০১. কর্ম মানুষকে কখনো ঠকায় না। আপনার বর্তমানকে আপনি যেখানে যেভাবে ব্যয় করছেন ভবিষ্যতে ঠিক তেমনই ফল পাবেন।
০২. প্রত্যেকটা জিনিস ব্যবহারের কিছু নিয়ম-নীতি থাকে। আর এ নিয়ম-নীতি বহির্ভূত কাজ করলে সমস্যা হয়।
০৩. বাস্তবতা বিবর্জিত জ্ঞান মূল্যহীন।
০৪. সমাজে কিছু লোক বাস করে। যারা মনুষ্য সমাজে বাস করে। কিন্তু, অসামাজিক। সমাজবিচ্যুত।
০৫. আমাদের জানার পরিধি যত কম, আমাদের সন্দেহ প্রবনতা তত বেশি। আপনার জানার পরিধি যত বেশি হবে, আপনার কাছে যেকোন বিষয় স্বচ্ছ কাঁচের মত দেখাবে।
০৬. আমরা অজানার পেছনে ছুটি। এটাতে সমস্যা নাই। কিন্তু অতি অজানার পেছনে ছোটা মহাভুল। পরবর্তী জীবনে এর জন্য খেসারত গুনতে হয়।
০৭. জীবন একটাই। তাকে সুন্দর করে যাপন করুন।
০৮. মানুষের জীবন কত বিচিত্র!
০৯. আসলে আমাদের সমস্যা হল, আমরা কর্মের আগেই ফল প্রাপ্তির আশা করি। প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির মাঝে যে ফাঁক তৈরি হয় সেখানেই হতাশা গেড়ে বসে।
১০. আমরা মানুষ একে অন্যের পরিপূরক, প্রভু নয়।
১১. মরীচিকার পিছে ছুটে লাভ হয় না। মরিচিকা ধরা যায় না, ছোয়া যায় না। চোখের ভ্রম মাত্র।
১২. আবেগ ক্ষনস্থায়ী, বাস্তবতা চিরস্থায়ী।
১৩. এই সমাজে কিছু বাজে চরিত্র ছিল, আছে এবং থাকবে।
১৪. আপনি আপনার সময়ে বাস করুন।
১৫. জীবনের শেষপ্রান্তে অবশিষ্ট কিছু স্মৃতি।
১৬. কে কোন ধ্যানে আছে কিছু বলার নাই। এ জন্যই কাউকে এককভাবে ভালো বা খারাপ বলারও উপায় নাই।
১৭. জীবনে সীমাবদ্ধতা থাকবে। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়েই ভালো কিছু করতে হয়।
১৮. পৃথিবীর একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষ। কেননা, সে চিন্তা করতে পারে এবং চিন্তা করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারে।
১৯. আপনি জীবনে অনেক ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু, আপনার আচার-আচরণ, কথাবার্তা অ-মানুষের মত। তাহলে, আপনি ভালো মানুষ নয়। হয়তো কিছু ভালো কাজ করেছেন, এই। আবার, একজন খারাপ মানুষের সাথে আপনার ব্যবহার যদি তদ্রুপ হয়, তাহলেও আপনি ভালো মানুষ হতে পারলেন না!
২০. আসলে বয়স হলে সবাই বুঝতে পারে সব খেল। কিন্তু, মানুষ, সমাজ, ধর্ম, রাষ্ট্র প্রভৃতির চাপে অনেকে অনেক কিছুই বলতে পারে না। হায়রে পৃথিবী! হায়রে আমার স্বাধীনতা!
২১. সমাজে কিছু লোক আছে যারা ছোটদেরকে দিয়ে অযাচিতভাবে কাজ করিয়ে নেয়, দূর্বলতার সুযোগে। কাজ শেষে ছুড়ে ফেলে দেয়। (দেখেছি)
২২. একজন মানুষের আসল পরিচয় ফুটে ওঠে তার কথাবার্তা এবং তার আচার-আচরণে।
২৩. শৈশব গেল কৈশোর গেল, যৌবন যাবে, একসময় নিজেও যাবো হারিয়ে।।
২৪. জীবনকে জীবনের জায়গা থেকে দেখতে হবে। অন্যকিছু ভাবলে ভুল হবে।
২৫. সময়গুলো খুব দ্রুত পার হয়ে গেল। এক সময় ভাবতাম কবে বড় হবো, আর এখন মনে হয় শৈশব ও কৈশোর যদি আবার ফিরে পেতাম।
২৬. আবেগ দিয়ে ভালোবাসা হয়। বাস্তবতা দিয়ে ভালোবাসা জয় করতে হয়।
২৭. বিশ্বাস ছিলো, আছে এবং থাকবে। এটা চিরন্তন।
২৮. এক সময় পড়েছিলাম, পলিগামি আর মনোগামি। মানে-একগামিতা আর বহুগামিতা। বিয়ে বলেন আর প্রেম দুটোর ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। মানুষের দুটো বৈশিষ্ট্য- এনিম্যালিটি আর হিউম্যানিটি। মানে-পশুত্ববোধ আর মনুষ্যত্ববোধ। মানুষের ভেতরে যখন এনিম্যালিটি কাজ করে তখন সে বহুগামি হয় যায়। কেননা, মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন মানুষ বাদে পৃথিবীর সকল প্রাণীর মধ্যে বহুগামিতা পরিলক্ষিত হয়।
২৯. মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির পিতামাতার বড় সমস্যা হলো-তারা সন্তানদের মোটেও বোঝেনা বা বোঝার চেষ্টাই করে না। সমস্যা হলে দিকনির্দেশনা না দিয়ে বকঝকা করে। হিতেবিপরীত। এজন্য সন্তানেরা বিপথগামী হয়ে যেতে থাকে বা জীবনে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে। তাদের আরো একটি সমস্যা হলো দোষারোপ করা। যেটা মানসিকভাবে প্রচন্ড আঘাত করে। প্রত্যেকটা মানুষের মানসিক বিকাশটা অত্যন্ত জরুরি। অল্প বয়স থেকে যদি নানা চাপাচাপির মধ্যে বেড়ে উঠতে থাকে তাহলে স্বাভাবিক বিকাশে বাঁধা পড়ে। এতে করে তারা খুব সহজে বিপথে চলে যেতে থাকে, জীবনে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে থাকে। কারণ, এ সময়টাতে এসকল পিতামাতা সন্তানকে প্রকৃতির হাতে ছেড়ে দেয়। তারা মনে করে দায়িত্ব শেষ। আসলে কি তাই?
৩০. যতই আমরা মিথ্যা বলি না কেন, সত্য প্রকাশ পাবেই। আসলে যাচাই বাছাই না করে কাউকে বিশ্বাস করতে নেই। অন্ধবিশ্বাস ক্ষতি ডেকে আনে। মোহ ভঙ্গ হতে সময় লাগে না। তখন শুধু কষ্টের গ্লানি বয়ে বেড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। জীবন একটাই, যদি কখনো জীবন নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয় তাহলে জীবন আর জীবনের যায়গায় থাকে না। হয়ে যায় অন্য কিছু। জীবন নিয়ে যদি কোন ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাহলে আপনি চলে যেতে পারেন অন্ধকার জগতে; এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। বাস্তবে আপনি যেটা দেখছেন, এটা হয়তোবা কিছুই না। এর অন্তরালে রয়েছে মাকাল ফল সদৃশ।
৩১. সব কিছুরই ভার্জিনিটি থাকে, ভার্জিনিটি নষ্ট হয়ে গেলে, তা হয়ে যায় সেকন্ডহ্যান্ড।।
৩২. নিজের ভালোত্ব বজায় রাখার জন্য, নিজেকে সামলাতে হয়, বিবেকটাকে কাজে লাগাতে হয়, উচিত-অনুচিত নিয়ে ভাবতে হয়। আর খারাপের জন্য, নিজের নিয়ন্ত্রন প্রকৃতির হাতে ছেড়ে দিয়ে স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়ায় যথেষ্ট।
৩৩. পৃথিবীর অন্য সব জাতির মধ্যে আকার-আকৃতিগত মিল থাকলেও বাঙ্গালি জাতির মধ্যে পারস্পারিক কোন মিল নাই।
৩৪. পৃথিবীতে মানুষ বড়ই অসহায়। আপনি যদি নিজে সচেতন না হোন, তাহলে এক সময় সবাই আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। এটাই এই বিচিত্র পৃথিবীর নিয়ম। আমরা সবাই চিন্তা করতে পারি। এটাই আমাদের মানুষ হতে সাহায্য করে। আপনি যদি চিন্তা করেন। তাহলে, আপনি কিছু না হোক নিজেকে জানতে পারবেন, চিনতে পারবেন। মানুষের স্বাভাবিক প্রবনতা হল সে চিন্তা করতে পারে। কিন্তু, তার এই স্বাভাবিক চিন্তাকে যদি একটু সমন্বিতভাবে করা যায় তাহলে সব কিছু সুন্দর হয়ে উঠত। বলাই বাহুল্য! আমরা মানুষ। দুটো জিনিস আমাদেরকে মানুষ হতে সাহায্য করে। প্রথমত, চিন্তা করার ক্ষমতা। দ্বিতীয়ত, এটার প্রয়োগ করার ক্ষমতা।
৩৫. খুজছি তোমায় জীবন ধরে। তবুও কেন জানি খুজে পেলাম না তোমায়। হে প্রিয়তমেষু, তোমাকে কোথায় গেলে খুজে পায়? বলে দাও আমায়। জীবনের বাঁকে বাঁকে তোমায় খুজে ফিরি, হে প্রিয়তমেষু। গোধুলির ন্যায় আলো-আধারি হয়ে রয়ে গেলে। ধরা তবু দিলে না। পথে-প্রান্তরে, মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়ায়। তবুও, দেখা পায় না তোমায়। তুমি কি শুনতে পাও?
৩৬. বিবেক এমনি এক জিনিস যার ব্যবহার সবাই জানে না। অল্প সংখ্যক মানুষ এর ব্যবহার করে মানুষ হয়ে ওঠে। অন্যরা এটার ব্যবহার না জানার কারনে প্রাণীই রয়ে যায়। বিবেকই মানুষকে মানুষ হতে সাহায্য করে। আর এটার অ-ব্যবহার, অপ-ব্যবহার মানুষকে জন্তু-জানোয়ারে পরিনত করে।
৩৭. আপনি যদি নতুনের সাথে খাপ খাইয়ে না নিতে পারেন। তাহলে আপনি নিশ্চিত পিছিয়ে পড়বেন। এটা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। যারা যত তাড়াতাড়ি নিজেদের নতুনের পথে ধাবিত করতে পারবে তারা তত দ্রুত এগিয়ে যাবে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উৎকষর্তা এত বেশি যে, আপনি যদি এটা আগেভাগে গ্রহন করতে না পারেন তাহলে এটা নিশ্চিত আপনি দাড়িয়ে থেকেও পিছিয়ে পড়বেন।
৩৮. জীবন কি জিনিস। আমরা বেশিরভাগ মানুষই জানি না। প্রচলিত কিছু ছন্দহীন ধরাবাঁধা নিয়মের বেড়াজালে পড়ে জীবনের মানে খোঁজার ফুরসতই থাকে না। পৃথিবীর সবচাইতে বড় জ্ঞান নিজেকে চিনতে পারা, নিজেকে বুঝতে শেখা। বেশিরভাগ মানুষ টাকা-পয়সা, ধন-দৌলতের পিছে ছুটতে গিয়ে নিজেকে দেখার, জানার, বোঝার সময় পায় না।
৩৯. যদি কারো দোষ ধরতে যাই বা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে চাই, তাহলে নিজের দোষ-ত্রুটির কথাগুলো যেন আগে ভাবি।
৪০. পৃথিবীতে সবাই (সব মানুষই) রাজনীতিবিদ। নিজের জন্য সবাই রাজনীতি করে।
৪১. নিজের মতাদর্শে অন্যকে পরিচালিত করার জন্য মানুষ সদা তৎপর থাকে। মিথ্যা বলে হলেও অনেক সময় কাজটি করে মানুষ। আবার দেখা যায়, অনেক সময় চাপাচাপির ঘটনা ঘটে। এর জন্য সমাজে বিশৃংখলা দেখা দেয়।
৪২. ব্যক্তিস্বার্থ একটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু যদি এটি অন্যায়ভাবে হাসিল করা হয়। সেটা চরম খারাপ জিনিস। ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করার জন্য মানুষ পৃথিবীর চরমতম খারাপ কাজটি করতেও কসুর/দ্বিধা করে না।
৪৩. অন্যের মতাদর্শে পরিচালিত না হয়ে, নিজের চিন্তা-চেতনা, পরিকল্পনা অনুযায়ী চলাই শ্রেয়।
৪৪. যার সঙ্গে আপনি বসবাস করবেন মানুষটির সম্পর্কে ভাল ধারনা নিয়ে নিন। যদি দেখেন, আপনি চিপায় পড়ে গেছেন বা লোকটা খালি কলসি তাহলে সঙ্গ ত্যাগ করুন অথবা অন্যত্র বসবাসের চেষ্টা করুন। মানুষের স্বাভাবিক বিকাশটা অত্যন্ত জরুরি।
৪৫. অন্যকে বোকা ভাবা সহজ। কিন্তু, নিজেকে বোকা বানানো অতি সহজ।
৪৬. প্রত্যেক পিতাই হয়তো চান সন্তান তার অসমাপ্ত কাজ ও স্বপ্নকে এগিয়ে নেবে। মৃত্যুর পরও তিনি সন্তানের মাঝে নিজেকে দেখতে চান।
৪৭. মানবিক দৃষ্টিকোন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা যখন মানুষের ভেতর থেকে উঠে যায় তখন মানুষের ভেতর নানান ধরনের খারাপ বৈশিষ্ট জেকে বসে।
৪৮. মানুষ স্বভাবতই একে অন্যের সমালোচক।
৪৯. সম্পর্ক জিনিসটা সদা গতিশীল ও পরিবর্তনশীল।
৫০. পৃথিবীতে কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত।
৫১. কাঁক এবং কোঁকিল দুটোই কালো পাখি। এখন আমরা যদি কাঁককে কোঁকিল ভাবি তাহলে নিশ্চয়ই সেটা অবাস্তব এবং মহাভুল। কাউয়া তো কাউয়াই। শত ভালোবাসা দিলেও তার মূখ দিয়ে বাঁজখাইনাদ ছাড়া কিছুই বাহির হবে না।
৫২. শিক্ষা মানুষের একটি মৌলিক মানবাধিকার। এর সাথে কোন আপোষ চলবে না, চলতে পারে না। অনেকে শিক্ষা এবং জীবিকাকে একাকার করে ফেলে। এখানে শিক্ষা এক জিনিস আর জীবিকা অন্য জিনিস। চাকরির জন্য চাকরিদাতারা চায় দক্ষতা। আর শিক্ষা মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়, চরিত্র গঠন করে, মানবিক হতে শেখায়।
৫৩. সৌন্দয্য উপলব্ধির জন্য সৌন্দয্যবোধ থাকতে হয়। এটা কেউ দেয় না, নিজেকে তৈরি করে নিতে হয়। শিক্ষা এবং জ্ঞানের চর্চাই বোধ তৈরি করে।
৫৪. ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকরা ভিন্ন ভিন্ন রুপে আগমন করলেও, বিশ্বাসঘাতকতার স্বরুপ এক ও অভিন্ন।
৫৫. মানুষকে জানতে হলে মানুষকে ভালবাসতে হবে, মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে, মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে মন খুলে। তাহলে, মানুষ এবং বর্তমান সমাজের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন। তবে একটা কথা, পাগলের সাথে কথা বললে কিন্তু পাগল সম্পর্কেই জানতে পারবেন।
৫৬. আপনি যদি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন লোক হোন। তাহলে আপনি প্রত্যেক মানুষকে তার অবস্থান বিবেচনায় নিবেন। নিজের অবস্থান বিবেচনায় নেয়ার প্রশ্নই আসে না।
৫৭. পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষই নিজের জীবনের অপ্রিয় সত্যগুলো শুনতে বিব্রতবোধ করে এবং শুনতে চায় না। এবং এগুলো গুম করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। বেশিরভাগ মানুষ একটা সময় গিয়ে এগুলো ভুলে যায়। কতিপয় লোক দীর্ঘদিন মনে রেখে একটা সময় নিজ স্বার্থে অপ্রিয় সত্যগুলো আবার টেনে আনে। যা আগের তুলনায় অনেক বিরক্তিকর এবং যন্ত্রনাদায়ক।
৫৮. বিশ্ব-জগত এখন মাঁকাল ফলের জন্ম দিচ্ছে বেশি।
৫৯. নিজেকে বোকা বানানো খুব সহজ। যেমনঃ কেউ যদি বলে আমি বুঝি। সে কিন্তু, ইতিমধ্যে বোকা প্রমাণিত। কারণ, বুঝলে সেটা বলা লাগে না।
৬০. পরিবর্তনের কারণে বিশ্বাস ক্ষনস্থায়ী। পরিবর্তন মহা-সত্য, বিশ্বাস টলোমলো।
৬১. আনুগত্যশীল নয় শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। কেননা, আনুগত্যশীলতা সৃজনশীলতাকে হত্যা করে। আনুগত্যশীলতা মানুষের চিন্তা করার শক্তি খেয়ে ফেলে। শ্রদ্ধাশীলতা মানুষকে মানবিক করে গড়ে তোলে।
৬২. বুদ্ধি জিনিসটা প্রায়োগিক। নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবাটা বোকামী।
৬৩. যারা নিজেদের ভিতকে শক্ত করতে চাও, তারা দু'হাত ভরে যৌক্তিক সমালোচনা আহবান করো।
৬৪. সময়তো আর থেমে থাকে না। এজন্য, নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতির বেড়াজালে সময়কে ধরে রাখার চেষ্টা বোকামী। সময়পোযোগী হয়ে চলতে হয়। তানাহলে, দাড়িয়ে থেকে পিছিয়ে পড়তে হয়।
৬৫. পরিবর্তনের হাল ধরতে শিখতে হবে। তাহলে, উন্নতি। নাহলে, অবনতি।
৬৬. কুনো ব্যাঙ হয়ে, নিজেকে হাতি ভাবাটা হাস্যকর, নিরেট বিনোদন!
৬৭. সমাজে কিছু হাস্যকর লোক আছে। যারা কৌতুকাভিনেতা নয়। কিন্তু, তারা মানুষের বিনোদনের পাত্র। তারা অভিনয় নয়, তাদের কাজ দ্বারা মানুষকে হাসায়। একদম হুদাই!
৬৮. গোড়ামী সম্পন্ন লোক, মানে যারা নির্দিষ্ট বিশ্বাসের বাইরে যেতে পারে না। এরা মানুষ, সমাজ এবং পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর। কারণ, পরিবর্তনকে তারা মানে না, অগ্রাহ্য করে। পুরাতন অকার্যকর প্রথা, বিশ্বাসকে আকড়ে বেঁচে থাকতে চায়। কিন্তু, পৃথিবী তো সদা পরিবর্তনশীল। আজকের যে ন্যানো প্রযুক্তি তা একদিনে গড়ে ওঠেনি। এক সচেতন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ত পরিবর্তনের ফসল। তারা আবার এ পরিবর্তনের ফল ভোগ করেও সদা পরিবর্তনের বিরোধীতা করে। ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার পরিবেশই পারে মানুষকে সহনশীল করে গড়ে তুলতে।
৬৯. মানুষকে তার ভালো কাজের জন্য অবশ্যই প্রশংসা করতে হবে, উচিত। তাই বলে প্রশংসার নামে অতিবাচনিক কিছু করা অনুচিত, অন্যায়! কারণ, অতিশায়ন কখনো ভালো ফল দেয় না। ক্ষতি করে। হিতে-বিপরীত হয়।
৭০. একজন মানুষ যদি কোন ভুল করে। তবে তার পেছনে কোন না কোন কারণ থাকে। কারণটা খুজে বাহির করতে পারলে ভুল সংশোধন করা সহজ হয়। এটা খুব একটি সাধারণ বোধ। যা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। চিন্তা করলেই পাওয়া যায়। হেস একবার কতিপয় পিতামাতাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তাদের সন্তান ভুল করলে কি করবেন? জবাবে, শিক্ষিত, রুচিশীল উচ্চবিত্ত পরিবারের বাবা-মায়েরা বলেন, সন্তানের ভুলের কারণটা খুজে বাহির করবেন এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। আর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের বাবা-মায়েরা বলেন, আচ্ছা করে চড়-থাপ্পর মেরে ছেড়ে দেবো।
৭১. আমরা চাইলেই পৃথিবী থেকে খারাপকে উৎখাত বা নিশ্চিহ্ন করতে পারবো না। তবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। খারাপ না থাকলে ভালো কি জিনিস সে বোধই মানুষের তৈরি হতো না।
৭২. গাঁধা বই বহন করে কিন্তু পড়তে পারে না বা জানেও না। বই তার কাছে নিরেট বোঝা স্বরুপ। বইয়ের জ্ঞান তার কাছে অপাংক্তেয়। তার ধান্দা থাকে বই বহন করলে মনিব কিছু খাবার দেবে।।
৭৩. একজন মানুষ আপনার সাথে দূর্ব্যবহার করলো বলে আপনিও যদি তার সাথে অনুরুপ ব্যবহার করেন। তাহলে দু'জনই একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
৭৪. মাঁকাল ফল তলায় পড়লে ফেঁটে যায় এবং তার ভেতরকার পঁচা দূর্গন্ধ বাহির হয়ে আসে। তখন তার বাহ্যিক সৌন্দয্য মূল্যহীন হয়ে পড়ে। যতদিন সে উপরে থাকে তার সৌন্দয্য প্রশংসা কুড়ায়। কিন্তু, সময় হলে তো আর সে গাছে থাকতে পারে না। তলায়ই পড়তে হয়।
৭৫. নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন লোক খুজে পাওয়া মুশকিল। কারণ, সবাই কোনো না কোনো বিষয়কে আকড়ে বেঁচে থাকে। যখনই আপনি কোনো বিষয়কে স্বীকৃতি দিলেন তথ্য-যুক্তি-প্রমাণ ছাড়ায়, তখনই আপনার নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রশ্নবিদ্ধ।
৭৬. কুকুরের চেয়ে কুকুরের লেজ বেশিই বেয়াড়া। কুকুর পিটালে কথা শোনে। কিন্তু, কুকুরের লেজে চুঙ্গা পরালেও সোজা হয় না।
৭৭. মানুষ এমনি এক প্রাণী বুঝালে বুঝতে চায় না। ঝাঁটা-লাথি না মারলে কাজ হয় না।।
৭৮. সম্পর্ক জিনিসটা এরকমই। ধীরে ধীরে মলিন হয়ে যায়।
৭৯. মানুষ সামাজিক জীব। একারণে, একে-অন্যের এত সমালোচনা।
৮০. ভুল মানুষের শেখার পথ তৈরি করে দেয়।
৮১. জীবনটা চলছে এক উদ্দেশ্যহীন গন্তব্যের দিকে। জানে না সীমানা তার। কোন একদিন যদি মনে পড়ে তার, সে কি আর ফেরা যায়! যাবে না! তবুও এই যাত্রা! হয়তোবা, একদিন থেমে যাবে।
৮২. আমরা সচরাচার যে ভুলটা সবসময় করি। তাহল, অন্যকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে সময় পার করে দেই। এটা করতে করতে নিজেকে নিয়ে ভাববার সময়ই পাইনা। আজব বিষয়! তাই না? নিজের সময় অন্যের জন্য অযথা বাকওয়াচ করে অপচয় করা।
৮৩. টাকা ছাড়া সবই ফাঁকা। টাকা ছাড়া কোনো নীতি বা তত্ত্বই টেকে না। অর্থই অনর্থের মূল। অর্থের পিছে ছুটতে ছুটতে একসময় মানুষ নিজের অস্তিত্বকে ভূলে যায়।
৮৪. আসলে, আমরা নিজের অজান্তে অনেক ভুল করি। যা আমরা দেখতে পায় না। এ ভুল গুলো সাধারনত অদৃশ্যমান। আর এ ভুলগুলো অনেক ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এ ভুলগুলো অদৃশ্যমান হলেও এ থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়। তার জন্য আমাদের দরকার “গনসচেতনতা”। গনসচেতনতার বিকল্প কিছুই নেই।
৮৫. প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির মধ্যে বিস্তর পার্থক্যের কারনে মানুষ হতাশার কাছে আত্মসমার্পন করে।
বর্তমানে মানুষের প্রত্যাশা আকাশ সমান-প্রাপ্তিটা সামান্যই।
৮৬. মানুষ হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে বড় বিস্ময়কর কম্পিউটার। একজন মানুষের মধ্যে যে সফটওয়্যার ইনস্টল করা আছে সে অটোমেটিক সেই কাজ করতেই থাকে। যেমন, একজন ছাত্র সে পড়ালেখা করে, কর্মজীবী মানুষ কাজ করে, শিক্ষক শিক্ষা দেয় প্রভৃতি।
৮৭. মানুষের জীবনে সবচাইতে বেশি প্রভাব ২টা জিনিসের। যথাঃ ১.পরিবার এবং ২.পরিবেশ। পরিবারঃ পরিবারে মানুষের বেড়ে উঠা, চরিত্র গঠন, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। এছাড়াও জীবন গঠনের সবচাইতে বড় সাপোর্টটা পরিবারই দিয়ে থাকে। পরিবেশঃ পরিবেশের প্রভাবে মানুষ কালচার হতে শেখে। পরিবেশই নির্ধারণ করে দেয় মানুষের ব্যক্তিত্ব। আচার-আচারণ নির্ধারিত হয় পরিবেশ দ্বারা।
৮৮. জীবনে একজন ভালো বন্ধুর দেখা পাওয়াটা সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার!
