নীড়ের সন্ধানে
-শেখ রহিম
সকলি ছেড়ে নেমেছি আপন নীড়ের সন্ধানে
মায়ার এই বাঁধন ছেড়ে নামবো নতুন বন্ধনে
তার লাগি সাময়িক সুখের মোহ ত্যাগ করে
জীবনকে চালিত করেছি নতুন অজানা সুরে
নব্য-জীবনের আশায় নতুন করে যাত্রা শুরু
যদ্যপি বলেছিলেন আমার গুরু
শেষ করা নয়, শুরু করাই কঠিন
তাই তো নতুন করে করতে হলো নব্য-রুটিন
আশীর্বাদ চাই সকল শুভাকাঙ্খি ও গুরুজনে
ভালোবাসি যাদের প্রত্যেক ক্ষনে, মনে-প্রাণে
নতুন জীবন যেন হয় সুখের
অমঙ্গল, না হয় যেন দুঃখের
বিচিত্র সব মানুষ আর অদ্ভূত কিছু অভিজ্ঞতা
তবুও আছে উদ্দাম ও প্রেরণা, আছে সজীবতা
যদিও জীবন এখন উদ্ভট উটের পিঠে
অনেকের আচরণ মেজাজ খিটখিটে
তবুও যে আছি অনেক অনেক ভালো
আশায় বাঁধি বুক জ্বালবো নতুন দিনের আলো।
প্রস্তাব
-শেখ রহিম
বলব বলব ভাবছি কিন্তু বলতে পারছি না
বিবেক শাণিত তবু মনে শরমের আনাগোনা
হয়তো না পারলে তুমি হবে স্মৃতির মিনার
এ মননে পাহাড় সমান দুঃখ জমবে আমার
তাই কবি হয়ে আশ্রয় নিলাম এ কবিতার
সাগ্রহে আশা যদি কবিতা হয়ে নামে অবতার
প্রেম তো জৈবিক তাড়নাজাত মনের বিকার
ওটা নয় তোমায় আমি বানাবো বৈধ বিহার
তোমার পরশ পেতে সর্বদা মন আকুলিবিকুলি
তোমায় কেমনে বোঝায় মনের কাণ্ড সকলি
এখানে তোমায় সব বলতে পারবো না আমি
কিছুটা হলেও কবিতা দিয়ে বুঝে নাও তুমি
দুই দিনের এ দুনিয়ায় কে বা কার হয় অন্য
তোমার একক পরশে আমি হতে চাই বন্য
ভালো লাগা আর ভালোবাসা তো এক নয়
তবে ভালো লাগা থেকেই ভালোবাসা হয়
তোমায় লেগেছে আমার অফুরন্ত ভালো
এবার হোক না ভালোবাসা শুরু করি চলো
তোমার-আমার স্পর্শে সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
সৃষ্টি হবে নতুন আলো জ্বলবে অন্য উদ্ভাসে
এ আশার মাঝে চিন্তার সাঁঝে কথার ভাজে
আশায় আছি প্রত্যুত্তরটা যেন না হয় বাজে
তার প্রভাবটা পড়বে আমার সকল কাজে
যদি না হয় বাজে তোমায় বরণ করব তাজে
এসো হে প্রিয়তম, পেতে দাও মাথা, চিত্তে মম।
গোধূলী-জীবন
-শেখ রহিম
আমি এখন রিক্ত,
নয়ন আমার সিক্ত,
অনিশ্চিত এক জীবন,
ভুলের তীরে সদা-গমন,
বুুভুক্ষুর মত হাহাকার,
সমাজ স্বীকৃত বেকার,
দেখার কেউ নাই,
জীবনটা উড়ন্ত ছাই,
আলো-ছায়ার মাঝে,
কাঁন্না ভাতের সাঁঝে,
কটু-কথা কানে বাজে,
জীবন-ওষ্ঠাগত তার ঝাঁজে,
আপনও এখন পর,
অন্যরা স্বভাবতই স্বার্থপর,
আমি একজন কবি,
আমি সবসময় ভাবি,
কত সুন্দর জীবন-ছবি,
কবি কবিতার সবিতা,
কবি রচনে ভণিতা,
জীবন ছন্দের ছবিটা,
তা মোর সাথে,
কখনো কি আঁটে,
করি রচন ভাটে,
হয়েছে কি তাতে,
জীবন চলে কি তাতে,
চলার পথে চায় টাকা,
টাকা ছাড়া সবই ফাঁকা,
প্রয়োজনে দৌড়াচ্ছি একা,
মাঝে-মধ্যে খাচ্ছি ধাঁক্কা,
চেষ্টা করে আবার দাড়াই,
জীবন যেন দেড়-আড়াই,
হচ্ছি জীবন-যন্ত্রনায় মাড়াই,
যান্ত্রিক জীবনের দুনিয়ায়,
সবাই একান্ত একাই,
সামাজিকতার কলে আমরা,
কখনো বা হই তুমি তোমরা।
আমার আমিতে
-শেখ রহিম
চলে গেলাম আমার আমিতে
জ্ঞান চাষ করব এখন নিজের জমিতে
আর বলব না তোমাদের কথা
তোমরা দিয়েছো যে মনে ব্যাথা
তোমাদের মঙ্গলে করি বাণী রচনা
তোমরা ততই করো ভূল অর্চনা
অযৌক্তিক ব্যাখ্যা আর ভুলে ভরা জীবন
দিনশেষে হবে কাউয়ার মতন মরণ
সময় থাকতে মানুষকে করো মূল্যায়ন
সুন্দর করো নিজের তনুমন
পবিত্র করো নিজের অন্তরাত্মা
গড়ে উঠবে নিজের একক সত্বা
ভালো কিছু করার আগে নিজে হও ভালো
তোমার পরশে ছড়াবে জ্ঞানের আলো
যারা জ্ঞানকে মনে করে উড়ন্ত ফানুস
