দু'মানসের মানবিক কথন
ক. একসময় মীর মশাররফ হোসেনের বাংলা সাহিত্য চর্চা নিয়ে বঙ্গদেশের হিন্দু এলিটরা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছিলো। তখন মীর মশাররফ হোসেন বলেছিলেন, "এমন এক সময় আসবে যখন বাংলার মুসলমানরায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের কর্ণধার ও রক্ষক হবে"।
আজকে ঐ কথাটা বারবার মনে করতে ইচ্ছা করে। কারন, তিনি যে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন তা আজ বাস্তবে পরিনত হয়েছে। আজকে বাংলাদেশ নামে একটি দেশ হয়েছে। যে দেশের মাতৃভাষা বাংলা (এই বাংলা ভাষা অর্জনে রয়েছে একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস)। যে দেশের অধিকাংশ মানুষই মুসলমান।
এই বিষয়টার মানবিক দিক বিবেচনা করলে যেটা দাড়ায়, যুগে যুগে যে বা যারা শক্তিশালী গোষ্ঠীর হাতে নির্যাতিত, শোষিত, বঞ্চিত ও হত্যা বা গনহত্যার শিকার হয়েছে তারাই এক সময় শক্তিকে জয় করতে সক্ষম হয়েছে। শোষকের পরাজয় নিশ্চিত।
আজকে ভারতে (পশ্চিমবঙ্গে) হিন্দি ও ইংরেজী ভাষার সাহিত্য-সংস্কৃতির আগ্রাসনে সেখানকার অধিবাসীদের কাছ থেকে বাংলা ভাষা তার নিজস্বতা হারিয়ে বাঙালিত্বের স্বত্বা হারিয়ে ফেলছে। সবাই হিন্দি ভাষা ও হিন্দি সংস্কৃতিকে আলাদা করে ভারতে জনসংস্কৃতির মর্যাদার আসনে দাড় করিয়েছে। যার ফলে ভারতে (পশ্চিমবঙ্গে) বাংলা ভাষা তার জৌলুস হারিয়ে মলিন হয়ে পড়ছে। কাজেই এটা বললে অতুক্ত্যি হবে না যে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-সংস্কৃতি রক্ষার ভার এখন বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর উপর এককভাবে বর্তায়।
খ. কাজী নজরুল ইসলামকেও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা হয়েছিলো। সেটা হিন্দু-মুসলমান সব পক্ষ থেকে। এখন যদিও তিনি মুসলমানদের কাছে বিশেষ পূজ্য। কিন্তু, তার সমসাময়িক-কালের মুসলমান মোল্লা-মৌলভিরা তাকে নাস্তিক-মুরতাদ পর্যন্তও বলেছিলো। কারন, তিনি কমরেড মোজাফফর আহমেদের সাথে কমিনিস্ট আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন। হিন্দু রমনী বিয়ে করেছিলেন। আরো কতশত অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। আসলে, তিনি মানবতাবাদী মানুষ ছিলেন।
তিনি ইসলামী সঙ্গীত ও গজলও লিখেছেন, আবার শ্যামা সঙ্গীত ও ভক্তিগীতিও রচনা করেছেন। এ ধরনের মানুষ সবার। কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হয় না। তিনি মানুষকে মানুষ হিসেবে একমঞ্চে দেখতে চেয়েছিলেন। বিভেদের সীমারেখা ভেদ করে বের হয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কতটুকু পেরেছেন, সেটা আলোচনার বিষয়। তবুও তার মানসের দিক থেকে তিনি যে মানবদরদী, মানবতাবাদী সেটা বুঝতে বাকি থাকে না।
ধর্ষন নারীর প্রতি পুরুষতন্ত্রের পৈশাচিকতার ঘৃন্য-নিকৃষ্ট অস্ত্র
ধর্ষন পৈশাচিকতার একটি ঘৃন্য-নিকৃষ্ট অস্ত্র হয়ে দাড়িয়েছে। ধর্ষনের পর হত্যা করা এখন নিত্য-নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। আমরা বারবার ধর্ষকের শাস্তির জন্য আন্দোলন করি, বিবৃতি দেই। কিন্তু, হত্যার বিষয়টিকে বারবার এড়িয়ে যায়। নারী যেনো শুধুই একটি যৌন বস্তু। মানুষ হিসেবে তাদের কোন মূল্যায়ন নাই। শুধু ধর্ষনের বিচার চাই কিন্তু হত্যার বিচার কোন এক কাল্পনিক দৈবাচারণে এড়িয়ে যায় কৌশলে। যারা আসিফাকে ধর্ষন করেছে তারা একই সাথে তাকে হত্যাও করেছে। কাজেই, হত্যা এবং ধর্ষনের বিচার করতে হবে, চাইতে হবে।
যদি রাষ্ট্রযন্ত্র বিচার করতে ব্যর্থ হয় তাহলে এ ব্যর্থতার প্রতিবাদ করতে হবে এবং ধর্ষন ও হত্যার ন্যায্য বিচার চাইতে হবে। এটা আমার আপনার সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য। বিশ্বায়নের যুগে আমরা এখন সবাই বিশ্ব-নাগরিক। পৃথিবীর যে প্রান্তেই ঘটুক, আমাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। যদি আপনার পরিবারের সাথে এ ধরনের ঘটনা ঘটে আপনার জীবনে এর প্রভাবটা কেমন হবে? নিঃসন্দেহে ভালো নয়! সেদিক বিবেচনায়ও প্রতিবাদ করা আপনার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
সর্বোপরি, সামাজিক কাউন্সেলিং ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রত্যেক পিতামাতাকে তার সন্তানের ব্যাপারে সব-সময় সচেতন থাকতে হবে। সন্তান জন্ম দেয়া যায়, কিন্তু সঠিকভাবে লালন-পালন করা যায় না। সন্তান প্রতিপালন একটি সচেতন প্রক্রিয়া। একটু অন্যমনষ্ক হলেই খুব সহজেই যেকোন দূর্ঘটনা ঘটে যায়। কাজেই, আমরা যারা শিক্ষিত একই সাথে নিজেরা সচেতন, তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো অন্যদের এ ব্যাপারে সহযোগিতা করা। তাহলে সামগ্রিকভাবে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌছানো সম্ভব হবে বলে বোধ করি।
একটি সুন্দর আগামীর বিশ্ব গঠনে আসুন আমরা সবাই মিলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করি। পারস্পরিক সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করি। দেশ-কাল-পাত্রভেদ, শ্রেণীকরনকে সমূলে উৎপাটন করে একটি মানবিক সমাজ গঠনে সর্বজনীন-মঙ্গল চিন্তা-চেতনার পক্ষে কাজ করি।
JUSTICE FOE ASIFA
মানুষ কতটা নিকৃষ্ট হতে পারে ভাবতেই অবাক লাগছে! আরো বেশি অবাক লাগছে, ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে বহু মানুষ মিছিল করছে, তাও ধর্মকেন্দ্রীক এবং ধর্মমূখী একটি রাজনৈতিক দলের লোকজন প্রকাশ্যে ধর্ষকের পক্ষে বিবৃতি দিচ্ছে! যেই মিছিলে দেশের জাতীয় পতাকার ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আগে মসজিদে শিশু ধর্ষনের ঘটনা অনেক জেনেছি, পত্র-পত্রিকার মারফতে। তবে, এবার প্রথম মন্দিরে শিশু ধর্ষনের ঘটনা সম্পর্কে বিশ্ববাসী অবহিত হলো। তাও, ভিন্নধর্মের একটি শিশু গণধর্ষনের শিকার হলো। ঘৃনা, ভয়ভীতি ছড়ানোর লক্ষ্যে অতীতে বহু ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়ানো, হত্যা, ধর্ষন, লুট-পাটের ইতিহাস রয়েছে। তবে, এবারই প্রথম ধর্মীয় মন্দিরে শিশু গণধর্ষনের ঘটনাটা সম্পর্কে অবহিত হলাম। যেটা আসলে, সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, অসভ্যতা মানুষকে গ্রাস করে ফেলেছে। তা যদি না হবে, তাহলে একজন ধর্ষকের (অপরাধী) পক্ষ নিয়ে মানুষ কথা বলে কিভাবে, কোন বিবেচনায়?
মানুষ কতটা নিচে নামলে ধর্মের নামে শিশু ধর্ষনের মত জঘন্য কাজ করতে পারে! আবার ধর্ষকদের বাঁচাতে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে মিছিল-মিটিং করতে পারে! ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু, সেখানে যারা ধর্ষনের ন্যায় ক্ষমার অযোগ্য নিকৃষ্ট অপরাধ সংঘটন করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে কেনো এত বাঁধা আসে?
একটি শিশু, যে এখনো নিজের শরীর সম্পর্কে ভালো মত জানতেই পারেনি, তার শরীরে অ-মানুষের দল কি খুঁজে পায় বুঝি না!
(বিঃদ্রঃ লেখাটাকে কেউ ধর্মীয় বিদ্বেষ হিসেবে নিবেন না। এটা ঐ সকল পশুদের বিরুদ্ধে যারা ধর্ষক এবং ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে কথা বলে এবং যারা ধর্মের নামে ধর্ষনের বৈধতা জারি করে।)
ধর্ষনরোধে সামাজিক কাউন্সেলিং ও সচেতনতায় জরুরি
যেখানে ঘরে ঘরে ধর্ষকের পদচারনা সেখানে বিচার করবে কাকে? আর বিচারিক প্রক্রিয়ায় গেলে সেখানে আরেক দফা মানসিক ধর্ষনের ঘটনা ঘটে! যে দেশে ৩ মাসে ১৭৬ টা শিশু ধর্ষনের ঘটনা ঘটে, সেখানে দুর্বার সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প কি হতে পারে? সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে। তার জন্য তো সুস্থ্য মন-মানসিকতার মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন লোক দরকার। সেটার জন্য ইতিবাচক মানসিকতার বিকাশে ব্যক্তি পর্যায় থেকে কাজ শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র সহযোগীর ভূমিকা পালন করবে। (ব্যক্তিগত অভিমত) শাস্তি দেয়ার আগে, ধর্ষকামী মনোবৃত্তির চিকিৎসা দরকার। সেটা সার্বিক ধর্ষন-রোধে দীর্ঘস্থায়ী কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে বোধ করি। বর্তমানে শাস্তি কতটা ফলপ্রসূ হবে সেটা ভাববার সময় এসেছে। কারন, এটা অতীব প্রাচীন প্রথা। একই সাথে অমানবিক। সময়ের দাবীকে অগ্রাহ্য করলে সেটা কখনো ভালো ফল দেয় না। অপরাধীর শাস্তি যদি মূখ্য হয়, সেটা অপরাধ কমায় না। অপরাধ প্রশমনের জন্য সামাজিক কাউন্সেলিং ও সচেতনতা অতীব জরুরি। পোশাকের দোহায় দিয়ে বা অন্যান্য প্রেক্ষাপট তুলে যেখানে ধর্ষক নিজেই ধর্ষনের বৈধতা জারি করে, ভুক্তভোগীর উপর দোষ চাপায় (এক্ষেত্রে সমাজও একই কাজে বাঁকপটুতা দেখায়), সেখানে বুঝতে বাকি থাকে না মুষ্টিমেয় বাদে সমাজটা ধর্ষকামীতে ভরে গেছে। যেটা একজন মানুষকে ধর্ষক হতে খুব সহজে উদ্বুদ্ধ করে বা হয়ে যায়। এখানে ধর্ষনের সর্বজনীনতার প্রকাশ ঘটেছে। একজন-দু'জন ধর্ষকের বিচার করে ধর্ষন কমানো অসম্ভব বলে বোধ করি। আর নিয়ন্ত্রিত-গনতন্ত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতির কালো থাঁবা থাকে। স্বচ্ছতার বড়ই অভাব সেখানে। সেই সাথে দীর্ঘসুত্রতা তো আছে। মানসিক ধর্ষনের কথাটা বাদই দিলাম। এটা আরো প্রমান করে যে, বিচার দিয়ে, শাস্তি দিয়ে ধর্ষন রোধ সম্ভব নয়। তবে, এখন পরিস্থিতি বিবেচনায় অপরাধীর ইতিবাচক মানসিকতার বিকাশে, অপরাধ প্রবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত করার নিমিত্তে রাষ্ট্রীয়ভাবে তার কাউন্সেলিং করানো অতীব জরুরি (এটা কার্যকরী হবে বেশি, শাস্তি অপরাধ কমাতে যে ব্যর্থ তার প্রমান স্বচক্ষে অবলোকন করছি)। এটা সাময়িক। তবে, দীর্ঘস্থায়ী সমাধনে পৌছানোর জন্য সামাজিক কাউন্সেলিং ও সচেতনতা জরুরি।
একটি ঘোষনা
আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ফেসবুক থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবো। প্রথমত, ফেসবুক এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমের কাতার থেকে উঠে প্রচার মাধ্যমে পরিনত হয়েছে। নিউজ ফিড স্ক্রল করার সময় প্রচুর পরিমানে অনাকাঙ্খিত বিজ্ঞাপন চলে আসে। যা আমাদের কর্মঘন্টা থেকে শুরু করে বিনোদন ও অবসর কাটানোর যৌক্তক মূহুর্তগুলোকে নষ্ট করে একঘেয়েমিতে পরিনত করছে। যেটা নানান ধরনের মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করছে বলে প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। সামাজিক-পারিবারিক মেলবন্ধনে ফাঁটল ধরাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, এটা অপ-প্রচার ও মিথ্যাচারের অন্যতম কুরুক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে। যা মানব সভ্যতায় নানা অমানবিক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। ভুয়া একাউন্টের যন্ত্রনা তো আছেই। এছাড়া আরো একটি কারন রয়েছে। সেটা হচ্ছে, ফেসবুকে এখন ত্যাঁনা প্যাঁচানো, ল্যাঁদানো, কুরুচিসম্পন্ন লোকজনে ভরে গেছে। তারা প্রতিনিয়ত অসভ্য ও অজ্ঞতাপূর্ণ (জাত-চেনানো) আচরণ করে চলেছে ফেসবুকের ন্যায় ভার্চুয়ালি একটি খোলা যায়গায়। কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কথা আর নাই বলি। সবাই নিজের মতকে অকাট্য মনে করে। অন্যের মতকে সম্মান করা দূরে থাক, হিংস্রতায় ভরা গালিগালাজ করতেও কসূর করে না। কুরান-হাদিস পড়া দূরে থাক, এক ওয়াক্ত নামজও পড়ে না, তারাই ধর্মের কর্নধার ফেসবুকে। বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছি, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন এবং হোয়াটস-অ্যাপকে। চতুর্থত, গত কয়েকদিন আগে ফেসবুক একাউন্টের তথ্য-উপাত্তের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে। যেট নিজের অজান্তে নিজেকে মাফিয়াচক্র বা ডাকাত ইত্যকর হস্তে সমার্পন করার সামিল। পঞ্চমত, এখানে মত প্রকাশের অবাধ প্রবাহের কারনে সংযম, সম্মানবোধ হারিয়ে ভাষাগত দৈন্যতায় পতিত হচ্ছে। প্রাণের বিনিময়ে রক্ত দিয়ে কেনা ভাষা ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে কতিপয় বখাটের করাল-গ্রাসে। ষষ্ঠত, লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারবাজদের যাতনায় অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। সবাই লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের আশায় দিনাতিপাত করে। সেলফিবাজ ছবিয়ালদের কথা আর নাই বললাম! মনে হয় এটাই জীবনের ক্লাইমেক্স। কিন্তু, ক্লাইমেক্স যে পতন ডেকে আনে তা কেউই মনে হয় জানে না।
জীবন ও সময়-সম্পদ ক্ষয় করে এত বেশি ভার্চুয়ালি-সামাজিক হওয়ার দরকার নেই। প্রয়োজন-অতিরিক্ত যে কোন জিনিসই ক্ষতিকারক।
(বোধ থাকলে বুঝে নিন কি বলতে চাই। না বুঝতে পারলে কতৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। কারো অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে থাকলে তা অনাকাঙ্খিত।)
সমালোচকের চোখ
আপনি আমার সমালোচনা করে ধুয়ে-মুছে ছাপ করে দিতে পারেন। তাতে আমার কোন সমস্যা নাই। তবে, অপ-প্রচার চালানোটা অন্যায় এবং একই সাথে অপরাধ। সেটা বরদাশত করা যাবে না।
আপনি আমাকে গালি-গালাজ করতে পারেন। তাতে আমার বিশেষ কিছু হবে না। বরঞ্চ, এটা আপনার অস্বাভাবিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। আপনি যে একজন ব্যক্তিত্বহীন নর-পিশাচ তার প্রমান বহন করবে।
আধুনিক সভ্যতায় সমালোচনা একটি অনন্য শিল্প-সত্ত্বা লাভ করেছে। তবে, এই শিল্প-সত্ত্বায় পৌছানোর জন্য সমালোচনাকে অবশ্যই গঠনমূলক হতে হবে। একপেশে সমালোচনা হলে সেটা গঠনমূলক হবে না। নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন বজায় রেখে তথ্য-প্রমান, পর্যবেক্ষন সাপেক্ষে গঠনমূলক সমালোচনার ভিত্তি রচিত হয়।
একপেশে সমালোচনায় থাকে ব্যক্তি স্বার্থ কিংবা গোষ্ঠী-চেতনার পূর্ণরূপ। সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বময় মঙ্গল-চিন্তা হেথায় অনুপস্থিত থাকে। সমালোচনার সাথে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ যোগসুত্র রয়েছে। অনেকে রয়েছে নিজের মতপ্রকাশ করার ক্ষমতাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মনে করে। অন্যরা যখন তার বা সম্পর্কিত কোন বিষয়ের সমালোচনা করে তখন সহ্য করা তার পক্ষে মুশকিল হয়ে যায়।
এটা অন্যায়বোধের সামিল। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে সব মানুষই মানুষ হিসেবে নিজস্ব মত প্রকাশ করা অধিকার রাখে। এখানে অন্য ব্যক্তি দ্বারা তার মত প্রকাশ করার ক্ষমতাকে রুদ্ধ করার চেষ্টা এটা প্রকৃতির বিরুদ্ধ আচরণ। কারন, প্রকৃতিগতভাবে মানুষ কথা বলার অধিকার সংরক্ষন করে।
কোন কিছুর দোহায় দিয়ে যৌক্তিক মত প্রকাশে বাঁধা দেয়া নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করে। ঠিক তেমনি অন্যের স্বাধীন, যৌক্তিক মত প্রকাশের কারনে হত্যা, ক্ষয়ক্ষতি বা হুমকি প্রদান করাও নিজের চারিত্রিক ও জ্ঞানের দূর্বলতা প্রকাশ করে এবং এটা শাস্তিযোগ্য বড় ধরনের অপরাধ।
অনেককে এমন সমালোচনা করতে দেখেছি যে, নিজের মতের বিরুদ্ধে গেলে জনসমাবেশে গালিগালাজ করে যাচ্ছে-তাই-ভাবে বলতে। কিন্তু, তার বা তার মতের সমালোচনা করলে রেহায় নেই। অনুভূতিতে আঘাত পেয়ে রীতিমত হাঙ্গামা বাধিয়ে দেয়।
একটি সুস্থ্য-সুন্দর গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মানে গঠনমূলক-সমালোচনা অত্যন্ত কার্যকরী মাধ্যম। তার জন্য সবার পারস্পরিক সহযোগিতা একান্ত কাম্য। সহনশীলতা, সহিষ্ণুতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ পারে গঠনমূলক সমালোচনার সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে।
তিক্ত অভিজ্ঞতাঃ সৌদি আরব নিয়ে
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ছিলাম এক সময়। পড়ালেখার খাতিরে সৌদি আরব সম্পর্কে বেশ উচ্চ-মার্গীয় কথা-বার্তা শুনেছি হুজুরদের কাছ থেকে। এমনকি নবীর দেশ বলে, সেখানকার সম্পর্কে অতিশায়ন অনেক কথাও পড়তে হয়েছে।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। তাও আবার ইতিহাস পড়তে। তখন নানা ধরনের ইতিহাস পড়তে শুরু করলাম। সৌদি আরবের ইতিহাস পড়ার প্রতি আগ্রহটা অনেক বেশিই ছিল। কারন, নবীর দেশ। একটু অন্য রকম ভালো লাগা থেকে।
পড়ার শুরুতেই মারামারি। আমি ছোটবেলায় মারামারি করতে পারতাম না। তাছাড়া, আমার দিয়ে ঝগড়াও হতো না। বাবা-মার কড়া নিষেধাজ্ঞা ছিলো মারামারি এবং ঝগড়া-ঝাটির ব্যাপারে। তারা বলতো এগুলো মানুষের জন্য না। যারা অমানুষ তারাই করে। তারা কি বুঝে বলেছিলো তাদের ব্যাপার কিন্তু আমার কাছে বিষয়গুলো ছিলো মান্যতার শিখরে। শরীরে রাগ না থাকলে যা হয়। এগুলো আমাকে মানবিক হতে শিখিয়েছে। সে কারনে, যুদ্ধ-বিগ্রহ, মারামারি এগুলো ভালো লাগে না।
যাহোক, যুদ্ধ আর মারামারি দিয়ে শুরু। তার কোন শেষ নেই। এভাবে দিনদিন সৌদিসহ মধ্য-প্রাচ্যের প্রতি বিতশ্রদ্ধ হতে শুরু হলো। মধ্য-প্রাচ্য আর সৌদির বিষয়ে পড়তে গেলে শরীর ঘিনঘিন করে। মনে হয় যেনো মানুষ মারার যন্ত্র তারা। ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য স্বাধীনতা আন্দোলনকে তারা প্রতি পদে পদে দমন করে। এমনকি ইহুদি মৌলবাদী ইসরাইলকে তারা সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। কয়েকদিন আগে তারা নিজেদের বিমান-বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব দিয়েছে ইসরাইলকে।
বর্তমান সময়ে, সৌদি আরবে যারা কাজ করতে যায় তাদের ভাষ্যমতে সৌদি আরবে নাকি মানুষ থাকে না সবই অমানুষের কারখানা।
একটা সময় ছিলো সৌদি আরবের মানুষ না খেয়ে থাকত। না খেয়ে দিনাতিপাত করত। সমগ্র মধ্য-প্রাচ্যের লোকজন ভারতসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে কাজের সন্ধানে ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়াতো, যাযাবরের মত জীবন-যাপন করতো। বিংশ শতকে তেলের আবিষ্কারের পর তাদের জীবন-যাত্রার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। যদিও এই তেল অাবিষ্কার তাদের কৃতিত্ব নয়। এটা আমেরিকান কোম্পানী করেছিলো।
আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ক্লাসে একটি গল্প বলেছিলেন, এক ব্যক্তি তিনটি মাথা বিক্রি করার জন্য নিলাম ডাকলেন। সেখানে ব্রিটিশ মাথার দাম ৩০ ডলার আর আমেরিকান মাথা ৭০ ডলার। শেষ মাথাটি সৌদি আরবের তার দাম ৫০০ ডলার। একজন ক্রেতা বললেন, আমি সৌদির মাথাটায় কিনবো। তবে তার আগে বলতে হবে এত দাম কেনো, অন্যগুলোর তো এত না? তখন বিক্রেতা বললেন, এটা এখনো ব্যবহার হয়নি তাই!