৮৯. পৃথিবীর সবচাইতে বড় এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বোকামী হল, অন্যের অনিচ্ছা সত্ত্বেও, তার ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক-গলানো।
৯০. সততা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে সম্পর্কের লালন করতে হয়। বিশ্বাস ভঙ্গ হলে সম্পর্কের ভিত্তি নষ্ট হয়।
৯১. আপনি যদি জানেন আপনি কি বানাতে চান, তাহলে ভালো কিছু করবেন বলে আশা করা যায়। ফাঁকিবাজি বিষয়টা থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়।
৯২. সাদা কাপড়ে দাগ লাগলে তা দৃষ্টিকটু দেখায়। দাগ থেকে সবসময় দারুন কিছু হয় না। বেশিরভাগ সময় খারাপ কিছুই হয়। যারা বেশি কথা বলে তাদের ভুল হয় বেশি।
৯৩. ২০ বছরের আগে অথবা ৩৫ বছরের পরে সন্তান ধারণজনিত কারণে মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্য ঝুকি বেড়ে যায়।
৯৪. শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শিশুদের বিকাশের জন্য মারাত্মক/ ক্ষতিকর।
৯৫. আমি মানুষ। এটাই আমার প্রথম পরিচয়। সভ্যতার উৎকর্ষতায় শিক্ষা এবং জ্ঞানই একমাত্র বাহন। এজন্য শিক্ষা এবং জ্ঞানে বিশ্বাস করি। শিক্ষা এবং জ্ঞানের উৎপত্তি চিন্তা থেকে। তাই চিন্তায় সমস্যার একমাত্র সমাধান। সমস্যা =চিন্তা = ফলাফল/পরিনতি।
৯৬. একজন শিক্ষক অনুপ্রেরণার যন্ত্র না হয়ে যদি ভয়-ভীতির কারণ হয়। তাহলে পরিস্থিতি কেমন হবে? একবারও ভেবে দেখেছেন?
৯৭. চাতক পাখি মুখে একফোটা পানি নিয়ে অনেক উপরে উঠতে পারে। কিন্তু, উটপাখির বিশাল ডানা থাকতেও সে উড়তে পারে না। আবার একটা ব্যতিক্রমও আছে, চিল শকুন যতই উপরে উঠুক নজর তার নিচেই থাকে।
৯৮. যুগের বিবর্তনে সব কিছুতে পরিবর্তন।
৯৯. নীতি কথা বলে যদি নিজেরই নীতিগত অবস্থান ভঙ্গুর হয় তাহলে সেটা ভন্ডামী ছাড়া আর কিছু নয়। আসলে সবই স্বার্থবাদী চিন্তা -ভাবনা।
১০০. পরিবর্তন সবচাইতে বড় বাস্তবতা।
১০১. না জেনে, না বুঝে বিশ্বাস করা! ঐ বিশ্বাসের কোন ভিত্তি নেই! এ ধরণের বিশ্বাস ভয়ংকর এবং ক্ষতিকারক!
১০২. সমাজে একশ্রেণীর লোক ছিল, আছে, থাকবে। যারা মানুষকে মুখস্ত বিদ্যার মাধ্যমে মূর্খ বানিয়ে রাখতে সচেষ্ট। তারা মানুষকে চিন্তা করতে দিতে চায় না। প্রশ্ন করতে দিতে চায় না। প্রশ্ন করলে তারা ক্ষেপে যায়। এগুলো করার জন্য তারা ভন্ডামীর আশ্রয় নেয়। মানুষকে আনুগত্যশীল হতে বাধ্য করে। যা মানবতার চরম লঙ্ঘন। সকল জ্ঞানের উৎস হলো, প্রশ্ন এবং চিন্তাশক্তি।
১০৩. একশ্রেণীর চোগোলখোর, চাটুকার লোক আছে যারা মানুষকে ইনিয়েবিনিয়ে খেতে চায়। একাজে এদের সব চেয়ে সহজলভ্য অস্ত্র হলো ধর্মের ন্যায় পবিত্র জিনিস।
১০৪. দল করলে একপক্ষ আপনাকে রক্ষা করবে। আর নিরপেক্ষ থাকলে উভয় দিক থেকে আক্রমনের শিকার হবেন।
১০৫. সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো মরে না, ফুরায় না। যদিও সেটা হয়, বিন্দু পরিমান। ভালোবাসায় বাঁধা-বিপত্তি, ঝড়-তুফান, ঝক্কি-ঝামেলা আসবে। তারপরও ভালোবাসা টিকে থাকবে, যদি সেটা সত্যিকারের ভালোবাসা হয়। সত্যিকারের ভালোবাসা লোহার মত, আগুনে পুড়ে উপযুক্ত রুপ পায়। আর মিথ্যা ভালোবাসা কাঠের মত, আগুনে পুড়ে ভষ্ম হয়ে যায়। সত্যিকারের ভালোবাসা নিঃশেষে অবিভাজ্য।
১০৬. কিছু মানুষ আছে, যাদের পেট ভরা গল্প। কাজে অষ্টরম্ভা!
১০৭. সবাইকে সহনশীল এবং সহিষ্ণু হওয়া উচিত এবং দরকার।
১০৮. মুক্তমন নিয়ে চিন্তা করতে হবে। গোড়ামী, অন্ধবিশ্বাস, বদ্ধমূল ধারণা নিয়ে পড়ে থাকলে, শুধু নিজের না, নিজের দ্বারা অন্যেরও ক্ষতি হয়ে যায়।
১০৯. মানুষকে ভালোবাসলে অধিকার খোঁজে। অযাচিত অধিকার খাঁটানোর চেষ্টা করে। এটা ভ্রান্ত-ধারণা যে, কেউ ভালোবাসলে তার সব আমার। সবারই ব্যক্তিগত অনেক ব্যাপার থাকে। যা কখনো অন্যের জন্য উপযুক্ত নয়।
১১০. কে জ্যেষ্ঠ আর কে কনিষ্ঠ। যে পারে, সেই শ্রেষ্ঠ।
১১১. কোন সুস্থ্য-স্বাভাবিক মানুষ, মানুষকে হত্যা করতে পারে না বা হত্যার নির্দেশ বা সমর্থন করতে পারে না। যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, তবে দেশে আইন আছে, আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। তাই বলে, তাকে আইন-বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করাটাই মহা-অন্যায়। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়াটা কোন কালেই স্বীকৃত নয়। বরং, এটা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
১১২. আসলে, গাঁধা পিটিয়ে ঘোড়া বাঁনানো যায় না।
১১৩. একজন ভালো মানুষ বা মহা-মানব যদি খারাপ কাজ করে, তবে কাজটা কিন্তু খারাপ। সে হিসাবে লোকটাকে সামগ্রিকভাবে খারাপ না বলা গেলেও, সে একটা খারাপ কাজ করেছে, এটা স্বীকার করা উচিৎ। আর একটা কথা, মহা-মানব হোক আর যেই হোক, মানুষ মাত্রই ভুল করে।
১১৪. কিছু মানুষকে কিছুদিনের জন্য বোকা বানানো গেলেও সব মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা বানানো যায় না।
১১৫. (ক) যে জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অস্বীকার করে, সে জাতির পতন অনিবার্য। (খ) যে জাতি জ্ঞান ও জ্ঞানীর কদর করতে জানে না, সে জাতির উন্নয়ন অসম্ভব।
১১৬. মানুষের জীবনে কিছু অস্বস্তীকর বাস্তবতা থাকে। যা মানুষ কখনো স্বীকার করে না। সামনে চলে আসলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে যায় মানুষ।
১১৭. ধর্ম টিকে থাকবে, মূর্খ, অন্ধ, ভণ্ডদের মধ্যে। তবে, ভণ্ডরা ধর্মকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ফায়দা লুটবে। আর ধর্মান্ধরা সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে। মূর্খরা কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে। আর নীতিবান-শিক্ষিত-সমাজ এসব ত্যাগ করে নাস্তিক বা ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদীতে রুপান্তরিত হবে।
১১৮. ভালো কাজ করার আগে, ভালো কথা বলার আগে, নিজেকে সর্বপ্রথম ভালো মানুষ হতে হবে।
১১৯. আপনি আপনার মতের পক্ষে মানুষকে টানতে জোর-জবরদস্তি, গালাগালি, মারামারি, হেনস্থা করতে পারেন। আর আমি নিজের মত কেনো প্রকাশ করতে পারবো না?
১২০. আমি জীবিকাবাদী নয়, জীবনবাদী।
১২২. আপনার সন্তানকে এমন শিক্ষা দিন। যেটা জীবন এবং জীবিকা উভয় ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারে।
১২৩. মানুষ পোষাক পরে, লজ্জা নিবারণের জন্য। আর ধর্ম পরে, নিজের ভণ্ডামী এবং অপরাধ, ঢাকার জন্য! খারাপ-চেতনা চরিতার্থ করার জন্য। এটাই বাস্তব যে, পৃথিবীতে দুই ধরণের লোক আছে, ক. ভালো মানুষ, খ. খারাপ মানুষ। এটা বোঝার জন্য ধর্ম কোন মাধ্যেম নয়। কারণ, সব ধর্মই নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে দাবী করে এবং অন্য ধর্মের লোকদের ঢালাওভাবে খারাপ বলে।
১২৪. শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। আর চাকরী হলো জীবিকা। শিক্ষিত হোন বা না হোন জীবিকা থেমে থাকবে না। তবে, চাকরির দোহায় দিয়ে যদি উচ্চ শিক্ষা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেন। শিক্ষা ওখানেই থেমে গেলো। নিজের মৌলিক অধিকার পূরণে ব্যর্থ হলেন, নিজেকে বঞ্চিত করলেন। কারণ, অধিকার কেউ দেয় না, আদায় করে নিতে হয়। অন্যরা হয় তো সুযোগ করে দিতে পারে সর্বোচ্চ। ধারণ করার ক্ষমতা নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। আর তার জন্য চাই সঠিক শিক্ষা।
১২৫. আপনাকে আমি কিছু দেবো, সেটা নেয়ার মত ক্ষমতা তো আপনার থাকতে হবে। নাহলে, সে যায়গাটা আমাকে তৈরি করে নিতে হবে পূনরায়।
১২৬. প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের মত করে কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। তবে অন্যকে নিয়ে কথা বলার সময় সমানুভূতি নিয়ে কথা বলতে হয়। না হলে সেটা গ্রহনযোগ্যতা হারায়।
১২৭. প্রত্যেকটা জিনিসের একটা নির্দিষ্ট উপযোগিতা থাকে। সময়ের তাগিদে, বিবর্তনের ফলে, পরিবর্তনের কবলে পড়ে ধর্ম-কর্ম, যাইহোক সবকিছু তার উপযোগিতা হারায়।
১২৮. বিশ্বাস নয়, আস্থা রাখতে শিখতে হবে। কারণ, আস্থাহীনতা দেখা দেয়, তবে বিশ্বাস ঘাতক হয়। না জেনে, না বুঝে হয় বিশ্বাস, আর দেখে-শুনে-জেনে-বুঝে তৈরি হয় আস্থা। আস্থা পরিবর্তনশীল, বিশ্বাস স্থীর। এজন্য আমরা বিজ্ঞানের উপর আস্থা রাখতে পারি, তবে ধর্মে বিশ্বাস নয়। কারণ, বিজ্ঞান চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। গবেষণা-প্রমাণ ছাড়া বিজ্ঞান হয় না। আর ধর্ম কাল্পনিক, অবাস্তবে বিশ্বাস ধরিয়ে দেয়। যেটার আসলে কোন ভিত্তি নেই। এ হিসাবে বিশ্বাস একটি ক্ষতিকারক ভাইরাস।
১২৯. মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখুন। অন্য কোন ট্যাগ দিয়ে নয়। কারণ, মানুষ মানুষই।
১৩০. যেখানে মানবতা নেই। তা মানুষের জন্য অনুপোযোগী। অনুপোযোগী বিষয় টিকিয়ে রাখা বা সংরক্ষণ করা ভুল বা বোকামী।
১৩১. পুরাতনপন্থী লোকেরা সবসময়ই নতুনকে সহজে গ্রহণ করতে পারে না। গাঁধার মত জল ঘোলা করে তারপর খায়। যতই আপনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন না কেনো! নতুনত্বের খারাপটাই সে ধরে বসে থাকবে।
১৩২. মানুষ যখন ভুল করে তখন সে বুঝতে পারে না। তাই সে ভুল করে।
১৩৩. মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে যাও, কোন কষ্ট থাকবে না জীবনে। জীবন হবে জীবনের মত।