তারা জগৎ সেরা অমানুষ
তাদের সাথে করো না বন্ধুত্ব
অকালে চোখ থাকতে বরণ হবে অন্ধত্ব
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিয়ে জ্ঞানকে করো না মাপ
এটা হবে মহাভুল মহাপাপ
পরে পোহাতে হবে শোকতাপ।
জ্ঞানপাপী-ভণ্ড ও মূর্খ
-শেখ রহিম
জ্ঞানপাপীরা হয় ভণ্ড,
মূর্খের থাকে না জীবনের ছন্দ,
উভয়ের কথায় ছড়ায় দূর্গন্ধ,
উহারা জ্ঞানকে করে লণ্ডভণ্ড,
জ্ঞানের কথা বললেও তারা জ্ঞান-বিচ্ছিন্ন,
তাদের কাছে মানবতা নগণ্য,
তারা যে অতিশয় ভোগবাদী,
তাদের মস্তিষ্ক আগাছা-মস্তিষ্ক অনাবাদী,
মূর্খ চিন্তাকে রাখে বন্ধক,
তাদের কাছে মূল্যহীন জ্ঞান-গন্ধক,
শিক্ষিত হয়েও যে মূর্খ,
তার সাথে করো না বিতর্ক,
প্রামাণ যদিও হয় অর্ক,
সে করে যাবে অযথা কুতর্ক,
জ্ঞান ও জ্ঞানীর কদর নাই
সব কিছু ভরে গেছে মূর্খতায়
একথা কুকথায়
দিন কাটে কর্মহীনতায়
দিনান্তে দেয় আল্লার দোহায়
শোন'রে বোকা
মরে হ'বি বড়ই একা
সময় থাকতে কর কর্মযোগ
যদি করতে চাও সুখভোগ।
বারোয়ারি আমোদ
-শেখ রহিম
ঈদ মানে খুশি, ঈদের আনন্দে সবাই আত্মহারা
ধনী-গরীব সবাই এক, ধরনী আনন্দে মাতোয়ারা
নেই কোন ভেদাভেদ, সবাই এক কাতারে বন্দি
যেন অন্য রকম এক মানবতার ভিন্ন স্বাদের সন্ধি
আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা যার যার মত করে খুশিতে
এ ঈদ বেঁধেছে সবাইকে একক মিলনের রশিতে
ঈদের সময় দিতে হবে সবার মসৃণ-ঈদ-সেলামি
না দিলে সবাই ভাবে তার ব্যক্তিত্বে আছে নুলামি
শিশুর ঈদ নতুন জামা-কাপড় ও ইচ্ছামত সাজ
ঈদের সময়' বুঝি এখানে চলবে তাদেরই রাজ
দূরন্ত কিশোর ছুটেছে নিয়ে ছুটন্ত এক যন্ত্রযান
দিনশেষে বুভুক্ষু নয়নে শেষ করে মুরুব্বির মান
যুবকের ঈদ কাটে ভালো লাগা না লাগার মাঝে
দিনান্তে চিন্তা কড়ির ঝাঁজে, চিন্তা ভাতের সাঝে
মায়ার বাঁধন তাদের বেঁধেছে এমন এক বিষয়ে
স্বজনের দ্বারে ফেরে থাকুক জীবন যত সংশয়ে
একজন বাবার ঈদ কাটে সন্তানের সন্তুষ্টি বিধানে
মায়ের স্বাধ ঈদে সবাই থাকুক এক-আত্মার বাধনে
সন্তানের খুশি মা-বাবার এক মাত্র চাওয়া-পাওয়া
ঈদের সময় একে-অন্যের বাড়ি ভুরি-ভোজ খাওয়া
ঐ যে বৃদ্ধ-দাদু ঈদের নামাজে যায় পরে সাদা লুঙ্গি
বোঝা যায় দাদুরও বয়সে ছিলো বন্ধু-বান্ধব-সঙ্গী
মহিলাদের ঈদ কাটে ফির্নি-সেমাই করে বিতরন
এর মাঝে রয়েছে ভিন্ন আনন্দ, ভরে ওঠে তনুমন
ঈদ যেন অন্য রকম মানুষের এক ভিন্ন মিলনমেলা
বোঝা বড়ই মুশকিল সৃষ্টিকর্তা ও তার লিলাখ্যালা
আনন্দে ধরা থেকে দূর হোক সকল দীনতা-হীনতা
এর মাঝে সর্বাগ্রে জেগে উঠুক সর্বজনীন মানবতা।
ভুলের মাশুল
-শেখ রহিম
ভুলটা আমারই ছিলো
কাল থেকে আমি নিঃস্ব, অসহায় মানব
একাকিত্ব হবে নিত্য সঙ্গী
ইতিহাসের পাতায় ক্ষত-বিক্ষত
এক চেহারার আবহমান মূর্তি
একটা নূতন আবক্ষ স্মৃতি
এটাই হয়তোবা পাপ
অথবা তার প্রায়শ্চিত্য
কিংবা ভুলের মাশুল
কখনো ভাবিনি এমন হবে
আজ মনটা খুবই ব্যাকুল
তোমার তরে
তবুও নিঃস্ব মানবের ক্ষমতার পাল হালকা
তজ্জন্যে কিছু করতে পারলাম না
তবে একটা কথাই সত্য,
"ভালবাসা চিরন্তন"।
হায়রে চিকেন গ্রিল
-শেখ রহিম
হায়রে সাধের চিকেন গ্রিল
সৃষ্টি করল এক তপ্ত থ্রিল
বলি সকল ভাই-ব্রাদারে
সামাথ্যে পৌছিয়ে সব হবে
যবে রবে না দারিদ্র্যের কষাঘাত
এখন করিও না রাগ, দিও না আঘাত
অপ্রত্যাশিত ঘটমান ঘটনার তরে
ছিলাম, আছি ও থাকব সবার ফরে
বন্ধন যেটা আছে, থাকুক অটুট
দিনগুলো আমাদের আনন্দে কাটুক
