সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা

০১. মানুষের ভালবাসাটাও কৃত্রিম হয়! আগে শুনতাম! এখন দেখছি! উপলব্ধিটাও হাড়ে হাড়ে! তবে একটা বিষয়, সৌজন্যতা কখনো ভালোবাসার নিদর্শন হতে পারে না! ওটা শুধুই সৌজন্যতা! যেটা মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে, আত্ম-সম্মানবোধ বজায় রাখার খাতিরে করে থাকে! স্বার্থপর সবাই হতে পারে, কিন্তু মানুষকে ভলবাসতে সবাই পারে না। কারন দার্শনিক হব্স বলেন, "মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক"। যতক্ষন মানুষ স্বভাবের উর্ধ্বে না উঠতে  পারে ততক্ষন সম্ভব নয়!

০৪. আপনার কথা, লেখায় যদি তথ্য-উপাত্তের যৌক্তিক তথ্যসুত্র ও উপস্থাপনায় যৌক্তিক ভিত্তি থাকে তাহলে সেটা মানুষের আস্থায় পৌছাতে সময় লাগবে না বলে বোধ করি।

০৩. সমালোচনাও একটি আর্ট/শিল্প। যদি সেটা যৌক্তিক ও গঠনমূলক হয়।

০২. জীব-যন্তুরা আসলেই অনেক আধুনিক! নগরায়ণের করুণ-রসাত্মক দৃশ্য দেখলে বোঝা যায়। মানব সৃষ্ট বজ্র দুর্গন্ধ নাগপাশ। বিশেষ করে মস্তিষ্ক-পঁচা গন্ধে টিকে থাকা দায়!

০৫. আপনি একজন মানুষকে ইচ্ছামত অপমান করার উদ্দেশ্য নিয়ে তার সামনে উপস্থিত! মনে রাখবেন, আপনার পাতানো ফাঁদে আপনি নিজেও পড়তে পারেন; সমূহ সম্ভাবনা থেকেই যায়। ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমূখী প্রতিক্রিয়ার কথা ভুলে গেলে হবে নাহ!

০৬. গভীর রাত সৎ-অসৎ কর্মের ১০০ ভাগ উপযুক্ত সময়। সৎকর্মের মধ্যে জ্ঞানচর্চার মোক্ষম সময়। সুনসান পরিবেশ, পিনপন নীরবতা, কোলাহলবিহীন দুনিয়া; এ যেন অন্য এক পৃথিবী। তাই, জ্ঞান-সাধনায় মত্ত আমি একজন মধ্যরাতের জ্ঞানসাধক।

০৭. এখনো যারা মনে করে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সাথে থাকলে ভালো হতো বা বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়ে ক্ষতি হয়েছে। তাদের জন্য এই "মর্মান্তিক টোটকা"! যদিও জানি, তারা পাকিজাত! তারপরও, উপশমের জন্য রোগের চিকিৎসাগত প্রচেষ্টা তো চালাতে হয়! তাই! আর সবচাইতে বড় কথা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস না জেনে কথা বলা লোকের সংখ্যাই বেশি। কাজেই, মুক্তিযুদ্ধের নির্ভরযোগ্য প্রকৃত উৎস-সমৃদ্ধ যৌক্তিক তথ্য-উপাত্তের প্রমাণভিত্তিক গবেষণালব্ধ ইতিহাস পাঠের আহ্বান জানাচ্ছি সকলকে।

০৮. যে অন্যের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না নিঃসন্দেহে সে স্বৈরাচার অথবা ভণ্ড। তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। সমালোচনা পরিশুদ্ধিতার অবস্থান তৈরি করে। যদি গ্রহনের যোগ্যতা থাকে।