১৩৪. বর্ণ এবং ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদই পৃথিবীতে বিশৃংখলা সৃষ্টি, মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি, মানুষ হত্যা এবং গণহত্যার অন্যতম প্রধাণ কারণ।
১৩৫. মানুষ হিসেবে কেউ পরিপূর্ণ নয়। এজন্য, কাউকে আপনি এককভাবে ভালো বা খারাপ বলতে পারেন না।
১৩৬. আমরা সবাই মানুষ! এই কথাটা যদি কেউ ধারণ করতে পারে। তাহলে তার মধ্যে কোন অহংবোধ, ঘৃনাবোধ, মনুষত্যহীনতা কাজ করতে পারে না।
১৩৭. আমরা সবাই ভালো! এটা কেউ কেউ জানে! আসলে, কেউ কোন ব্যাপারে পরিপূর্ন নয়। আংশিক।
১৩৮. প্রেম করো যত্রতত্র,
বিয়ে করো ভালো,
কপালে আসবে সুখ,
নাহলে জীবন অন্ধকার কালো।
১৩৯. জীবনের পড়ন্ত বিকালে,
নিসঙ্গতায় সঙ্গীহীন,
জীবনটা ভরে গেছে,
বিষাক্ত নিকোটিন।
চলে যেতে হবে একদিন,
এটাই নিয়তি,
খাটে না কোন মিনতি,
গতিহীনের এটাই গতি।
১৪০. কিছু মানুষ আছে যারা অযথা ভাব-সাব নিয়ে বেড়ায়। এদের আসলে নিজের সম্পর্কে কোন ধারণায় নেই। যদি থাকত তাহলে নিজের অবস্থান অনুযায়ী চলা-ফেরা করত, কথাবার্তা বলত। নিজের যা নেই সেটা প্রকাশ করতে যাওয়ার মধ্যে কোন কৃতিত্ব বা বাহাদুরি নেই। বরঞ্চ, যাদের থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ করে না; মানুষ তাদেরকেই নমস্তে জানায়।
১৪১. আবেগটা ক্ষনস্থায়ী। এজন্য আবেগকে ধরে রাখা যায় না। আবেগের বশবর্তী হয়ে কোন কাজ করলে তা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বাস্তবতাকে মেনে নয়, জেনে; সিদ্ধান্ত নেয়া এবং পরিকল্পনা করা উচিত।
১৪২. জীবন তার আপন গতিতে এগিয়ে চলে। শুয়ে থাকুন, বসে থাকুন, চলাচল করুন বা কাজে; জীবন জীবনের গতিতে চলে। পৃথিবীতে সবকিছুই সদা পরিবর্তনশীল। কোন কিছুই থেমে নেই। এজন্য দুনিয়ায় সবই নশ্বর।
১৪৩. পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সত্যটা হলো, মৃত্যু। এটাকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। পৃথিবীতে প্রত্যেকটা জিনিস তার টিকে থাকার সক্ষমতা হারায়। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা, পাগলের প্রলাপ।
১৪৪. প্রত্যেকটা মানুষের স্বাধীনতা রয়েছে। কারো স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করাটা অন্যায়। স্বাধীনতার মূল্য তারাই বোঝে, যাদের নেই।
১৪৫. শৃংখলার মধ্যে থাকলে মানুষ নাকি মানুষ হয়। আরে, মানুষ তো মানুষই। নতুন করে মানুষ হওয়ার কি আছে! নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন একেবারে ভালোও নয়, আবার পুরোপুরি খারাপও নয়। জীবনকে উপভোগ করার জন্য ক্যাজুয়াল লাইফটাই বেটার মনে হয় আমার। কখনো নিয়মে, কখনোবা অন্য নিয়মে। আর বাস্তবতা হলো, পরিবর্তনময় বিশ্বে সম্পূর্ন নিয়মতান্ত্রিক হওয়া সম্ভব নয়।
১৪৬. অতি শৃংখলাবোধ মানুষের ভেতরকার মানুষটাকে মেরে ফেলে। সে মানুষ হওয়া সত্ত্বেও মানুষকে ঘৃনা করতে শেখে। বাস্তবতাবোধ বিবর্জিত হয়ে পড়ে। নিজস্বতা হারিয়ে ফেলে। নিজের আজগুবি চিন্তা-ভাবনা অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে উগ্র হয়ে যায়। সব সময় ভয়বোধের ভেতর ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
১৪৭. যদি কোন ব্যক্তির মধ্যে সামন্যতম মানবিক মূল্যবোধ থাকে। সে কখনো অন্যায়ভাবে কারো উপর কোন কিছু চাপিয়ে দিতে পারে না। কারো স্বাধীন স্বত্ত্বায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কারো নিজস্বতাকে কুরে কুরে ধ্বংস করতে পারে না। এটা মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
১৪৮. প্রত্যেকটা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে এবং স্বাধীনভাবে। ক্ষমতা এবং জনতার দাপট দেখিয়ে কারো বেঁচে থাকার অধিকার এবং স্বাধীনতাকে হরণ করার কোন অধিকার আপনার নেই। ক্ষমতা এবং জনতা স্বার্থের এবং দুদিনের। অধিকার এবং স্বাধীনতা আজীবনের। গালি এবং অভিশাপটাও চিরদিনের।
১৪৯. ১৪-২৫, বয়সটা বড়ই রঙিন। এই সময়টাতে চোখে যেন রঙিন চশমা পরানো থাকে। সময়টা কেটে গেলে, চশমা খুলে পড়ে যায়। তখন দুনিয়াটা অন্ধকার হয়ে যায়। পরে, জীবন-প্রদীপ জ্বাঁলাতে বড়ই কষ্ট হয়ে যায়।
১৫০. এলাকায় কিছু সিনিয়র এবং মুরুব্বি লোক থাকে যারা বলে, ও তুমি বুঝবা না। বয়স হোক, বুঝবা। আধা বয়সে এসেও একই কথা শোনা লাগে, তাদে র কাছ থেকে। কবে যে বড় হবো! মানে বিষয়টা এমন, তারা নিজেদের মহা-পন্ডিত মনে করে; কিন্তু তারা প্রকাশ করতে চায় না, এমন একটা ভাব। আসলে কিছুই না। হুদাই!
১৫১. আপনারাই যদি এমন করেন তাহলে আর কোথায় যাবো! নীতিবাক্য শুনিয়ে নীতিহীন গর্হিত কাজ। তাও আবার অবৈধ, বেআইনি, নীতিহীন, গর্হিত, অসামাজিক। আল্লাহ! তোমার কাছে বিচার দিলাম!
১৫২. নীতি নয় ভালো-পরিস্থিতিই মানুষকে ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে। খারাপ পরিস্থিতি খারাপ। তবে কিছু ব্যাপার থাকে যা ভালো বা খারাপ কোনটার আওতায় ফেলানো যায় না।
১৫৩. একজন আদর্শবান শিক্ষকের আদর্শ, ছাত্রদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। আর একজন আদর্শহীন শিক্ষকের আদর্শহীনতা, ছাত্রদের বিপুল সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয়।
১৫৪. প্রত্যাশাটা এমন করা উচিত যেনো প্রাপ্তিটা যথাযথ হয়।
১৫৫. সে সমাজ আমাদের জন্য আতঙ্কের, যেখানে 'তোমার ভালোর জন্য' এ আশা জাগানিয়া শ্লোগানে দূর্বল করার গোপন মহড়া চলছে।
১৫৬. আপনি যখন কারো মতের বিরোধীতা করবেন তখন অবশ্যই তার বিপরীতে যৌক্তিক একটি মত তুলে ধরতে হবে। তানাহলে, আপনার মূর্খতা প্রকাশ পাবে।
১৫৭. আপনি যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে এটা আপনার সমস্যা। আবার আপনি যদি বুঝাতে না পারেন, তাহলে এটাও আপনার সমস্যা।
১৫৮. প্রতিভাবান ব্যক্তিমাত্রই পাগলামির টান থেকে মুক্ত নয়।
১৫৯. কারো সাথে সম্পর্ক খারাপ করে লাভ হয় না। ক্ষতিই হয়। মিলেমিশে থাকার মধ্যেই উভয়ের উন্নতি নিহিত।
১৬০. পৃথিবীর প্রত্যেকটা জিনিসই মানুষের জন্য জ্ঞানের এক মহা-আধার। বিচক্ষন ব্যক্তিমাত্র বোঝেন।
১৬১. সময়ের তাগিদ থাকে। এটা বুঝতে না পারলে, আপনি দাড়িয়ে থেকেও পিছিয়ে পড়বেন।
১৬২. অনেক ভেবে-চিন্তে প্রেমের এই সংজ্ঞাটা দাড় করিয়েছি। সেটা হচ্ছে, "জৈবিক তাড়নাজাত কারনে দুটি দেহের একত্রিত হওয়ার মনো-বাসনাই প্রেম।"
১৬৩. চিন্তার সাথে চেতনার মিল যদি না থাকে তাহলে ঐ চিন্তা গাছের শুকনো পাতার মত।
১৬৪. যাদের নিজেদের সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। তারা নিজেদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারে না।
১৬৫. পুরানো বা হারানো জিনিসগুলো আর ফিরে পাওয়া যায় না। যদিও যায়, সেটা নতুনরুপে ফিরে আসে। আগের মত হয় না। গতিশীল বিশ্বে এটাই বাস্তবতা।
১৬৬. আপনি যদি একটুতেই হতাশ হয়ে পড়েন। তাহলে, আপনার চেয়ে যারা খারাপ অবস্থায় রয়েছে তাদেরকে দেখুন। আর নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করুন।
১৬৭. যাদের সামনে মৃত্যু এবং সেটা একটু পরেই। সে জানে যে, একটু পরেই তাকে মরতে হবে। এমন পরিস্থিতির অনুভূতিটা আসলেই মহা-ভয়ঙ্কর।
১৬৮. মাঁকাল ফলও দেখতে সুন্দর! কিন্তু, তার ভেতরটা বিশ্রী!
১৬৯. বিসিএস দিয়ে কি আসলেই মেধার যাচাই করা যায়! মেধার সাথে জড়িত সৃজনশীলতা, নতুন নতুন আবিষ্কার, চিন্তা-চেতনায় নতুনত্ব, মননের সুস্থ্য-স্বাভাবিক বিকাশ ইত্যাদি।
১৭০. আমরা সবাই ভাবি, হয়তোবা আমি সবচাইতে বেশি কষ্টে আছি। কিন্তু, আমাদের পাশের মানুষ যে আমাদের থেকে বেশি কষ্টে থাকতে পারে; এটা আমরা ভুলে যায়।
১৭১. আপনি মনে করছেন, আপনি আপনার পাশের মানুষ দ্বারা বিরক্ত। কিন্তু, একই কারনে পাশের মানুষটি আপনার উপর বিরক্ত হতে পারেন। এটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন।
১৭২. সমাজে কিছু মানুষ কীট-পতঙ্গ, আগাছার মত রয়েছে। যারা সমাজের মঙ্গল তো দূরে থাক; সমাজকে প্রতিনিয়ত কলুষিত, দূষিত করে চলেছে।
১৭৩. বদ্ধমূল চিন্তা নিয়ে পড়ে থাকলে; আপনি কখনো খোলা-মেলা চিন্তা করতে পারবেন না। এ দুটো পরস্পর বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। বদ্ধমূল চিন্তা মানুষের সুস্থ্য-স্বাভাবিক চিন্তা করার শক্তিকে ধ্বংস করে দেয়।
১৭৪. একজন মানুষ কখনো তার চিন্তার উর্ধ্বে যেতে পারে না। এ জন্য, চিন্তার জগতকে সুস্থ্য-স্বাভাবিক পথে বিকশিত হতে দিতে হবে। উন্মুক্ত চিন্তা করার শক্তি মানুষের চিন্তা করার সুস্থ্য-স্বাভাবিকতা বজায় রাখে।
১৭৫. আপনি চাইলে সবকিছু একবারে করতে পারবেন না। ধাপে ধাপে আপনাকে সবকিছু করতে হবে। যেমন, আপনি পাঁচতলার উপরে একলাফে উঠতে পারবেন না। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। ঠিক তেমনি।
১৭৬. গাঁধার পিঠে বই তুলে দিলে অনায়াসে সে এগুলো বয়ে বেড়াতে পারবে। কিন্তু, বোঝা তো দূরে থাক; পড়ারই শক্তি তার নেই। মানব সমাজে এরকম কিছু মানুষ রয়েছে।
১৭৭. যে জাতি সৃজনশীল মেধা-মননকে সম্মান ও স্বীকৃতি দিতে জানে না, তাদের পতন ও ধ্বংস অনিবার্য।
১৭৮. ভার্চুয়াল পোস্ট এবং মন্তব্য ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব মাপার মোক্ষম মাপকাঠি।
১৭৯. পরীক্ষা মেধা যাচাইয়ের কোন মাধ্যেম নয়। সার্টিফিকেট দেয়ার উপায় মাত্র!