যাহোক, ইদানিংকালে সৌদি আরবে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি নারী শ্রমিকও পাঠানো হচ্ছে। সেখানে যাওয়ার পর নারীরা কিছুদিন পর দেশে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে। খোজ-খবর নিয়ে জানা যায়, যে সকল নারী সেখানে কাজ করতে যায় তাদের সাথে খুবই দূর্ব্যবহার করে সৌদিরা। এমনকি যৌন কাজেও ব্যবহার করে। সকালে বাবা, বিকালে ছেলে। কতটা জঘন্য হতে পারে মানুষ! ভাবতেই ঘৃনা লাগে। এমনকি তারা ভারত পাকিস্তান, বাংলাদেশের মুসলমানদের মুসলমান মনে করে না এবং দাস-দাসী হিসেবে ব্যবহার করে।
আমার পরিচিত অনেকে সৌদি আরবসহ মধ্য-প্রাচ্যের দেশে থাকে। তাদের কাছ থেকে এ সকল ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। তাছাড়া, ইউটিউবেও অনেক ভিডিও দেখেছি নির্যাতনের।
অনেক দিন-কানা রয়েছে, যাদের সামনে সৌদিরা নির্যাতন করলেও তারা এগুলো বিশ্বাস করবে না বা নবীর দেশ বলে চালিয়ে দেবে। ভাই! কান্ডজ্ঞান বন্ধক রাখবেন না। একটু চিন্তা-চক্ষে খোলা আকাশের নিচে তাকান। মানুষকে মানুষ ভাবুন। সৌদিদের মত দাস-দাসী বা ইত্যকার প্রাণী ভেবে শ্রেণীকরণ করবেন না।
যদিও সৌদি আরবের বাদশা-নামদারের ছেলে সৌদি আরবকে একটি মধ্যপন্থী দেশের স্তরে উঠানোর চেষ্টা করছে। না জানি ক'দিন পর তারা উদার-পন্থীর ঘোষনা দিয়ে বসে! কারন, স্বাধীনতার স্বাদ অন্যরকম। অবদমিত মন ছাড়া পেলে যা হয় আর কি!
তারা তাদের দেশে বানিজ্যিক সিনেমা মুক্তির অনুমতি দিয়েছে। নারীদের মাঠে খেলা দেখার, সাইকেল চালানো, গাড়ী চালানোর অনুমতি দিয়েছে। আরো কিছু বিষয়ে তার কট্টর-পন্থা ত্যাগ করেছে। তবে, এটা মনে করা ভুল হবে যে, তাদের মানসিকতার কাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে। বংশগতির দিক থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে কট্টর ইসলামিক ছিলো। কাজেই, এক লাফে তারা ছাদে উঠে গেছে ভাবাটা বাঁতুলতা ছাড়া কিছু হবে না।
আমাদের দেশের কিছু অতি-উৎসাহী লোক আছে তারা মনে করে সৌদি আরব নবীর দেশ, তারা কখনো ভুল করতে পারে না। ওখানে আল্লার বিশেষ রহমত রয়েছে। বলি কি ভাই! সৌদি আরব কিন্তু অন্ধ-কুটির থেকে বাহির হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। নিজেকে আর কতদিন অন্ধ-কুটিরে বন্ধি করে রাখবেন।
সৌদিতে শরীয়া আইন শিথিল হচ্ছে। আর আপনারা সেটার প্রতি অন্ধ-মোহ নিয়ে চাঁতক-পাখির মত চেয়ে আছেন। বর্তমান সময়ে টিকে থাকাটাই আসল সংগ্রাম। এটা সৌদি বুঝতে পেরেছে। এই সংগ্রামে পিছুটান বলে কিছু নেই। তাই সৌদিরা নিজেদেরকে সংস্কারের পথে ধাবিত করেছে। আর আপনি নিজের ক্ষুদ্র-স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য জাতিকে চরম বিপন্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন! ধিক্কার জানাই আপনার নিচু পিরপিত্তির জন্য।
শরীয়া আইন আরো অনেক দেশে চালু ছিলো। তারা সংস্কার করে নিজেদের আধুনিক আইন-কানুনের পথে ধাবিত করেছে। যে সকল দেশে এখনো আছে খোজ নিয়ে দেখুন তারা বের হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত।
শরীয়া আইনের সবচাইতে বড় সমস্যা প্রাচীন হওয়ার কারনে আধুনিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে। এটা তো সহজ একটি কথা, সময়ের সাথে সাথে সব কিছু পরিবর্তিত হয়। পরিবর্তনের সাথে নিজেকে খাপ-খাওয়াতে না পারলে মানুষ অনায়াসে পিছিয়ে পড়ে।
শরীয়া আইনকে আমরা বড়জোর প্রাচীন একটি আইন হিসেবে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে পারি। তবে, এর উপযোগিতা বেশিরভাগটাই হারিয়ে গেছে। সে কারনে আমাদেরকে নতুন করে সময়ের দাবি মেনে চলতে হবে। তা'না'হলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক জীবনে যোজন যোজন পিছিয়ে পড়বো।
নারী প্রগতির প্রতি আমাদের আরো বেশি সহনশীল হতে হবে। নারীরা যাতে সমানাধিকার পায় সেটার কার্যকর বন্দোবস্ত করতে হবে। নারীর চলার পথকে আরো মসৃণ করতে হবে। সেটার জন্য আমরা সকলে মিলে কাজ করবো।
শিশু-কিশোরদের শিক্ষকদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। শিক্ষকরা যাতে শিশু-নির্যাতন বন্ধ করে সঠিক শিক্ষা দিয়ে মানুষ এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিজ্ঞানভিত্তিক একমূখী শিক্ষার বন্দোবস্ত করতে হবে। সব নাগরিকই যেন এই শিক্ষা-ব্যবস্থার আওতায় আসে সেটার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। বহুমূখী শিক্ষা-ব্যবস্থা একপ্রাণ-একজাতি গঠনের প্রধান অন্তরায়।
সর্বোপরি, আমার দেশ সোনার বাংলাদেশ। এদেশের প্রত্যেকটা মানুষ সুখে-শান্তিতে বসবাস করুক। যুদ্ধ-বিগ্রহ, মারামারি যেন এখানে আঘাত না হানে। সবাই সবার অধিকার ভোগ করুক নিজস্বতায়।
তিক্ত-কথা
মানুষ আপনাকে নীতি-কথা, সৎ-বাক্য, ধর্ম-গাঁথা শুনিয়ে অনেক উপদেশ বাণী, পরামর্শ দিবে। কিন্তু, কেউ আপনাকে মৌলিক অধিকারগুলো দিবে না। অথবা, সেগুলো কিভাবে অর্জন করা যায় সেগুলোও বলবে না। অযথা, সে তার নিজের কথা বলে আপনার সময় অপচয় ছাড়া কিছুই করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে, নীতি-নৈতিকতা, ধর্মের দোহায় দিয়ে মানুষ আপনাকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।
ভালো বা খারাপ এই বোধ আমাদেরকে পিছুটান মারে। সামনে এগিয়ে যেতে দেয় না। সমসাময়িককালে ভালো বা খারাপ বোধ মানুষের সাথে সম্পর্কিত দুটো অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের রয়েছে সমস্যা। সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারলেই আমাদের ভালো বা মন্দত্বের কোন চেতনায় কাজ করবে না।
মানুষ হিসেবে, নিজের এবং আশে-পাশের মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণের জন্য কাজ করাই মহত্বের কাজ।
আমি মানুষ হতে চাই। কিন্তু, ওরা আমাকে ধার্মিক বানাতে চায়। আমি মানুষ। কিন্তু, ওরা আমাকে ধার্মিক হতে বলে।
আমি মানুষ। তাই, মৌলিক অধিকার অর্জনে ব্যস্ত আছি। নীতি-কথা, সৎ-বাক্য, ধর্ম-গাঁথা শুনিয়ে লাভ হবে না। কাজেই, এগুলো থেকে বিরত থাকুন। আমাকে মানুষ থাকতে দিন।
ধর্মীয় রাজনীতি বনাম উন্নয়ন
ধর্মীয় রাজনীতি ও উন্নয়নের রাজনীতির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো, পিছুটান ছাড়ে না ধর্মীয় রাজনীতি। আর উন্নয়নের রাজনীতি সামনে এগিয়ে চলায় তার কাজ। পেছন ফিরে তাকানোর কোন সুযোগই নেই এখানে। নতুনত্ব সৃষ্টি এবং বাস্তবে রূপদান করাই উন্নয়নের রাজনীতির সার-কথা। এখনই সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে ধর্মীয় রাজনীতি বন্ধে। কারন, ধর্মীয় রাজনীতি পুরাতন নীতি-তত্ত্ব বাস্তবায়নকে অগ্রাধীকার দেয়; উন্নয়নের চাইতে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বড় অংশই ধর্মীয় রাজনীতির জাতাকলে পিষ্ট। বর্তমানের চেয়ে তারা না-পাওয়ার অতীতকে হতাশায় জর্জরিত মানুষের সামনে তুলে ধরে। নতুনত্বকে তারা ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের কাতারে ঠেলে দেয়। নতুনত্ব গ্রহনে সাধারন মানুষকে নিরুৎসাহিত করে তারা। কিন্তু, তারা একটু পরেই সেটা গ্রহন করে সাধারনের থেকে এগিয়ে থাকে বা চেষ্টা করে। চরম মাত্রার ভণ্ডামী যাকে বলে।
এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, একেবারে যারা সাধারন জীবন-যাপন করে তাদের কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন পড়ে না। তারা সকালে উঠে কাজ করতে যায়, তিনবেলা খাওয়া এবং সন্তান লালন-পালন অর্থাৎ ছা-পোষা যাকে বলে। তাদের ধর্ম, রাজনীতি এসব নিয়ে ভাববার সময় নেই। যদিও বিষয়গুলো সবার সাথে আষ্টে-পিষ্টে জড়িয়ে গেছে। তবুও, তারা তাদের নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর প্রতি জোর দেয়। সেল্ফ সাফিসিয়েন্ট হওয়ার চেষ্টা যাকে বলে। মধ্য যুগে আমাদের গ্রামগুলো এরকম সেল্ফ সাফিসিয়েন্ট ভিলেজ সিস্টেমে চলতো। সেটাকে প্রথমে ধর্ম দিয়ে, তারপর রাজনীতির কূটচাল দিয়ে থামিয়ে দেয়া হলো। ঐটার ভিতর দিয়ে আমার মনে হয় আরো ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব ছিলো। স্বয়ংসম্পূর্ন আত্মনির্ভরশীল মানুষ কখনো দেশের বোঝা হতে পারে না। বরং তারা দেশের সম্পদরূপে পরিগনিত হয়। এখন সিস্টেমটাকে ধর্ম আর রাজনীতির যাঁতাকলে ফেলে আটকিয়ে দিয়ে বেকার পরনির্ভরশীল মানুষ বৃদ্ধি করা হচ্ছে দিনদিন।
যেহেতু সিষ্টেম লস হয়ে গেছে সেহেতু ওটা নিয়ে কাঁন্নাকাটি না করে এখন শুধু উন্নয়ন আর আত্মনির্ভরশীল মানুষ গঠনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তার জন্য ধর্মীয় রাজনীতির পুরাতন চিন্তা-চেতনাকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে উন্নয়নাভীমূখী রাজনীতির চর্চা করতে হবে। তার জন্য মানুষের যে মৌলিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং বিনোদন এগুলোর সমন্বিত বাস্তবায়ন দরকার সর্বাগ্রে।
কিতাবী কথার খোলনলচে
কিতাবী কথা-বার্তা দিয়ে যেমন জীবন চলে না তেমন বাস্তব জগতকেও কিতাবী কথা দিয়ে প্রমান করা যায় না। কিতাবের কথা কিতাবে থাকে, জীবন চলে তার আপন গতিতে। কিতাবী কথার সাথে যদি বাস্তবতার মিল না থাকে তাহলে ঐ কথা অকেজো-বাঁজে কথা, ফাউ কথা। কোন ভিত্তি থাকে না তার। মানুষ যতই কিতাবী কথাকে ভালো বলুক না কেনো! যদি সেটা সময়োপযোগী না হয় তাহলে তার কোন মূল্য নেই। সেটা অতীত ইতিহাস পাঠের মত অর্থাৎ জানার জন্য পড়া হয়ে যায়। যদিও ইতিহাস পঠন-পাঠনের প্রয়োজনীয়তা অনেক। তবে, এক্ষেত্রে পঠন হয়; প্রয়োজনীয়তার কোন উপাদান থাকে না। পৃথিবীতে অসংখ্য কিতাব রয়েছে যেগুলো নির্দিষ্ট সময় পর কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। কারন, সেগুলোতে যে নির্দেশনা থাকে তা আর সময়োপযোগী থাকে না। সময়ের সাথে, মানুষের বর্তমান কর্ম ও চিন্তা-চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে দাড়ায়। তাই, ঐ কিতাবগুলো ব্যবহারের অনুপোযুগী হয়ে তার অবস্থান হয় যাদুঘর বা আর্কাইভে বা লাইব্রেরির পুরাতন বইয়ের তাঁকে। বহুদিন পর মানুষ সেটাকে ইতিহাসের উপাদান হিসেবে কাজে লাগায়। এটা নিত্য ঘটনা। আজকের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ আগামী দিনের ইতিহাসের অন্যতম নিদর্শন।
মানুষ ইতিহাস পাঠ করে তার জানার পরিধি বাড়াতে পারে; এটা সত্য। কিন্তু, পঠন উপযোগী, কার্যকর ইতিহাস পাঠই বাঞ্ছনীয়।
কোঁটার কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত
মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটধারীদের চেয়ে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা অনেক বেশি। কোঁটা আওয়ামী লীগের জন্য কাঁটা হতে সময় নেবে না বলে বোধ করি। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী দেয়া হোক পর্যাপ্ত। কিন্তু, দেশ চালনায় মেধাবীরা অগ্রাধীকার পাক। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাঁচিয়ে রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বেশি বেশি প্রচার করতে হবে। কোঁটা কখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখতে পারবে বলে মনে হয় না; এটা বিকল্প নয়। কোঁটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক; পরিপন্থী। বিপুল সংখ্যক বেকারকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিমূখ করবে এই কোঁটা ব্যবস্থা; এতে কোন সন্দেহ নেই। আমি নিজেও চাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত থাকুক সব কিছুর উর্ধ্বে। মুক্তিযোদ্ধারা সর্বোচ্চ এবং তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু পাক। কিন্তু, মুক্তিযোদ্ধারা যে দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছিলো সে দেশ, আমাদের বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাক। বিশ্বের বুকে চির উন্নত মম শির করে দাড়াক। মেধাবীরাই পারে দেশকে সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে।
ভোটের রাজনীতিতে মুক্তিযোদ্ধারা একটি ইস্যু। এখন তার চেয়ে বড় ইস্যু শিক্ষিত বেকার। বর্তমানে জীবিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা অনেক কম। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অনেক বেড়ে গেছে। নানান ভাবে তারা মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে কোঁটার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। এটা দলীয় ম্যান্ডেটের উপর ভিত্তি করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষিত বেকাররা এতে করে আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ছে।
সহজ একটি হিসাব, অল্প সংখ্যক মানুষ ৫৬ ভাগ কোঁটা সুবিধা পাচ্ছে একটি স্বাধীন দেশে। আর অধিক-সংখ্যক মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। এটা কখনো কাম্য ছিলো না।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনা করেন পাকিস্তানের বৈষম্যের বিরুদ্ধে। আজ আবার আমরা কেনো সেই বৈষম্যকে ফিরিয়ে আনবো! পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সর্বকর্মে পূর্ব-বাংলার মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানের বৈষম্য থেকে বাংলার মানুষকে মুক্ত করার জন্য যুদ্ধ করেন। দেশকে মুক্ত করেন; স্বাধীন করেন। তাদের সেই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কেনো আজ ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে? আজ আবার বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় কেনো বৈষম্যের করাল গ্রাস হাতছানি দিচ্ছে?