সবার সুখে-দুঃখে আমরা সবার
কেন তবে দ্বন্দ্ব নিয়ে সামান্য আহার
সামনের দিনগুলো সবার জন্য চমৎকার
সেদিন দেখবো একত্রে সবাই কত রঙের বাহার
শুধু অপেক্ষা নয় এখানে বাস্তব ও সুন্দরের সমাহার
কে বলে রে কে বা কাহার
সকলের তরে অামরা সকলে ভাই-ব্রাদার।।
কুসংস্কার পূজ্য
-শেখ রহিম
যেখানে অন্যায়, কুসংস্কার পূজ্য
সেখানে সৎকর্ম, সংস্কার ত্যাজ্য
অন্যায়, কুসংস্কার অবশ্যই পরিত্যাজ্য
বুঝবে, যেদিন হবে বয়সের ভারে ন্যূব্জ।
মৌলিক অধিকার
-শেখ রহিম
অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান
শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন
আগে এগুলো করো পূরণ।
তারপর শুনবো পুরাতন মিথ,
আছে যত কিচ্ছা-গাথা-গীত।
পেটে যদি না থাকে অন্ন,
হতেই আমি বাধ্য বন্য।
আমাকে যাই করো গন্য,
ভাত না দিলে তোমায় করব না মান্য।
করে অন্নের সংস্থান,
রক্ষা করো নিজের মান-সম্মান।
বস্ত্রে করো লজ্জা সংবরণ,
আঘাতে করো না বস্ত্র হরণ।
গড়ো নিজ বাসস্থান,
নতুবা দিনান্তে হবে বদনাম্লান।
শিক্ষা করো গ্রহণ,
গড়ো সুন্দর জীবন।
শিক্ষা অমূল্য সম্পদ,
রক্ষা পাবে আছে যত বালা-মুসিবত।
চিকিৎসার দাও নিশ্চয়তা,
বিনোদনে লাঘব করো মানসিক দীনতা-হীনতা।
আগে পূরণ করো মৌলিক অধিকার,
তারপর ছুটাও কথা বাহার।
বাস্তবতা
-শেখ রহিম
এ জগতে হায়,
সবাই সবাইকে নিজের মত করে চাই।
আসলে বাস্তবে,
সেটা তো কখনো সম্ভব নয়।
এ কথা বোঝে ক'জনে ভাই।
জিজ্ঞাসিব জনে জনে,
এ দায় তো আমার নয়।
তাই বাধ্য হয়ে কুলাঙ্গারের চাপে,
নিরবতাকে মেনে নিতে হয়।
বিশেষ কিছু কথা
-শেখ রহিম
অদ্ভূত কিছু মানুষ
মাঝে বিচিত্র কিছু অভিজ্ঞতা।
তবে মানুষের অস্বাভাবিক আচরন
আমাকে ভাবতে শেখায়।
মানুষের কপটতা, ছল-চাতুরী
আমাকে বিশেষ ভাবে ভাবায়।
অনেকে শিকারীর সামনে খরগোশ
এটা আমাকে হাসতে অনুপ্রাণিত করে।
বোধহীন যখন জ্ঞান পরিবেশন করে
তখন আমি খুবই অবাক হই।
বিবেকহীন যখন বিবেক নিয়ে প্রশ্ন তোলে
সেটা আমার কাছে হাস্যকর শোনায়।
জ্ঞানহীন যখন শিক্ষকের ভূমিকা নেয়
সেটা আমাকে কাদায়।
মূর্খ যখন নেতার ভূমিকা নিয়ে মিথ্যাচার করে
তখন জাতির ধ্বংস সন্নিকটে মনে হয়।
যখন মানুষের মাঝে শ্রেণীকরণের প্রভাব বাড়ে
মানুষের মাঝ থেকে মানবতাবোধ উঠে যায়।
মানুষকে মানুষ হিসেবে না দেখে যখন ট্যাগ দেয়
তখন সমাজে নানান বিশৃংখলা দেখা দেয়।
অত্যাচার বেড়ে গেলে প্রতিবাদী মানুষের প্রয়োজন
ভালো মানুষ দিয়ে কাজ হয় না তখন।
কবিতা দিয়ে তাই প্রতিবাদ করলাম শুরু
যদ্যপি বলেছিলেন আমার গুরু
প্রতিবাদ না করলে শুরু
দিনশেষে ঝরাতে হবে নিজেরই অশ্রু।
আসুন প্রতিবাদী হই
সমাজকে রক্ষা করি।
অধিকারের কথা বলতে হবে, প্রাপ্য অধিকার দিতে হবে
তবে সর্বাগ্রে দায়িত্ব-কর্তব্যের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।
কেউ যদি কারো অধিকারে নগ্ন হস্তক্ষেপ না করি
সুন্দর একটি সমাজ বিনির্মানে খুব বেশি সময় লাগবে না।
ছোটকাল
-শেখ রহিম
একদা ছিলাম যখন ছোট,
তখন মাথায় টুপি থাকত অটো,
তখন ছিলাম অনেক খাটো,
জামা-কাপড় পড়তাম আটোসাটো,
মানুষটাই আমি তখন অনেক ছোট।
সেই সময় মাদ্রাসায় পড়তাম,
বেতের বাড়িটাও অটো খেতাম।
বেতের বাড়ি খাওয়াটা নির্ধারিত,
ভালো লাগাটাও ছিলো অবারিত।
আমি যে তখন করতাম শুধু ভুল,
বেতের বাড়ি খেয়ে কান্নায় হতাম ব্যাকুল,
মা'কে বললে, এমন করলে হারাবে সর্বকুল।
সরল-শিশু মনে গেঁথে গেল এক বিশ্বাস,