১৮০. স্বার্থের লড়াইয়ের চেয়ে আদর্শিক লড়াইটা অনেক বেশি ঝুকিপূর্ণ।
১৮১. যুদ্ধ ততক্ষন সম্ভব, যতক্ষন উভয় পক্ষের রসদ থাকে।
১৮২. অনুকরন, অনুসরন নয়; নিজস্বতা গড়ে তুলুন। সেটাই হবে আপনার কৃতিত্ব।
১৮৩. অজ্ঞদের সাথে তর্কে নামা আর নিজের বোকামী প্রকাশ করা একই কথা।
১৮৪. অন্যের উপর নিজের মত-পথ চাপিয়ে দেয়া, অন্যায় বোধের সামিল।
১৮৫. অনুভূতির দোহায় দিয়ে অন্যের যৌক্তক মত প্রকাশ করতে না দেয়া; মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
১৮৬. বিচ্ছিন্নতার নীতি কখনো কারো জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না। মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যে রয়েছে সবার উন্নতি।
১৮৭. একমূখী জ্ঞানের অধিকারীদের সাথে তর্কযুদ্ধে নামলে; শেষে গালি শুনতে হয় নতুবা শারীরিক, মানসিক হেনস্থা ও আক্রোশের শিকার হতে হয়।
১৮৮. কোন কাজ করার আগে নিজের অপরিসীম চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগান। দেখবেন ফলটা ভালো হবে আশাতীত।
১৮৯. একজন মানুষের দুটো কাজ বেশি করে করা প্রয়োজন। এক. পড়া, দুই. চিন্তা করা।
১৯০. একজন মানুষের যদি সুযোগ থাকে, উন্নত, সভ্য পরিবেশ দেয়া হয় তাহলে সেও ভালো মানুষ হতে পারে, ভালো কাজ করতে পারে।
১৯১. আপনি যদি নিজের অবস্থান থেকে সৎ থাকেন; পৃথিবীর কোন শক্তি নাই আপনাকে বেঁধে রাখার।
১৯২. অ-শিক্ষার চেয়ে, মূর্খতা এবং কু-শিক্ষা ভয়ঙ্কর। শুধু ভয়ঙ্কর নয়, মহা ভয়ঙ্কর।
১৯৩. নিজের ভুল বা নিজের দূর্বলতা মেনে নিয়ে উন্নতির চেষ্টা করা উচিত। সবচেয়ে বড় কথা, নিজের যা নেই তা দেখাতে গেলে বেশিরভাগ সময় বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। আর মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। ভণ্ডামী, ভূখামী বুঝতে তাদের সময় লাগে না।
১৯৪. স্বপ্নের পথে ছুটে চলেছি নিরন্তর। শুধুই স্বপ্নবাজী। স্বপ্ন না দেখলে, স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে কিভাবে? তাই, হোক বা না হোক স্বপ্ন দেখি সব সময়।
১৯৫. উৎসাহিত করতে না পারলে, দরকার নাই। তবে, নিরুৎসাহিত করবেন না। কারন, এটার দ্বারা একটি বা অজস্র স্বপ্নের মৃত্যু ঘটতে পারে।
১৯৬. মানুষ হত্যা করে বা গনহত্যা চালিয়ে কেউ যদি প্রেক্ষাপটের কথা বলে। নিদেনপক্ষে, সে বড়-মাপের চরমপন্থী উগ্র সন্ত্রাসী। আর যারা এটকে সমর্থন করে; তারাও একই গর্ভস্থ। কারন, মানুষ হত্যা (সেটা যেভাবেই হোক) নিকৃষ্ট, ঘৃন্য, জঘণ্য, বিকৃত-মস্তিষ্কপ্রসূত অপরাধ। এটাকে প্রেক্ষাপটের বিবেচনায় নিয়ে কথা বললে, সেটা চরম মাত্রার অপরাধমূলক ভুল।
১৯৭. History মূলত Discover করে। Inventional কিছু না।
১৯৮. পশু প্রাণীর একটি বিশেষ আচরণ হচ্ছে, সে যদি দেখে তার অন্যায় অবস্থানকে কেউ ভেঙ্গে দিতে চেষ্টা করছে তাহলে সে তেড়ে মারতে/আঘাত করতে আসে! পশুর অনেক শক্তি। কিন্তু, পশু-শক্তির মধ্যে বোধের অভাব থাকায় তা নিজ কল্যানে ব্যয়িত হতে পারে না।
১৯৯. আলোচনা, পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহিষ্ণুতা, ইতিবাচক বিনিময়ের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই কল্যানময় করে তোলে জীবনকে।
২০০. অবিবেচনা-প্রসূত কথাবার্তা গাছের মরা পাতার মত। গাছে একটু আঘাত করলেই পড়ে যায়। ধোপে টেকে না।
২০১. আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে মানুষের কৃত-কর্মই প্রথম সোপান।
২০২. অ-নমনীয়তা কখনো ভালো ফল দেয় না। এটা সবসময় নেতিবাচকতা প্রকাশ করে। কাজেই, অন্যের মত-পথ, চিন্তা-ভাবনাকে গ্রহণ না করতে পারলেও; শ্রদ্ধা করাই শ্রেয়।
২০৩. এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না। আসলে, কোনটা করা যাবে, সেটা তো কেউ বলে না। নিষেধাজ্ঞার এই মূর্খ বেড়াজাল ভাঙতে হবে।
২০৪. শুধু গোষ্ঠী স্বার্থ উদ্ধারে নয়, সমগ্র মানবজাতি থেকে শুরু করে পুরো পৃথিবীর জন্য কাজ করুন।
২০৫. আজকে আপনি যেটাকে অপসংস্কৃতি বা অ-ব্যবহারযোগ্য (খারাপ কিছু) মনে করে ত্যাগ করছেন। এখান থেকে ১০ বছর পর আপনার পরবর্তী প্রজন্ম সেটাকেই অবলীলায় আচরণীয় করে তুলছে। কাজেই, পরিবর্তনকে সাদরে গ্রহন করা উচিত। এর জন্য, আন্তর্জাতিক পাঠক, দর্শক, শ্রোতা হয়ে উঠুন। দেখবেন, খুব সহজে পরিবর্তন গ্রহনীয় হয়ে উঠছে নিজের কাছে। তবে আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা সব সময় নতুনকে খারাপ মনে করি এবং এর খারাপ বিষয়গুলো তুলে ধরি। সে কারনে, পরিবর্তন বা নতুনত্বের খারাপগুলো বেশি বেশি চর্চা করছে নতুন প্রজন্ম। এই নেতিবাচক বৃত্ত ভাঙতে হবে। তার জন্য, পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহনের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
২০৬. সকালবেলা উঠে যখন দেখি গ্রামের রাস্তা দিয়ে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায় তখন দৃশ্যটা খুবই ভালো লাগে আমার। কারন, একটা সময় ছিলো যখন গ্রামের মানুষ পড়ালেখার চেয়ে বাড়ির কাজকর্মকে গুরুত্ব দিতো বেশি। তবে, পড়ালেখাকে এখন বেশির ভাগ বাবা-মা উন্নত জীবিকার মাধ্যম মনে করে। আসলে, পড়ালেখা তো মানুষের মৌলিক অধিকার। এটা পূরণ করা প্রত্যেক পিতা-মাতার দায়িত্ব-কর্তব্য।
২০৭. আমি মানুষ। মনুষ্যত্ববোধই আমার ধর্ম। এর বাইরে আর কোন পরিচয় নেই। কারন, মানুষের সাথে সম্পর্কিত প্রত্যেকটি বিষয় নির্দিষ্ট সময়ের পর উপযোগিতা হারালেও; মানুষ মানুষই রয়ে যায়।
২০৮. প্রত্যেকটা মানুষ বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহন করে। কিন্তু, সঠিক পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। আপনার অনেক প্রতিভা থাকতে পারে। কিন্তু, বিকশিত হওয়ার পথ না পেলে, ঐ মেধা মূল্যহীন।
২০৯. নেতিবাচক কথা সব সময় পিছুটান মারে। কাজেই, কেউ যদি আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলে তাহলে আপনি অনুভূতিহীন, ভাবলেশহীন বৃক্ষে পরিনত হয়ে যান। কারন, অযথা কেউ গাছে দঁড়ি বেঁধে টানাটানি করে না।
২১০. চাপ নিয়ে কাজ করলে সে কাজ কখনো ভালো হয় না। চাপে থাকলে সৃজনশীলতাও লোপ পায়।
২১১. আবেগ প্রকাশ করুন সহনীয় মাত্রার নিয়ন্ত্রিত গ্রহনযোগ্য যৌক্তিক আবেগ। তবে, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এটা শিথিলযোগ্য।
২১২. "সবার উপরে মানুষ সত্য, তার উপরে নাই।" এ কথাটা সবাই পড়ে। কিন্তু, বোঝে কয়জন বা কাজে পরিনত করতে পারে কয়জন!
২১৩. আবেগ দিয়ে জীবন চলে না। গতিশীল জীবন চলে বাস্তবতা দিয়ে। আবেগ ক্ষনস্থায়ী, বাস্তবতা চিরস্থায়ী। এ কারনে, বাস্তবতার রেশ কাটে না। এই বাস্তবতার অন্যতম একটি উপাদান টাকা।
২১৪. মানুষ তার চিন্তা-ভাবনা এবং চেতনা দ্বারা পরিচালিত হয়। আর এই চিন্তা-ভাবনা এবং চেতনার জগতে প্রভাব ফেলতে সক্ষম পরিবার এবং পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থান, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল, শিক্ষা প্রভৃতি।
২১৫. আপনার সন্তানকে এমন শিক্ষা দিন; যেটার মাধ্যমে সে সুন্দর জীবন-জীবিকা গড়তে পারে।
২১৬. ধর্ম কি আর পোশাকে, বাহ্যিক-সৌন্দর্যে! ধর্ম আপনার কথা-বার্তায়, আচার-ব্যবহারে, আপনার কৃতকর্মে।
২১৭. দৈহিক সংসর্গের আকাঙ্খার অপর নাম প্রেম।
২১৮. আপনার সন্তানকে একাডেমিক শিক্ষার সাথে সহশিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহিত করুন। বই পড়লে মানুষের জ্ঞান বাড়ে, আর সহশিক্ষায় বাড়ে কাণ্ডজ্ঞান। বই পড়তে (একাডেমিক বইয়ের বাইরে) উৎসাহিত করুন। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নিতে সাহায্য করুন। এগুলো মানুষের মানসিক বিকাশ ঘটায়; চিন্তা-চেতনার স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখে।
২১৯. নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট আদর্শিক ভাবনা 'গোষ্ঠী চেতনা' প্রকাশ করে। সর্বজনীনতার কোন নিদর্শন সেখানে খুজে পাওয়া যায় না। মানবতাবোধ এবং মানবিক চেতনার দ্বারাই সর্বজনীনতার প্রকাশ পায়। কেননা, এখানে মানুষই সব; কোন ভেদ বা শ্রেণীকরণ নেই এখানে।
২২০. যন্ত্র-সভ্যতা ও প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে কিন্তু মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও চেতনা কতটুকু উন্নত হয়েছে সেটা ভাববার ও প্রতিকারের সময় এসেছে। কারন, বিজ্ঞানের উন্নত আবিষ্কারের দ্বারা উপকৃত হয়েও মানুষ বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে বা বিজ্ঞানকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে। যদিও বিজ্ঞান একটি তথ্য-উপাত্ত, প্রমানভিত্তিক প্রবহমান ধারা। নতুনত্বই যার (বিজ্ঞানের) ভিত্তি। তারপরও মানুষ নির্বোধের মত বিজ্ঞান নিয়ে অযথা বাকওয়াচ করে। দুটোর সমন্বয় না ঘটলে, একই ধারায় প্রবাহিত না হলে মানব সভ্যতা সমূহ ক্ষতির মূখে পতিত হবে। যদিও বর্তমানে আমরা এগুলো ব্যবহার করে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে দেখছি। ভবিষ্যতে সমস্যা আরো প্রকট হয়ে উঠতে পারে; এখনি প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে।
২২১. নির্বোধ, মূর্খ, অজ্ঞ এগুলো মানুষের গাত্রে লেখা থাকে না। মানুষের কথায় এবং আচার-ব্যবহারে প্রকাশ পায়।
২২২. ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা ইতিবাচক ফল দেয়। নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা নেতিবাচক ফল দেয়। এগুলো সরল কিন্তু এর প্রভাব বর্ননাতীত।
২২৩. মাথায় কিছু না থাকলে, আঙুলেও আসে না, ঠোঁটও চলে না; ইতিবাচক কর্মও অসম্ভব।
২২৪. প্রেমের ক্ষেত্রে আবেগ দু'জনকে একত্রিত করে, আর বাস্তবতা বিচ্ছেদের কবলে ফেলে দেয়। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়, এখনকার ছেলে-মেয়েরা ভালো লাগা আর ভালোবাসাকে এক করে ফেলে।
২২৫. চাহিদার পর চাহিদা মানুষকে অসুখী করে।
২২৬. মাথা ব্যাথা করলে মাথা কেটে ফেলা যেমন সমাধান নয় তেমন হত্যা কখনো জ্ঞান, বৈজ্ঞানিক সত্য এবং যুক্তিকে ধ্বংস করতে পারে না; আর বিজ্ঞানকে তো নয়ই। বিজ্ঞান চলমান এবং চাক্ষুস প্রামানিক বিষয়। বিজ্ঞানসহ বিজ্ঞানীকে কবরে রাখার পর ৪০০ বছর পরে আবার প্রয়োজনে মানুষ কবর খুড়ে বিজ্ঞানীকে না পেলেও বিজ্ঞানকে হাতড়ে মরে। এটাই বাস্তবতা!
