সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাণী কাঞ্চণ

০১. দেশটা অবাস্তব উপদেশ আর অকেজো সমালোচনায় ভরে গেছে। সবাই জ্ঞানী। মেধাবীতে দেশ পরিপূর্ণ। কিন্তু, "আলোকিত মানুষ" এর বড়ই অভাব। উলুবনে মুক্তা ছড়াতে সবাই উস্তাদ। মুক্তা না থাকলেও, যার যা আছে, সে তাই নিয়ে উলুবনে ছড়ানোর জন্য ঝাপিয়ে পড়ে।

০২. একজন ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা থাকতেই পারে! তবে, আমরা তার মহত্বকে বাড়িয়ে দিচ্ছি অযথা সমালোচনা করে। ব্যক্তি হিসেবে তার একটা গুরুত্ব আছে, এটা ঠিক! তাই বলে, তাকে এত হোমরা-চোমরা ভাবার বা তাকে নিয়ে এত সমালোচনা করে মহান বানানোর বা ত্যায্য করার কোন গুরুত্ব আছে বলে মনে করি না।

০৩. বিচিত্র সব মানুষের সাথে মেলামেশা। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা। হতাশা একটি সংক্রামক মানসিক ব্যাধি। কাজেই, হতাশাগ্রস্ত মানুষদের পাশে থাকলে আপনার পরিনতিও অবনতির দিকে ধাবিত হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই। সুতরাং, হতাশায় নিমজ্জিত মানুষদেরকে মানসিক রোগী বললে অত্যূক্তি হবে না। এড়িয়ে চলাই শ্রেয় বোধ করি।

০৪. একজন মা সন্তান জন্মদানের কষ্ট উপভোগ করতে পারে। কিন্তু, সন্তানের যন্ত্রনাদায়ক কর্মকান্ড সহ্য করতে পারে না। সন্তান জন্ম দেয়ার চেয়ে মানুষেরর মত মানুষ করা কঠিন।

০৫. ঘটমান ঘটনার বাস্তবতা নিত্য সত্য।

০৬. ধর্ষনের কারন হিসেবে নারীর পোশাককে দায়ী করে অনেক সময় শিয়াল আর মুরগির উদাহরন টানা হয়। আসলে, মানুষ কতটা নিচে নামলে এমন ধরনের কথা বলতে পারে তা আমার বোধে আসে না! মানুষকে পশু-প্রাণীর সাথে তুলনা! হায়রে কপাল!

০৫. ভালোলাগা আর ভালোবাসা এক নয়। কিন্তু, ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা শুরু হয়।

০৬. একটা আঘাতই ভেঙ্গে দিতে পারে অত্যাচার, অন্যায়, শোষন, কুসংস্কার ও হিংস্রতার শক্ত ভিত্তিকে। প্রত্যেকটা অন্যায়মূলক কর্মকাণ্ডের মূলে আঘাত দিয়েই সেটাকে সমাজ থেকে ঠেঙিয়ে বিদায় করা হয়েছে। সূতরাং, এক্ষেত্রে কারো না কারো কিন্তু ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক আঘাত দিতে হয়েছে। কারণ, এগুলো এ সমাজেরই কোন মানুষ বা তাদের সম্মিলিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যেমে সৃষ্ট।

০৭. প্রধান ব্রত আমি যেন কখনো অমানুষ না হয়ে যায়। সেটা খেয়াল রাখা।

০৮. মানুষ একটি প্রাণী অথবা জন্তু। তার আরেকটি পরিচয় সে কখনো কখনো উন্নত, সভ্য প্রাণী মানুষ।

০৯. একজন মানুষের আচরণগত জড়তা বা ভুল অথবা সংস্কৃতিগত পার্থক্য থাকতে পারে; এটা স্বাভাবিক। এটা নিয়ে অসংলগ্ন মন্তব্য বা কটু-কথা বলা অস্বাভাবিক।

