সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জন্ম, আজন্মই পাপ

আপনি মানুষকে গালি দেন না, মানুষের ক্ষতি করেন না, অনিষ্ট করেন না, ফাঁকি দেন না তবুও মানুষ আপনাকে ঘৃণা করবে, গালি দিবে, হেনস্থা করবে শুধু সত্য কথা বলুন, ন্যায়ের কথা বলুন, যৌক্তিক কথা বলুন; তাহলে বুঝতে পারবেন। আপনার শত্রুরও অভাব হবে না।

আমি মনে করি, "ভালো কিছু করার আগে, ভালো মানুষ হতে হবে।" কেননা, ভালো মানুষ না হলে, ভালো কাজের যথাযোগ্যতা তৈরি হয় না। যদিও ভাল-মন্দ বিষয়টা আপেক্ষিক। তবুও, ভাল-মন্দ বিচারে বিবেকবোধ শাণিত করলে মানবতাবোধের যায়গা থেকে ভালোত্বের সংজ্ঞা একই দাড়ায়। অন্যের উপর জোর করে মত চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা অমানুষের কাজ। ভালো মানুষ হতে হলে, সবার মত-প্রকাশ করতে দিতে হবে। মত-প্রকাশে বাঁধা দিয়ে অমানুষ হওয়া যাবে না।

সবাই মত-প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে নিজের মত-প্রকাশ করতে পারার অবাধ সুযোগকে বোঝে। অন্যের ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন বিষয় দিয়ে মত-প্রকাশ করার ক্ষমতাকে আটকে দেয়। যেমন, অনুভূতির দোহায়। বিষয়টি যেমন হাঁস্যকর, তেমন দুঃখেরও। আমরা ভেতরে ভেতরে একগুয়েমীর বীজ পুষে, বাইরে আধুনিক। মাঁকাল ফলের মত।

প্রাচীন যুগে স্বাধীন মত-প্রকাশের কারনে মৃত্যুকে পর্যন্ত বরণ করতে হয়েছিল। এক্ষেত্রে গুরু সক্রেটিসই সবচেয়ে বড় উদাহরন। এখন আমরা সবাই তাকে "জ্ঞানের পিতা" উপাধীতে ভূষিত করেছি। স্বাধীন মত-প্রকাশের জন্য জীবন দিয়ে গুরু আজ সর্বজনীন পূজ্য। কিন্তু, এখনো স্বাধীন মত-প্রকাশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে হচ্ছে অনেককে। সেক্যুলার শিক্ষা গ্রহণ করেও মানুষ সেক্যুলারিজমের বিরোধীতা করে। স্ব-বিরোধী কর্মকাণ্ড। আবালীপনার ষোলআনার বহিঃপ্রকাশ। এর মধ্যে অনেকে আবার চুপা-শয়তান ভণ্ড। যে দিকে পানি পড়ে, সে দিকে ছাতা ধরে। মোনাফেক! এরা সমাজের অনিষ্টকর কীট-পতঙ্গের মত ক্ষতিকর।

আজকের দিন পর্যন্ত যত রকমের মানব কল্যানকর জিনিস আবিষ্কৃত হয়েছে তার সবই এই স্বাধীন মতের, স্বাধীন কর্মের মাধ্যমে। একগুয়ে লোকেরা আজীবন এটার বিরোধীতা করে এসেছে। অথচ, তারাই প্রথম এই আবিষ্কারগুলোর ফলভোগী।

মানুষের প্রচুর ইতিবাচক চিন্তা করার শক্তি আছে। এই চিন্তাকে কাজে লাগানোর জন্য স্বাধীন মত-প্রকাশ করার স্বাধীনতা দরকার।

জয়তু মুক্তমন, উদারতার। স্বাধীন মতের।