মানবীয় সম্পর্কঃ ক্লাইমেক্স, ইউটার্ন, প্রেম
আস্থা, ভালোবাসা এবং মানবিক সম্পর্কের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। গঠন-কাঠামোগতভাবে এগুলো ধীরে ধীরে তৈরি হয়, গড়ে ওঠে। আবার ধীরে ধীরে মলিন হতে হতে হারিয়ে যায়। সম্পর্ক ক্লাইমেক্সে পৌছানোর পর পতন শুরু হয়। সম্পর্ক যখন চূড়া অভিমূখী থাকে তখন ধীরে আগায়। আর যখন চূড়া থেকে নিম্নগামী হয় তখন দ্রুত গতিতে পতন হয়। একটা সময় প্রিয় মানুষের প্রিয়মূখগুলো মানুষের মস্তিষ্ক থেকে হারিয়ে যায়। সুন্দর ইতিবাচক সম্পর্ক গড়া যথেষ্ট কষ্টসাধ্য; পতন রোধ করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসাধ্য হয়ে পড়ে।
হঠাৎ করে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো চূড়ায় পৌছানোর আগেই হঠাৎ ইউটার্ন নেয়। যে কারনে এ ধরনের সম্পর্ক দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। যে সম্পর্কের মধ্যে শুধু আবেগ থাকে সে সম্পর্কগুলো দ্রুতই ইউটার্ন নেয়। আবেগ এবং বাস্তবতার রসায়ন মানবীয় এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গঠনে সহায়তা করে। শুধু আবেগ থাকলে সম্পর্কটা হঠাৎ করে অমানবিক হয়ে ওঠে। আর শুধু বাস্তবতা থাকলে সম্পর্কটা জড়-পদার্থের মত অনুভূতিহীন কড়চায় পরিনত হয়।
পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরো একটি বিষয় লক্ষ্য রাখা দরকার, পৃথিবীতে প্রত্যেকটা মানুষের মানসিক গঠন ভিন্ন ভিন্ন। অন্যের মত-পথ গ্রহণ করতে না পারলেও, সম্মান-শ্রদ্ধা করতে হবে। এতে করে পারস্পরিক সম্পর্কটা সুন্দর হবে। মত-পথ মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিছুটা সামাজিকও বঁটে! তবে অধিকাংশটাই ব্যক্তিগত।
আবেগও একটি বাস্তবতা। প্রেম হচ্ছে একটি আবেগীয় বাস্তবতা। রিয়েল লাভ। যেখানে আবেগের সাথে বাস্তবতার মিশেলে তৈরি হয় অন্য রকম এক রসায়ন। ত্রুটি-বিচ্যূতি থাকবে এখানে; তবে, তার ছেড়া সুর উঠে না। আর বাস্তবতাহীন আবেগীয় প্রেমের সম্পর্কে আবেগীয় উচ্ছ্বাসটা বেশিই থাকে। এ কারনে একপক্ষীয়ভাবে প্রেমের ভুল-চুকের ক্ষতিকারক বিষয়গুলো ভোগে। দ্বিপক্ষীয় ভোগ নিতান্তই কম।
ইতিবাচক চিন্তা-শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরো সুন্দর করতে পারি। পৃথিবীকে উত্তমরূপে বাসযোগ্য করতে পারি। আসুন, মানবিক সম্পর্ক গঠনে আমরা আমাদের অপরীসিম ইতিবাচক চিন্তা-শক্তিকে কাজে লাগায়।
নারী শিক্ষাঃ একটি মৌলিক মানবাধিকার
একটা বিষয় খুব অবাক লাগে! দেশে সন্তানের অভিভাবকেরা মেয়েদের পড়ালেখা বা আত্মনির্ভরশীলতা নিয়ে যতটা না ভাবে, তার থেকে বেশি ভাবে তাদের বিয়ে নিয়ে। মেয়েরা যেনো পাঁপের বোঝা তাদের কাছে! সমাজ ব্যবস্থা এমন এক কাঠামোর উপর দাড়িয়ে রয়েছে, যেখান থেকে বাহির না হতে পারলে ভবিষ্যৎ খুবই খারাপ! ভুক্তভুগীকে দোষারোপ করে আমরা পার পাওয়ার চেষ্টা করি। খুবই জঘন্য ব্যাপার! মাথা ব্যাথা বলে মাথা কেঁটে ফেললে তো আর সমাধান পাওয়া যাবে না! পথ্যের ব্যবস্থা করাই সমীচীন বোধ করি। মাথা কেঁটে ফেলা যেমন মাথা ব্যাথার ঔষধ হতে পারে না; তেমনি বিয়েও নারীর শিক্ষা বা আত্মনির্ভরশীলতার বিকল্প নয়। আর নারীদের বোঝা মনে করা একটি সামাজিক ব্যাধি। এর প্রতিকার সম্ভব একমাত্র নারীর শিক্ষা এবং আত্মনির্ভরশীলতার মাধ্যমে। সুন্দর একটি জাতি বিনির্মানে নারী শিক্ষার বিকল্প নেই।
অনেকে নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলে। অর্থাৎ, তারা নিজেদেরকে নারী বিদ্ধেষী হিসেবে উপস্থাপন করে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে। নারী-পুরুষ নিজস্ব অঙ্গনের বাইরে আমরা সবাই মানুষ। আর শিক্ষা প্রত্যেকটা মানুষের মৌলিক অধিকার। আর বিশেষ করে নারীর শিক্ষার উপর নির্ভর করে সুন্দর জাতি গঠন।
প্রত্যেকটা মানুষের (নারী-পুরুষ) আলাদা আলাদা অঙ্গন থাকে। সেই বিষয়গুলো টেনে অনেক সময় অনেকে নারীর অধিকার ও নারী শিক্ষার বিরোধীতা করে। এটা নিরেট বোকামী! প্রত্যেকটা মানুষ তার নিজস্ব অঙ্গন অর্থাৎ ব্যক্তিগত বিষয়ের বাইরে সম-অধিকারের দাবিদার। এটা তার অবশ্য-প্রাপ্য।
প্রত্যেকটা নারী একজন মা। এটা সবারই মনে রাখা উচিৎ। নারী শব্দটাকে অপমানিত, লাঞ্ছিত, নেতিবাচকভাবে প্রয়োগ করার আগে ভাবুন। কারন, নারীরা মায়ের জাতি। অনেকে বলে সবাই যদি মা হয়, বউ হবে কে! আরে গাঁধা, তোর বউও একজন মা। তোর সন্তানের মা। সুতরাং, মায়ের জাতকে আর গালি দিস না, বোকারা! মরা অজুহাতে, বঞ্চিত করিস না শিক্ষা থেকে।
নেপোলিয়ন যুদ্ধের ময়দানে বসে নারী শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। তাই তিনি বলেন, তোমরা আমাকে শিক্ষিত মা দাও; আমি তোমাদেরকে শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো।
এটা নিতান্তই সাধারন জ্ঞান যে, মা যদি শিক্ষিত, জ্ঞানী হয় তাহলে সন্তানও সুন্দর মানুষ হবে; অন্তত অ-মানুষ হবে না; এতে কোন সন্দেহ নেই। ভাংড়ি জিনিস দিয়ে ভালো কিছু প্রত্যাশা করাটা বোকামী।
সন্তানের উপর, বিশেষ করে শৈশব এবং কৈশোরে মায়ের প্রভাব বেশি থাকে। মায়ের কাছ থেকে সন্তান তার ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি পেয়ে থাকে। আর বাবা সেটাতে চুন-কাম করে সৌন্দর্য-বর্ধন করে।
সন্তান জন্মদান থেকে শুরু করে লালন-পালনে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষিত, জ্ঞানী মা তার সন্তানকে যেভাবে লালন-পালন করবে, অশিক্ষিত মায়ের পক্ষে সেটা অসম্ভব। এজন্য মায়ের শিক্ষার গুরুত্ব অপরীসিম।
জ্ঞান হচ্ছে দু'রকমের। এক. দিব্যজ্ঞান। দুই. কাণ্ডজ্ঞান। আমরা সচরাচার জীবন ধারনের জন্য যে সকল বিষয় চর্চা করি সেগুলো দিব্যজ্ঞানের আওতাভুক্ত। আর এ বিষয়গুলোকে যুক্তি, বিচার-বিবেচনা, ইতিবাচক চিন্তা-শক্তি দ্বারা উপলব্ধি করে শ্রীবৃদ্ধি করাকে কাণ্ডজ্ঞান বলে। নারী শিক্ষার বিষয়টি উপলব্ধি করা কাণ্ডজ্ঞানের আওতাভুক্ত বলে বোধ করি। যারা এটা উপলব্ধি করতে পারে না, তারা কাণ্ডজ্ঞানহীন; এতে কোন সন্দেহ নেই।
শিক্ষিত মা, সুন্দর আগামী গঠনে অপরীহার্য। আসুন, প্রত্যেক নর-নারীর মৌলিক অধিকার শিক্ষাকে নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হই। সুন্দর আগামী গঠন করি।
পতিতাঃ একটি অমানবিক পেশাগত শ্রেণীকরণ
যারা পতিতাবৃত্তি করে তারাও মানুষ। পেশাগত কারনে তাদেরকে আমরা ঘৃনা করি। কিন্তু, মানুষ হিসেবে তাদেরকে দেখতে হবে। কারন, পেশার বাইরে তারা মানুষ এবং সর্বোপরিও তারা মানুষ। যারা তাদের কাছে যায় তারাও তো মানুষ। তাদের কাছে সমাজের উপরতলার লোক পর্যন্ত যায়। শুধু দৈহিক চাহিদা মেটাতে। তারা অল্পের বিনিময়ে নিজের দেহকে বিলিয়ে দেয় পুরুষ নামক নারী খাদকের কাছে।
বিবাহিত পুরুষ, অবিবাহিত পুরুষ, ছেলে-বুড়ো, তরুন-যুবা সবাই যায় তাদের সম্ভোগ করার জন্য। সামান্য অর্থের বিনিময়ে। জারজকে আমরা জন্মগত কারনে সামাজিক শ্রেণীকরণ করে অধিকার বঞ্চিত করেছি। জন্ম যদিও প্রাকৃতিক ব্যাপার। আর পতিতাদের পেশাগত কারনে সামাজিক শ্রেণীকরণ করে অধিকার বঞ্চিত করি। হায়রে মানুষ! এক সময় মানুষই মানুষকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করত পেশি-শক্তির জোরে। আর এখন শক্তির জোরে মানুষকে নানান ধরনের শ্রেণীকরণ করে। দাসত্ব যেমন পেশিশক্তির জোরে ব্যক্তি-স্বার্থের, শ্রেণীকরণও তাই।
অধিকাংশ পতিতা তার জৈবিক কারনে নয়, জীবিকা ও জীবনের তাগিদে পতিতাবৃত্তি গ্রহন করে; বিকল্প না থাকায়; স্বভাবে নয়, অভাবে। আমরা পতিতাবৃত্তিকে খারাপ পেশা হিসাবে বিবেচনা করি। কিন্তু, তাদের জীবনের দৈন্যতাকে বিবেচনায় রাখি না। এটা মূর্খতার সামিল। যদি ভালো না লাগে, সেক্ষেত্রে পূনর্বাসন করা আবশ্যক। তা না করে, হাতেও মারবেন, ভাতেও মারবেন। তা কি করে হয়! কথা যদি বলেন, ন্যায়-নীতিবোধ বজায় রেখে বলুন।
খারাপকে ভালো দিয়ে বন্ধ করুন। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকবেন না। সেটা অন্যায় হবে, হবে অবিচার।
আমার আমি
ব্লগে লেখালেখি করার কারনে অনেকে আমাকে বলে আমি নাকি নাস্তিক হয়ে গেছি! আবার অনেকে এটাকে ভিত্তি ধরে বলে, আমি মুসলমানের সন্তান হয়ে কেনো ব্লগিং করি! হাঁস্যকর বঁটে! অনেকে আবার আমার ব্যক্তিগত অঙ্গন নিয়ে জ্ঞান দিতে শুরু করে। হাহাহা! তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারি, তারা ব্লগ সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞানও রাখে না। শুধু ব্লগাররা নাস্তিক এটুকুই জানে! এটা মূলত কিছু মূর্খের অপ-প্রচার ছাড়া কিছুই নয়। স্টেজে বসে নিজেদের ফেস ভ্যালু তৈরি করার নিমিত্তে এই অপ-প্রচার। যতসব নির্বোধের দল! মানুষের কাজ না থাকলে, মানুষ অকাজ করে। সেই রকমটা ঘটেছে।
যারা ব্লগিং সম্পর্কে জানতে চান তারা লিঙ্কের লেখাটা পড়ুনঃ
http://bishleshon.blogspot.com/2017/04/blog-post_66.html
আমি মুসলমান না, নাস্তিক; সবার আগে আমি 'মানুষ'। মূলত, আমি মানুষের শ্রেণীকরণকে মনুষ্য বিদ্বেষ মনে করি। কারন, শ্রেণীকরণ মানুষের মনুষ্যত্ববোধকে কেঁড়ে নিয়ে অন্য কিছুর দিকে ঠেলে দেয় মানুষকে।
তবে, আমি বাস্তবতাকে ধারন করে অভিজ্ঞতার আলোকে লেখালেখি করি। অনেকে এটাকে সহ্য করতে পারে না। আবেগ আছে, স্বার্থ আছে। এগুলোও বাস্তবতা; কিন্তু, ক্ষতি করে। তবে, বাস্তবতাকে প্রাধান্য না দিলে সমস্যা চিহ্নিত করা যায় না। সমাধানও সম্ভব নয়। সর্বোপরি, মানুষকে আমি প্রাধান্য দেয় সব কিছুর উর্ধ্বে। অন্য সব কিছুকে গৌণ মনে করি; মানুষকে কেন্দ্র করে সব। গোষ্ঠী চেতনার ধারক-বাহকরা এটাকে সহ্য করতে না পারায় অপ-প্রচার চালায়।
মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা যদি অন্যায় হয় তাহলে এ অন্যায় বারবার করতে চায়। মানুষের অধিকার হরণ করা মানবতা বিরোধী অপরাধ। মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলা কোন অন্যায় নয়। বরং, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ।
একশ্রেণীর লোক আছে যারা নিজেদের গোষ্ঠী স্বার্থ ক্ষুন্ন হলে মানবাধিকার নিয়ে খুব সোচ্চার হয়। আর যখন অন্যের অধিকার কেউ ক্ষুন্ন করে তখন তারা মজা নেয়। যখন তারা অন্য কারো অধিকার ক্ষুন্ন করে তখন উচিৎ উচিৎ, ঠিক ঠিক বলে চিৎকার করে। অধিকার সবার জন্য, পৃথিবীর সব মানুষের জন্য; কখনো কারো একার বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হতে পারে না। সেটা অন্যায়-অবিচার।
আসলে, গোষ্ঠী স্বার্থের উর্ধ্বে যদি মানবাধিকারের যায়গা না হয় তাহলে অধিকারহীন মানুষের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাবে; এতে কোন সন্দেহ নেই। শ্রেণীকরণ ভুলে মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখবো যে দিন সে দিনই মানুষ তার প্রাপ্য সকল অধিকার ফিরে পাবে। 'সব কিছুর উর্ধ্বে মানুষ।'
সামাজিক মেলামেশা ও এর স্বরুপ
মানুষের সঙ্গে না মিশলে মানুষ সম্পর্কে, মানব-সমাজ সম্পর্কে জানা যায় না। আর সামাজিক হতে গেলে অবশ্যই আপনাকে মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। কারন, একে-অন্যের সঙ্গে মেলামেশা, পারস্পরিক সম্পর্কই মানুষকে সামাজিক জীবে পরিনত করেছে। সম্পর্কের মধ্যে, মেলামেশার মধ্যে সমস্যা দেখা দিবে, ত্রুটি-বিচ্যূতি ঘটবে; এটা স্বাভাবিক একটি ব্যাপার, ঘটবে। কেননা, ভিন্ন ভিন্ন মানুষের আলাদা আলাদা চিন্তা-ধারা থাকে। যেহেতু মানুষ কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত। এ হিসেবে, মিশতে অবশ্যই সমস্যা হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই।
আমরা মানুষ যেহেতু সমস্যা উপলব্ধির ক্ষমতা রাখি সেহেতু আমাদের সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও রয়েছে। তবে সেটা অপরীসিম। শুধু কাজে লাগানোর দরকার। মানুষের বোধ শক্তি থাকার কারনে মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে সম্পূর্ন আলাদা। এমনকি বলা হয়ে থাকে মানুষ জগতের সেরা জীব। আর এই বোধ শক্তিই মানুষকে সেরা জীবে পরিনত করেছে। সেরা জীব কিন্তু সব মানুষই নয়। যারা বোধ শক্তিকে কাজে লাগাতে পারে তারাই সেরা জীব। বোধ শক্তি যারা কাজে লাগাতে পারে না, তারা বোধহীন বন্যপ্রাণীর চেয়েও খারাপ। প্রমান, তাদের আচার-ব্যবহার। বাকিটা আপনার বোধ শক্তি দিয়ে বুঝে নিন। এই বোধ শক্তি আর কিছুই নয়; সেটা হচ্ছে মানুষের অপরীসিম ইতিবাচক চিন্তা করার শক্তি।
মানুষের আচার-ব্যবহার নিয়ন্ত্রন করে তার চিন্তা-ভাবনা ও চেতনার জগৎ। এ হিসেবে আমরা বলতে পারি, বোধ সম্পন্ন মানুষই জগতের সেরা মানুষ।
পৃথিবীতে প্রচুর বোধহীন মনুষ্য প্রাণী থাকবে; এটা স্বাভাবিক ঘটনা! অস্বাভাবিক ঘটনা হচ্ছে, বোধ সম্পন্ন বেশিরভাগ মানুষই তাদের বোধ-শক্তিকে অব্যবহার্য করে রাখবে। মুষ্টিমেয় বোধশক্তি সম্পন্ন মানুষ অন্যের মঙ্গল-চিন্তা ও কর্মে বিভোর থাকবে। সেটা হাতে গোনা কয়েকজন। তবে তারা প্রতি পদে পদে স্বার্থান্ধ, ধর্মান্ধ, বোকা আর মূর্খদের দ্বারা আক্রান্ত হবে। তবু তারা আশাবাদী, স্বপ্নচারী, ইতিবাচক মানুষ; এতে কোন সন্দেহ নেই।
বোকা এবং মূর্খ মানুষগুলো সামাজিক মেলামেশা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখে বা চেষ্টা করে। যদিও এটার বেশিরভাগটাই অসম্ভব তারপরও। আর তারা সমস্যাকে জিইয়ে রাখে অযথা। সমাধানের পথে যাত্রা করা তাদের জন্য বে-পরোয়া একটি কাজ। তারা সামাজিক মেলামেশা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বেশি অকেজো সমালোচনা করে। বোকা আর মূর্খ মানুষগুলো স্বার্থান্ধ আর ধর্মান্ধদের দ্বারা ব্যবহারিত হয়। কিন্তু, বোকারা, মূর্খরা বুঝতে পারে না। এদের সবারই বোধে ফিরানোর দায়িত্ব বোধশক্তি সম্পন্ন ইতিবাচক মানুষের। এক প্রকার গুরু দায়িত্বও বঁটে! তার জন্য, সামাজিক মেলামেশাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা এবং সমাধান পদ্ধতিতে।
'যে বোঝে তার বেশি বলা লাগে না।' এটাই বোধ সম্পন্ন মানুষের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। এসব আলোচনা করা যদিও বৃথা আস্ফালন। তারপরও মানুষের মঙ্গলচিন্তা খারাপ কিছু নয়; তাই করি।
মৌলবাদ ও বাদী
মৌলবাদ অসুস্থ্য মস্তিষ্কের জড়-বুদ্ধি ও জড়-চিন্তা-চেতনা। যে কেউ যে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে মৌলবাদী হতে পারে। মৌলবাদীরা একরোখা, একমূখী চিন্তার অধিকরী। পরিবর্তন নামক মহা-সত্যকে তারা গ্রহন করতে পারে না। মেনে নিতে পারে না। পরিবর্তনের কথা বললে তেঁড়ে মারতে আসে। নির্দিষ্ট বিষয় আকড়ে পড়ে থাকায় তাদের কর্ম। যদি তাতে মৃত্যুও হয় তাতেও তারা পরোয়া করে না।
বিজ্ঞানকে তারা একটি ভূখা জিনিস মনে করে। যদিও তারা এটার সামষ্টিক উপকার লাভ করে। অনেক সময় দেখা যায়, তারা যুক্তি-বুদ্ধিতে এঁটে উঠতে না পেরে বিজ্ঞান তাদেরই সৃষ্টি বলে অপ-প্রচার চালায়। প্রমান হিসেবে তারা দেখায়, বিজ্ঞানের সাথে কাঁকতালীয়ভাবে কতিপয় মুষ্টিমেয় কয়েকটি বিষয়ে তাদের গোষ্ঠী চেতনার সাথে মিলে যায় এমন কিছু বিষয়।
আসলে, তাদের জড়-বুদ্ধি এমন লেভেলে নেমে গেছে যে হতবুদ্ধির ষোলকলা পূর্ণ হতে আর বাকি থাকলো না কিছুই! মানুষ বোকামী করে, তাই বলে এতোটা!
তারা যেমন, পৃথিবীর সকল মানুষকে তেমন দেখতে চায়। আসলে, এটা যে অসম্ভব; তারা এটা ভেবেও দেখে না। এক্ষেত্রে তারা নিজেদের আশাবাদী বলে পরিচয় দেয়। তারা মনে করে একদিন হলেও এটা সম্ভব। এমনিতে প্রত্যেকটা মানুষের নিজস্ব আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান। তারপর, "কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত।"
মৌলবাদীরা নিজেদের গোষ্ঠি চিন্তা-চেতনা অন্যের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়াকে বৈধ মনে করে। সেটা যে কোন উপায়ে হতে পারে। হত্যার মত জঘন্য কর্মের মাধ্যমে হলেও। ভিন্ন মত বা পথ তারা একেবারে সহ্য করতে পারে না বা মেনে নিতে পারে না। তাই তারা ভিন্ন মত বা পথের মানুষকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিতে চায়। এটা তো মোটেও সম্ভব নয়। কিন্তু, তারা তো নালায়েক আদমী!
মৌলবাদ সংক্রামক ব্যাধির মত। কারন, এটি মানুষের চিন্তা করার শক্তি খেয়ে ফেলে। একবার যে এর কবলে পড়ে যায় তার আর নিস্তার নেই। মৌলবাদী যারা মৌলবাদের অন্ধকার কুটিরে বাস করে; তারা মানুষকে খুব সহজে আকৃষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে মূর্খ, গেয়ো লোকদের। মৌলবাদীরা মানুষকে আনুগত্যশীল গৃহপালিতের মত করে রাখতে চেষ্টা করে। একমূখীতা তাদের বৈশিষ্ট্য। তাই তারা মানুষের বহুমূখী সহজাত প্রবৃত্তিকে ভয় এবং লোভ দেখিয়ে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করে।
মৌলবাদীরা মানুষকে একমূখী জ্ঞানচর্চায় প্রেরণা যোগায়। কারন, তারা জানে মানুষ যদি বহুমূখী বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ হয় তাহলে ব্যবসা শেষ। সবাই তার ব্যবসা টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা তো করে!
'জারজ'
আজকে যে বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষন করতে যাচ্ছি সেটি খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। 'জারজ' নিয়ে। জারজ একটি ঘৃনিত শব্দ বলে সমাজে প্রচলিত। যা একবার কোন মানব সন্তানের সাথে ঘটে গেলে, সারা জীবনের জন্য সে সামাজিক গ্রহনযোগ্যতা হারায়।
সমাজ জারজকে গ্রহন করতে চায় না। কারন, তার পিতামাতা বিবাহ বহির্ভূত যৌনাচারের মাধ্যমে তাকে জন্ম দিয়েছে। এটাই একমাত্র কারন। এর বাইরে আর কোন কারন ব্যাখ্যা করার মত আছে বলে আমার জানা নেই।
জারজ শব্দটির সাথে তিনটি বিষয় জড়িত। বিবাহ, যৌনাচার এবং বৈধতা। প্রথম শব্দটি প্রশ্নবিদ্ধ, দ্বিতীয়টি প্রাকৃতিক ব্যাপার, আর তৃতীয়টি আপেক্ষিক। যাহোক, মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।
প্রথমত, বিবাহ বহির্ভূত যৌনাচার সম্ভব। কিন্তু, অস্বীকৃত। বিবাহ বহির্ভূত যৌনাচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদান সম্ভব। কিন্তু, সেটা অবৈধ। সম্ভব, অস্বীকৃত আর অবৈধ তকমা জুড়ে দিয়ে স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়াকে কেন প্রশ্নবিদ্ধ করা হলো? কারন, মানুষ সামাজিক জীব হওয়ায় এখানে সমাজ কতৃক নিগৃহিত হয়েছে। কিন্তু, অন্য কোন বিকল্প তো থাকা উচিৎ ছিলো! তা না রেখে হঠাৎ করে নদীর মূখে বাঁধ দিয়ে দিলাম। এটা তো বোগাস মার্কা একটি কর্ম হয়ে গেলো!
দ্বিতীয়ত, দু'জন মানুষের প্রাকৃতিক কর্মের ফসল একটি মানব সন্তান। সেটা বৈধ বা অবৈধ কোন ঘটনা হবে কেনো? এটি একটি প্রাকৃতিক ব্যাপার। এখানে মানুষ জোর করে বৈধতা বা অবৈধতার তকমা জুড়ে দেয়ার অধিকার রাখে না। প্রকৃতিকে তার আপন গতিতে চলতে দিতে হবে। নদীতে বাঁধ দেয়ার ফলে বন্যা হচ্ছে দেশে। তেমনি, যৌনতাও একটি প্রাকৃতিক বিষয় হওয়ায় এখানে বাঁধ দিলে সমস্যা তো হবেই।
তৃতীয়ত, যে জন্ম গ্রহন করল, সে তো কোন প্রচলিত পাপ করেনি। তাহলে, এটার দায়ভার কেনো তার উপর চাপানো হবে? সমাজ তার খেয়াল-খুশি মত চলতে পারে না। কেননা, সমাজ মানুষের জন্য; মানুষ সমাজের জন্য নয়। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। অন্য কোন ট্যাগ দিয়ে দেখা যাবে না। সেটা অন্যায় হবে।
চতুর্থত, সিস্টেমের দোহায় দিয়ে কেনো একজন সুস্থ্য-স্বাভাবিক মানুষের অধিকার বঞ্চিত করা হবে? আপনাদের ভাষ্যমতে, সে জারজ হতে পারে; কিন্তু সে তো মানুষ। মানুষ যদি হয়ে থাকে তাহলে তার তো সুস্থ্য-স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার অবশ্যই রয়েছে। আর একটি কথা আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেনো, আপনার যদি সৃষ্টিকর্তা একজন থেকে থাকে তাহলে তারও তো সেই সৃষ্টি করেছে নাকি! সৃষ্টিকর্তা যদি তাকে সৃষ্টি করতে পারে তাহলে অধিকার দিতে সমস্যা কোথায়?
পঞ্চমত, জারজ বলে কেনো তাকে সমাজচ্যূত করা হবে? সে তো মানুষ। জন্ম যেভাবেই হোক। এ সমাজেরই কেউ তো তাকে জন্ম দিয়েছে।
ষষ্ঠত, বিয়ে কি আসলেই যৌনতার বৈধতা দেয়? নাকি, মহিলাদের দাসী এবং যৌনদাসী হতে বাধ্য করে বা যৌনতায় বাধ্য করা হয়! সচরাচার যেটা দেখা যায়, বিয়ে হলে মেয়েরা তার স্বামীর ঘরে যায় এবং স্বামীর সেবায় ব্রত হয়। আর এলাকার ময়-মুরুব্বিরাও বলে, পতি-ভক্ত নারীই উত্তম। এটাই তো প্রমান করে যে বিয়ে মেয়েদের দাসীতে পরিনত করে।
সপ্তমত, আমার কাছে বিয়ে হলো পতিতাবৃত্তির বৈধতা দান করে! কারন, প্রচলিত অর্থে যাকে আমরা পতিতা বলি সে টাকার বিনিময়ে যৌনতায় সম্মত হয়। আর বিবাহিত নারী বলি যাকে সে ভরণ-পোষনের শর্তে যৌনতায় সম্মত হয়! পার্থক্য শুধু একজন বন্দি আর একজন নয়। বিবাহিত নারী যেহেতু একজনের সাথে যৌনাচার করার শর্তে ভরণ-পোষন পায় সেহেতু তার অন্য সকল চাহিদা ভরণ-পোষনের আওতাভুক্ত। কিন্তু, যে নারী পতিতাবৃত্তি করে তার তো ভরণ-পোষন নিজের, তাই সে অনেকের সাথে যৌনাচার করে অর্থের জন্য, টাকার জন্য। সর্বোপরি, নারীর শিক্ষা এবং আত্মনির্ভরশীলতার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। তানাহলে, নারী-মুক্তি আদৌও সম্ভব নয় বলে বোধ করি।
অষ্টমত, আমি ব্যক্তিগত ভাবে জারজ বা বৈধ মানুষ বলে কোন বিষয় আছে বলে মনে করি না। কারন, এ পৃথিবীতে জন্ম নেয়া প্রত্যেকটা মানুষকে আমি মানুষ মনে করি। তার জন্ম প্রক্রিয়া আমার কাছে কোন গুরুত্ব বহন করে না। এটা থাকাও অনুচিত। যারা এটাকে ধারন করে তারা মূর্খ, মনুষ্য বিদ্বেষী, মানবতা বিরোধী।
নবমত, জারজ শব্দটার উৎপত্তি বিবাহের সাথে সম্পর্কিত। এখন, বিবাহ শব্দটাও অনেক প্রশ্নবিদ্ধ একটি শব্দ। একটি প্রশ্নবিদ্ধ শব্দ আরেকটি প্রশ্নবিদ্ধ মানবতা বিরোধী শব্দের জন্ম দেবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
সর্বশেষ, জারজ শব্দটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের জন্য সৃষ্ট। যাদের ভিতরে মানবতাবোধ নেই তারা মানুষকে শ্রেণীকরণ করে। জারজ তেমনি একটি চরম মানবতা বিরোধী শ্রেণীকরণ। মানুষ মানুষই। তার ধর্মীয়, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় প্রভৃতি শ্রেণীকরণ থাকবে কেনো? কালের বিবর্তনে হয়তো একদিন এগুলো বিলুপ্ত হবে।
বিষয় Film Making
'দশে মিলে করি কাজ, হারি-জিতি নাহি লাজ।' এ কথাটি Film Making এর ক্ষেত্রে একশত ভাগ খাঁটি। কারন, Film একটি যৌগিক মাধ্যম। অথাৎ, অনেক কিছুর সম্মিলনে একটি Film হয়। কাজেই, একাকি এটা করা সম্ভব নয়।
যাহোক, অনেক আগে থেকে স্বপ্ন দেখি Film বানানোর। এবং এটা নিয়ে বিস্তর পড়ালেখাও করেছি যতদূর সম্ভব; অনেক বাঁধা-বিপত্তি, মানুষের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে হলেও। ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে কত জ্ঞানী মানুষের বাণী শুনতে হয়েছে Film এর বিরুদ্ধে। আরে ভাই, এটা আমার ভালোবাসার জায়গা। আপনি যেমন চাইলে আপনার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবেন না; আমিও তাই। আর সর্বোপরি আপনার জন্য বলি আপনার বিবেচনাবোধকে শানিত করুন ( যিনি Film বিরোধী)।
অনেকে আমাকে বলতো শুধু মুখে না বলে কিছু একটা করে দেখাও। কিন্তু কথা হচ্ছে, একটা বিষয় সম্পর্কে না জেনে, বুঝে কিভাবে করব। আর আমার ইচ্ছা বস্তনিষ্ঠ, সময়পোযোগী, কার্যকর কিছু করার। অনেক চেষ্টা করে বই-পত্র জোগাড় করে জানার চেষ্টা করেছি, ইন্টারনেট ঘেঁটেছি দিনরাত, ইউটিউবেও কম ঘাঁটাঘাটি করা হয়নি। তারপরও মনে হয় জানার এখনো বহু বাকি রয়ে গেছে। আশাবাদী, ইতিবাচক, স্বপ্নচারী মানুষ। একদিন সফল হবোই।
মূলত, Film Making এর আইডিয়াটা আমার মধ্যে কাজ করে সামাজিক সমস্যা এবং প্রতিকার তুলে ধরার উপায় হিসেবে। ব্যবসায়িক সেন্স অতটা কাজ করে না এখনো। পৃথিবী কত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে আর আমরা এখনো পিছুটান মারা বন্ধ করতে পারিনি। Film একটা মাধ্যম। এর মাধ্যমে আপনি অনেক কিছু করতে পারেন। আর আমার চয়েজটা আগেই বলেছি।
আজকে এটা লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে যারা সমাজকে কিছু দিতে চায়, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনাকাঙ্ক্ষী এবং Film জিনিসটাকে ভালোবাসে তাদের উদ্দেশ্যে। আসুন, আমরা এই ঘুনে ধরা, পিছুটান মারা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য একত্রে কিছু করি। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনাগুলো Film এর মাধ্যমে তুলে ধরি এবং প্রতিকারের মেসেজ পাঠায় মানুষের কাছে।
Film এর জন্য টেকনিক্যাল বিষয় বাদে প্রথমে দরকার গল্প। কিছু বিষয় মাথায় আছে, লেখার প্রস্তুতি নিয়েছি। এরপর, দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গল্পকে চলমান-চিত্রে রুপদান। তার জন্য দরকার কিছু ইতিবাচক সৃজনশীল মানুষ। যারা আগ্রহী আমাকে মেসেঞ্জারে মেসেজ করতে পারেন।
আমার মূলত ইচ্ছা হচ্ছে, একটি ফিল্মি সাংগঠনিক ভিত্তির মধ্য দিয়ে একত্রিত হয়ে নিজেরা সবার মতামত ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়া। কারন, 'দশের লাঠি, একের বোঝা।' এটা নিয়ে কাজ করতে গেলে আগে দুটো জিনিস ত্যাগ করা আবশ্যক মনে করি। ০১. ভয় ০২. লোভ।
যেহেতু এখানে ব্যবসায়িক সেন্সটা তুলে দেয়া হয়েছে বৃহত্তর স্বার্থে সেহেতু ব্যক্তি-স্বার্থের উর্ধ্বে যারা উঠতে পারবেন না তাদের এটা নিয়ে না ভাবার অনুরোধ রইলো। আর একটা কথা, এটা নিয়ে কাজ করার জন্য আপনাকে সময় ব্যয় করতে হবে। বিষয়টাকে অযথা মনে করেন বা পরে করার সম্ভবনা রয়েছে তারা বাদ। গ্রুপ ভিত্তিক কাজ হওয়ায় মিলেমিশে কাজ করতে হয় এখানে মানে সামাজিক পরিবেশে। নতুনত্বই এর ভিত্তি। যারা নতুনকে সহজে গ্রহন করতে পারে না, সমাজ বিরোধী তাদের জন্য এটা নয়।
আকাশের দিকে থুথু ফেললে আপনার গায়েই লাগে!