মনে হয় এভাবেই মিলবে সুখ-স্বপ্নের আশ্বাস।
তবে ওটা ছিল তাদের ভ্রান্ত-ধারণা,
এখন বুঝি ভুল শিক্ষায় কি যন্ত্রণা।
তাদেরকে বলি এমন যেন আর না হয়,
সবাই যেন সঠিক শিক্ষাটা পায়।
শিক্ষা মানুষকে করে মানুষ,
শিক্ষা ছাড়া সবাই অমানুষ।
আসুন সবাই করি শিক্ষা-সাধনা,
এটাতে মিলবে আরাধ্যের আরাধনা।
নিন্দুক
-শেখ রহিম
নিন্দুক হয় প্রসংসা বিমুখ
নিন্দা করেই সে পায় সুখ
নিন্দা এক প্রকার অসুখ
সেই বয়ে চলুক এ বিসুখ।
তার চাওয়া মানুষের সুখ হরণ
তুমি নিন্দাকে করোনা বরণ।
নিন্দাতেই সে পায় মজা
অযথা নিন্দাকে করো না তাজা।
নিন্দায় নিন্দুকের কিছু আসে যায়
তবে তুমি তাতে কেনো পাও ভয়
নিন্দা করে নিন্দুক মজা নেয়
অযথা তুমি কেন করো হায় হায়
নিন্দায় হয় না কর্মফল আদায়
তাই দ্রুত নিন্দাকে করো বিদায়।
নিন্দুকের মুখে আটে না কুলুপ
যতক্ষন পারে নিন্দা করে করুক।
তুমি যদি তার কথায় না দাও কান
এমনি তার নিন্দায় পড়ে যাবে বাণ
নিন্দুকের কথায় যদি দাও কান
দিন শেষে হারাতে হবে ধন-মান।
তাই সময় আছে হও নিন্দা বিমুখ
কর্মে দাও ডুব পাবে নির্মল সুখ।
০১/০৬/২০১৮.
মায়ের শিক্ষা
-শেখ রহিম
ছোটবেলা মা বলত মিথ্যা বলা পাপ
যারা মিথ্যা বলে তারা খুব খারাপ
মানুষ কষ্ট পায় এমন কথা ও কাজে
সময় নষ্ট করবি না কাজটা খুব বাজে
ঝগড়া করা খারাপ লোকের কাজ
যেথা ঝগড়া সেথা থেকে সরে যাস্
কেউ মারলে মার খেয়ে ফিরবি বাড়ি
নইলে নিজ পিঠে পড়বে কুঞ্চির ছড়ি
সকাল বেলা কুরান পড়া করলে মিস
মা ব'কে তাহলে খাওয়া বন্ধ করে দিস্
স্কুল যেতে না চাইলে মা করত খুব রাগ
দাড়া তোরে মিটাচ্ছি স্কুল পালানোর সখ
খেয়ে মা'র তাড়া দৌড়ে সোজা স্কুল ঘরে
বইখাতা বের করে বসে পড়ি স্যারের ভয়ে
পিটানির ভয়ে থাকতাম কাতর সারাক্ষন
স্কুল শেষে মা'র কোলে গিয়ে বসব কখন
মা'র হাতের রান্না যে জগত সেরা অমৃত
বিদেশেও খুজে ফিরি পায় না তাহার মত
মা যে অতি আপন-স্বর্গ যার আছে কাছে
তাহার মর্ম একটু খানি দেখো বাছা যেঁচে
জগৎ ও সংসারে বয়ে চলে কতশত মানুষ
দিনান্তে ঘরে মা ছাড়া সবাই উড়ন্ত ফানুস
মায়ের মায়াভরা আদরের শাড়ির আঁচল
শত কষ্টেও সে যেন থাকে অবিরাম সচল
ইহ জীবন করেছেন তিনি আমাদের দান
জগতে যে বেঁচে আছি এটা তারই অবদান
সব ক্ষনস্থায়ী একমাত্র মা'র ভালবাসা ছাড়া
সে বোকাদের সেরা পেয়ে যে করল হাতছাড়া
সন্তানের প্রতি মা'র থাকে না কোন অভিমান
দেখবে সর্বদা সে গেয়ে চলে সন্তানের গুনগান
তাই মায়ের শিক্ষা করো না কেউ অবহেলা
সেই তো বেঁচে থাকার সম্বল বিপদের ভেলা
শিশুমনে এগুলো ফেলেছিলো খুব প্রভাব
এখন মানুষের মাঝে এগুলোর খুব অভাব
যখনই চেষ্টা করেছি এগুলো মেনে চলতে
তখনই মানুষ চেষ্টা করেছে ট্রাপে ফেলতে
অসৎ উপদেশ আর নিষ্ঠুর বাণীর কবলে
মাগো সে শিক্ষা আজ বিক্ষত শকুনের ছোবলে।
৩১/০৫/২০১৮.
প্রিয় গ্রাম
-শেখ রহিম
সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির মাঝে রয়েছে এক গ্রাম
প্রাণের চেয়ে ভালবাসি তোমাকে করি শত প্রনাম।
কৈশোর-অব্দি কেটেছে তোমার স্নেহশীতল ছায়ায়
দিনশেষে বেধেছো তুমি আমায় অপরূপ মায়ায়
তোমার মাটি,ছায়া,আলো,বাতাস মিশেছে মোর কায়ায়।
শহুরের দূষিত বাতাস তোমার গড়া জীবন করছে ক্ষয়
যেতে নাহি দিবে সে, তোমার পানে মন ফিরে চাই।
রক্ষা কর এ জীবন, থাকতে চায় না বদ্ধ জায়গায়
এসে তোমার স্নেহসিক্ত কোলে মাগো দিব মাথা নোয়ায়।
২৯/০৫/২০১৮.
