০১. সবাই টাকার লালসার আগুনে ঝলসানো জারিত মানুষ!
০২. পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিক মনে হলো! কারন, পরিবর্তন, বিবর্তন এগুলো নিত্য ব্যাপার! মেনে নিতে না পারাটা তাদের নয়, নিজের ব্যাপার! (ব্যক্তিগত অভিমত, ভিন্নমত থাকতে পারে। ওটাও স্বাভাবিক! মেনে নিতে না পারাটাই আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়!)
০৩. সাধারন মানুষ সেখানে বেশি যায়, যেখানে প্রতারিত হয় বেশি। আর কর্পোরেট জগতের মানুষ সেখানেই বেশি ঘোরাঘুরি করে যেখানে প্রচারিত ও প্রতারিত করার সুযোগ বেশি।
০৪. চোরকে চোর বললে নাকি তার জাত যায়। আসলে, অপ্রিয় সত্য পাগলেও সহ্য করতে পারে না। যেমন, পাগলকে পাগল বললে সে ক্ষেপে যায়। যদিও বাস্তবে সে পাগল।
০৫. কীর্তিমানের কূকীর্তি, যে করে ফাঁস, তারই নাকি রয়েছে কু-প্রবৃত্তি! আজব তো!
০৬. জীবনের বাস্তবতা জীবনকে কতদূর নিয়ে যাবে জানি না! তবে, আশাবাদী, ইতিবাচক, স্বপ্নচারী মানুষ হিসেবে আশাহত হচ্ছি না। বিকল্প থাকে। সেগুলো খুজে এগুতে হবে। স্বপ্নগুলোকে বস্তাবন্ধি না করে, খোলা আকাশের নিচে ছেড়ে দিলাম। ডালপালা মেলে শতরুপে অগ্রসর হতে থাকুক। মানুষের জীবনে এমন কিছু সময় থাকে যখন মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে খুব দিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে যায়। তবে, সেটা দীর্ঘমেয়াদী নয়, নিতান্তই সাময়িক। এগিয়ে চলার সংগ্রামে নতুনত্বের আহ্বানে সাড়া দিতে নব-চেতনায় নিত্য-পরিকল্পনা গ্রহণ। আসা-যাওয়া এটাই তো নিয়ম। এর মাঝে কতটুকু অর্জন সেটাই মূখ্য হয়ে উঠে। অর্জনের খতিয়ান ভরে উঠুক মানবিক চেতনায়।
০৭. গাঁধা বই বহন করে কিন্তু পড়তে পারে না বা জানেও না। বই তার কাছে নিরেট বোঝা স্বরুপ। বইয়ের জ্ঞান তার কাছে অপাংক্তেয়। তার ধান্দা থাকে বই বহন করলে মনিব কিছু খাবার দেবে। দেশের সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষা ব্যবস্থা গাঁধার বই বহন করার মত হয়ে পড়েছে। সবাই ভালো রেজাল্টের ধান্দায় পড়ে। শেষে একটা সার্টিফিকেট পাওয়া যায়! অনেকে তো রীতিমত গলাবাজি করে বলে, 'জ্ঞানার্জন করে কি হবে'! আমার কাছে এটা মানববিধ্বংসী অস্ত্রের চেয়ে ক্ষতিকারক কথা বলে মনে হয়। শিক্ষা মানুষের একটি মৌলিক মানবাধিকার। এর সাথে কোন আপোষ চলবে না, চলতে পারে না। অনেকে শিক্ষা এবং জীবিকাকে একাকার করে ফেলে। এখানে শিক্ষা এক জিনিস আর জীবিকা অন্য জিনিস। চাকরির জন্য চাকরিদাতারা চায় দক্ষতা, সক্ষমতা। আর শিক্ষা মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়, চরিত্র গঠন করে, মানবিক হতে শেখায়।
০৮. অন্যায়ের প্রতিবাদ না করলে একটা সময় দেখা যায়, সেটা নিজের সাথে, নিজের পরিবারের সাথে, আশেপাশের মানুষের সাথে ঘটে যায়। তাই, আসুন আমরা সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি। ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার হই। আসুন, সবাই মিলে সকল অন্যায়ের উৎস সন্ধান করে এর মূলোৎপাটন করি।
০৯. সৎ ও সত্যকে মানুষ খুব সহজে অপদস্ত করে। ছোটবেলায় যখন বাবা প্রথমভাগ, দ্বিতীয়ভাগ বই কিনে দিয়েছিলো তখন ঐ বইতে লেখা ছিলো 'সদা সত্য কথা বলিবে'। 'কাউকে অন্যায়ভাবে ক্ষতি করিবে না'। বিষয়গুলো আমার শিশু মনে খুবই প্রভাব ফেলেছিলো। আমি সব সময় সত্য কথা বলা, সৎ থাকার চেষ্টা করতাম। কিন্তু, যখন বয়স বাড়তে লাগলো তখন পারিপার্শ্বিক সমাজে ধীরে ধীরে এগুলো অপাক্তেয় হতে শুরু করলো। আমি নিজের বৈষয়িক বিষয়ে হতাশ না হলেও এগুলো দেখে হতাশ হতে শুরু করলাম। মানুষ মানুষকে নিত্য-নতুনভাবে ঠকাচ্ছে, মিথ্যার ছড়াছড়ি চতুর্দিকে। এসব দেখে নিজেকে এখন সমাজের একজন বোকা মানুষ মনে হয়।
১০. চোর-বাটপার-ভন্ড, তিনের সাথে, কখনো বিপরীতে, অবাক করা কান্ড!
১১. আপন ভালো পাগলেও বোঝে। এ কারনে নিজের ব্যাপারে প্রত্যেকের আরো বেশি সচেতন হওয়া উচিত। ট্রাপে পড়তে সময় লাগে না। সবাই যদি সবার অবস্থান থেকে আরো বেশি সচেতন হয় তাহলে একটি সুন্দর, সভ্য সমাজ গড়তে সময় লাগবে না।
১২. মানুষ ধীরে ধীরেই বড় হয়। ধীরে ধীরে জ্ঞানী হয়। ধীরে ধীরে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করে। কাজেই, ভালো কিছু পাওয়ার জন্য ধৈর্য্য ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার মানুসিকতা তৈরি করতে হবে। অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকলে ভালো কিছু অসম্ভব।
১৩. আমি রাজনীতিকে কখনো খারাপ বলি না বা ভাবিও না। কারন, একটি দেশের নীতি-নির্ধারনী পর্যায়ে থাকে এই রাজনীতিবিদেরা। তবে, রাজনীতির কতিপয় দুষ্টচক্রকে অবশ্যই খারাপ বলে জানি, বলি এবং ভাবি। রাজনীতির ভাল-মন্দ দুটো বৈশিষ্ট্যই রয়েছে। সভ্য জাতি সব সময়ই রাজনীতির ভালো বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করার চেষ্টা করে। অসভ্যদের কথা না বলাই শ্রেয়। কারন, নেতিবাচক কথারও প্রচন্ড প্রভাব রয়েছে। সেটা কথা-বার্তা, কাজ-কর্মে যতদূর সম্ভব না ফুটিয়ে তোলায় মঙ্গলদায়ক হবে বলে বোধ করি।
১৪. সাময়িক সুখের মোহে মানুষ বৃহত্তর সুখকে বিসর্জন দেয়। বিষয়টা আজব লাগে!
১৫. মানুষকে ঠকানো যায় সহজে। কিন্তু, এটার নেতিবাচক রেশটা রয়ে যায় দীর্ঘকাল।