আপনার ব্যক্তিত্ব আপনার আচার-আচরণ, কথা-বার্তা, কৃতকর্মের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ব্যক্তিত্বসম্পন্নতার গুরুত্ব, ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে সচেতন মানুষ মাত্রই বুঝে থাকেন। কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো ব্যক্তিত্বহীনতার উপস্থিত লক্ষণ প্রকাশ করে। তন্মধ্যে, অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা আপনার ব্যক্তিত্বহীনতা, একই সাথে মানসিক বিকাগ্রস্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। কারণ, আপনি নিজেকে অন্যের উপর কতৃত্ববাদী প্রমাণ করেন। জঘন্য-ঘৃন্য কর্মের মধ্যে একটি। প্রতিটি মানুষের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার পূর্ণ অধিকার প্রকৃতি প্রদত্ত। মানুষ হিসেবে মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে, সহযোগিতা করতে গিয়ে জোর-জবরদস্তি বা চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা একমাত্র মানসিক বিকারগ্রস্তদের কাজ বলে বিবেচিত বোধ করি। যত দ্রুত সম্ভব একজন বিশেষজ্ঞ সাইকিয়াট্রিস্ট দেখান। নইলে, একাকিত্বের একঘেয়েমির কবলে পড়বেন; কিন্তু, নিজেই বুঝতে পারবেন না। নিজের অজান্তে নিজের তৈরি ফাঁদে নিজেই পড়বেন; বোধে পাবেন না।
অবশ্য, কট্টরপন্থার সাথে এই বিষয়টার যোগসুত্র প্রবল। কারন, সরেজমিনে এটা প্রমানিত যে, কট্টরপন্থীরা মানুষকে নিজেদের মতবাদের দিকে টানতে জোর-জবরদস্তি বা চাপিয়ে দেয়ার মত জঘন্য-ঘৃন্য কাজ করে থাকে।
যে কোন নীতি/ তত্ত্ব/ মতবাদের অবসম্ভাবী দুটো দিক থাকে। এক. কট্টরপন্থা, দুই. উদারপন্থা। কট্টরপন্থীরা সব সময়ই ব্যক্তিত্বহীন লেজুরবৃত্তিপ্রবণ হয়ে থাকে। তারা নিজেদের চিন্তা শক্তিকে কতিপয় বিষয়ের হস্তে সমার্পন করে। তাই তারা তাদের ব্যক্তিত্ব এবং নিজেদের কর্মের ব্যাপারে জীবনভর অজ্ঞই থেকে যায়। যতদিন না তারা এর খোলস থেকে বের হতে পারে।
কট্টরপন্থী মানুষদের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হলো, তারা খুব সহজেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। একটুতে আবেগপ্রবণ হয়ে যায়। তাদের মস্তিষ্কে বিকৃত যৌনতা, বিকৃত যৌন লালসা খেলা করে। যেটা এই কট্টরতা ও হতাশার করালগ্রাসে সৃষ্টি। আগের একটা লেখায় মৌলবাদ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছিলাম। তাই এখানে ওটা উহ্য রেখে আলোচনা চালাতে হলো।
বিচিত্র সব মানুষের সাথে মেলামেশা। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা। হতাশা একটি সংক্রামক মানসিক ব্যাধি। কাজেই, হতাশাগ্রস্ত মানুষদের পাশে থাকলে আপনার পরিনতিও অবনতির দিকে ধাবিত হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই। সুতরাং, হতাশায় নিমজ্জিত মানুষদেরকে মানসিক রোগী বললে অত্যূক্তি হবে না। এড়িয়ে চলাই শ্রেয় বোধ করি।
তাদের বিকৃত যৌন লালসার স্বীকার হয় শিশুরা। কারণ, শিশুরা খুবই সহজলভ্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত হয়। বাকিটা তাদের অধিনস্ত বা আশে-পাশের অর্থাৎ নাগালের ভেতরের শিশুরা তাদের শিকারে পরিনত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়ে শিশুরা বিকারগ্রস্ত মানুষের যৌন লালসার শিকার হয়। আর ছেলে শিশুরা বলৎকারের ন্যায় ঘৃন্য কর্মের শিকার। বিশেষ করে মাদ্রাসা, এতিমখানা, হেফ্জখানায় অবস্থানরত শিশুরা তাদের শিক্ষক দ্বারা বলৎকারের শিকার হয়।