০৯. আগে একটা কথা একটু ভাগাভাগি করে নেই; সেটা হচ্ছে, লেখাটা লেখার সময় চোখ দিয়ে দু'ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়েছিল। গানটা শোনার সময় অনেক চিন্তা কাজ করছিল মস্তিষ্কে। তার মধ্যে প্রথম, তোমার কথা বারবার মনে হচ্ছিলো। তবে প্রত্যেকবার মনে হচ্ছিলো তোমাকে হারিয়ে ফেলেছি। তুমি যোজন যোজন দূরত্বে চলে গেছো।  আমি বারবারই স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে ভালোবাসার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, মনে হয় ব্যর্থ হয়েছি। গড়তে পারিনি। যেটুকু পেরেছি তাও ভেঙে গেলো স্বার্থবাদী দৈব-শক্তির কবলে পড়ে। এটা প্রেমের সম্পর্ক ছিল না; বন্ধুত্বের, স্বার্থের নয়; আত্মা ও আত্মিক চেতনার। ভাই ভাইকে ভালোবাসবে এটাই তো স্বাভাবিক! কিন্তু, আমার ভালোবাসা মূল্যহীন, মূল্যায়নহীন হয়ে গেছে। কোন প্রতিদান চাই না; শুধুই ভালোবাসতে চাই। কিন্তু, সে সুযোগটাও হাতছাড়া হয়ে গেছে। ভালো থেকো; ভালো রেখো পাশের মানুষগুলোকে। আমি তো উলুখাগড়া! আমাকে নিয়ে আর ভাবতে হবে না। প্রয়োজনবোধে নিজেকে রিচার্জ করে নিচ্ছি। তোমার ডাকে সাড়া দেয়ার যোগ্যতা মনে হয় হারিয়ে ফেলেছি। তাই সাময়িকভাবে মাঝে একটা কল্পিত রেখা টেনে দিলাম। মন থেকে নয়; বাহ্যিকভাবে। সময়ের টানে আবারো খুলে যেতে পারে। তোমার জন্য ভালোবাসার সদর ও খিড়কি দুয়ার সব সময় খোলা। ভালোবাসা চিরন্তন! শুভকামনা! ( খোলা চিঠি)

১০. সৃজনশীল কর্মকাণ্ড দেখলে আমারও সেটা করতে মুঞ্চায়। সৃষ্টির পর উন্মুক্ত করে দেয়ার মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক মানসিক প্রশান্তি কাজ করে। এখানে কোন পৈশাচিকতা কাজ করে না। যে সৃষ্টির পিছে পৈশাচিক আনন্দ পাওয়ার আবেদন কাজ করে সে সৃষ্টি সর্বজনগ্রাহ্যতা হারায়।

১১. এগুলো তো কথা না! এগুলো "কথার কথা"! আসল কথা বললে পাগলও তেড়ে মারতে আসে! তাই "কথার কথা" বলি!

১২. নিজেরা করলে অজুহাত! বাকিরা করলে দু'হাত!

১৩. মানুষের বাইরের সৌন্দর্যের সাথে ভেতরের সৌন্দর্য যদি একিভূত হয়; সেক্ষেত্র বলতে হয়, শুধুই ওয়াও।

১৪. আমি যা বলি বা লিখি তার মধ্যে একটা সার্বিক সুক্ষ্ম পর্যবেক্ষন থাকে। কাউকে বা কোন গোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট করে বা সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলি না বা লিখি না। কেউ বা তারা যদি তেমনটা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে বিষয়টি মোটেও কাঁকতালীয় নয়; বিষয়টি পর্যবেক্ষনগত মিল।

১৫. যে সমাজে খারাপ মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায় সে সমাজে স্বল্প সংখ্যক ভণ্ডের জন্ম হয়। তারা পদ্ধতিগতভাবে অমানুষদের ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করে। এমনকি এ ভণ্ডের দল নিজের জন্য সব সৎ করে নেয়। বাকিদের জন্য অন্যান্য পদ্ধতিগত ব্যবস্থা রাখে। সেখানে অমানুষদের কবলে পড়ে ভালো মানুষ জন্মাতে পারে না।

১৬. যখন শরীরের শক্তির সাথে মনের শক্তি একত্রিত হয় তখন উন্নতি হতে বাধ্য। শরীরের শক্তি বাড়াতে যথাযথ খাদ্যগ্রহণ প্রয়োজন। মনের শক্তি বাড়ানোর জন্য জ্ঞান চর্চার বিকল্প নেই।

১৭. মূর্খ মানুষ তিন ধরনের। এক. শুয়ে পড়লে আর উঠে না; অসামাজিক, অমানুষও বলা যায়। দুই. বোঝা চাপিয়ে দিলে টানতে থাকে; কোন রকম বিচার-বিবেচনা ছাড়াই। তিন. যা হয় হোক টাইপের; কাণ্ডজ্ঞানহীন।

১৮. আপনি, তুমি, তুই বলার চেয়ে ইউ বলাতে সব হয়ে যায়। অর্থাৎ, একের ভিতর সব। আলাদা আলাদা করে সম্বোধনের প্রয়োজন হয় না।

১৯. এখানে আমি তোমাদের মত করে বলি এবং চলি। তাই সচরাচার ভূলগুলোও তোমাদের মতই হয়। নিজের মত করে যদি বলি বা চলি তাহলে তোমাদেরকে বুঝতে সমস্যা হয়। তাই!

২০. ভালো মানুষকে পাগল বললে সে কিছু বলে না। কিন্তু, পাগলকে পাগল বললে সে পাগলা-কুত্তার চেয়েও জঘণ্য আচরণ করে।

২১. শিশুরা নরম কাঁদার মত। মা-বাবা তাদেরকে যা বানায়। তারা তাতে পরিনত হয়। কেউ দেবতার পূজা করে, কেউ আল্লার ইবাদত করে, কেউ গির্জায় প্রার্থনা সঙ্গীত গায়, কেউ মানবতার গান গায়, কেউ জ্ঞান-সাধনা করে, কেউ টাকার পিছে ছুটতে ছুটতে জীবনের খেই হারিয়ে ফেলে। এর মধ্যে জ্ঞান-সাধনাটা আমার কাছে জগৎশ্রেষ্ঠ কর্ম মনে হয়।

২২. যে ব্যক্তি যত দ্রুত জীবনের বাস্তবতাগুলোকে ইতিবাচক উপায়ে উপলব্ধি করতে পারবে সে তত দ্রুত জীবনবোধের সন্ধান পাবে।

২৩. পড়ালেখা করার জন্য তিনটা জিনিস অতীব জরুরি। এক. ইচ্ছাশক্তি। দুই. মনোযোগ দক্ষতা। তিন. ধৈর্য্য শক্তি। 

২৪. আমার ব্যক্তিসত্তার কোন মূল্য নেই। আমার সাথে জুড়ে যাওয়া বস্তাপচা উদ্ধৃতিগুলোর (ট্যাগ) অনেক মূল্য। মানুষ এ জন্যই টাকার পিছে ছুটে। কিন্তু, প্রকৃত সুখ নিহিত জ্ঞান চর্চার মধ্যে।

২৫. মূর্খ এবং ধর্মান্ধ সমাজের কুসংস্কার দূর করার জন্য পাথর খোদায় করার মত ছোট ছোট করে আঘাত করতে হয়। একটা সময় দেখা যাবে কুসংস্কারগুলো আপন ইচ্ছায় বিদায় নিয়েছে। ধর্ম ও ধর্মযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যা বন্ধ, সতীদাহ প্রথার উচ্ছেদ, বিধবা বিবাহ চালু, শ্রেণী বৈষম্য, আশরাফ ও আতরাফের চেতনার মূলোৎপাটন ইত্যাদি বিষয়ে সমাজকে জোরালো আঘাত করতে হয়েছিল। অনেক জ্ঞানী মানুষকে প্রাণও দিতে হয়েছিল এগুলোর দূরীকরণে। জ্ঞানের পিতা সক্রেটিসকেও প্রাণ দিতে হয়েছিল অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার নিয়ে কথা বলার জন্য। সুতরাং, বোঝা যাচ্ছে যে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করার জন্য আঘাত করতেই হবে। যদিও মূত্যুকে বরণ করতে হয়। মূত্যুকে কোন জ্ঞানী লোক ভয় পায় না। যার প্রমাণ গুরু সক্রেটিস। অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার একটি সমাজকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় এ অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার। আসুন সবাই মিলে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে না বলি। জ্ঞানকে, ধ্যান করি।

২৬. রাতের অন্ধকারে কোথাও যদি এক চিলতে আলো জ্বলে সেটা আলোকবর্তিকার মত কাজ করে। সবাই একটুখানি আলোর ছোয়া পেতে সেখানে ছুটে আসে। জগতটা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেছে। কিছু সংখ্যক আলোকিত মানুষের প্রয়োজন। যাদের ছোয়ায় দুনিয়াটা আবারও আলোকময় হয়ে উঠতে পারে। একজন পাঞ্জেরীর প্রয়োজন। যিনি এই ঘুনে ধরা, পিছুটান মারা, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, ভবঘুরে, অন্ধ সমাজকে জাগিয়ে তুলবে, আলোর দিশা দিয়ে অমানিশা ঘুচাবে।