২২৭. বিজ্ঞানের সংজ্ঞাঃ বিশেষ বিষয়ের তথ্য-উপাত্তভিত্তিক প্রামানিক জ্ঞান। আর বিজ্ঞানীর সংজ্ঞাঃ বিশেষ বিষয়ে যিনি জ্ঞানী।
২২৮. পরিশ্রম যদি সৌভাগ্যের কারন হতো তাহলে গাঁধা হতো বনের রাঁজা আর গ্রামের দিনমজুর হতো বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী। আসলে কৌশলই মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে। যার কৌশল যত উন্নত, আধুনিক, কার্যকর, সময়পোযোগী, বিজ্ঞানভিত্তিক তার ততই সার্বিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে; এতে কোন সন্দেহ নেই!
২২৯. আমি রাজনীতি করতে চাই না। রাজনীতি শিখতে চাই না। বুঝতে চাই, উপলব্ধি করতে চাই। কারন, রাজনীতি করা আর শেখার জন্য নেতার পিছে তৈল মর্দন করা লাগতে পারে। আর বুঝা এবং উপলব্ধির জন্য বিস্তর পাঠ এবং অভিজ্ঞতার বাণী শ্রবণই যথেষ্ট।
২৩০. সভ্যতা পিছুটান মারা শুরু করেছে। যদিও বর্তমান সভ্যতার উপাদানসমূহ পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। তবে, মানুষের চিন্তা-চেতনা এখনো মধ্যযুগীয় বর্বরতার কাঠামো থেকে উঠে উন্নত হতে পারেনি।
২৩১. নিজের আয়ু না থাকলে যেমন অন্যের আয়ু নিয়ে দীর্ঘজীবী হওয়া যায় না। ঠিক তেমনি, অন্যের সম্পদ-সম্পত্তি, মেধার জেরে ধনী বা জ্ঞানী হওয়া যায় না। নিজের না থাকলে পরের তাতে পোদ্দারী করলে মানুষ বোকা, দালাল বলে।
২৩২. যারা মানুষ হত্যার পক্ষে রসালো যুক্তি খাড়া করে তারা মনুষ্য-বিদ্বেষী, মানবতা বিরোধী। সেটা যেকোন ধরনের হত্যাকান্ড। প্রত্যেকটা মানুষের সুস্থ্য-স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। পরিবেশগত কতিপয় কারনে হয়তো কেউ কেউ খারাপ মানুষে পরিনত হয়। জন্মের সময় কেউ অপরাধী হয়ে তো জন্মায় না। পরিবেশ-পরিস্থিতি তাকে অপরাধীতে পরিনত করে। আর সাধারন মানুষকে হত্যা তো আরো চরম মাত্রার মানবতা-বিরোধী মনোভাব ও মনুষ্য-বিদ্বেষের পরিচয় বহন করে। পৃথিবীর বড় দুটি মহাসত্য হলো, পরিবর্তন এবং মৃত্যু। পরিবর্তনশীল বিশ্বে মৃত্যুর পর মানুুষের কৃতকর্মই মানুষের মাঝে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। কাজেই, সৎ-কর্ম করুন। পৃথিবী, প্রকৃতি এবং মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করুন।
২৩৩. সৎ, ইতিবাচক মানুষকে ঠকানো মানে নিজেকে ঠকানো। কারন, এখানে ক্রিয়ার বিপরীতমূখী প্রতিক্রিয়াই কাজ করে।
২৩৪. ধনী, জ্ঞানী, সম্মানী লোকদের সমালোচনা হিংসা, বিদ্বেষ ছাড়া কিছুই নয়। এগুলো সাধারনত তারাই করে যাদের ধন, জ্ঞান, সম্মান নেই, ঘাটতি আছে। তিনটা মিলিয়েই ইতিবাচক সৎ-মানুষ। কোন একটি বাদ পড়লে বুঝতে হবে সেখানে সমস্যা রয়েছে।
২৩৫. জ্ঞানী লোকের অর্থ-সম্পদ কম থাকে কিন্তু সম্মান থাকে পর্যাপ্ত। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দুটোই। যদিও জ্ঞানী লোক অনেক সময় বিদ্বেষের শিকার হয়।
২৩৬. পৃথিবীতে কেউ কারো নয়, কর্মটায় মানুষের।
২৩৭. সন্তান জন্ম দেয়া একটি বিনোদনমূলক কাজ হলেও সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলা চরম মাত্রার বহুমূখী একঘেয়েমি কাজ। যে কারনে বেশির ভাগ মানুষই সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। অধিকাংশ মাতা-পিতাই শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়ে ঘৃনাভরে একঘেয়েমিকে ত্যাগ করে। সন্তান মানুষ করা একটি একঘেয়েমিমূলক কাজ হওয়ায় পিতা-মাতার সাথে সন্তানের শেষ-পর্যন্ত চরম আকারের দূরত্ব তৈরি হয়। যা সন্তানকে অ-মানুষে পরিনত করে। একঘেয়েমির কারনে পিতা-মাতা সন্তানের সাথে দূর্ব্যবহার পর্যন্ত করে। যা ঐ সন্তানকে পিতা-মাতা বিদ্বেষী করে তোলে।
২৩৮. আপনি যখন সামাজিক বা পারিবারিক বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখি বা গবেষণা করবেন তখন অবশ্যই নিজের ব্যক্তিত্ববোধের দিকে নজর রাখবেন। তানাহলে, আপনার আমও যাবে ছালাও যাবে। আগে ব্যক্তিত্ব তারপর বাকি বিষয়গুলো। কারন, ব্যক্তিত্বহীন লোকের যে কোন কিছুই গ্রহনযোগ্যতা হারায়।
২৩৯. কিছু মানুষ রয়েছে যারা একজনের কথা অন্যজনের সাথে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে। এরা পরজীবী। নিজেদের আসলে তেমন কিছু করার নেই। তাই তারা অন্যের বিষয় নিয়ে খারাপভাবে নাড়াচাড়া করতে থাকে। ঐ, কাজ না থাকলে যা হয়! মানুষ অকাজ করে।
২৪০. সম্ভাবনা অসীম কিন্তু আমরা আমাদের সক্ষমতাকে, চিন্তা-শক্তিকে করে ফেলেছি সসীম! যে কারনে আমরা সর্বদা অভাব-বোধের তাড়নায় ভুগে থাকি।
২৪১. আপনি যত বড় লোকই হোন না কেনো! আপনার অনেক খ্যাতি, ঐশ্চর্য্য, থাকতে পারে সুনাম-জনপ্রীতি; আবার এগুলো নাও থাকতে পারে অনেকের। কিন্তু, আপনি পৃথিবীতে অন্যান্য জীবের মত একটি জীব মাত্র। পৃথিবীতে আপনার দৈহিক অবস্থান সাময়িক; কিন্তু আপনার ইতিবাচক কৃতকর্ম আপনাকে পৃথিবীর বুকে দীর্ঘজীবী করবে। অন্যের নিজস্বতাকে কখনো আঘাত করবেন না। আপনার সাথে সম্পর্কিত অন্যের কোন বিষয়ে সমস্যা ঘটলে বুঝিয়ে বলুন। নাহলে, ত্যাগেই মঙ্গল নিহিত।
২৪২. 'বিশ্বাস' হলো সস্তা জিনিস। ঠুনকো বিষয়। 'বিশ্বাস' বাজার-ঘাটেও কিনতে পাওয়া যায়। একটু খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন। 'বিশ্বাস' চোখের ভ্রম ছাড়া কিছু নয়। 'আস্থা' ছাড়া বিকল্প নাই।
২৪৩. কিছু মানুষ রয়েছে যারা অন্যকে সর্বদা জ্ঞান দিতে ভালোবাসে; মানুষের সামনে ভালো কথা বলতে ভালোবাসে। কিন্তু, নিজেরা ভালো কাজে অষ্টরম্ভা। উহারা কীট-পতঙ্গ। অন্যের দেহ খোদায় করতে ভালোবাসে। এদের থেকে সাবধান থাকুন। পাছে বহু নেতিবাচক কর্মকান্ডের পরিচয় মেলে তাদের।
২৪৪. কতিপয় মানুষ রয়েছে যারা মানুষের সামনে নিজেদেরকে অনেক বড় করে উপস্থাপন করতে ভালোবাসে। ধরা পড়লে কাচুমাচু করে! তবে উহারা অপমানিত হয় কম। কারন, উহারা একই কর্ম (নিজেকে বড় করে তুলে ধরে) বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলে উপস্থাপন করে থাকে। এরা সাধারনত বাঁচাল টাইপের লোক। কথা বলার উপাদান না পেয়ে ওটাই করে। কাজ না থাকায়, অকাজ করে।
২৪৫. যে সমাজে সমালোচনা অগ্রহনযোগ্য, সে সমাজের সমালোচকরা বোকা; তবে অনেক জ্ঞানী। কেননা, অযথা সময়ের অপচয়; উলু বনে মুক্তা ছড়ানো। তবে সমালোচকরা সমাজের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী; এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে, ঐ সমাজের সমালোচনার চেয়ে সমাজ-সেবামূলক কর্মকান্ড অনেক শ্রেয়। যদিও সমাজ-সমালোচনাও একটি সমাজ-সেবামূলক কাজ। কিন্তু ঐ সমাজের লোক তো নালায়েক আদমী! সমালোচনা শুদ্ধতা তৈরি করে। ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে দেয় সমালোচনা।
২৪৬. প্রত্যেকটা মানুষ তার নিজস্ব অঙ্গন অর্থাৎ ব্যক্তিগত বিষয়ের বাইরে সম-অধিকারের দাবিদার। এটা তার অবশ্য-প্রাপ্য।
২৪৭. মানুষ ততক্ষন পর্যন্ত তার অবস্থান পরিবর্তন করে না যতক্ষন পর্যন্ত সে ঐ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে। অযথা, ভালো কথা বলে লাভ হয় না। উপলদ্ধিতে না পৌছালে।
২৪৮. পৃথিবীতে প্রচুর আপেক্ষিক শব্দ ও বিষয় রয়েছে। এগুলোর কোনটিকে এক্সাক্ট বলা চলে না। কেননা, এগুলো একেক জনের কাছে একেক রকম। তবে, বিজ্ঞান একদিন এই আপেক্ষিক শব্দ ও বিষয়গুলোকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে আশা করি।
২৪৯. নিজেকে বা নিজেদের জ্ঞানী দাবি করে যদি মূর্খের মত, বোকার মত কাজ করি তাহলে বিষয়টা হাঁস্যকর হয়ে যায় না!
২৫০. প্রযুক্তির ছোয়ায় এসে যদি নিজে বোকামী করেন তাহলে সেটা আপনার চিন্তা-চেতনার পিছুটান ছাড়া কিছু নয়। কেননা, প্রযুক্তি মানুষের উন্নত চিন্তা-চেতনা ও আধুনিকতার ফল।
২৫১. পৃথিবীর মধ্যে আরেক পৃথিবী তার নাম জেলখানা। শাস্তি প্রদান একটি প্রাচীন অমানবিক প্রথা। অপরাধ প্রশমনে কাউন্সেলিং, সংশোধনই আধুনিক, উন্নত মানবিক পদ্ধতি।
২৫২. যে সব ধর্মীয় আলোচক ধর্মীয় আলোচনা করার জন্য চুক্তি করে টাকা নেয় তাদেরকে আমি ধর্ম ব্যবসায়ী বলি। আপনি কি বলেন?
