সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কবিতাগুচ্ছ

উপলব্ধি

-রহিম মার্স

চারপাশে এত এত মানুষ,

তবুও কেন জানি নিজেকে লাগে বড়ই একা।

অনেক কিছুই বুঝতে পারি,

তবুও কেন জানি নিজেকে লাগে বড়ই বোকা।

দাবি করে ভালো মানুষ,

আসলে সবাই সবাইকে দেয় প্রতারনা আর ধোকা।

উঠে যাচ্ছে আস্থা-ভালোবাসা,

দিনান্তে উঠছে নাভিশ্বাস, কঠিন হচ্ছে বেঁচে থাকা।


অরণ্যে-রোদন

-রহিম মার্স

হারিয়ে যেতে চায় ঐ মহাশূণ্যের অতল-গহ্বরে,

যেখানে নাই কোন মানুষের শ্রেণীকরণ চক্রাকারে,

ন্যায্য অধিকার হরণ আইনের ফাঁক-ফোঁকরে,

সন্তান মরে না গুলির আঘাতে, মায়ের জঠরে;

করে না কেউ অযথা আস্ফালন, পড়ে না ফাঁপরে,

কেউ হারায় না সহায়-সম্বল অন্যের মিথ্যাচারে,

কেউ কারো কথায়-কর্মে দুঃখী হয় না কদাচারে,

লিপ্ত হয় না কেউ অন্যের উপর অন্যায় ব্যভিচারে,

সবাই উদ্ভাসিত হোক সবার নিজ মৌল অধিকারে,

অধিকার ভোগ করুক সবাই তার নিজস্ব আকারে।


সমসাময়িক প্রেম

-রহিম মার্স

প্রেম মানে এক লুতুপুতু খেলা,

দু'জন দু'জনের সামনে আলা'ভোলা।

প্রেম মানে দু'জনার খুনসুটি,

মাঝে-মধ্যে চলে ঝগড়াঝাটি।

মাথার চুলে হাত বুলানো আঁকিবুকি,

প্রেমিকের সামনে মেয়েটি যেনো কঁচি খুকি।

যার আছে টাকা আর আহার,

সেই দেখে প্রেমের কি বাহার।

বখাটের কপালে জোটে শত-প্রেম,

যার নাই সে বলে শেম-শেম।

ফেসবুক আর ফোন দিয়ে শুরু হয় কথা,

ডাল-পালা মেলে প্রেমের হয় অষ্ট-মাথা।

ক'দিন পরে বলে চলো করি সিটিং,

তারপর ডাক পড়ে চলো রুমে করি ডেটিং।

বন্ধুরা বলে চমেৎকার চমেৎকার বীরপুরুষ,

ঠকিয়েছিস নারীর সম্ভ্রম-জৌলুস।

তুই তো এক-নাম্বার আসল পুরুষ,

আমরা থেকেই গেলাম কাপুরুষ।

এভাবে রম্য ডেটিংয়ে হঠাৎ,

মেয়েটি ছ্যাকা খেয়ে কুপোকাত।

এরপর কিছু মেয়ে নিজেকে নেয় গুটিয়ে,

অনেকে সহজ-সরল ছেলেদের মারে পটিয়ে।

এভাবে চক্রাকারে চলে ছ্যাকামাইছিন,

ঠকবাজির যুদ্ধে হেরে জীবন হলো মলিন।

জীবন যে এত কঠিন এক যুদ্ধ,

সময় থাকতে বুঝিনি, এখন হবো শুদ্ধ।


কল্পনার ফানুস

-রহিম মার্স

জগতে বিচিত্র সব মানুষ,

উড়ায় শুধু কল্পনার ফানুস।

কেউ স্বপ্ন দেখে,

কেউ'বা স্বপ্ন আঁকে।

কেউ আবার স্বপ্ন মাখে,

কারো স্বপ্ন আসে ঝাঁকে-ঝাঁকে।

কেউ পারে কেউ পারে না,

কেউ'বা আবার জানেও না।

জীবনের অস্ত-পারে,

স্বপ্নগুলো ঝরে পড়ে।

মায়াময় জীবনে,

স্বপ্নের কি মানে!