সাধারনের একটি কাজ হচ্ছে, যারা ধনী, জ্ঞানী, সমাজের সম্মানিত লোক তাদের নিয়ে অকেজো সমালোচনা করে। আসলে জনাব এটা করে লাভ নাই! তারা আপনার উপরে অবস্থান করছে। আপনি তাদের গায়ে যতই থুথু মারেন না কেনো, সেটা আপনার গায়েই লাগবে।
একবার ভেবে দেখুন তো, সাকিব আল হাসান বা শাকিব খান, এদের নিয়ে সমালোচনা করে আপনার কি হচ্ছে! তারা কিন্তু ঠিকই তাদের অবস্থানে বজায় থাকছে। আর আপনি অযথা নিজের সময় ব্যয় করছেন তাদের রেটিং বাড়াতে। সবই বোকামী! ফালতু কাজ! বাদ দিন এসব! লাভ নাই!
নিজের কথা ভাবুন। পাশের মানুষদের নিয়ে ভাবুন। মিলেমিশে সবার মঙ্গলকর্মে মনোযোগ দিন। দেশ ও দশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করুন। অন্যের কৃতিত্বে কষ্ট পাওয়া বোকামী। আবার অন্যের কৃতিত্বে নিজে বেশি লাফালাফি করাও বোকাদের কাজ। সময় অপচয় করে শুধু শুধু দেশকে গালি দিবেন না। দয়া করে!
কেউ আপনাকে কিছু দেবে না। আদায় করে নিতে হয়। নিজের অবস্থান নিজে তৈরি করে নিতে হয়। বসে থাকলে সংসার চলে না।
নিজের জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করুন। তাতে করে নিজের যেমন মঙ্গল হবে তেমনি দেশ ও জাতি আপনার দ্বারা উপকৃত হবে। তবে সেটা হতে হবে ইতিবাচক উপায়ে।
যদিও সামাজিক জীবনটা কিছুটা জটিল তারপরও সামাজিকভাবে চলাফেরার চেষ্টা করুন। তাতে করে আপনার জীবনটা যেমন সহজ হবে তেমন আপনার পাশের মানুষগুলোরও। মূলত, জীবনকে উপলব্ধির একটি মোক্ষম উপায় সামাজিক মেলামেশা। ছোটবেলা থেকে মানুষের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। শৈশবে যাদের সামাজিকীকরণে সমস্যা দেখা দেয়, মানুষের সঙ্গে মিশতে তাদের সমস্যা হয়। পারিবারিক সমস্যা থাকলে, বাবা-মার মধ্যে সমস্যা থাকলে শিশুর সামাজিকীকরণে সমস্যা দেখা দেয়।
মানুষের আন্ত-সম্পর্কে সমস্যা দেখা দিলে আলোচনাই সমাধানের উত্তম পন্থা। কেননা, আলোচনা, পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহিষ্ণুতা, ইতিবাচক বিনিময়ের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই কল্যানময় করে তোলে জীবনকে। বিচ্ছিন্নতার নীতি কখনো কারো জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না। মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যে রয়েছে সবার উন্নতি। আবার অ-নমনীয়তা কখনো ভালো ফল দেয় না। এটা সবসময় নেতিবাচকতা প্রকাশ করে। কাজেই, অন্যের মত-পথ, চিন্তা-ভাবনাকে গ্রহণ না করতে পারলেও; শ্রদ্ধা করা ইতিবাচক মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন মানুষের বৈশিষ্ট্য।
দূর্নীতির শিকড়
আমরা দূর্নীতির কবল থেকে এখনো মুক্ত হতে পারলাম না! দূর্নীতি একটি সাধারন ঘটনা। উন্নত সমাজ এবং জাতি গঠনে এর কু-প্রভাব মারত্মক। এর থেকে পরিত্রানের জন্য নতুন করে ভাবতে হবে।
মানুষকে আবদ্ধ করে রাখলে, চিন্তার দরজা বন্ধ করে দিলে দূর্নীতি কমবে না। বরঞ্চ, আরো বাড়বে। সীমাবদ্ধ চিন্তা-ভাবনা মানুষকে সংকীর্ণমনা করে দেয়। যা মানুষকে খারাপ কাজে খুব সহজে প্রলুব্ধ করে। বাঁধা-নিষেধের বেড়াজালও মানুষকে সংকীর্ণমনা করে দেয়, খারাপ কাজ করতে, দূর্নীতি করতে উদ্বুদ্ধ করে সহজে।
তাছাড়া, দূর্নীতি শব্দটা খারাপ অর্থে ব্যবহৃত হয়। তারপরও, মানুষ এটা করে। এর শিকড়ের সন্ধানে আজকের লেখাটি।
দূর্নীতি শুরু হয় পরিবার থেকে। একটি শিশু পরিবার থেকেই প্রথম দূর্নীতির পাঠ শিখে থাকে। পরিবারের পিতা-মাতা মিথ্যা কথা বলে। ঐ পরিবারের শিশুরাও মিথ্যা বলবে এটাই স্বাভাবিক। কারন, শিশুরা অবজারভেশন লার্নিং করে। আর এই মিথ্যা কথা দূর্নীতির প্রথম নিয়ামক। পরিবার থেকে যদি শিশুকে কোন কাজ করার জন্য অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা হয় তাহলে সে বিকল্প পন্থায় কাজটি সহজ করার চেষ্টা করে। এটা স্বভাবজাত ব্যাপার। এই বিকল্প পন্থা শিশুকে খারাপের পথে টেনে নিয়ে যায়।
আমাদের দেশের বাবা-মা সন্তানদের সাথে এমন ব্যবহার করে যে, সন্তান তাদের থেকে দূরে সরে যায়। বন্ধু-বান্ধব নির্ভর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তাতে করে দেখা যায়, খারাপ সঙ্গের প্রভাবে দূর্নীতি খুব সহজে করতে শুরু করে। আপনি ভাবতে পারেন এটা আর এমন কি! কিন্তু কথা হচ্ছে, 'ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালু-কণা, বিন্দু বিন্দু জল গড়ে তোলে সাগর মহাদেশ অতল।' মা-বাবা যদি সন্তানের বন্ধু না হতে পারে তাহলে সন্তানকে সুসন্তান হিসাবে গড়ে তোলার আশা ক্ষীণ হতে বাধ্য।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিশু দূর্নীতি শিখে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে পরিমান চাপে রাখা হয় শিশুদের তাতে করে তারা শিক্ষাকে মাথার উপর ভারি কোন পদার্থ মনে করে। একটা সময় তারা এটা থেকে পরিত্রানের উপায় খোঁজে এবং নানা ধরনের ছলাকলার আশ্রয় নেয়। যেটা দূর্নীতির শিকড় তৈরি করে।
আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নির্যাতনের যে হাল-চাল দেশে তাতে করে এ সমস্যা আরো মারাত্মক হবে তাতে সন্দেহ নেই। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের জমদূত মনে করে। এমনও হয় পড়া বুঝতে না পারলে তারা শিক্ষকের কাছ থেকে বুঝে নেয়ার জন্য কথাও বলতে পারে না। কারন, পাছে মার খাওয়ার ভয়। কি অবস্থা!
একজন শিক্ষক একই সাথে শিক্ষক এবং বন্ধু। কারন, তিনি পাঠদান করেন তাই তিনি শিক্ষক আর বন্ধুর সাথে সমস্যার কথা খুব সহজে শেয়ার করা যায় তাই তিনি বন্ধু।
নারীর অধিকারহীনতা
একজন মা যেমন নারী; একজন স্ত্রীও তেমন নারী; একজন বোনও তেমন নারী; অন্যের মা-স্ত্রী-কন্যাও তেমন নারী। এরা সবাই নারী। ভিন্নতা খালি সমাজের চোখে আর সামাজিকতায়।
নিজের মা-বোন-কন্যাকে নিয়ে কেউ কটুক্তি করলে বা উত্যক্ত করলে কেমন লাগে! ঠিক তেমনি অন্যেরও খারাপ লাগে। তাছাড়া, যার সাথে এ ধরনের আচরণ করা হচ্ছে তারও কেমন খারাপ লাগে একবার ভেবে দেখুন! তার মানসিক পরিস্থিতি কেমন হতে পারে ভেবে দেখুন তো! আর যদি নারী শিক্ষিত হয় তাহলে হয়তো সে ইজ্জতের দায় কিছু বলছে না বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রতিকারহীন হালকা প্রতিবাদ করছে। কিন্তু, আপনার নেতিবাচক নোংরা ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের চাক্ষুস স্বাক্ষী হয়ে যাচ্ছে। আমরা নিজের মা-বোন-কন্যাকে কেউ কিছু বললে রেগে যায়। আর অন্যের মা-বোন-কন্যাকে নিয়ে কটুক্তি বা উত্যক্ত করতে কম যায় না!
ধর্ষন একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি সাধারনত পুরুষের দ্বারাই সংঘটিত হয়। কিন্তু, আমাদের সমাজ ও সমাজের মানুষ যে নারী এটা দ্বারা আক্রান্ত হয় তার উপর দোষ চাপিয়ে দেয়। নারীর চলাফেরা, পোষাক-পরিচ্ছদের দোষ হয়ে যায় তখন। এটা ধর্ষনকামী পুরুষতান্ত্রিক সমাজ সদাশয় প্রচার করে বেড়ায়। যেখানে বোরকা পরা মা-বোন-কন্যারা ধর্ষনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। এমনকি দুধের শিশু পর্যন্ত ধর্ষিত হচ্ছে। সেখানে নারীর চলাফেরা, পোষাক-পরিচ্ছদ কিভাবে ধর্ষনের কারন হয়; তা আমার বুঝে আসে না! এটা কোন ধরনের মানসিকতা ভাই!
আর নারী শিক্ষার ব্যাপারে, সমাজে অনেক নেতিবাচক কথা প্রচলিত রয়েছে। তার মধ্যে, মেয়েদের বেশি পড়ালেখা শেখার দরকার নেই। কারন, বিয়ে দিলে শ্বশুর বাড়ি যাবে সেখানে গিয়ে রান্না করতে হবে। তাই রান্না শিখলে চলবে বা পারিবারিক কাজে দক্ষ হলেই হলো। শফি হজুর তো ঘোষনা দিলো, মেয়েদের ৪র্থ শ্রেণীর বেশি পড়ালেখার দরকার নেই। এমনকি তিনি নারীদেরকে তেঁতুলের সাথে তুলনা করেছেন এভাবে, নারী দেখলে তেঁতুলের ন্যায় জিহ্বায় পানি আসে। তিনিও তো কোন মায়ের সন্তান, তারও তো কন্যা সন্তান থাকতে পারে! যতসব আবালীপনা!
বাল্যবিয়েও একটি সামাজিক ব্যাধি। এটা নারীকে অধিকারহীন করে। বাল্যবিয়ের ফলে নারীর জীবনে নেমে আসে ঘোর-অন্ধকার। দেখা যায় মেয়ের মা একজন নারী হওয়ার পরও নিজের মেয়েকে অন্যের ঘরে বাল্যবিয়ে দিয়ে অধিকারহীন করতেও কসূর করে না। বাল্যবিয়ের মত একটি স্লো-পয়জনের কবলে ফেলতে বুক কাপে না। পরিবারের অন্য মহিলারাও এটার প্রতিবাদ করে না; সহযোগির ভূমিকা পালন করে। বিষয়টা আমার কাছে আজব লাগে! বাল্যবিয়ে সম্পর্কে আমার গবেষণামূলক এ লেখাটি পড়লে বুঝতে পারবেন। নিচে লিংক-http://bishleshon.blogspot.com/2017/05/blog-post.html
আমাদের সমাজে নারী নির্যাতিত হয়ে থাকে বেশিরভাগটাই পরিবারে। বাকিটা সমাজ ব্যবস্থার দ্বারা। শারীরিক-মানসিক উভয়ভাবে। ন্যাংটা সমাজ থেকে এর বেশি কিছু আশা করাও ভুল। তারপরও, আশাবাদী, স্বপ্নচারী, ইতিবাচক মানুষ হিসেবে প্রত্যাশা তো থাকবেই।
সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য প্রকট। স্বাভাবিক চোখেও আমরা দেখতে পাই। আর কাণ্ডজ্ঞানের চশমা পরা থাকলে এটার চরম মাত্রা আপনি স্বচক্ষে দেখতে পারবেন। একটা সময় ছিলো যখন ভাবা হতো পুরুষ মানুষ পরিবারের একমাত্র যোগানদাতা। তাই, ভালোটা খাওয়ার অধিকার তারই। এটা তার প্রাপ্য অধিকার বিবেচিত ছিলো। মেয়েরা শ্বশুর বাড়ি চলে যাবে তার তো এ পরিবারে ভূমিকা নাই। এখনো আমরা সেই পুরুষতান্ত্রিকতার বেড়াজাল ভাঙতে পারিনি। আমরা আমাদের মা-বোন-কন্যার এ বৈষম্যের কবল থেকে মুক্ত করতে পারিনি।
এ সমাজে মত প্রকাশ করতে দেয়া হয় না মা-বোন-কন্যাদের। তাদেরকে দূর্বল-চিত্ত ভেবে মত প্রকাশের অযোগ্য বিবেচনা করা হয়। শিশুকাল থেকেই নারীরা সমাজে বৈষম্যের শিকার। পুরুষ-মুরুব্বিতান্ত্রিকতার জোরে এখানে কেউ কিছু বলতে পারে না। আজব এক সিস্টেম! যেখানে সবার পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সব হওয়ার কথা; সেখানে পুরুষতান্ত্রিক-মুরুব্বিয়ানার ক্ষত।
নারীর অধিকারহীন করে এমন ধরনের কার্যকলাপ সবই নোংরা মানসিকতার পরিচয় বহন করে। সভ্য সমাজ ও সভ্য মানুষের মধ্যে এগুলোর কোন ঠাঁই নেই।
নারী-পুরুষ আমরা সবাই মানুষ। মনুষ্যত্ববোধই মানুষের ধর্ম। এর বাইরে মানুষের আর কোন পরিচয় নেই। কারন, মানুষের সাথে সম্পর্কিত প্রত্যেকটি বিষয় নির্দিষ্ট সময়ের পর উপযোগিতা হারালেও; মানুষ মানুষই রয়ে যায়।
ভিন্নতায় আনে শুদ্ধতা
যদি কেউ প্রচলিত নিয়মের বেড়াজাল ভেঙ্গে, প্রচলিত প্রথা-রীতি-নীতি-নিয়মের আবদ্ধতা ডিঙিয়ে ভিন্ন কথা বলে, ভিন্ন মত পোষণ বা প্রকাশ করে; তাহলে সবাই বলে সে নষ্ট হয়ে গেছে, তার মাথায় সমস্যা আছে, পূর্ব-পুরুষের মাথা খাচ্ছে ইত্যাদি।
আসলে কেউ একবারও ভেবে দেখে না বা তার কথা শুনে বোঝার চেষ্টা তো দূরে থাক শুনারই ফুরসাত হয় না কারো। না জেনে, না বুঝে মন্তব্য করাটা আমাদের জাতীয় সমস্যায় পরিনত হয়েছে।
পৃথিবীতে দুটি মহাসত্য রয়েছে। ০১. পরিবর্তন ০২. মৃত্যু বা ধ্বংস। সবকিছুই পরিবর্তনের সুত্র ধরে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়। পরিবর্তন নামক মহাসত্যই ভিন্নতার নিয়ামক। কাজেই, মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের পথ হরন করবেন না। এটা অন্যায়। নিজের মতো করে বাঁচতে দিন। এটা সবারই প্রাপ্য অধিকার।
ভালো-মন্দ বিবেচনার ক্ষমতা আমাদের লোপ পাচ্ছে দিন দিন। পরিত্রানের একমাত্র উপায়, প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে যে অফুরন্ত চিন্তা-শক্তি রয়েছে; তাকে উন্মুক্ত করে দেয়া।
চিন্তা করার শক্তি লোপ পেলে বা চিন্তার স্বাভাবিক বিকাশের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে মানুষ জড়-পদার্থে পরিনত হয়। স্বাভাবিক কথা বলতে তার মধ্যে জড়তা কাজ করে। তার মধ্যে নানান ধরনের কুসংস্কার, অ-শিক্ষা, কু-শিক্ষা বাঁসা বাঁধে। যেটা সমগ্র মানব জাতির জন্য অমঙ্গলদায়ক বঁটে।
চিন্তা করার পরিবর্তে মানুষ তখন দুশ্চিন্তা করে। যা সময়ের মারাত্মক অপচয়। জীবনবাদী না হয়ে মানুষ ভোগবাদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। যা একটি জাতির ধ্বংস ডেকে আনতে শুরু করে।
প্রত্যেকটা ধর্মের মধ্যে সুক্ষ্ম ভোগবাদের অবস্থান রয়েছে। একটু চাক্ষুস দৃষ্টি দিয়ে তাকালে বুঝতে পারবেন। একটা সময় ধার্মিক মানুষ ভোগবাদী অসাড় মানুষে পরিনত হয়। কারন, তার চিন্তা করার শক্তি খেয়ে ফেলে ধর্মের বিধি-নিষেধের বেড়াজাল।
আর একটি বিষয়, কুসংস্কার বলুন বা অশিক্ষা-কুশিক্ষা সবকিছুরই প্রভাব রয়েছে মানুষের জীবনে ও মানব সমাজে। কখনো কখনো তা মারাত্মক আকার ধারন করতে পারে। এগুলো মানুষের জীবনকে, চিন্তা করার শক্তিকে সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ করে দেয়। পরিত্রানের উপায় উন্মুক্ত শিক্ষার চর্চা ও উন্মুক্ত চিন্তার চর্চা করা।
আসুন, আমরা কুসংস্কার, অশিক্ষা-কুশিক্ষা মুক্ত জীবন, সমাজ ও পৃথিবী গঠনে উন্মুক্ত জ্ঞান ও চিন্তার চর্চা করি। শুধু ভিন্ন মত ও পথের মানুষ নয়; সমগ্র পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষকে মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মান-শ্রদ্ধা করতে শিখি।
তর্কে আস্থাবাদীতা
এক ভাইয়ের সাথে আলোচনা হচ্ছিলো। নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে। তার মধ্যে ধর্ম, মানবতা, নিরপেক্ষতা, আস্তিকতা-নাস্তিকতা নিয়ে। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে খাঁটি ঈমানদার মুসলমান বলে পরিচয় দিলেন।
আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আমি কিসে বিশ্বাস করি?"