১০. জীবনের প্রথম শিক্ষা ছিলো, "সব সময় সত্য কথা বলবি। মিথ্যা থেকে ১০০ হাত দূরে থাকবি।" "কারো সাথে ঝগড়া করবি না।" "কেউ মারলে মার খেয়ে বাড়ি আসবি, তুই মারবি না। মারামারি যারা করে তারা ভালো না। আর যদি মারামারি করিস, তোকে উল্টো পিটাবো আমি।" "কেউ কষ্ট পায় এমন কথা বলবি না, তেমন কাজও করবি না। "কথাগুলো সরল-শিশুমনে প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তার করেছিলো। কিন্তু, যখনই এগুলো মেনে চলার চেষ্টা করেছি তখনই পদে পদে হেনস্তা আর বাজে উপদেশের খপ্পরে পড়েছি। না'হলে মানুষ ঠকিয়ে চলে গেছে। মনে হয়, নিজের গালে নিজেই থাপ্পড় মারলাম। মা'গো তোমার দেয়া শিক্ষা আজও মধুর সুরে কানে  বাজে। কিন্তু, এ জগতের মানুষ বড়ই বিচিত্র, সেই সাথে নিষ্ঠুরও বটে। তবে, যখন দু'একজন ভালো মানুষের দেখা পায় তখন বরাবরই তোমার কথা কেন জানি মনে পড়ে।

১১. সস্তা অনুভূতি দেখে বলতে বাধ্য হচ্ছি "এ মা তোর কুকুর আগে সামলা। আমার জ্ঞান বিতরনের দরকার নেই।"

১২. সুস্থ্য-মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক পাগলেরা পৃথিবীতে বড় বড় পরিবর্তন এনেছে। অর্থাৎ, যারা প্রচলিত নিয়ম-নীতি, আচার-প্রথা, চিন্তা-চেতনার নিগড়ে আবদ্ধ না থেকে নতুন ভাবে চিন্তা করে। যারা নতুনত্বের নেশায় পাগলামী করে। সাধারণের তাদের পাগল মনে করার কারণ সাধারণের সাথে তাদের চিন্তা-চেতনার অমিল। এই অমিলই বড় বড় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে পৃথিবীতে। তবে, সাধারণরা কিছু না দিতে পারলেও এ পাগলরা পৃথিবীকে অনেক কিছু দেয়। "নিয়ম ভাঙার মধ্যেই ইতিবাচক কল্যানকর পরিবর্তন নিহিত।" কল্যান যারা এনেছে তাদের সাথে সাধারনের পার্থক্য এখানে যে তারা নিয়ম ভেঙে নতুনত্ব, ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। আর সাধারণ পিছুটানের নিয়মকে আকড়ে পড়ে থাকে। যা জগৎকে পিছন দিকে নিয়ে যায়। পৃথিবীতে সব কিছু গতিশীল। নিজেকে আবদ্ধ করে রাখলে পতন অনিবার্য।

১৩. চাকরি পাওয়াটা মেধার ব্যাপার নয়, পরিশ্রমের। মেধা হচ্ছে নতুন কিছু করা।

১৪. সাদা কাপড়ে দাগ লাগলে সেটা খুবই দৃষ্টিকটু লাগে এবং সবারই চোখে পড়ে। এতই দৃষ্টিকটু লাগে যে মানুষ বলতে বাধ্য হয়। নিজেকে সাদা কাপড় দাবি করবেন আর অন্যায়-অপরাধের দাগ বয়ে বেড়াবেন। লোকে তো বলবেই। অবাক হওয়ার কিছু নেই। দুঃখ পাওয়ারও কিছু নেই। সত্যকে গলা টিপে হত্যা করতে চাওয়া বোকামী। জগতে সর্বকালে কিছু সত্য সন্ধানী মানুষ জন্মে। সত্যকে তারা খুজে বের করে এবং মানুষের মাঝে সত্যকে উন্মুক্ত করে দেয়।

১৫. জমি চাষ না করলে যেমন আগাছা জন্মে ঠিক তেমনি জ্ঞানের চর্চা না করলে মস্তিষ্কে আগাছা জন্মে। কিছু মানুষের কথা শুনে মনে হয় আগাছা-মস্তিষ্ক। তাদের মস্তিষ্ক যে আগাছা সমৃদ্ধ তা তাদের কথা-বার্তা শুনে বোঝা যায়। আবার কিছু মানুষ আছে যারা পরগাছা। এক সম্বন্ধে আরেকের কাছে কূৎসা রটিয়ে বেড়ায়। নিজের তো ভালো কোন সৎ-গুণ নেই। তাই এই কুকর্ম করে বেড়ায়। মানুষের প্রত্যেকটা কাজে যদি জ্ঞানের ছোয়া থাকে সেটা অনেক সুন্দর হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই।