সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ধর্ষনরোধে সামাজিক কাউন্সেলিং ও সচেতনতায় জরুরি


যেখানে ঘরে ঘরে ধর্ষকের পদচারনা সেখানে বিচার করবে কাকে? আর বিচারিক প্রক্রিয়ায় গেলে সেখানে আরেক দফা মানসিক ধর্ষনের ঘটনা ঘটে! যে দেশে ৩ মাসে ১৭৬ টা শিশু ধর্ষনের ঘটনা ঘটে, সেখানে দুর্বার সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প কি হতে পারে? সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে। তার জন্য তো সুস্থ্য মন-মানসিকতার মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন লোক দরকার। সেটার জন্য ইতিবাচক মানসিকতার বিকাশে ব্যক্তি পর্যায় থেকে কাজ শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র সহযোগীর ভূমিকা পালন করবে।

(ব্যক্তিগত অভিমত) শাস্তি দেয়ার আগে, ধর্ষকামী মনোবৃত্তির চিকিৎসা দরকার। সেটা সার্বিক ধর্ষন-রোধে দীর্ঘস্থায়ী কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে বোধ করি। বর্তমানে শাস্তি কতটা ফলপ্রসূ হবে সেটা ভাববার সময় এসেছে। কারন, এটা অতীব প্রাচীন প্রথা। একই সাথে অমানবিক। সময়ের দাবীকে অগ্রাহ্য করলে সেটা কখনো ভালো ফল দেয় না।

অপরাধীর শাস্তি যদি মূখ্য হয়, সেটা অপরাধ কমায় না। অপরাধ প্রশমনের জন্য সামাজিক কাউন্সেলিং ও সচেতনতা অতীব জরুরি। পোশাকের দোহায় দিয়ে বা অন্যান্য প্রেক্ষাপট তুলে যেখানে ধর্ষক নিজেই ধর্ষনের বৈধতা জারি করে, ভুক্তভোগীর উপর দোষ চাপায় (এক্ষেত্রে সমাজও একই কাজে বাঁকপটুতা দেখায়), সেখানে বুঝতে বাকি থাকে না মুষ্টিমেয় বাদে সমাজটা ধর্ষকামীতে ভরে গেছে। যেটা একজন মানুষকে ধর্ষক হতে খুব সহজে উদ্বুদ্ধ করে বা হয়ে যায়। এখানে ধর্ষনের সর্বজনীনতার প্রকাশ ঘটেছে। একজন-দু'জন ধর্ষকের বিচার করে ধর্ষন কমানো অসম্ভব বলে বোধ করি। আর নিয়ন্ত্রিত-গনতন্ত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতির কালো থাঁবা থাকে। স্বচ্ছতার বড়ই অভাব সেখানে। সেই সাথে দীর্ঘসুত্রতা তো আছে। মানসিক ধর্ষনের কথাটা বাদই দিলাম। এটা আরো প্রমান করে যে, বিচার দিয়ে, শাস্তি দিয়ে ধর্ষন রোধ সম্ভব নয়।

তবে, এখন পরিস্থিতি বিবেচনায় অপরাধীর ইতিবাচক মানসিকতার বিকাশে, অপরাধ প্রবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত করার নিমিত্তে রাষ্ট্রীয়ভাবে তার কাউন্সেলিং করানো অতীব জরুরি (এটা কার্যকরী হবে বেশি, শাস্তি অপরাধ কমাতে যে ব্যর্থ তার প্রমান স্বচক্ষে অবলোকন করছি)। এটা সাময়িক। তবে, দীর্ঘস্থায়ী সমাধনে পৌছানোর জন্য সামাজিক কাউন্সেলিং ও সচেতনতা জরুরি।