আমার জবাবটা এমন ছিলো, "আমি বিশ্বাসী নয়; আস্থাবাদী।"
সে আমাকে বললো, আস্থাবাদ আবার কি রকম? কত ইজম বা বাদ শুনলাম কিন্তু আস্থাবাদ এই প্রথম শুনলাম!
আমি বললাম, ভাই আস্থা আর বিশ্বাস দুটোই প্রায় একই অবস্থান প্রকাশ করে। তবে, ভিন্নরুপে, ভিন্ন আঙ্গিকে।
কেমন?
আমি বললাম, তার আগে আপনাকে বিশ্বাস আর আস্থার স্বরুপটা বুঝতে হবে। তার জন্য আপনি আমার ব্লগের এই লেখাটা পড়ে দেখতে পারেন। তাহলে আরো ক্লিয়ার হতে পারবেন।
এক পর্যায়ে, সে আমাকে বলল সবই বুঝলাম। কিন্তু, ধর্ম-টম্ম কি মানো না?
আমি বললাম, ধর্ম মানে বৈশিষ্ট্য। আর একজন মানুষের মধ্যে দুটো বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। ০১. পশুত্ববোধ ০২. মনুষ্যত্ববোধ।
এই বিবেচনায়, একজন মানুষের ভালো-মন্দ নির্ভর করে উপরোক্ত দুটো বিষয়ের উপর। এখন আপনি যদি কারো ধর্ম নির্ধারন করতে চান তাহলে এ দুটোকে নিরিখে নিতে হবে। প্রচলিত ধর্মের মধ্যে গেলে বলতে হবে, আপনি সেই ধর্মকে কিসের ভিত্তিতে বিচার করতে চান।
যদি আপনি বলতে চান, প্রচলিত ধর্মের সবই মনুষ্যত্ববোধের আওতায় পড়ে। তাহলে বলতে হবে এগুলোর উপযোগিতা কি?
উপযোগিতা হলো বর্তমানের সাথে সামঞ্জস্য কি না? ঢালাওভাবে সবকিছু ভালো বলাটা বোকামী বৈ কিছু নয়।
তথ্য-প্রমান-সহকারে বিজ্ঞানভিত্তিক হতে হবে সেটা। তা'নাহলে, ধোপে টিকবে না। আবার অযথা ধর্মকে বিজ্ঞান বলাও নিজের অজ্ঞতাকে প্রকাশ করে। বিজ্ঞান এবং ধর্ম দুটো ভিন্নার্থক। কাঁকতালীয়ভাবে কতিপয় বিষয়ে মিল হতেই পারে। তাই বলে, তাল-বাগানে দুটো খেঁজুর গাছ থাকলে তাকে খেজুর-বাগান বলা যায় না।
সময়ের সাথে সবকিছুর উপযোগিতা কমতে কমতে এক সময় তলানিতে গিয়ে ঠেকে। এজন্য, সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার উপযোগিতা ধরে রাখে।
অবশেষে, বিষয়টি অমিমাংসিত রেখে দু'জন দুদিকে যার কাজে সে চলে গেলাম। এটা আমিই করেছিলাম। কারন, নিজেদের চিন্তার জগতটাকে আরো একটু পোক্ত করার জন্য।
নামকা-ওয়াস্তে ব্যক্তি-পূঁজা
একটা সময় ছিলো মানুষ বিভিন্ন কারনে মূর্তি তৈরি করে পূঁজা করত। সময়ের তাগিদে পরিবর্তনের ছোয়ায় কিছু মানুষ মূর্তি-পূজা ছেড়ে ব্যক্তি-পূঁজায় মত্ত হয়ে পড়ল। ব্যক্তি-পূঁজায় মূতি-পূঁজার ন্যায় নমস্তে থাকলেও, দৃশ্যমান মূর্তি বা অবয়ব থাকে না। এখানে, অদৃশ্যমান গত ব্যক্তির কর্মের, চিন্তা আর চেতনার পূঁজা-অর্চনা করা হয়। এই ব্যক্তি-পূঁজায় কাল্পনিক সত্তা থাকতেও পারে আবার না থাকতেও পারে।
ধর্মীয় চেতনা মূলত মানুষকে সংঘবদ্ধ চক্রে সংগঠিত করে নির্দিষ্ট গোষ্ঠির বা ব্যক্তির অধিকতর অর্চনীয় করে তোলে।
আমরা সচরাচার দেখতে পায়, সাধারন মানুষের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা ততটুকু, যতটুকু তার প্রয়োজন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিকতার দায় রক্ষার্থে।
এই সুযোগটা একশ্রেণীর ভণ্ড-প্রতারক গ্রহন করে লোপাট চালায়। মানুষকে হেনস্থা করে। অযাচিত, অন্যায় এবং অমানবিক ব্যাপার চাপিয়ে দেয়। তার সমালোচক, সমাজের মঙ্গলাকাঙ্খীদের উপর বর্বর হামলা চালায়; চালানোর আদেশ দেয়। এদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার অশিক্ষিত, মূর্খ মানুষ। এরাই মানুষ অশিক্ষিত রাখার পক্ষে প্রচারনা চালায়। নারী-পুরুষ, উচু-নীচু, ধনী-গরীবের ভেদ টেনে আনে। সাধারন বোধ-বিবেচনাহীন মানুষের অনুভূতি নিয়ে খেলতে এরা চরম উস্তাদ।
মূর্তি-পূঁজা যেমন মানব-সৃষ্ট কাল্পনিক। ঠিক তেমনি, ব্যক্তি-পূঁজাও মানব-সৃষ্ট কাল্পনিক ব্যাপার। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির প্রসারের পূর্বে মানুষের কাছে সবই কাল্পনিক ব্যাপার ছিলো। কারনটা বর্তমান সময়ের মানুষ হিসেবে একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন। কাঁকতালীয়-ভাবে দু'একটি বিষয় বিজ্ঞানের সাথে মিলে গেলে তাকে বৈজ্ঞানিক বলাটা বোকামী বৈ কিছু নয়।
যুগে যুগে ব্যক্তি-পূঁজা ধর্ম ব্যবসায় পরিনত হয়েছে। যে বা যারা এটার সৃষ্টিকর্তা তারাও এটার উপর ভর করে ব্যবসা করে গেছে। তার একান্ত অনুগত নব্য অনুসারীরাও করছে।
আয়োজিত মঞ্চে চলে নব্য ব্যক্তি-পূঁজারীদের ধর্ম ব্যবসা। মূর্তি-পূঁজারী আর ব্যক্তি-পূঁজারীদের মধ্যে মিল একটাই আর তা হলো ধর্ম ব্যবসা।
যেটার সমালোচনা করা যায় না। নিশ্চিত তার মধ্যে খাঁদ রয়েছে। কারন, খাঁদ যদি বের হয়ে যায় তাহলে ভণ্ডামী ধরা পড়ে যাবে। এজন্য, বক-ধার্মিকেরা তাদের অর্চীত বিষয়ের সমালোচনা করতে দেয় না। করতে গেলে তেড়ে মারতে আসে বা হত্যার ন্যায় শাস্তি-যোগ্য অপরাধ করতেও দ্বিধা করে না। তারাই শ্রেষ্ঠ এবং আধুনিক যারা সংকোচ ছাড়ায় সমালোচনা আহ্বান করে।
আধুনিকতার লক্ষণ মানবতা এবং দেশপ্রেম। যারা ধর্ম ব্যবসা করে এদের নিকট গোষ্ঠি-স্বার্থ এবং ব্যক্তি-স্বার্থ প্রধান। এজন্য মানবতা এবং দেশপ্রেম তাদের নিকট অধিকাংশটাই উপেক্ষিত।
যে ব্যক্তির নিকট মানুষের চেয়ে গোষ্ঠি চেতনা এবং ব্যক্তি স্বার্থটা বড় তারা আর যাইহোক মানুষের কাতারে পড়ে না। তারা মনুষত্যহীন আজব প্রাণী।
অনেকে আমার লেখাটির মধ্যে ধর্ম-বিদ্বেষী মনোভাবের পরিচয়টি দেখতে পাবেন। তবে, সেরকমটা নয়। এটি একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষন মাত্র। এখানে মানুষের সাথে সম্পর্কিত সমাজ এবং সামাজিক-মানব-সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
মুক্তচিন্তা এবং মুক্তমনা বলতে কি বোঝায়?
অনেকে মনে করে মুক্তচিন্তা বা মুক্তমনা বলতে, 'মন যা চাই তাই করা'। আসলে, এটা কি সঠিক? আমার তো মনে হয়, তাদের জানার পরিধি অনেক ছোট হয়ে সংকুচিত হয়ে গেছে। তানাহলে, না-জেনে, না-বুঝে কোন বিষয়ে এমন মন্তব্য করাটা অসমীচীন বঁটে!
মুক্তচিন্তার ধারণাটা মূলত একটি আধুনিক চিন্তা-ভাবনা। তবে, প্রযুক্তির প্রসারে ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যানে মুক্তচিন্তা তার সময়ের আগেই অনেক প্রসার লাভ করেছে।
মুক্তচিন্তার প্রথম সোপান হচ্ছে, নিজের মত করে জ্ঞানের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একটি বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত উপায়ে মানবিক দৃষ্টিকোন বজায় রেখে নিজস্ব মতামত উপস্থাপন করা। মুক্তচিন্তায় এবং মুক্তমনারা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সবকিছু দেখে। যারা মুক্তচিন্তা করে তারাই মুক্তমনা বলে পরিচিত।
[মুক্তচিন্তা হল এক প্রকার দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গী যা বলে যে বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা এবং যুক্তির আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত; মতামত গঠণের ক্ষেত্রে প্রথা, অন্ধ বিশ্বাস এবং কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া বাঞ্চনীয় নয়। সচেতনভাবে মুক্তচিন্তার প্রয়োগকে বলে মুক্তচিন্তন এবং এর অনুশীলনকারীদের বলে মুক্তমনা।
ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ গণিতজ্ঞ এবং দার্শনিক উইলিয়াম কিংডন ক্লিফোর্ডের “ক্লিফোর্ডস্ ক্রেডো” এর একটি বাক্যকে মুক্তচিন্তার ভিত্তি বলা যায়- “যে কোন ব্যক্তির যে কোন জায়গায় উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে কোন কিছু বিশ্বাস করা উচিত নয়”।
মুক্তচিন্তা বলে যে জ্ঞান ও যুক্তির অনুপস্থিতিতে দাবিকৃত কোন মতকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা উচিত না। সুতরাং, মুক্তমনারা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, বাস্তব সত্য এবং যুক্তির আলোকে মত গড়ে তুলে এবং হেত্বাভাস অথবা কর্তৃপক্ষ, পক্ষপাতদুষ্টতা, লোকজ্ঞান, জনপ্রিয় সংস্কৃতি, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, প্রথা, গুজব এবং অন্য সব গোঁড়া, বৌদ্ধিক প্রতিবন্ধকতার উৎসাহদাতার ভূমিকা পালনকারী শাস্ত্র থেকে নিজেদের বিরত রাখে। ধর্মের ক্ষেত্রে মুক্তমনারা সাধারণত বলে যে অলৌকিক অবভাসের পক্ষে প্রমাণ যথেষ্ট নয়।
১৬৯৭ সালে জন লককে লেখা উইলিয়াম মলিনিউক্সের চিঠি এবং ১৭১৩ সালে এন্থনি কলিন্সের “ডিসকোর্স অব ফ্রি-থিংকিং” এ এরুপ ধ্যান-ধারণা প্রথম প্রকাশ পেয়েছিল।]-(উইকিপিডিয়া)
বর্তমান সময়ে ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলো মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে উন্নত হয়েছে। নতুন নতুন আবিষ্কার মুক্তচিন্তার ফসল। ধর্মীয় গোড়ামী যেখানে আটকে রাখে, সেখানে মুক্তচিন্তা নতুনত্বের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উন্নত জীবন-বোধের দিশা দেয়।
ধর্মের অতিরিক্ত বিধি-নিষেধের বেড়াজাল, কুসংস্কার মুক্তচিন্তার পরিপন্থী হওয়ায় ধর্মের মধ্য থেকে নতুনত্ব পাওয়া মুশকিল। মুক্তচিন্তা যেখানে নতুনত্বকে, গঠনমূলক সমালোচনাকে উদার মানসে আহ্বান জানায়; সেখানে ধর্মে নতুনত্ব পড়ে থাক, সমালোচনা করায় মহাপাপ বলে গন্য।
একটা বিষয় খুবই অবাক লাগে, মুক্তচিন্তার ফসলগুলো ধর্ম কিভাবে মিথ্যাচারের মাধ্যমে আত্মীকরণ করে; সেটা দেখে। যারা ধর্মের বাইরে গিয়ে মুক্তচিন্তনের মাধ্যমে নতুন কিছু আবিষ্কার করে; তাদের উপর নানাভাবে অত্যাচারের কাহিনী আমরা ইতিহাস থেকে জানতে পারি। ব্যক্তির মৃত্যুর পর অত্যাচারের ঘটনা চাপা দিয়ে ফসল ঘরে তুলে নেয় ধর্মীয় গোষ্ঠী।
ধর্মের মধ্যে কুসংস্কার থাকতে পারে, এটা মৌলবাদী গোষ্ঠী বিশ্বাসই করে না। আর যদি কোন কুসংস্কার থাকে, তবে সেটা ধর্মের অলঙ্ঘনীয়, পালনীয় আচরণ বলে তারা মনে করে। মানে, তারা এটাকে কুসংস্কার মানতে নারাজ।
ধর্মের মধ্যে অমানবিক কিছু থাকলেও ধর্মীয় গোষ্ঠি সেটাকে ধর্মের অলঙ্ঘনীয়, পালনীয় কর্ম বলে স্বীকৃতি দেয়। আর একটা বিষয়, সময়ের সাথে অনেক বিষয় পরিবর্তনের তাগিদ তৈরি হয়। ধর্মীয় মৌলবাদী প্রাচীন-পন্থীরা এটাকে মহাপাপ বলে ফতোয়া দেয়।
যে যতই লাফালাফি করুক! লাভ নাই! পরিবর্তনকে অস্বীকার করার জোঁ নেই। আর মুক্তচিন্তাও এই পরিবর্তনের উন্নত ফসল। মুক্তচিন্তা পরিবর্তনকে ভিত্তি ধরে এগিয়ে যাচ্ছে বলে এটাকে নিঃশেষে অবিভাজ্য ধরা হয়। আর ধর্ম পরিবর্তনকে অস্বীকার করে এগিয়ে যেতে চায় (যদিও অসম্ভব) বলে উপযোগিতা হারাচ্ছে দিন দিন।
ধর্মকে আকড়ে যদি পড়ে থাকেন তবে নিজেকে আস্তাকূড়ে নিক্ষেপ করবেন। আমি বলছি না, ধর্মের সব খারাপ। তবে কথায় আছে, কুসংস্কার আর গোড়ামীর পঁচা পানির বন্যায় সে ভালোগুলো নষ্ট-প্রাপ্ত।
মুক্তচিন্তার সাথে ধর্মকে টেনে আনার কারন, মুক্তচিন্তার বিকাশে সবচেয়ে বড় বাঁধা ধর্মীয় কুসংস্কার, মৌলবাদ আর গোড়ামী।
আসুন, আমরা কুসংস্কার, মৌলবাদ আর গোড়ামীমুক্ত মুক্তচিন্তার মাধ্যমে আধুনিক, উন্নত, কল্যানমূখী সমাজ ও জীবন ব্যবস্থা গড়ে তুলি।
স্বার্থের শতরুপ
স্বার্থের শতরুপটাও বিচিত্র। এই দুনিয়ায় স্বার্থবিহীন একপাও কেউ আগায় না। আজকে হয়তোবা আপনি কারো জন্য কোন ভালো কাজ করলেন। তার মানে, এটা আপনি নিজের জন্য করলেন। কিভাবে? ধরুন, আপনি পরোপকারী একজন ব্যক্তি। প্রশ্ন হলো, কেনো আপনি পরোপকার করেন?
আপনি বলবেন, আপনার এটা ভালো লাগে তাই বা এটা ভালো কাজ তাই ইত্যাদি। কিন্তু, আমরা জানি, "মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক"।
আপনি বলতে পারেন, ভালো কাজে স্বার্থ থাকে না বা থাকতে পারে না। কিন্তু, এই কথাটা ভাবনা-চিন্তাহীন, অবিবেচনা-প্রসূত একটি কথা। কারন, ভালো কাজের পেছনে নিম্নতম স্বার্থ হলো মানুষের কাছ থেকে সম্মান এবং বাহবা পাওয়া।
আর এই ইমেজটা আপনার স্বার্থের শতরুপ প্রকাশ করে। কিভাবে?