নগর-বন্দনা
-শেখ রহিম
এ নগর আমাকে বোঝে না,
আমি তাকে বুঝতে বাধ্য।
টাকার নগর, নগর ঢাকার।
অবিশ্বাসের নগর, নগদ সওদা।
অবিশ্বাসীদের অবিশ্বাস্য অদ্ভূত নগর।
টাকা ছাড়া এ নগরের ইট,
টুকরো পাথরও হা করে না।
এ নগর স্ব-অর্থের নগর,
নিষ্ঠুরতা যার প্রতীক।
হরেক মনুষ্য-প্রাণীর নগর,
একাকীত্ব যার নিত্য সঙ্গী।
তবুও এ নগর মায়াময়,
চিত্তে যার আকর্ষন,
আগমনী আহ্বান দৈনন্দিন।
মানুষ ছুটে আসে গ্রামান্তর।
বিনিদ্র নির্মল-স্নীগ্ধ বায়ুহীন,
নিঃশেষে সায়াহ্নে হাহাকার।
এ নগরে ভালবাসার প্রতীক,
একমাত্র উড়ন্ত কর্কশ টাকা।
দৈনন্দিন জীবনে টাকা ছাড়া,
এ নগরে সবই নিত্য ফাঁকা।
নেতার নৈরাজ্যে,
এ নগর দুর্গন্ধ নাগপাশ।
আজ সে মহানগর,
তবে মহৎ নগর নয়।
মুষ্টিমেয় সৎ-মানুষের বাস,
এ নগরকে করেছে কলুষিত।
তবে এটা তাল-বাগান,
দুটো খেজুর গাছে খেজুর-বাগান নয়।
ফুটপাতেও বাস, মনুষ্য জীবের।
পুষ্টিহীন অপরিচ্ছন্ন কিছু প্রাণ,
জীবন সংশয়ে দোদুল্যমান।
অধিকারহীন, শোষন, বঞ্চনা,
লাঞ্ছনা, অত্যাচার জোটে গঞ্জনা।
বস্তিবাসী আঁধাপেটো জীবনবাদী স্বপ্ন,
হয়তো হয় না পূরণ, দিনশেষে বঞ্চিত।
বেকারত্বের বোঝা নিয়ে ব্যাচেলর,
না খেয়ে দিন গুণে পেটে বাঁধে পাথার।
মধ্যবিত্ত ছা-পোষা অর্ধমৃত জীবন,
কষ্টে দিনাতিপাত নিত্য ক্যাঁচালে,
ঐ হিসাবের নিশি খতিয়ানে।
ধনীর ব্যক্তিগত বহরের মহত্বে,
বাকিদের জীবন প্রায় ওষ্ঠাগত।
এ নগরে যার আছে তার কাছে,
খুজেও পাবে না সুখের সাঁচ,
পাবে শুধু টাকার ঝনঝনানির আঁচ।
বক-ধার্মিকেরা চেয়ে আছে নিত্য,
সুযোগ পেলে পেতে বসে ঠকানোর ছল।
নগরায়ন মানুষকে দিয়েছে অনেক সুবিধা,
কেড়ে নিয়েছে মানবতা আর আন্ত-ভালবাসা।
মানুষ যেন আর নেই সে মানুষ,
সব হয়ে গেছে কৃত্রিম মানব 'রোবট'।
ওহে পৃথিবী তোমার প্রতি আহ্বান,
জাগাও তোমার বুকে পদচারিত মানবকুলের,
সবাই মিলে গাইব আবার মানবতার গান।
২৮/০৫/২০১৮.
বন্ধুত্ব
শেখ রহিম
বন্ধুত্ব, সে তো সুপ্ত আগ্নেয়গিরি
কখন জেগে ওঠে, কে জানে
বন্ধুত্ব, সে তো আকাশের মত
উদারতা যার মহিয়ান
বন্ধুত্ব, সে তো আকাশের উড়ন্ত পক্ষী
ভালোবাসার অনন্ত নীড়
বন্ধুত্ব, সে তো খাদের কিনারে
বাড়িয়ে দেয়া হস্তের পঞ্চাঙ্গুলী
বন্ধুত্ব, সে তো তারা ভরা অাকাশ
হৃদয় ভরা আপদমস্তক উদারতা
বন্ধুত্ব, সে তো নিমফল
তিক্ততার মিঠা
বন্ধুত্ব, সে তো একদূরবীন আকাশ
সীমাহীন ভালোবাসার নিদর্শন
বন্ধুত্ব, সে তো হরিহরাত্মা
এক ছাড়া অন্য বিলীন
বন্ধুত্ব, সে তো আসলেই সংজ্ঞাহীন
ছন্দহীন, তুলনাহীন
বন্ধুর তুলনা বন্ধু
ভালোবাসি প্রেরণার বাতিঘর
সকল বন্ধুকে।।
মানুষ সত্য
-শেখ রহিম
কে হিন্দু, কে মুসলমান; কে বৌদ্ধ, কে খিষ্টান,
ছিড়ে ফেল্ বিভেদের টান; সবার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ-মহান;
হোক সে গড ইশ্বর বা ভগবান।।
কে নারী, কে পুরুষ; সবার আগে আমি মানুষ।।
বিভেদ মানুষের কৃষ্টি; এটা নয় খোদার সৃষ্টি,
বিভেদে যে পায় সন্তুষ্টি; তার থাকে না আত্মার তুষ্টি।।
