সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ধর্ষন নারীর প্রতি পুরুষতন্ত্রের পৈশাচিকতার ঘৃন্য-নিকৃষ্ট অস্ত্র

ধর্ষন পৈশাচিকতার একটি ঘৃন্য-নিকৃষ্ট অস্ত্র হয়ে দাড়িয়েছে। ধর্ষনের পর হত্যা করা এখন নিত্য-নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। আমরা বারবার ধর্ষকের শাস্তির জন্য আন্দোলন করি, বিবৃতি দেই। কিন্তু, হত্যার বিষয়টিকে বারবার এড়িয়ে যায়। নারী যেনো শুধুই একটি যৌন বস্তু। মানুষ হিসেবে তাদের কোন মূল্যায়ন নাই। শুধু ধর্ষনের বিচার চাই কিন্তু হত্যার বিচার কোন এক কাল্পনিক দৈবাচারণে এড়িয়ে যায় কৌশলে। যারা আসিফাকে ধর্ষন করেছে তারা একই সাথে তাকে হত্যাও করেছে। কাজেই, হত্যা এবং ধর্ষনের বিচার করতে হবে, চাইতে হবে।

যদি রাষ্ট্রযন্ত্র বিচার করতে ব্যর্থ হয় তাহলে এ ব্যর্থতার প্রতিবাদ করতে হবে এবং ধর্ষন ও হত্যার ন্যায্য বিচার চাইতে হবে। এটা আমার আপনার সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য। বিশ্বায়নের যুগে আমরা এখন সবাই বিশ্ব-নাগরিক। পৃথিবীর যে প্রান্তেই ঘটুক, আমাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। যদি আপনার পরিবারের সাথে এ ধরনের ঘটনা ঘটে আপনার জীবনে এর প্রভাবটা কেমন হবে? নিঃসন্দেহে ভালো নয়! সেদিক বিবেচনায়ও প্রতিবাদ করা আপনার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

সর্বোপরি, সামাজিক কাউন্সেলিং ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রত্যেক পিতামাতাকে তার সন্তানের ব্যাপারে সব-সময় সচেতন থাকতে হবে। সন্তান জন্ম দেয়া যায়, কিন্তু সঠিকভাবে লালন-পালন করা যায় না। সন্তান প্রতিপালন একটি সচেতন প্রক্রিয়া। একটু অন্যমনষ্ক হলেই খুব সহজেই যেকোন দূর্ঘটনা ঘটে যায়। কাজেই, আমরা যারা শিক্ষিত একই সাথে নিজেরা সচেতন, তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো অন্যদের এ ব্যাপারে সহযোগিতা করা। তাহলে সামগ্রিকভাবে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌছানো সম্ভব হবে বলে বোধ করি।

একটি সুন্দর আগামীর বিশ্ব গঠনে আসুন আমরা সবাই মিলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করি। পারস্পরিক সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করি। দেশ-কাল-পাত্রভেদ, শ্রেণীকরনকে সমূলে উৎপাটন করে একটি মানবিক সমাজ গঠনে সর্বজনীন-মঙ্গল চিন্তা-চেতনার পক্ষে কাজ করি।