ধরুন, আপনাকে সবাই ভালো মানুষ বলে জানে। এখন সবাই আপনার উপর আস্থা রাখবে। এটাই স্বাভাবিক। আর যদি আপনার নেতিবাচক ইমেজ থাকে সর্ব-সাধারনের মাঝে তাহলে কেউ আপনার উপর আস্থা রাখবে না। এটাও স্বাভাবিক।
এই আস্থা-অনাস্থার পরিবেশই আপনাকে অনেক কিছু এনে দেয়।
কেউ আপনার পাশে এসে যাচিত-অযাচিত ভালো কথা বললে, বুঝে নেবেন স্বার্থের এই দুনিয়ায় কোন না কোন গুপ্ত বাসনা লুকায়িত রয়েছে তার মধ্যে।
তবে হ্যাঁ, এই স্বার্থবাদী চিন্তা-ভাবনা থেকে উদ্ভূত হয়েছে শেয়ারিং, কেয়ারিং এর ব্যাপারটি। কারন, মানুষ সামাজিক জীব। একে-অন্যের সাহায্য ছাড়া তার পক্ষে এই রুক্ষ-পৃথিবীতে টিকে থাকা সম্ভব নয়। যতই স্বার্থ থাকুক, অন্যের উপর আমরা কোন না কোনভাবে নির্ভরশীল।
এর ভেতর দিয়ে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। একটু সচেতনতাই পারে জীবনকে সুন্দর করতে। অন্যের অন্যায় স্বার্থ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে।
অন্যের কাজ-কর্মে নিজে দুঃখ-কষ্ট পাওয়া বোকামী। আর যদি এরকমটা ঘটার সম্ভবনা থাকে তবে আগেই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কারন, এই সময়টা অন্যের জন্য ব্যয় না করে নিজের জন্য ব্যয় করলে দুঃখ-কষ্টের চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়া যায়।
আসুন, সতর্কতা-সচেতনতার মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর করি। স্বার্থের শতরুপের মাঝে ভালোবাসাটাকে উজ্জিবিত করে রাখি। স্বার্থের মাঝেই জয় হোক ভালোবাসার।
উপযোগিতা এবং আবেগীয় বাস্তবতা
প্রত্যেকটা জিনিসের উপযোগিতা থাকে। একটা সময় এই উপযোগিতা হারিয়ে যায়। তখন মানুষের কাছে বিষয়টা অ-প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। তাই বিলিন হয়ে যায়। এটা পৃথিবীর একটি কঠিন বাস্তবতা। কারন, পৃথিবীতে সবকিছুই নশ্বর। অর্থাৎ, ক্ষনস্থায়ী। ক্ষনস্থায়ী পৃথিবীতে সবই নশ্বর। সবই ধ্বংস হবে একদিন। যার যেদিন উপযোগিতা হারাবে; সেদিন সে ধ্বংস হবে। সেটা যে কোন কিছু হতে পারে। এখানে উপযোগিতা বলতে বোঝানো হয়েছে, টিকে থাকার শক্তি।
আমাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ রয়েছে তারা পৃথিবীর এই অমোঘ সত্যকে মেনে নিতে পারে না। কারন, তাদের মধ্যে আবেগীয় বাস্তবতা ভর করে আছে। আবেগীয় বাস্তবতা হচ্ছে, আবেগটাই সেখানে মূখ্য বিষয় হয়ে ওঠে। বাস্তবতার বাস্তব রূপটা সেখানে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বোধ শক্তি হারিয়ে যায়।
তাদের মধ্যে এ ধরনের আবেগ থাকাই আরেকটা বিষয় তাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। তারা যেটা সঠিক মনে করে সেটাকেই তারা চরম সত্য মনে করে এবং অন্যের উপর সেটাকে জোর করে চাপিয়ে দেয়ার জন্য যেকোন কিছুকে তারা বৈধ মনে করে।
মানুষ একটি প্রাণী। কারন, তার প্রাণ আছে। এ কারনে একই সাথে আমরা মানুষ এবং প্রাণী। এটার উপর ভিত্তি করে মানুষের মধ্যে দু'ধরনের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ০১. পশুত্ববোধ ০২. মনুষ্যত্ববোধ।
একজন মানুষ প্রথমে প্রাণীর হালাতে থাকে। অথাৎ, তার মধ্যে পশুত্ববোধ কাজ করে। ধীরে ধীরে সে মানবিক-গুনাবলি অর্জনের মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ মানুষে রুপান্তরিত হয়। অথাৎ, তার মধ্যে তখন মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হয়। আমি গুটি-কয়েককে দেখেছি।
প্রাণীর মধ্যে পশুত্ববোধ রয়েছে। কারন, তার মানবিক-গুনাবলি অর্জনের কোন সুযোগ নেই। এটা একমাত্র মানুষের রয়েছে। এ কারনেই মানুষ জগতের সেরা জীব। কিন্তু মানুষ ততক্ষন পর্যন্ত প্রাণী অর্থাৎ পশুত্ববোধের আওতায় থাকে যতক্ষন না তার মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ কাজ করে।
আবেগ মানুষ ও প্রাণী উভয়ের মধ্যে রয়েছে। পার্থক্য শুধু এক যায়গায়। সেটা হচ্ছে, মানুষ তার আবেগকে চাইলে নিয়ন্ত্রন করতে পারে আর পশু-প্রাণীরা পারে না। একমাত্র পরিপূর্ণ মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন মানুষ তার আবেগকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে। অথাৎ, যারা এখনো প্রাণীর কাতার থেকে নিজেকে মানুষের কাতারে উঠাতে পারেনি তারা আবেগকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না।
প্রাণীর কাতার থেকে মানুষের কাতারে উঠার উপায় হচ্ছে, নিজের চিন্তা-শক্তির দরজাকে খুলে দেয়া। জ্ঞানের উন্মুক্ত চর্চা করা। নিজের মধ্যে সহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠা করা। অন্যের উপর নিজের মত অন্যায় ভাবে চাপিয়ে না দেয়া বা চেষ্টা না করা।
আসুন, আমরা মানুষ হই।
আইনের অসামঞ্জস্যতা
আইন কেনো তৈরি করা হয়? নিশ্চয়ই, মানুষ ও সমাজের মঙ্গলের জন্য, ভালোর জন্য। কিন্তু, যে আইন মানুষের কষ্ট দেয়, অধিকার বঞ্চিত করে, সমতা নিশ্চিত করে না। তাকে মঙ্গলদায়ক বলাটা কোন বিবেক-বোধ সম্পন্ন মানুষের কাজ হতে পারে না।
আইন যদি মানুষের অধিকার সংরক্ষণ না করে, হরণ করে। সেটা অবশ্যই অমানবিক আইন। একজন অপরাধী, তারও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কোন কারনে হয়তোবা আজ সে অপরাধী। প্রচলিত আইন, অপরাধীকে শাস্তি দেয়; অপরাধের মূলোৎপান না করে।
যদি অপরাধ না থাকে, অপরাধী হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা যুগ বদলের গান গায়। কিন্তু, নিজেরা কতটুকু পরিবর্তিত হতে পারলাম। এটা ভাবি না।
বিজ্ঞানের যুগ, তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। আরো কত উন্নত যুগের ধারণা আমরা ধারণ করি। কিন্তু, যুগের উন্নত পরিবর্তনের সাথে নিজেদেরও যে উন্নত পরিবর্তন দরকার সেটা আর হয়ে ওঠে না।
বিজ্ঞানের যুগ বলি, কিন্তু বিজ্ঞান যেটা বলে সেটা মানি না। বিজ্ঞান নতুনত্বের কথা বললে, আমরা তখন নিজেদের পুরাতন স্বত্ত্বার কাছে আত্মসমার্পন করি। বিজ্ঞান পরিবর্তনের কথা বললে, আমরা নিজেদের আবদ্ধ করে ফেলি।
বিজ্ঞান, তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন করে। মানে বিজ্ঞান চাক্ষুস দেখিয়ে দেয় কোনটা কিভাবে ঘটছে। অথচ আমরা নিজেদের চিন্তা-কর্মের বিরুদ্ধে গেলে, গায়ের জোরে বিজ্ঞানকে ভূয়া-ক্ষতিকর দাবী করি।
এই ঘটনাটা আমাকে হাসতে খুব সাহায্য করেছে, বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ব্যবহার করে উপকৃত হওয়ার পর বহু মানুষ বিজ্ঞান বিরুদ্ধ কথা বলে, কাজ করে। পুরাতন ব্যবস্থাকে উপযুক্ত বলে অযৌক্তিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে। এটা ঠিক মাত্রাতিরিক্ত যে কোন জিনিসের ব্যবহার ভয়াবহ ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। কিন্তু, তার জন্য তো আমাদের পরিমিতিববোধ দরকার। পরিমিতিবোধ তখনই আসবে যখন আমরা নিজেদেরকে স্ব-বিরোধী অবস্থান থেকে বাহির করতে পারবো এবং উক্ত বিষয় গ্রহণে সক্ষম করে তুলতে পারবো।
একটা বিষয় খুব অবাক লাগে, কতিপয় লোক দাবী করে এটা বড় বিজ্ঞান, ওটা বড় বিজ্ঞান। অথচ বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা দূরে থাক, বিজ্ঞানের সংজ্ঞাটাই তারা জানে না।
কোন তত্ত্ব যখন মানব সমাজে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। আগে দেখা হয়, তত্ত্বটি গ্রহণ করার মত সক্ষমতা ঐ সমাজের মানুষের হয়েছে কি না। যদি সক্ষমতা না হওয়া সত্ত্বেও তত্ত্বটি সেখানে প্রয়োগ করা হয়; ফলটা বিপরীমূখী হবে, বলার অপেক্ষা রাখে না।
আমাদের সমস্যাটা এখানে, নিজেদের সক্ষম করার আগেই আমরা গো-গ্রাসে গলাধকরণ করে চলেছি প্রতিনিয়ত। যেটার বিপরীতমূখী প্রতিক্রিয়া আমাদের সর্বদা আক্রমন করছে।
সবাগ্রে, সমস্যার গোড়ায় আঘাত হানতে হবে। তবেই, সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। মাথা ব্যাঁথা করলে যেমন মাথা কেঁটে সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না। হিতে-বিপরীত ঘটে। অপরাধের মূলোৎপাটন না করে, অপরাধীকে শাস্তি দিলে ঠিক তেমনটাই হয়। ঠিক তেমনি সময়ের সাথে নিজেদেরও পরিবর্ত না করলে। হিতে-বিপরীত ঘটবে। একটু কষ্ট করে, নিজের চিন্তা-শক্তি খরচ করলে, আশে-পাশে এর প্রমাণ পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়।
বিজ্ঞানের যুগে, তথ্য-প্রযুক্তির যুগে আইন হতে হবে বিজ্ঞানমনস্ক, মানবিক আইন। এটাই সময়োপযোগী ধারণা। একশো বছর আগের আর বর্তমান সময়ে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। এখান থেকে ১০ বছর আগেও মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন ছিলো না। এখন আছে। কাজেই, নতুন-পুরাতন চিন্তা-ভাবনা কখনো এক নয়। এটা বোঝার জন্য সাধারন বোধই যথেষ্ট।
আসুন, নিজের অবস্থান থেকেই পরিবর্তনের দিন শুরু করি। মানুষের জন্য মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি।
বিজয়টা সবার! কিন্তু যুদ্ধটা কার?
একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-যুদ্ধ/মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটা ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ। কিন্তু প্রশ্ন তো একটা রয়েছে। যেটা এপার-ওপার কেউ ভেবে দেখছে না।
প্রশ্নটা হচ্ছে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধারা যদি মুক্তিযুদ্ধের সূচনা না করতেন এবং ৮ মাস ধরে এটাকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম না হতেন, তাহলে ভারতীয় বাহিনী যুদ্ধ করতো কোথায়?
তার আগে আমরা একটু স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট দেখি।
আমরা আজকে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। এটার প্রেক্ষাপট কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের মুক্তি সংগ্রামের ফসল আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ।
আজকে আমরা বাংলাদেশ নামক যে ভূখন্ডটি দেখতে পাচ্ছি। এটা ১৯৪৭ সালের পূর্বে ভারতীয় উপমহাদেশের একটি অঞ্চল ছিলো। ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সে সময় প্রচুর আন্দোলন সংগ্রাম হয় এখানে। কিন্তু, হিন্দু-মুসলিম তিক্ততার জেরে ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়ে যায়। নানান ঘটনার মধ্য দিয়ে পূর্ব-বাংলা পাকিস্তানের অংশে পরিনত হয়। কার্যত, পাকিস্তানের কলোনিয়াল শাসনের অন্তর্ভূক্ত হয়। পাকিস্তানের সাথে বাংলার যে দূরত্ব তাতে করে কোন বিবেক সম্পন্ন মানুষের পক্ষে এটাকে এক দেশ বলা সঙ্গত নয়। যাহোক, পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্তির পর থেকে শুরু হয় নানান ধরনের শোষন। যার প্রেক্ষিতে শুরু হয় মুক্তি সংগ্রাম। এই মুক্তি সংগ্রাম নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে শেষ হয়। মুক্তি-সংগ্রামের কিছু ঘটনাবলিঃ
০১. ভাষা সংগ্রাম পরিষদ
০২. ভাষা আন্দোলন
০৩. ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
০৪. ১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন
০৫. ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন
০৬. ১৯৬৬ এর ৬ দফা
০৭. ৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থান
০৮. ১৯৭০ এর নির্বাচন
০৯. ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ
এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়েই ৭১ রচিত হয়।
নয় মাস মা সন্তান গর্ভে ধারণ করে সন্তান জন্ম দেয়। ধাত্রী যদি বলে সন্তান আমার। হাস্যকর বটে!
আগের কথা না বলে ১৩ দিন যুদ্ধ করে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হয়ে গেলো! মগের মল্লুক নাকি!
আজকের স্বাধীনতা, অজস্র পরিমান রক্তের বিনিময়ে অর্জিত
আজকের স্বাধীনতা অজস্র রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। তাই এ রক্তকে আমরা বৃথা যেতে দিতে পারি না।
একটা বিষয় আমার খুব অবাক লাগে, লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলো আজকে এই আমি-আপনি আপনার-আমার মত পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। আবার এই দেশেরই কতিপয় লোক, তথাকথিত পাকিস্তান প্রেমী কুলাঙ্গার (রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস) স্বাধীনতার ও মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো। দীর্ঘ মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাসে উভয় প্রকারের লোক দেখা যায়।
এখন সময় এসেছে, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বংশধরদের যারা এখনো বাংলাদেশের বিরোধীতা করে বা বাংলাদেশকে, মুক্তিযুদ্ধকে, স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে অন্যকোন চিন্তা-চেতনাকে অর্থাৎ পাকিস্তানি প্রেতাত্মাকে পূনরায় প্রতিষ্ঠা করতে উৎসূক বা তৎপর সে সকল নব্য রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসদের সমাজ, দেশ থেকে উৎখাত করার, সমাজচ্যূত করার।
আসুন দল-মত নির্বিশেষে দেশকে ভালোবাসি, দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। দেশের মানুষের জন্য কাজ করি।
হেনরি কিসিঞ্জারকে বলি, আমরা তলাবিহীন বাংলাদেশ নয়। ""আমরা নতুন বাংলাদেশ""।
স্বপ্নের পথে
একটি ঘটনা বা দূর্ঘটনা জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী। আজকের দিন পর্যন্ত যত বড় বড় মানব তারকার সফল হওয়ার গল্প শুনেছি, তাদের প্রত্যেকের জীবনে এমন কোন না কোন ঘটনা থাকে যা তাদের জীবনের মোড় পরিবর্তন করে দিয়েছে। তাই আজকে তারা উক্ত ক্ষেত্রে তারকা হতে পেরেছে।
এজন্য কোন ঘটনা বা দূর্ঘটনা ঘটলে আপনি যদি ঘটনার মোটিফটা ধরতে পারেন তাহলে হয়তোবা আপনিও সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌছে যেতে পারেন।
শেখ সাদী বলেছেন, "যার যত ভূল, তার তত মঙ্গল।" কারন, অন্ধকারের অলিগলি পেরিয়েই আলোর দিশা পায় মানুষ।
আপনি যদি কোন ভুল করে ফেলেন বা করে থাকেন। তাহলে ভয় না পেয়ে ভয়কে জয় করার চেষ্টা করুন। ভুল না করলে শেখার পথ তৈরি হয় না। ভুল জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
একজন ছাত্র সে ভুল করে। আর তার শিক্ষক তাকে ভুল শুধরানোর কৌশল শিখিয়ে দেয়। এটা একজন শিক্ষকের আসল এবং বড় ধরনের কোয়ালিফিকেশন।
সন্দেহ, অবিশ্বাস, ভুল, ব্যর্থতা এগুলো জ্ঞান সৃষ্টি করে। জ্ঞান সৃষ্টির পথ বাতলে দেয়। কাজেই, এগুলোকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
টমাস আলভা এডিসন হাজারবার ব্যর্থ হওয়ার পর সফলতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। এরকম শতশত উদাহরন দেওয়া যাবে যে, ব্যর্থ মানুষেরা কিভাবে তাদের ব্যর্থতাকে বরণ করে নিয়ে সফল হয়েছিলেন।
স্বপ্নের পথে ছুটে চলেছি নিরন্তর।
সমালোচনা বা বিরোধীতা নাকি হেয় করা
আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় দেখা যায় সমালোচনার নামে বিরোধীতা করতে। আবার অনেক সময় সমালোচনার নামে 'হেয়' করা হয় মানুষকে। সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক এবং যৌক্তিক। সমালোচনার মানে কখনো কাউকে আঘাত করা হতে পারে না।
আবার দেখা যায় যে, যৌক্তিক সমালোচনাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে। এটা তো মূর্খতার সামিল। আপনি যৌক্তিক সমালোচনাকে গ্রহন করতে না পারলেও, সম্মান তো করতে পারেন! এটাতে পাপ হয় না!
অযাচিত, অপ্রাসঙ্গিক কথা-বার্তা বলার চেয়ে, কথা না বলাই শ্রেয়। কারন, এটার দ্বারা নিজের মূর্খতা প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই হয় না।
একটা বিষয় সম্পর্কে ভালো করে না জেনে কথা বলাটাও মূর্খতার লক্ষণ। তবে, আপনি অজানা বিষয়, জানার জন্য কারো কাছ থেকে শুনতে পারেন। বলতে যাওয়াটা বোকামী।
সমালোচনার নামে কাউকে আঘাত করাটা অন্যায়। আবার যৌক্তিক সমালোচনাকে হেয় করা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করাটাও অন্যায়।
আবার যারা মনে করে সমালোচনা করা ঠিক না; তাদের বুঝতে হবে যে, সমালোচনা মানুষকে শুদ্ধতার স্থান তৈরি করে দেয়। পৃথিবী যতদিন থাকবে, মানব-জাতির অস্তিত্ব যতদিন থাকবে ততদিন সমালোচনা হবে। সমালোচনা মানুষের ভুল ধরিয়ে দেয়। ভুলকে শোধরানোর সুযোগ করে দেয়। কেউ সেটা ধরতে পারে, কেউ পারে না।
আর যারা সমালোচনার বিরোধীতা করে। আমি দেখেছি, তারাই বেশি সমালোচনা করে। এমনকি সমালোচনারও তারা সমালোচনা করে। স্ব-বিরোধী অবস্থান।
আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় সমালোচনার মানসে শুধু বিরোধীতা করা হয়। এটাকে ভুল ছাড়া আর কি বলা যায়! সমালোচনা আর বিরোধীতা দুটো ভিন্নার্থক। এটুকু বোঝার জন্য মহা-জ্ঞানী হতে হয় না। সাধারন বোধ-শক্তি দিয়ে এটা বোঝা যায়।
আপনি যৌক্তিক, গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারেন। সমালোচনার নামে বিরোধীতা বা হেয় করতে পারেন না। সেটা হবে ভুল!