মানুষ বোঝে ক্রমে; মানুষ ভুল করে ভ্রমে,
দিন শেষ বৃথা শ্রমে; ঘোর কাটে বিশ্রী বদনে,
জীবন যবে যাবে থেমে; অশান্তির নিদ্রা হবে শেষ দমে।।
সৃষ্টিকর্তা করবে না তোকে ক্ষমা; অনেক পাপ করেছিস জমা।।
ফিরে এসো হয়ে মানব; হয়ো নাকো সাম্প্রদায়িক দানব।।
চাই মানবতার চূড়ান্ত রূপ; নিঃশেষ হোক সকল কূপমণ্ডুক।।
যদিও যায় জীবন-মান; তবুও গেয়ে যাব মানবতার জয়গান।।
প্রিয় কবির জন্মদিনে
-শেখ রহিম
প্রিয় কবি নজরুল, তুমি করো নাই ভুল।
তোমার কবিতা ছিলো মানবতার অনুকূলে,
তাই শত্রুরা তোমাকে ভরেছিলো জেলে।
মানবতার শত্রুদের ধীক্কার শত ধীক্কার,
গর্জে উঠুক মানবতন্ত্রের কলম আরেকবার।।
উপলব্ধি
- শেখ রহিম
চারপাশে এত এত মানুষ,
তবুও কেন জানি নিজেকে লাগে বড়ই একা।
অনেক কিছুই বুঝতে পারি,
তবুও কেন জানি নিজেকে লাগে বড়ই বোকা।
দাবি করে ভালো মানুষ,
আসলে সবাই সবাইকে দেয় প্রতারনা আর ধোকা।
উঠে যাচ্ছে আস্থা-ভালোবাসা,
দিনান্তে উঠছে নাভিশ্বাস, কঠিন হচ্ছে বেঁচে থাকা।
অরণ্যে-রোদন
-শেখ রহিম
হারিয়ে যেতে চায় ঐ মহাশূণ্যের অতল-গহ্বরে,
যেখানে নাই কোন মানুষের শ্রেণীকরণ চক্রাকারে,
ন্যায্য অধিকার হরণ আইনের ফাঁক-ফোঁকরে,
সন্তান মরে না গুলির আঘাতে, মায়ের জঠরে;
করে না কেউ অযথা আস্ফালন, পড়ে না ফাঁপরে,
কেউ হারায় না সহায়-সম্বল অন্যের মিথ্যাচারে,
কেউ কারো কথায়-কর্মে দুঃখী হয় না কদাচারে,
লিপ্ত হয় না কেউ অন্যের উপর অন্যায় ব্যভিচারে,
সবাই উদ্ভাসিত হোক সবার নিজ মৌল অধিকারে,
অধিকার ভোগ করুক সবাই তার নিজস্ব আকারে।
সমসাময়িক প্রেম
-শেখ রহিম
প্রেম মানে এক লুতুপুতু খেলা,
দু'জন দু'জনের সামনে আলা'ভোলা।
প্রেম মানে দু'জনার খুনসুটি,
মাঝে-মধ্যে চলে ঝগড়াঝাটি।
মাথার চুলে হাত বুলানো আঁকিবুকি,
প্রেমিকের সামনে মেয়েটি যেনো কঁচি খুকি।
যার আছে টাকা আর আহার,
সেই দেখে প্রেমের কি বাহার।
বখাটের কপালে জোটে শত-প্রেম,
যার নাই সে বলে শেম-শেম।
ফেসবুক আর ফোন দিয়ে শুরু হয় কথা,
ডাল-পালা মেলে প্রেমের হয় অষ্ট-মাথা।
ক'দিন পরে বলে চলো করি সিটিং,
তারপর ডাক পড়ে চলো রুমে করি ডেটিং।
বন্ধুরা বলে চমেৎকার চমেৎকার বীরপুরুষ,
ঠকিয়েছিস নারীর সম্ভ্রম-জৌলুস।
তুই তো এক-নাম্বার আসল পুরুষ,
আমরা থেকেই গেলাম কাপুরুষ।
এভাবে রম্য ডেটিংয়ে হঠাৎ,
মেয়েটি ছ্যাকা খেয়ে কুপোকাত।
এরপর কিছু মেয়ে নিজেকে নেয় গুটিয়ে,
অনেকে সহজ-সরল ছেলেদের মারে পটিয়ে।
এভাবে চক্রাকারে চলে ছ্যাকামাইছিন,
ঠকবাজির যুদ্ধে হেরে জীবন হলো মলিন।
জীবন যে এত কঠিন এক যুদ্ধ,
সময় থাকতে বুঝিনি, এখন হবো শুদ্ধ।
কল্পনার ফানুস
-শেখ রহিম
জগতে বিচিত্র সব মানুষ,
উড়ায় শুধু কল্পনার ফানুস।
কেউ স্বপ্ন দেখে,
কেউ'বা স্বপ্ন আঁকে।
কেউ আবার স্বপ্ন মাখে,
কারো স্বপ্ন আসে ঝাঁকে-ঝাঁকে।
কেউ পারে কেউ পারে না,
কেউ'বা আবার জানেও না।
জীবনের অস্ত-পারে,
স্বপ্নগুলো ঝরে পড়ে।
মায়াময় জীবনে,
স্বপ্নের কি মানে!
