতে পারবে সে তত দ্রুত জীবনবোধের সন্ধান পাবে।
ভার্চুয়াল (ফলতঃ বটে, কিন্তু বাহ্যতঃ নয়) জগত আমাদের চোখে রঙিন চশমা পরিয়ে রেখেছে। এটা খুলে গেলে জীবনের রূঢ় বাস্তবতাগুলো সামনে এসে হাজির হয়। তখন আর কিছু করার থাকে না; হা-হুতাশ করা ছাড়া। সময় গেলে সাধন হবে না। আগেই সচেতন হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। বন্ধু-বান্ধবের প্ররোচনায় যেন ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারন, বন্ধুত্ব জিনিসটা দ্বন্দ্ব-মধুর। চিরস্থায়ী নয়; ক্ষনস্থায়ী। পাশাপাশি যতদিন থাকা যায় ততদিন বন্ধুত্ব বজায় থাকে। কোন কারনে দূরত্ব তৈরি হলে সে বন্ধুত্ব আর আগের মত থাকে না। তবে, সামাজিক জীব হিসেবে বন্ধুত্ব ও বন্ধুর প্রয়োজন আছে। বুঝে এগুতে হবে। এর বেশি কিছু বলার নেই।
আমাদের সমাজে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে প্রেম হওয়ার অর্থটা অন্য রকম। উত্তেজনা বশত তারা অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। যেটা সমগ্র জীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারন হয়ে দাড়ায়। তাই বলি কি, যেহেতু প্রেম মানে ''জৈবিক তাড়না" সেহেতু সেটা বিয়ের পরে করাই উচিত বলে বোধ করি। কারন, এ সমাজ বিবাহ বহির্ভূত জৈবিক সম্পর্ককে ট্যাবু মনে করে; তাই। আর যদি সমাজ এটাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করত তাহলে কোন সমস্যা ছিল না। আগে দেহ-মনের সঠিক গঠন; তারপর সেটার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে নয়। অল্প বয়সে জৈবিক তাড়না মেটাতে গেলে দেহ-মনের উপর প্রচুর ক্ষতিকারক সমস্যা গেড়ে বসে। যেটা ভবিষ্যৎ জীবনকে হুমকির মূখে ঠেলে দেয়। অল্প বয়সে বিয়ে যেমন ক্ষতিকারক, প্রেমটাও তেমনি। কি দরকার নিজের ক্ষতি নিজে করার। এমনিতে ক্ষতিকারক বস্তু ওৎ পেতে বসে থাকে, কখন ক্ষতি করা যায়; তার উপর এগুলো হলে জীবনটা বরবাদ হয়ে যাবে। জীবনবোধের সন্ধান করো ভাই! দিনশেষে হাপিত্যেশ করা লাগবে। বাবা-মা সন্তানের সুখ-শান্তির জন্য কত কষ্ট পরিশ্রম করে। এটা তো চাক্ষুস। দেখেও তো নিজের ভেতরে চিন্তার উদ্রেক ঘটার কথা। আমার জানা মতে, গুটিকয়েক বাবা-মা অশিক্ষা-কুশিক্ষার কারনে সন্তানের সাথে দূর্ব্যবহার করে। তবে, প্রত্যেক পিতামাতা সন্তানের মঙ্গল কামনায় সর্বদা বিভোর থাকে; এতে কোন সন্দেহ নেই। তাদের ঘর্মাক্ত মূখের দিকে তাকালে তো উৎকট হওয়ার কথা মাথায় আসারই কথা না।
এখানে সর্বাগ্রে মা-বাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। পশু-প্রাণীর বাচ্চাগুলো জন্মেই হাঁটতে ও খেতে শুরু করে। তাই তাদের মা-বাবাদের দায়িত্ব অনেক অনেক কম। মানুষের বাচ্চাগুলো জন্মের পর কাঁন্নাকাটি করে। কারন, তারা অসহায়। জন্মেই নিজের কিছু করার ক্ষমতা নেই। তাই মানুষের মা-বাবাদের দায়-দায়িত্ব-কর্তব্যটা অনেক অনেক বেশি। তাই বলে তারা প্রভূ নয়। সহযোগী সামাজিক অভিভাবক মাত্র। যাহোক, উপস্থাপিত বিষয়ের ক্ষেত্রে পিতামাতার আরো বেশি সচেতন হওয়া দরকার। যেন সন্তানেরা উপকারি বিষয়ের অপব্যবহার না করতে পারে সে ব্যাপারে। যে কোন বিষয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাই বলে তাদের স্বাভাবিক জীবন-যাত্রায়, চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় এমন কোন কাজ করা যাবে না। সেটা হীতে-বিপরীত হয়ে দাড়াতে পারে। তাদের চলার পথকে প্রশস্ত ও মসৃণ হয় এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কথা বলা-কাজ করা প্রয়োজন। সন্তানকে সব সময় ভালো-মন্দের বিষয়ে সচেতন করে তোলা অতীব জরুরি। সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে না তুললে সন্তান সঙ্গ দোষে নষ্ট হয়ে যেতে বেশিক্ষন সময় লাগে না। এমনিতেই চতুর্দিকে নষ্টামীতে ভরপুর। তার উপর মা-বাবার ক্যাঁচাল যদি থাকে; তাহলে তো কোন কথায় নেই। সোনায়-সোহাগা! খারাপে-খারাপে ফাউল! অনেক বাবা-মা আছে যারা সন্তানের সাথে দূর্ব্যবহার করে। এটা একদমই কাম্য নয়। দিনশেষে ঐ সন্তান অমানুষে পরিনত হয়ে বাবা-মার সাথেই দূর্ব্যবহার করবে; এতে কোন সন্দেহ নেই। ইট মারলে পাটকেল তো খেতেই হবে! প্রত্যেক পিতামাতাকে তার সন্তানের ব্যাপারে আরো বেশি সচেতন হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।