২৫৩. সেই বউমা (ছেলের বউ) ভালো যার শাশুড়ি তাকে ভালো বলে। আর সেই শাশুড়ি ভালো যার বউমা তাকে ভালো বলে।
২৫৪. একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে সেদেশের শিক্ষা-ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ-ব্যবস্থার উপর।
২৫৫. স্বপ্ন দেখা শিখতে হবে। স্বপ্ন দেখা ভুলে গেলে হবে না। আশা থাকতে হবে। আশাহত, নৈরাশ্য হওয়া চলবে না। স্বপ্ন, আশা এগুলো মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা যোগায়। স্বপ্ন, আশা থাকলে তবেই এগুলো বাস্তবে রুপ নেয়; না থাকলে অসম্ভব। তবে, স্বপ্ন, আশার সাথে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনামাফিক কর্মযজ্ঞ না থাকলেও অসম্ভব; কিছুই হবে না। দিনশেষে মহাশূন্যের অতল-গহ্বরে হারিয়ে যেতে হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই।
২৫৬. আপনি যদি কোন ঘটনা বলতে চান তাহলে বাস্তব এবং সত্য ঘটনা বলুন; আবেগ প্রকাশ করবেন না। আর যদি কারো কাছ থেকে শোনা কথা হয় তাহলে নির্ভরযোগ্য তথ্যসুত্র দিন; যেটা ঘটনাকে প্রুভ করে। তানাহলে, দরকার নাই বলার। আর যদি মতামত প্রকাশ করতে চান তাহলে যৌক্তিভাবে প্রকাশ করুন; নিজের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিন।
২৫৭. আসলে আমি লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি; বলতে নয়। কেননা, লেখা লিখে এডিট করে প্রকাশ করা যায়; কথা বলার সময় ভেবে বলার জন্য খুব কম সময় পাওয়া যায়। তবে, শুনতে বা পারস্পরিক আলোচনা করতে ভালো লাগে। এখান থেকে অনেক ইতিবাচক এবং নতুন কিছু বেরিয়ে আসে।
২৫৮. টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত মানুষকে মানুষ করে না; মনুষ্যত্ববোধই মানুষকে মানুষ করে। বিজ্ঞানভিত্তিক মানবতাবাদী জ্ঞানের চর্চা মনুষ্যত্ববোধ তৈরি করে।
২৫৯. আর দু'তিন প্রজন্ম পরেই পৃথিবীর সকল অশিক্ষা-কুশিক্ষা, মূর্খতা, ধর্ম নামক কুসংস্কারসহ অন্যান্য জঞ্জাল দূর হয়ে যাবে।
২৬০. মানুষ সম্পর্কে জানতে খুব ভালো লাগে। এটা করতে গিয়ে অনেক সময় বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। যদিও কিছু কিছু সময় নিজেই ইচ্ছা করে বিড়ম্বনায় পড়ি। সেটা আমাকে অতিরিক্ত অভিজ্ঞতা এনে দেয়; মানুষকে জানা সহজ হয়।
২৬১. কুসংস্কারের মূলে আঘাত না হানলে দূর হবে না। দীর্ঘদিনের জিইয়ে রাখা কুসংস্কার জঞ্জালে পরিনত হয়েছে। পুড়িয়ে ভস্ম করে দিতে হবে উহা। মানুষের চিন্তা চেতনাকে শিকল পরিয়ে রেখেছে। চিন্তাকে মুক্ত করতে হবে; জল্লাদের মুষ্টি থেকে। চিন্তার মুক্তির সাথে নারী মুক্তি ও মানব মুক্তি একসুত্রে গাঁথা।
২৬২. টাকা ছাড়া ধর্ম-কর্ম কিছুই হয় না। যার টাকা আছে তার ধর্ম-কর্ম সবই হয়।
২৬৩. জীবনটা একান্তই নিজের। কাজেই নিজের মত করে বাঁচুন। নিজস্বতায় কাউকে ঢুকতে দিবেন না।
২৬৪. রিয়েল লাভ। যেখানে আবেগের সাথে বাস্তবতার মিশেলে তৈরি হয় অন্য রকম এক রসায়ন। ত্রুটি-বিচ্যূতি থাকবে এখানে; তবে, তার ছেড়া সুর উঠে না।
২৬৫. কিছু বিষয় আমাকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। ভেবে হাসিও পায়, দুঃখবোধও জাগ্রত হয়। মানুষের বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও বুদ্ধির সামনে হতবুদ্ধি হতে দেখে। স্বাধীন মানুষের পরাধীন চিন্তা-চেতনা দেখে। মানুষ হয়েও মনুষ্য বিদ্বেষী চিন্তা-চেতনা ও কর্ম দেখে।
২৬৬. আমি লেখালেখি করি। এগুলো আপনার-আমার, সবার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা বাস্তব এবং চুলচেরা বিশ্লেষণমূলক কথা। হয়তোবা একটু মডিফাই করি। তাছাড়া কিছু নয়। কাউকে ইন্ডিকেট করা হয় না এখানে। সর্বজনীন কথা। মিল-অমিলের খতিয়ানে কাঁকতালীয়। তবে, মঙ্গলদায়ক; এতে কোন সন্দেহ আছে বলে মনে হয় না। যেহেতু বাস্তববাদী লেখা সেহেতু আবেগ-পরায়ণ যে কেউ অনেক সময় আঘাত পেতে পারেন। কিন্তু, বাস্তবতা তো তার আপন গতিতে চলে। আমি শুধু সেটাকে ধরে ধরে লেখায় রুপদান করি।
২৬৭. যে বোঝে তার যুদ্ধ করা লাগে না। কৌশল এবং বুদ্ধিমত্তার জোরেই সে উত্তীর্ণ হয়।
২৬৮. আপনি লিখতে চাইলে লিখতে পারেন। কিন্তু, সব কিছু প্রকাশ করবেন না বা পারবেন না। আপনার বিবেক সায় দিবে না; নতুবা, আপনি পরিস্থিতির স্বীকার।
২৬৯. ভদ্র আর অভদ্র এবং বেয়াদব ও আদবের মধ্যে পার্থক্য তার আচার-ব্যবহারে। আর আচার-ব্যবহার নিয়ন্ত্রন করে মানুষের চিন্তা-চেতনা। মানুষের আচারনগত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য।
২৭০. বুদ্ধির খেলায় সেই জয়ী হয়; যে ঘটমানের নীরব দর্শনে উপলব্ধি পেয়ে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপন্থা গ্রহন করে কর্ম সম্পাদন করতে পারে।
২৭১. পূরুষের প্রেম বহির্মূখী; নারীর প্রেম অন্তর্মূখী।
২৭২. পরিকল্পনা যত মার্জিত, রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন এবং কৌশলপূর্ণ হবে কর্মও তত সুন্দর হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই।
২৭৩. যুক্তি খন্ডন করা গেলেও বাস্তবতা খন্ডন করা যায় না। এমনকি যুক্তি দিয়েও বাস্তবতাকে খন্ডন করা যায় না।
২৭৪. আবেগও একটি বাস্তবতা। আর প্রেম হচ্ছে একটি আবেগীয় বাস্তবতা।
২৭৫. আমি মানুষ। এটাই আমার প্রথম এবং শেষ পরিচয়। মানুষ হয়ে জন্মেছি। মরতেও চাই মানুষ হয়ে। আমি কোন বাদ বা ইজম দ্বারা আসক্ত নই। আমি মানুষ। এই বোধই আমাকে পরিচালিত করে। মানুষ হওয়ার জন্য মানবিক গুনাবলি অর্জন করতে হয়। ধার্মিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারন, ধর্ম অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানবিক গুনাবলি অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাই!
২৭৬. মানুষ যখন ভুল করে তখন সে বুঝতে পারে না। তাই সে ভুল করে।
২৭৭. মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে যাও, কোন কষ্ট থাকবে না জীবনে। জীবন হবে জীবনের মত।
২৭৮. বর্ণ এবং ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদই পৃথিবীতে বিশৃংখলা সৃষ্টি, মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি, মানুষ হত্যা এবং গণহত্যার অন্যতম প্রধাণ কারণ।
২৭৯. মানুষ হিসেবে কেউ পরিপূর্ণ নয়। এজন্য, কাউকে আপনি এককভাবে ভালো বা খারাপ বলতে পারেন না।
২৮০. একটি বিষয় ভেবে দেখলাম; যারা অপরাধ করে এবং কোন বিষয়ে এডিক্টেড থাকে তাদেরকে আসলে শাস্তি দিয়ে লাভ হয় না। বরং, তারা আরো বেশি ঐ বিষয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। কেননা, শাস্তি মানুষকে আসক্তি বা অপরাধ থেকে রক্ষা করে না। কৌতুহলই মানুষকে এডিকশনের দিকে ঠেলে দেয়। এজন্য, কাউন্সেলিং বা সংশোধনই মানুষকে অপরাধ বা আসক্তির কবল থেকে রক্ষা করতে পারে।
২৮১. এখানে প্রতিভার চেয়ে বয়সের সম্মান বেশি। এ কারনে উন্নয়ন বয়সের ফাঁক-ফোকর দিয়ে সরু হয় আসে।
২৮২. রাগ, দুঃখ, ক্ষোভ ইত্যকার বিষয়গুলো ভয়ংকর ক্ষতিকারক অনুভূতি নামক ভাইরাস। ভাইরাস ক্ষতিকারক হলেও বর্তমান।
২৮৩. সৃজনী শক্তির দাপটটা বেশি হওয়া জরুরি। বুদ্ধির প্রয়োজন আছে। খারাপ বা ভালো বিচক্ষন করার জন্য। ঠিক তো বলি। কিন্তু, সময় যখন বাস্তবতার কাঁটায় দোঁল খায় তখন বোকা হয়ে বসে থাকতে হয়। কিছুই করার থাকে না। তবে, সৃজনী শক্তি আর ইতিবাচক বুদ্ধি থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব।
২৮৪. সব মানুষেরই কিছু সুপ্ত প্রতিভা থাকে। এটাকে উপ্ত করার জন্য আনুষঙ্গিক কিছু বিষয় থাকে; যা নিজেকেই বুঝে নিতে হয়।
২৮৫. দু'পাঁচজন মানুষকে বোকা বানানো সহজ। কিন্তু, সব মানুষকে বোকা, পাগল ভাবাটা নিরেট বোকামী! যে ভাবে, সেই আসলে বড় বোকা।
২৮৬. না হলে; বিকল্প থাকে। অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে খুজুন। হয়তোবা, এর থেকে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। বিপরীতও হতে পারে। তবে, আপনার বোধ-বুদ্ধি দিয়ে সেটা এড়িয়ে যেতে পারেন।
২৮৭. 'আপন' বা 'পর' শব্দ দুটি প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হয়। এ দুটো নিত্য পরিবর্তনশীল শব্দ।
২৮৮. যখন আমি বলি, আমি মুসলমান বা হিন্দু বা বৌদ্ধ বা খ্রীষ্টান বা অন্যান্য। তখন বিভেদের একটা সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম সূচক এসে যায়। কিন্তু, যখন বলি 'আমি মানুষ' তখন মানুষে মানুষে আর কোন বিভেদ থাকে না। এক সাথে সুখে-দুঃখে আমরা সবাই সবার। এটা সম্ভব একমাত্র মানুষকে মানুষ ভাবতে শেখার মধ্যে।
২৮৯. বর্ণচোরা এবং গিরগিটি টাইপের লোকেরা ব্যক্তি-স্বার্থের পিছে ঘোরে। নিজের স্বার্থেই তারা ভোল পাল্টাতে কসূর করে না। আজব এক প্রাণী! উহাদের থেকে সাবধান থাকা উচিৎ। নতুবা, ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। হয়!
২৯০. আমরা এখনো মধ্যযুগীয় বর্বরতার কাঠামো থেকে বাহির হতে পারিনি। আমরা এখনো মধ্যযুগীয় নেতিবাচক চিন্তার খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। যে কারনে, আধুনিক, উন্নত সভ্যতার অভ্যন্তরে থেকেও আমরা অসভ্যতাপূর্ণ আচরণ ও কর্ম করে থাকি।
২৯১. ঢাকা হচ্ছে কাঁকের শহর। ওখানে কোঁকিল খুজলে ভুল হবে। তাই, নিজে কোঁকিল হলেও কাঁকের বেশ ধারণ করা জরুরি বোধ করি। নাহলে, টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে এটাই ঘটে বলে বোধ করি।
২৯২. আসলেই, ভালোবাসা মূখের ভাষায় অপ্রকাশিতব্য অন্য রকম এক অনুভূতি! ভালোবাসার কোন সংজ্ঞা হয় না। কোন ভাষা দিয়েও প্রকাশ করা যায় না। এটাকে আবার প্রেম মনে করবেন না! প্রেমে ভালোবাসা থাকতে পারে। তবে, ভালোবাসায় প্রেম অনুপস্থিত।
২৯৩. আপনার যদি কারো কথায় বা কাজে অনুভূতিতে আঘাত লাগে; এটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত সমস্যা। সাইকিয়াট্রিস্ট বা ডক্টরের পরামর্শ নিন। নিজের সমস্যার জন্য অন্যের মত-প্রকাশের স্বাধীনতাকে কেনো হরণ করবেন। এটা তো মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। রীতি-মত মানবতা-বিরোধী অপরাধ।
২৯৪. মেয়েদের মানসিকতায় তাদেরকে অধিকারহীন করে! তারা নিজেরা নিজেদেরকে অধিকারহীন করে রাখতে মনে হয় ভালোবাসে! বিষয়টা আমাকে বিব্রত এবং বিস্মিত করে!