মিছে মায়ার বন্ধন,
কি হবে করে ক্রন্দন।
জীবন গড়ো জীবনের মত,
থাকবে না কায়-ক্লেশ ক্ষত।
জীবন আলেখ্য
-শেখ রহিম
দিগন্ত পাড়ে নিকষ কালোরা করছে খেলা।
তেপান্তে বসেছে স্বপ্নের মেলা।
আশার সুমুদ্রে তাই ভাসিয়েছি স্বপ্নের ভেলা।
হয়ে গেছি তাই ভাববাদী আপন ভোলা।
গণ মিছিলে আমি অধরা-অপরিচিত।
পারবো; নতুবা, পরিবারিক ইতিহাসের ক্ষত।
আছে বন্ধন যত, সবই ক্ষনিকের মায়ার মূহুর্ত।
সবাই আমরা বন্ধনের জাতাকলে পিষ্ট।
সবই চোখের ভ্রম, মনের অনিষ্ট।
জীবন যেন কবিতার ছন্দ,
পতনে সবাই করে গাল-মন্দ।
পড়েছি নিয়ম-অনিয়মের দ্বন্দ্বে,
মন পড়েছে নিদারুণ ধন্ধে।
দ্বন্দ্ব আর ধাঁধাঁর কলে,
জীবন অচল-সচল বাঁচালের ক্যাঁচালে।
তবুও মানুষ স্বপ্নে বাঁচে,
আশার ছলনে, জীবন যতদিন আছে।
যা গেছে, তাতে কি আছে,
দরকার নাই যেঁচে, সবই তো মিছে।
যতই থাক ছন্দ, মন্দ, দ্বন্দ্ব আর ধন্ধ;
একদিন দমও হয়ে যাবে বন্ধ।
সে দিন কেউ বুঝবে না তোমার মর্ম,
সবাই খুজবে তোমার কর্ম।
কর্ম দিয়ে হবে তোমার বিচার,
কেউ কেউ করবে মিথ্যাচার,
বেঁচে থাকতে করোনা অনাচার-অবিচার,
মিথ্যাচার, দূর্নীতি, কদাচার।
সবার সাথে করো সদাচার,
তাহলে মানুষ করবে তোমার সঠিক বিচার।
স্বপ্ন দেখা
-শেখ রহিম
স্বপ্ন দেখো, স্বপ্ন ভাঙ্গো, স্বপ্ন গড়ো।
স্বপ্নে করো যাত্রা, দিয়ো না কোন মাত্রা।
এসো গড়ি স্বপ্ন।
স্বপ্নে বাঁচো, স্বপ্নে নাচো।
স্বপ্ন করো জয়, নেই কোন ভয়।
এসো গড়ি স্বপ্ন।
স্বপ্ন গড়ে হাজারো তাঁরা, স্বপ্ন দেখে যারা,
স্বপ্নে সাড়া পায় তারা।
এসো গড়ি স্বপ্ন।
হুদাই, পাবো না ভয়, স্বপ্নে হবে বিশ্ব জয়।
এসো গড়ি স্বপ্ন।
আমরা নবীন, আমরা স্বপ্ন দেখি।
আমরা হবো না অধীন, আমরা স্বপ্ন আঁকি।
দুঃস্বপ্ন পরাধীন, আমরা স্বপ্ন মাখি।
এসো গড়ি স্বপ্ন।
স্বপ্নে অন্ন, দুঃস্বপ্ন বানায় বন্য, দুঃস্বপ্ন তাই জঘন্য, ঘৃন্য।
এসো গড়ি স্বপ্ন।
আশায় স্বপ্ন, স্বপ্নের জয়, তার নেই কোন ক্ষয়।
জয়তু স্বপ্ন, জয়তু স্বপ্ন, জয়তু স্বপ্ন।
ভালোবাসি তোমাকে
-শেখ রহিম
ভালোবাসি তোমাকে বলতে নেই কোন দ্বিধা,
ভালোবেসে পান করতে চাই তোমার প্রেমের সুধা।
তোমাকে ভালোবেসে পড়েছি ধাঁধাঁয়,
আসে আসুক যত বাঁধায়।
পরোয়া করি না কোন বাঁধা,
দাও যদি পান করতে তোমার প্রেমের সুধা।
আমরা তো নই আকবর অার যোঁধা,
তাই ভয় পেয়ে হতে হবে না গাঁধা।
জীবন হবে কোমল-মসৃণ-নির্মল-সাদা,
চোখে আসুক যতই পানি আর কাঁদা।
জীবনের বাস্তবতায় জীবনকে করে আলোকিত বা অন্ধকার কালো,
পাশে যদি থাকো জীবন হবে উজ্জ্বল ঝলোমলো।
প্রেম করেছিলো ইউসুফ-জুলেখা, শিরি আর ফরহাদ,
প্রেম মানে না কোন জাত-পাত।
এক জীবনে সবারই প্রেম আসে,
কেউ হাসে আর কেউ ভাসে,
অনেকে না পেরে মরে হা-হুতাশে।
তোমাকে ভালোবেসে জীবনকে করতে চায় ধন্য,
যদি তুমি করো আমায় গণ্য,
যদিও হও কারো বা অন্য,
তবুও তোমাকে ভালোবেসে হবো আমি বন্য।
ভালোবেসে রাখবো তোমায় মনে,
এ কথাটি সবার আগে রাখো জেনে আর শুনে,
জানে জানুক সবাই, উঠুক সবার কানে,
একতরফা প্রেমের হয় না কোন মানে,
এটা তো সবাই জানে।
তাই তোমার প্রেমে আমি আজ বিদ্রোহী রনক্লান্ত,
যে প্রেমের নেই কোন অন্ত।
প্রেমের হোক জয়,
ভালোবাসার নেই কোন ক্ষয়।
সরল-গরল কথা
-শেখ রহিম
সরল লেখায় চলবে না আর কলম,
কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল চোখে লাগিয়েছে অন্ধত্বের মলম।
স্বপ্নকে তারা করেছে অপমান,
বাকি থাকে না খতম করতে জান,
তবুও লেখার প্রতি আছে যে টান,