মিছে মায়ার বন্ধন,

কি হবে করে ক্রন্দন।

জীবন গড়ো জীবনের মত,

থাকবে না কায়-ক্লেশ ক্ষত।


জীবন আলেখ্য

-রহিম মার্স

দিগন্ত পাড়ে নিকষ কালোরা করছে খেলা।

তেপান্তে বসেছে স্বপ্নের মেলা।

আশার সুমুদ্রে তাই ভাসিয়েছি স্বপ্নের ভেলা।

হয়ে গেছি তাই ভাববাদী আপন ভোলা।

গণ মিছিলে আমি অধরা-অপরিচিত।

পারবো; নতুবা, পরিবারিক ইতিহাসের ক্ষত।

আছে বন্ধন যত, সবই ক্ষনিকের মায়ার মূহুর্ত।

সবাই আমরা বন্ধনের জাতাকলে পিষ্ট।

সবই চোখের ভ্রম, মনের অনিষ্ট।

জীবন যেন কবিতার ছন্দ,

পতনে সবাই করে গাল-মন্দ।

পড়েছি নিয়ম-অনিয়মের দ্বন্দ্বে,

মন পড়েছে নিদারুণ ধন্ধে।

দ্বন্দ্ব আর ধাঁধাঁর কলে, 

জীবন অচল-সচল বাঁচালের ক্যাঁচালে।

তবুও মানুষ স্বপ্নে বাঁচে,

আশার ছলনে, জীবন যতদিন আছে।

যা গেছে, তাতে কি আছে,

দরকার নাই যেঁচে, সবই তো মিছে।

যতই থাক ছন্দ, মন্দ, দ্বন্দ্ব আর ধন্ধ;