২৯৫. তবে, একটা বিষয় বুঝেছি। বিপদের বন্ধুই আসল। সুসময়ের বন্ধু আসলে ধান্ধাবাজ, স্বার্থপর হয়।
২৯৬. একটি ইতিবাচক প্রজন্মই পারে সুন্দর একটি জাতি গঠন করতে। তাই, একটি ইতিবাচক জাতি গঠনে একটি ইতিবাচক প্রজন্ম প্রয়োজন। এক্ষেত্রে একজন শিক্ষকই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তবে একটি কথা, ভাংড়ি দিয়ে ভালো কিছু প্রত্যাশা করাটা বোকামী।
২৯৭. প্রেম একটি ব্রান্ডি জিনিস হয়ে গেছে। এক বয়সে, সবাই প্রেম করার চেষ্টা করে; না পারলেও। আর শেষমেষ যদি না পারে তাহলে হা-হুতাশ করে বলে, আমার কপালে প্রেম নাই! যে ব্যক্তি প্রেমকে অবৈধ বা ঘৃন্য বলে অপপ্রচার চালায়, সেও প্রেম করে বা সুযোগ খোজে। হাঁস্যকর বঁটে!
২৯৮. মানুষ যখন ভালো মানুষের প্রশংসা করে তখন এমন করা করে যে, বিশ্বাস-যোগ্যতা হারায়। আবার যখন খারাপ মানুষের সমালোচনা করে তখন এমন করা করে যে, ধ্যান-ধারনার বাইরে চলে যায়। সঠিক অর্থাৎ হক কথা বলতে পারাটায় উত্তম চরিত্র ও ব্যক্তিত্বের লক্ষণ।
২৯৯. যারা ভালো কথা সহ্য করতে পারে না; তারা খারাপ; এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। আর যারা মানুষের মঙ্গল-কথা, মানবতার কথা সহ্য করতে পারে না; তারা মনুষ্য-বিদ্বেষী, মানবতা-বিরোধী; এতেও কোন সন্দেহ নেই।
৩০০. আপনি বয়সে বড় হতে পারেন; কিন্তু, আপনার কর্ম যদি অন্যায় এবং অবৈধ হয়ে থাকে তাহলে আপনার বড়ত্বের মাপকাঠিতে মাপাটা ভুল হবে। আপনি দাবিও করতে পারেন না। দাবি করাটাও ভুল হবে।
৩০১. আপনি যেমন অন্য মানুষকে ঠিক তেমনটা দেখতে চাওয়া চরম বোকামী! কারন, পৃথিবীতে কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত। এ হিসেবে, ভিন্ন ভিন্ন মানুষের আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি থাকাটা স্বাভাবিক।
৩০২. সন্তান খারাপ হলে প্রথমে দোষ হয় মা'র। সর্বোপরি মা-বাবার দোষ। কারন, সন্তান মা-বাবার দায়িত্ব-কর্তব্যের আওতায় থাকে। মা-বাবার দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে ব্যর্থতার জেরে সন্তান খারাপ হয়ে যায়। দায়ভার সন্তানের ঘাড়ে চাপানো, 'উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানো'র মত হয়ে যায়।
৩০৩. দেখা যায়, অনেক সময় অনেক মানুষকে আদিখ্যেতা করতে। এটা আসলে চরম মাত্রার একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির নাম। আদিখ্যেতা করা যাবে না। এটা অন্যকে বিব্রত করে। অনেক ক্ষেত্রে এটা ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়। যে কেউ যে কোন বিষয় নিয়ে আদিখ্যেতা করতে পারে। আদিখ্যেতা করা খুবই খারাপ! এটা একজন ব্যক্তির দূর্বল ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। চরিত্রের মাখামাখি এবং জগাখিচূড়ী মার্কা অবস্থার কারনে মানুষ আদিখ্যেতা করে নিজেকে অন্য বিষয়ে আড়াল করার চেষ্টা করে।
৩০৪. আমি নিজের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখি। নিজেকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। কারন, নিজের প্রতি আস্থা না থাকলে, নিজেকে ভালোবাসতে না জানলে অন্যের প্রতি আস্থা রাখা যায় না, অন্যকে ভালোবাসা যায় না।
৩০৫. ভালো মানুষ হওয়ার জন্য আপনার ইচ্ছায় যথেষ্ট। একজন মানুষকে কোন রকম লাভ ছাড়ায় সাহায্য করুন। দেখবেন, নিজের ভেতর অন্য রকম শান্তি অনুভব করবেন। এটাই তো একজন ভালো মানুষের অন্যতম গুন।
৩০৬. কঠোর পরিশ্রমের পর যে ফলটা অাসে ওটাই মেধার পরিচয়। আসলে মেধা বলে তেমন কিছু নেই। কঠোর পরিশ্রম আর মনে রাখার শক্তিই আপনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
৩০৭. জীবনে চলার জন্য টাকার প্রয়োজন আছে; এটা ঠিক। কিন্তু, টাকা দিয়ে মানুষের জ্ঞান বা প্রজ্ঞার পরিচয় মেলে না। জ্ঞান জিনিসটা মানুষের চিন্তা-চেতনার উন্নতি ও বিকাশ ঘটায়। আর টাকা অনেক সময় মানুষকে হিংস্র জন্তু জানোয়ারে পরিনত করে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোন জিনিসই ভালো ফল দেয় না; একমাত্র জ্ঞান ছাড়া।
৩০৮. দুধ লাথি মারা গরুতেও দেয় আবার শান্ত-শিষ্ট গরুতেও দেয়। এখন কথা হচ্ছে, লাথি মারা গরু ১০ কেজি দুধ দিলেও তা নেয়া বড়ই কষ্ট-সাধ্য। আর শান্ত-শিষ্ট গরু ১ কেজি দিলেও তা অনায়াসে নেয়া যায়।
৩০৯. আমি মনে করি, আস্তিকতা এবং নাস্তিকতা দুটোই কৌশলগত সামাজিক শ্রেণীকরণ। আর যে কোন ধরনের শ্রেণীকরণই মানুষের জন্য অমঙ্গলদায়ক। একমাত্র মানবতাবোধই মানুষের জন্য মঙ্গলদায়ক বিষয়। অর্থাৎ, মানুষকে মানুষ ভাবতে শেখায় যে বোধ সেটাই। রক্ত-মাংস, প্রাণের অধিকারী মানুষের একটাই শ্রেণীকরণ হতে পারে সেটা হচ্ছে, আমরা মানবজাতি।
৩১০. ভালো কাজ করলে একদিন তার ফল পাবেন। মৃত্যুর পর মানুষ দুনিয়ায় আপনার সৎকর্মের জয়গান গেয়ে যাবে।
৩১১. একাডেমিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে মানুষের জ্ঞান পরিমাপ করা যায় না। যে পড়ে, সে জানতে পারে। আর যার বোধ শক্তি রয়েছে, সে বুঝতে পারে। এখন না পড়ে, বোধ শক্তি বন্ধক রেখে দিলে তো মুশকিল। যন্ত্র ও প্রযুক্তির উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি ঘটলেও মানুষের চিন্তা-চেতনা ও মানসিকতার নিম্নগামিতাই পরিলক্ষিত হচ্ছে। মানব জাতির জন্য এটা অশনি-সংকেত।
৩১২. প্রচলিত অর্থে আমরা যাদেরকে ভালো মানুষ মনে করি, প্রকৃত অর্থে তারা বোকা নতুবা মুখোশধারী ভন্ড। ভালো মানুষ হওয়ার জন্য দরকার সৎ-বুদ্ধি। যেটা প্রচলিত অর্থের ভালো মানুষদের মধ্যে নেই।
৩১৩. সব সহ্য করতে পারি কিন্তু ভন্ডামী আর তেলবাজি সহ্য করতে পারি না। ভন্ডামী হচ্ছে, আপনি মানুষকে এক বলে করেন আর এক। অর্থাৎ, নিজে খারাপ হয়েও, কুকর্ম করেও ভালো সাজার বাহানা। তেলবাজি হচ্ছে, ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য অন্যকে ঠকানোর নিমিত্তে কথা এবং কাজ দ্বারা কাউকে সন্তুষ্ট করার ভান করে শুভঙ্করের ফাঁকি মারা।
৩১৪. ভাবতেছি, এখন থেকে ইতিহাস, দর্শন, মনোবিজ্ঞান পড়া বাদ দিয়ে সাহিত্য, সিনেমা পড়া শুরু করব। কারন, 'ভালোবাসি' এ কথাটি যতটা ঐতিহাসিক, দার্শনিক এবং মনোজাগতিক তারচেয়ে বেশি সাহিত্যিক, সিনেমাটিক ও নাটকীয় না হলে বিপরীতে গ্রহনযোগ্যতা পায় না।
৩১৫. স্বার্থের দ্বন্দ্বে আমরা পরস্পর পরস্পরের আত্মীয়-অনাত্মীয়। স্বার্থের কোলে আমরা সামাজিক। স্বার্থের হানিতে আমরা কখনো হয়ে যায় অসামাজিক। সামাজিক-অসামাজিকতার দ্বন্দ্বে হয়ে উঠি মানুষ-অমানুষ। বিচ্ছেদের সুর মানুষকে নিয়ে যায় নতুন দ্বন্দ্বের অভিমূখে।
৩১৬. দৃষ্টিকোন ও মতের অমিলটা স্বাভাবিক। মিলটা কাঁকতালীয়।
৩১৭. জ্ঞানী ব্যক্তি জ্ঞানীর সম্মান করে। আর ধার্মিক করে ধার্মিকের।
৩১৮. সনদপত্র দিয়ে জ্ঞান পরিমাপ করাটাও মূর্খতা। আপনার অনেক বড় মাপের ডিগ্রি থাকতে পারে। কিন্তু, আপনার জ্ঞানের পরিমাপ হবে আপনার কথা-বার্তা আর আচার-ব্যবহারে।
৩১৯. চৈতন্যগত বৈপরীত্য যদি হঠাৎ করে সম্পর্কে ফাটল সৃষ্টি করে তাহলে সেখানে ভালোবাসা ছিলো না। এটাকে বলা যায়, মেনে নেয়ার প্রবনতা। এই অবদমিত মন একদিন জোরে বিস্ফারিত হয়ে অনাকাঙ্খিত বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। কাজেই, ভেবে-চিন্তে সম্পর্কের দিকে আগানো উচিৎ। সবাইকে বন্ধুত্বের তালিকায় রাখা ঠিক হবে না। স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখাই বাঞ্ছণীয় হবে।
৩২০. ফুলের সৌন্দর্য আছে বলে ফুলকে ঢেকে রাখা বোকামী ছাড়া কিছু নয়। যারা ফুল দেখলেই ছিড়ে নষ্ট করতে চাই তাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিন। ফুল মাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর। ফুলকে বস্তাবন্দি করলে তার সৌন্দর্য ঝলসে যায়। ফুলের সৌন্দর্য্য প্রকৃতির খোলা ময়দানেই পরিলক্ষিত হয়।
৩২১. যারা হুদাই ল্যাঁদাই তাদের এড়িয়ে চলাই শ্রেয়! কারন, অযথা সময় নষ্ট ছাড়া কিছুই হয় না। মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান দুটি সম্পদ হচ্ছে প্রাণবায়ু আর সময়। কাজেই, সময় নষ্ট করা মানে জীবন থেকে মূল্যবান জিনিস হারানো। হাজার-তঁপস্যা করলেও যা কখনো ফিরে পাওয়া যায় না।
৩২২. এটা গবেষনা নয়, শুধু পর্যবেক্ষন। গবেষনার জন্য আনুষঙ্গিক অনেক বিষয় থাকে। শুধু পর্যবেক্ষন দিয়ে হয় না।
৩২৩. সব কথা সব সময় পরিপূর্ণতা দিয়ে বলতে নেই। কারন, নিজের জ্ঞানকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয় সেটার দ্বারা।
৩২৪. ওরা কেনো ছবি তুলতে চাই বুঝি না! বানরের পাছার ছবিও তোলা যায়। কিন্তু, সেটা অর্থহীন!
৩২৫. সত্য কথাও অনেক সময় বলা যায় না। সময়ের অপেক্ষা করতে হয়।