থাকুক আর না-থাকুক মান-সম্মান,
তবুও লিখবো মানবতার গান,
এরপরও আপনারা যদি চান,
ধরবো তবুও কান,
বরদাশত করবো না মানবতার অপমান,
পারলে কিছু করে নেন,
ভন্ডামী বাদ দেন,
ভন্ডের সমর্থন উঠান,
ভালো মানুষ হয়ে যান,
কেউ বলবে না জবাবদিহির কথা কন,
কিতাবী কথায় নেই কোন সমাধান,
বাস্তবতায় ফিরে যান,
দেখে-শুনে-বুঝে কার্যকর কথা কন।
আগে মানুষ,
তারপর উড়ান কল্পনার ফানুস।
যুদ্ধ-বিধ্বস্ত মানবতা
-শেখ রহিম
অন্য লেখা করে দিয়েছি বন্ধ,
তাই লিখতে বসেছি কবিতার ছন্দ।।
মানুষ হয়ে গেছে অন্ধ,
তাই লেখালেখি বন্ধ।।
চারিদিকে মস্তিষ্ক পঁচা গন্ধ,
তাই লেখালেখি বন্ধ।।
মানুষ হয়ে গেছে মন্দ,
চারিদিকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব,
তাই মানুষ হয়েছে অন্ধ।।
একি অবাক করা কান্ড,
চারিদিক ছড়িয়ে পড়েছে ভন্ড।।
মানবতা তাই হয়ে গেছে ধড়-হীন অণ্ড।।
তাই কবি আজ হারা তার ছন্দ,
ভন্ডরাই আজ চারিদেকে মান্য,
ভালো মানুষ আজ সমাজে নিন্দ্য।।
নারী-শিশু আজ যুদ্ধ-বিধ্বস্ত,
চারিদিকে মানবতার সূর্য হয়েছে অস্ত।।
ভন্ডরাই পায় সম্মান আর স্লোগান,
সাধুরা হয় নিত্য অপমান।।
চারিদিক ভন্ডের জয়গান,
মানবতা আজ সর্বত্র কেঁটে খান খান।।
মায়ানমার, ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্থিন সহ অন্যান্য স্থান,
মানুষ হচ্ছে স্বার্থের কোলে বলিদান।।
নেতারা বসে বসে গড়ে শুধু স্ব-আলিশান,
ক্ষমতার মায়ায় হত্যাও হয় মহিয়ান।।
হত্যাকারী পাচ্ছে স্বীকৃতি আর সম্মান,
সাধারন জনতা বসে বসে খায় তামাক-পান,
চায়ের কাপে ওঠে মানবতা আর রাজনীতির ঝড়-তুফান।।
এ স্মৃতি যেন চির অম্লান।।
ফল হয় শূন্য; সব হত্যাই জঘন্য,
মানবতার সংজ্ঞা তো অন্য।।
মানবতা আজ কিতাবী কথা, আর নেতার মূখের ফাঁকা বুলি;
এদিকে বন্দুকের নলে উড়ে যাচ্ছে মানুষের মাথার খুলি।।
মানবতা আজ পড়েছে অশুভ-শক্তির ফাঁদে,
বিশ্ব-মানবতা ডুকরে ডুকরে কাঁদে।।
ক্ষমতার অন্ত-কোন্দল দ্বন্দ্বে,
মরছে মানুষ পাহাড়, সমতল, মরু-প্রান্তে।।
মানুষ মানুষকে বাসবে ভালো,
দূর হবে সব জরাজীর্ণ অন্ধকার কালো।।
চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ুক মানবতা আর জ্ঞানের আলো।।
বিশ্বের সব মানুষই মানুষ হিসেবে সমান,
হে বিশ্ব-মানব এসো গায় সর্বজনীন মানবতার জয়গান।।
ভালোবাসার নিকোটিন
-শেখ রহিম
চেয়েছিলাম ভালোবাসা,
দিয়ে গেলি নিকোটিন।
দিন-রাত,
কাটে আমার ঘুমহীন।
তোকে ভালোবেসে,
নিজে নিজে,
খেয়েছি ছ্যাকামাইছিন।
ভালোবাসার পরিনতি,
এখন শুধুই বিষাক্ত নিকোটিন।
নিঃশেষে হারিয়ে যাওয়া
-শেখ রহিম
কত-শত চেনা মূখ,
হারিয়ে যায়, অচেনার ভিড়ে।
কত-শত প্রিয় মূখ,
হারিয়ে যায়, ভালবাসার নীলাভ তীরে।
মরীচিকার মত,
কিছুক্ষন থাকে যে সে ক্ষত।
তারপর চলমান, আবার জীবনে;
মানুষ হয় বহমান, প্রত্যেক ক্ষনে।
অবশেষে,
মায়ার জাল ছিন্ন করে;
একদিন,
আমিও যাবো নিঃশেষে হারিয়ে।
স্বপ্ন-বন্দনা
-শেখ রহিম
নবীন চেতনার নব-স্বপ্নযাত্রা;
নিত্য নব-জীবনের আশায়।
আশায় জীবন; জীবনের শ্রী।
মানুষ তার আশার সমান বড়।
মানুষ বেঁচে থাকে আশার জোরে।
তাই, স্বপ্ন দেখা ছাড়তে রাজী নই।
স্বপ্নবাজ, স্বপ্ন-যাত্রী হতে চাই জীবনভর।
আশাবাদী ইতিবাচক স্বপ্নচারী মানুষ;
হওয়ার মন-বাসনায় রত যামিনী-যাপন।
আশাহত, নৈরাশ্য হওয়া দূরে থাক;
নেতিবাচক চিন্তার কাছে মস্তক;
অবনত না করতে সদা-প্রস্তুত, ক্রিয়াশীল।
ইতিবচকতায় ভরে উঠুক সবার জীবন।