একদিন দমও হয়ে যাবে বন্ধ।

সে দিন কেউ বুঝবে না তোমার মর্ম,

সবাই খুজবে তোমার কর্ম।

কর্ম দিয়ে হবে তোমার বিচার,

কেউ কেউ করবে মিথ্যাচার,

বেঁচে থাকতে করোনা অনাচার-অবিচার,

মিথ্যাচার, দূর্নীতি, কদাচার।

সবার সাথে করো সদাচার,

তাহলে মানুষ করবে তোমার সঠিক বিচার।


স্বপ্ন দেখা

-রহিম মার্স

স্বপ্ন দেখো, স্বপ্ন ভাঙ্গো, স্বপ্ন গড়ো।

স্বপ্নে করো যাত্রা, দিয়ো না কোন মাত্রা।

এসো গড়ি স্বপ্ন।

স্বপ্নে বাঁচো, স্বপ্নে নাচো।

স্বপ্ন করো জয়, নেই কোন ভয়।

এসো গড়ি স্বপ্ন।

স্বপ্ন গড়ে হাজারো তাঁরা, স্বপ্ন দেখে যারা,

স্বপ্নে সাড়া পায় তারা।

এসো গড়ি স্বপ্ন।

হুদাই, পাবো না ভয়, স্বপ্নে হবে বিশ্ব জয়।

এসো গড়ি স্বপ্ন।

আমরা নবীন, আমরা স্বপ্ন দেখি।

আমরা হবো না অধীন, আমরা স্বপ্ন আঁকি।

দুঃস্বপ্ন পরাধীন, আমরা স্বপ্ন মাখি।

এসো গড়ি স্বপ্ন।

স্বপ্নে অন্ন, দুঃস্বপ্ন বানায় বন্য, দুঃস্বপ্ন তাই জঘন্য, ঘৃন্য।

এসো গড়ি স্বপ্ন।

আশায় স্বপ্ন, স্বপ্নের জয়, তার নেই কোন ক্ষয়।

জয়তু স্বপ্ন, জয়তু স্বপ্ন, জয়তু স্বপ্ন।


ভালোবাসি তোমাকে

-রহিম মার্স

ভালোবাসি তোমাকে বলতে নেই কোন দ্বিধা,

ভালোবেসে পান করতে চাই তোমার প্রেমের সুধা।

তোমাকে ভালোবেসে পড়েছি ধাঁধাঁয়,

আসে আসুক যত বাঁধায়।

পরোয়া করি না কোন বাঁধা,

দাও যদি পান করতে তোমার প্রেমের সুধা।

আমরা তো নই আকবর অার যোঁধা,

তাই ভয় পেয়ে হতে হবে না গাঁধা।

জীবন হবে কোমল-মসৃণ-নির্মল-সাদা,

চোখে আসুক যতই পানি আর কাঁদা।

জীবনের বাস্তবতায় জীবনকে করে আলোকিত বা অন্ধকার কালো,

পাশে যদি থাকো জীবন হবে উজ্জ্বল ঝলোমলো।

প্রেম করেছিলো ইউসুফ-জুলেখা, শিরি আর ফরহাদ,

প্রেম মানে না কোন জাত-পাত।

এক জীবনে সবারই প্রেম আসে,

কেউ হাসে আর কেউ ভাসে,

অনেকে না পেরে মরে হা-হুতাশে।

তোমাকে ভালোবেসে জীবনকে করতে চায় ধন্য,

যদি তুমি করো আমায় গণ্য,

যদিও হও কারো বা অন্য,

তবুও তোমাকে ভালোবেসে হবো আমি বন্য।

ভালোবেসে রাখবো তোমায় মনে,

এ কথাটি সবার আগে রাখো জেনে আর শুনে,

জানে জানুক সবাই, উঠুক সবার কানে,

একতরফা প্রেমের হয় না কোন মানে,

এটা তো সবাই জানে।

তাই তোমার প্রেমে আমি আজ বিদ্রোহী রনক্লান্ত,

যে প্রেমের নেই কোন অন্ত।

প্রেমের হোক জয়,

ভালোবাসার নেই কোন ক্ষয়।


সরল-গরল কথা

-রহিম মার্স

সরল লেখায় চলবে না আর কলম,

কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল চোখে লাগিয়েছে অন্ধত্বের মলম।

স্বপ্নকে তারা করেছে অপমান,

বাকি থাকে না খতম করতে জান,

তবুও লেখার প্রতি আছে যে টান,

থাকুক আর না-থাকুক মান-সম্মান,

তবুও লিখবো মানবতার গান,

এরপরও আপনারা যদি চান,

ধরবো তবুও কান,

বরদাশত করবো না মানবতার অপমান,

পারলে কিছু করে নেন,

ভন্ডামী বাদ দেন,

ভন্ডের সমর্থন উঠান,

ভালো মানুষ হয়ে যান,

কেউ বলবে না জবাবদিহির কথা কন,

কিতাবী কথায় নেই কোন সমাধান,

বাস্তবতায় ফিরে যান,

দেখে-শুনে-বুঝে কার্যকর কথা কন।

আগে মানুষ,

তারপর উড়ান কল্পনার ফানুস।


যুদ্ধ-বিধ্বস্ত মানবতা

-রহিম মার্স

অন্য লেখা করে দিয়েছি বন্ধ,

তাই লিখতে বসেছি কবিতার ছন্দ।।

মানুষ হয়ে গেছে অন্ধ,

তাই লেখালেখি বন্ধ।।

চারিদিকে মস্তিষ্ক পঁচা গন্ধ,

তাই লেখালেখি বন্ধ।।

মানুষ হয়ে গেছে মন্দ,

চারিদিকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব,

তাই মানুষ হয়েছে অন্ধ।।

একি অবাক করা কান্ড,

চারিদিক ছড়িয়ে পড়েছে ভন্ড।।

মানবতা তাই হয়ে গেছে ধড়-হীন অণ্ড।।

তাই কবি আজ হারা তার ছন্দ,

ভন্ডরাই আজ চারিদেকে মান্য,

ভালো মানুষ আজ সমাজে নিন্দ্য।।

নারী-শিশু আজ যুদ্ধ-বিধ্বস্ত,

চারিদিকে মানবতার সূর্য হয়েছে অস্ত।।

ভন্ডরাই পায় সম্মান আর স্লোগান,

সাধুরা হয় নিত্য অপমান।।

চারিদিক ভন্ডের জয়গান,

মানবতা আজ সর্বত্র কেঁটে খান খান।।

মায়ানমার, ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্থিন সহ অন্যান্য স্থান,

মানুষ হচ্ছে স্বার্থের কোলে বলিদান।।

নেতারা বসে বসে গড়ে শুধু স্ব-আলিশান,

ক্ষমতার মায়ায় হত্যাও হয় মহিয়ান।।

হত্যাকারী পাচ্ছে স্বীকৃতি আর সম্মান,

সাধারন জনতা বসে বসে খায় তামাক-পান,

চায়ের কাপে ওঠে মানবতা আর রাজনীতির ঝড়-তুফান।।

এ স্মৃতি যেন চির অম্লান।।

ফল হয় শূন্য; সব হত্যাই জঘন্য,

 মানবতার সংজ্ঞা তো অন্য।।

মানবতা আজ কিতাবী কথা, আর নেতার মূখের ফাঁকা বুলি;

এদিকে বন্দুকের নলে উড়ে যাচ্ছে মানুষের মাথার খুলি।।

মানবতা আজ পড়েছে অশুভ-শক্তির ফাঁদে,

বিশ্ব-মানবতা ডুকরে ডুকরে কাঁদে।।

ক্ষমতার অন্ত-কোন্দল দ্বন্দ্বে,

মরছে মানুষ পাহাড়, সমতল, মরু-প্রান্তে।।

মানুষ মানুষকে বাসবে ভালো,

দূর হবে সব জরাজীর্ণ অন্ধকার কালো।।

চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ুক মানবতা আর জ্ঞানের আলো।।

বিশ্বের সব মানুষই মানুষ হিসেবে সমান,

 হে বিশ্ব-মানব এসো গায় সর্বজনীন মানবতার জয়গান।।


ভালোবাসার নিকোটিন

-রহিম মার্স

চেয়েছিলাম ভালোবাসা,

দিয়ে গেলি নিকোটিন।

দিন-রাত,

কাটে আমার ঘুমহীন।

তোকে ভালোবেসে,

নিজে নিজে,

খেয়েছি ছ্যাকামাইছিন।

ভালোবাসার পরিনতি, 

এখন শুধুই বিষাক্ত নিকোটিন।


নিঃশেষে হারিয়ে যাওয়া

-রহিম মার্স

কত-শত চেনা মূখ,

হারিয়ে যায়, অচেনার ভিড়ে।

কত-শত প্রিয় মূখ,

হারিয়ে যায়, ভালবাসার নীলাভ তীরে।

মরীচিকার মত,

কিছুক্ষন থাকে যে সে ক্ষত।

তারপর চলমান, আবার জীবনে;

মানুষ হয় বহমান, প্রত্যেক ক্ষনে।

অবশেষে,

মায়ার জাল ছিন্ন করে;

একদিন,

আমিও যাবো নিঃশেষে হারিয়ে।


স্বপ্ন-বন্দনা

-রহিম মার্স

নবীন চেতনার নব-স্বপ্নযাত্রা;

নিত্য নব-জীবনের আশায়।

আশায় জীবন; জীবনের শ্রী।

মানুষ তার আশার সমান বড়।

মানুষ বেঁচে থাকে আশার জোরে।

তাই, স্বপ্ন দেখা ছাড়তে রাজী নই।

স্বপ্নবাজ, স্বপ্ন-যাত্রী হতে চাই জীবনভর।

আশাবাদী ইতিবাচক স্বপ্নচারী মানুষ;

হওয়ার মন-বাসনায় রত যামিনী-যাপন।

আশাহত, নৈরাশ্য হওয়া দূরে থাক;

নেতিবাচক চিন্তার কাছে মস্তক;

অবনত না করতে সদা-প্রস্তুত, ক্রিয়াশীল।

ইতিবচকতায় ভরে উঠুক সবার জীবন।