মানুষ ও মানবিকতা
যার মধ্যে মানবিক সত্তা কাজ করে, সে কখনো মানুষ হত্যার মত চরম অমানবিক কাজ করতে পারে না বা সমর্থন বা সহযোগিতা করতে পারে না। সেটা যেকোন ধরনের হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
প্রথমত, আমি একজন মানুষ। সর্বশেষও, একজন মানুষ। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ হলো আমার মানবিক সত্তার ভিত্তি। আমার বিবেক ও চিন্তাশক্তি আমার ভালোত্ব বা মন্দত্বের বিচার করে। আমি মনে করি, একজন মানুষকে বিবেকের ও চিন্তার স্বাধীনতা দিলে এবং জ্ঞানার্জনের পর্যাপ্ত সুযোগ দিলে; সে অবশ্যই ইতিবাচক মানুষ হিসাবে গড়ে উঠবে।
একজন মানুষকে অপরাধের জন্য শাস্তি দিলে অপরাধ না কমে, অপরাধের নতুনরূপে আগমন ঘটে। তাই অপরাধ দমনে আগে মানুষের ভেতর থেকে অপরাধবোদের মূলোৎপাটন করতে হবে। পৃথিবীতে এখন এ ধরনের উৎকৃষ্ট উদাহরন রয়েছে, যারা অপরাধ দমনে শাস্তি না দিয়ে, অপরাধীকে অপরাধ-প্রবনতা থেকে বাহির হয়ে আসতে সাহায্য করে অপরাধকে নির্মূল বা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। কাজেই, এ ধরনের। চিন্তা-ভাবনা এখন আর অলীক-ভাবনা নয়। বরং, তাদেরকে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতার ধারক বলে মনে করা হয়।
উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলো থেকে এসব দেশে মানুষ অভিবাসন গ্রহনের জন্য উদগ্রীব হয়ে বসে থাকে। কারন, এখানকার মানুষের রয়েছে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা। বিশেষ করে মত-প্রকাশ করা থেকে শুরু করে ন্যায়-বিচার লাভ এবং তাদের উচ্চ ও উন্নত জীবন-দর্শনের জন্য।
যে সব দেশে অপরাধের জন্য শাস্তি দেয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে এখনো, সে সব দেশে অপরাধের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি ঘটছে, না কমে। আর যে সব দেশে এটা নেই, সে সব দেশে মানুষের জীবন-প্রত্যাশা দিন দিন বেড়ে চলেছে।
অপরাধ দমনে শাস্তি প্রদান প্রথা অতীব প্রাচীন ও কোন কোন ক্ষেত্রে তা মধ্যযগীয় বর্বরতার সামিল। এটা বর্তমান আধুনিক ও উন্নত বিশ্ব-চিন্তার সাথে যায় না।
সময়টা এখন মানবতা ও বিবেকের স্বাধীনতা প্রদানের। কাজেই, খোড়া অজুহাতে, মরা যুক্তি দিয়ে মানুষের অপরিসীম চিন্তা শক্তিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হবে মহা-অন্যায় ও মানবতার এবং মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া।
নানা মুনির, নানা মত; যত মত, তত পথ!
পৃথিবীতে সব মানুষই আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। কারো সাথে কারো কোন মিল নেই। এটা বাস্তব সত্য। এই বোধ যাদের মধ্যে নেই, তারা আর যাইহোক সুস্থ্য-স্বাভাবিক চিন্তার অধিকারী হতে পারে বলে আমার মনে হয় না।
একজন মানুষ সর্বপ্রথম সে মানুষ। এর পরে তাকে নানা ধরনের ট্যাগ দিয়ে শ্রেণীকরণ করা হয়। কিন্তু, একজন মানুষ তো আসলেই মানুষ। তার আর কোন ট্যাগ দিয়ে বন্দি করা অন্যায় বোধের সামিল।
মানুষের দুটো ট্যাগ/বৈশিষ্ট্য আছে জগতে। যেটা স্বভাবিকভাবে গ্রহণীয়। এক. ইতিবাচক মানুষ, দুই. নেতিবাচক মানুষ। যদিও এক এক সমাজে ভালো-মন্দের বিচার একেক রকম। তারপরও সভ্য সমাজের মানুষের বৈশিষ্ট্য এ দুটোই বলে সর্বজন স্বীকৃত। এর বাইরে অন্যকোন ট্যাগ দিয়ে কল্পনা করা, নিজের মত-পথ চাপিয়ে দেয়ার সামিল।
মানুষকে মানুষ ভাবতে শেখায় যে শিক্ষা সেটাই সর্বজনবিদিত মানবতার শিক্ষা। আসুন আমরা মানবতার শিক্ষায় নিজেকে আলোকিত করি।
সমাজের প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মত-পথ নিয়ে বেঁচে থাকার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। শক্তির জোরে অন্যের উপর নিজের মত চাপিয়ে দেয়া মহা-অন্যায়। নিজের মত প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিশৃংখলা সৃষ্টি করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মত প্রকাশ করাও একজন মানুষের অধিকার। এটা আপনারও অধিকার। অনুভূতির আঘাতের নামে মত প্রকাশ করতে না দেয়া অন্যায়। নিজের মত ঠিকই সমাজে জোরে-শোরে প্রকাশ করতেছেন। আর অন্যের ভিন্নমত প্রকাশ করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। ন্যায়-নীতিবোধের যায়গা তো দূর্বল করে ফেলেছেন।
যদি কারো কথায়, আপনার অনুভূতিতে আঘাত লাগে, এটা আপনার সমস্যা। নিজেকেই এর সমাধান করতে হবে। নিজের অনুভূতিগত সমস্যা অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়া অন্যায়। অযথা কেনো অন্যকে হেনস্থা করবেন, নিজের সমস্যার জেরে। আসুন, আমরা সবাই মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করি। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চেষ্টা করি। মত-পথের অমিল হতেই পারে। এটা স্বাভাবিক। আমরা তো সবাই, সবার মত।
কোন কাজ করার আগে অন্তত একটু ভাবুন। নিজের যে অফুরন্ত চিন্তা-শক্তি রয়েছে, সেটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন। মতের অমিল হলে, গ্রহন করতে না পারলেও, বিনয় প্রকাশ করুন। এটা আপনার শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।
কথা বলার সময় যুক্তি-প্রমান দিয়ে কথা বলুন। না পারলে, চুপ থাকাটাই উত্তম। উন্নত ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। না জেনে, বুঝে কথা বলতে যাওয়াটা বোকামী এবং ব্যক্তিত্বহীনতার লক্ষণ। অনেককে দেখা যায়, অযথা মেনে না নেওয়া এবং অযৌক্তকভাবে চাপিয়ে দিতে। এটা নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করে। আগে বিষয়টি সম্পর্কে জানুন, বুঝুন। তারপর, বলুন।
পৃথিবীতে যত মানুষ রয়েছে, তত রকমের মত-পথ-চিন্তা রয়েছে। কাজেই, সবাইকে সবার মত করে বেঁচে থাকতে দিতে হবে। কথায় বলে, "নানা মুনির, নানা মত; যত মত, তত পথ।"
পরীক্ষা একটি প্রাচীন পদ্ধতি
মেধা যাচাইয়ে পরিক্ষা পদ্ধতি বড়ই প্রাচীন হয়ে গেছে। এটাকে আমি মেধা যাচাই বলি না। এটাকে আমার কাছে পারদর্শিতা যাচাই মনে হয়। মেধা বিষয়টাকে আমি অন্যভাবে দেখি। পারদর্শিতা বলতে বুঝি, জানা, না-জানার পার্থক্য নিরূপন। আর মেধা হচ্ছে, সৃজনশীল মেধা-মনন।যেখানে রয়েছে নতুনত্ব, আবিষ্কার, সুস্থ্য চিন্তা করার শক্তি এবং স্বাভাবিক বিকাশ ইত্যাদি।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেকার এবং বিসিএস ক্যাডার তৈরির কারখানায় পরিনত হয়েছে। সৃজনশীল মেধা-মননের বিকাশ দিন দিন বিলুপ্তির পথে। অনেকে আবার বিসিএস ক্যাডারের সংখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং করার চেষ্টা করে। তারা আবার বিশ্ববিদ্যালয়েরই! এরকম তো হওয়ার কথা ছিলো না। বিশ্ববিদ্যালয় তো জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের যায়গা।
ভূত বলতে কিছু নেই। তারপরও যদি মানুষের মাথায় ভূতের ভয় ঢোকে, তাহলে অবস্থা শোচনীয় এবং করুন হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় এবং মধ্যকার সম্মানিতদের ঠিক এরকমই অবস্থা। মাথায় বিসিএস নামক ভূত ঢুকে পড়েছে। আমি বিসিএসকে খারাপ কিছু ভাবছি না বা বলছি না। শুধু বিসিএস উন্মাদনাকে ক্ষতিকর ভাবছি। যে উন্মাদনা দেশ ও জাতির জন্য ভয়ঙ্কর ক্ষতি ডেকে আনছে তা তো ভূতের বয়ের চেয়েও হাজারগুণ মারাত্মক।
বিসিএস উন্মাদনা দেশের অন্যান্য খাতগুলোকে দক্ষ জনশক্তির অভাব সৃষ্টি করছে। যে কারনে বিসিএস নয়, বিসিএস উন্মাদনা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতি ডেকে আনছে।
অনেকে আছে না জেনে, বুঝে বিসিএস, বিসিএস করে, করে অযথা সময় নষ্ট করে। পরে নিজের দোষে বেকারত্বের ঘানি টেনে সরকার ও দেশকে গালি দিয়ে নিজেকে দেশে ও জাতির বোঝায় পরিনত করে। আমার মনে হয়েছে, নিজেরর সম্পর্কে এদের কোন ধারনায় নেই। তা যদি থাকতো, তাহলে নিজের চিন্তা-চেতনার সাথে মিল রেখে যোগ্যতানুযায়ী অন্য কোন বিষয় খুজে নিয়ে অযথা সময় অপচয়টা অন্তত রোধ করতে পারতো।
আর এক শ্রেণী আছে যারা এটা নিয়ে ভাবে। কিন্তু, কাজের কাজ কিছু করে না। শুধু মুখে মুখে বলে বেড়ায় বিসিএস দেবো। এরা আবার শটকার্ট ওয়েতে বিসিএস দেয়ার চেষ্টা করে। শুরু যার শর্টকার্ট দিয়ে, তার কাছ থেকে জাতি বৃহৎ কিছু আশা করতে পারে না। "ভাই, সবার জন্য সবকিছু না"।
ওভার স্মার্ট
অনেকে মনে করে সারাদিন রুমে বসে পড়ালেখা করে যারা বা যারা লেখালেখি করে বা এককথায় সৃজনশীল কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকে; এসব হলো পাগল ছাগলের কাজ। তারা নিজেদেরকে এ যায়গায় থেকে অনেক স্মার্ট মনে করে। অনেক সময় দেখা যায় একটা লেখা ফেসবুক বা ব্লগে দিয়েছি অনেক ওভার স্মার্ট লোক-জন পাগলের প্রলাপ বলে স্ক্রোল করে চলে যায়।
নিজের দু'কলম লেখার শক্তি নেই নিধি রাম সর্দার। অন্যকে পাগল, ছাগল বলাটা অনেক সহজ। নিজেকে অন্য কেউ গাধা বললে সেটা উপলব্ধি করাটা অনেক কঠিন। পাগল তো পাগলই। কিন্তু সাধনাকারী পাগলকে চিনতে হলে মাথায় কিছু থাকা তো লাগবে।
ওভার স্মার্ট লোকেরা ব্যক্তির কর্মের চেয়ে ব্যক্তির নিজস্বতাকে আঘাত করে বেশি। কারন, তারা সামাজিকতা, সভ্যতা ও সংস্কৃতি ভূলে গিয়ে নতুন মেকি তত্ত্বের গোড়ায় দাড় করিয়েছে নিজেদের।
বাস্তবতা এবং আবেগের আস্ফালন
বাস্তবতা এবং আবেগ দুটো বিপরীতমূখী জিনিস। তারপরও আবেগ না থাকলে বাস্তবতাকে বোঝা যায় না। ঠিক যেমন খারাপ না থাকলে ভালোকে উপলব্ধি করা যায় না। আমার বিরোধের যায়গাটা হলো অতি-আবেগে বাস্তবতা বিবর্জিত কর্মকাণ্ড।
নিজের জন্য কোনটা ঠিক বা বেঠিক এটা অন্তত বোঝার সক্ষমতা আমাদের অর্জন করা একান্ত প্রয়োজন। যেমন ধরুন,
বর্তমানে কর্পোরেট দুনিয়ায় রিয়েলিটি শো নামে একটি অতি আবেগের যায়গা তৈরি হয়েছে। এমনিতে সব যায়গায় একটা সেলিব্রটি সেলিব্রেটি ভাব থাকে; তার উপর ডান্ডাবেড়ি। এখনকার ছেলে-মেয়েরা ম্যাচিওরিটি অর্জন করার আগেই, বুঝতে শেখার আগেই নিজের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ঠিক করে ফেলে। সেটা অর্জন করার মত ক্ষমতা সে অর্জন করতে পারবে কিনা সেটাও তার আওতার বাইরে থাকে তখন। চোখের রঙিন চশমা যখন খুলে পড়ে তখন দিশেহারা অবস্থা।
আরো একটা সমস্যা আছে, সেটা হচ্ছে, আবেগের বশে অনেকেই নিজেকে ফিল্মি হিরো মনে করে। এটা খুবই খারাপ। জীবনের জন্য অশনি সংকেত। আগে এটুকু বুঝতে হবে যে, সবার জন্য সবকিছু না। এর সাথে বিকল্প চিন্তা-ভাবনাও থাকতে হবে। কারন, চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌছানোর পর চাওয়া-পাওয়ার আর কিছু থাকে না। আগে তো একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিলো, এখন তো পাওয়ার কিছু নেই। এরপর থেকে নিজের ভেতর শূন্যতা কাজ করবে। আগে একটা লক্ষ্য ছিলো, এখন তো সেট শেষ, তাই একাকিত্ব অনূভব হবে। মানে আপনি বেকার। বেকারত্বের জ্বালা প্রত্যেক পর্যবেক্ষনশীল বেকার মাত্রই বোঝেন।
নারীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন বিষয়টা হচ্ছে আত্মমর্যাদাবোধ, মূল্যায়নবোধ। নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে কোন কিছু অর্জন করাকে কৃতিত্ব বলা যায় না। সেটা মেকিতে পরিনত হয়। সেটার মধ্যে নিজস্বতা বলে কিছু থাকে না। অনেকে আছে স্রোতে গাঁ ভাসিয়ে দেয়। বেলাশেষে কান্না আর একাকিত্ব তাদের নিত্য সহচর হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রেও যারা স্রোতে গাঁ ভাসিয়ে দেয়, তাদের একই অবস্থা।
নিজের ভেতর আত্মবিশ্বাস থাকাটা ভালো। তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন যেটা, সেটা হচ্ছে নিজের সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা। যাদের নিজেদের সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। তারা নিজেদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারে না। যার নিজের সম্পর্কে কোন ধারণা নেই তার আত্মবিশ্বাস ঠুনকো। সে জীবন সম্পর্কে অনীহ এবং প্রতি পদে পদে সে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে; এতে কোন সন্দেহ নেই। বিশ্বাসের চেয়ে আস্থাই আপনাকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাবে; এতে কোন সন্দেহ নেই।
কারন, নিজের প্রতি আস্থা তৈরি হয় নিজের সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে। আর বিশ্বাস তো বিশ্বাসই। অজানা অচেনা এক আমি। ভালো কিছু করতে হলে আগে আবেগকে নিয়ন্ত্রন করতে শিখতে হবে, বাস্তবতা বুঝতে শিখতে হবে, নিজের সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে।
আবেগের কাছে নিজেকে ছেড়ে দিলে সেটা নিজের পায়ে নিজে কূড়াল মারার মত কাজ হবে। কর্পোরেট দুনিয়ায় স্বার্থ ছাড়া কেউ একপা আগায় না। যে সকল লোক কর্পোরেট ব্যবসার নামে রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যেমে নিজেদের প্রচারনা বাড়ানোর চেষ্টা করে তাদের ফাঁদে সহজে ধরা দিলে আপনি হয়ে উঠবেন ব্যবহায্য জিনিস। আপনি তখন আর মানুষ থাকবেন না। হয়ে উঠবেন পন্য। অনেকে এটাকে উপভোগ্য মনে করে। কিন্তু, আপনি যদি পা পিছলে পড়ে যান তাহলে আপনাকে টেনে তোলার লোক পাবেন না; উল্টো আপনার অবস্থা দেখে সবাই হাসাহাসি করবে। এ রকম পরিস্থিতিতে আপনার নিজের প্রতি যে আস্থাটুকু ছিলো তা ধ্বংস হতে বাধ্য। নিজেকে সেলিব্রটি ভাবাটা সহজ; মানুষকে বলানোটা অনেক অনেক কঠিন। নিজেকে যদি সেলিব্রেটিরুপে প্রকাশ করতে চান তাহলে নিজের সক্ষমতা এবং যে বিষয়টি চুজ করবেন সেটা নিয়ে বিস্তর ভাবুন। পাশাপাশি অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।
আমি বলছি না এগুলো খারাপ বা ভালো। তার আগে দরকাল হলো, জগৎ ও জীবন সম্পর্কে বিস্তর জানা শোনা। সময়ের তাগিদ থাকে। এটা বুঝতে না পারলে, আপনি দাড়িয়ে থেকেও পিছিয়ে পড়বেন। যেহেতু যুগের বিবর্তনে নতুনত্ব এসেছে সেহেতু তাকে জেনে, শুনে, বুঝে গ্রহণ করতে হবে।
যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তারা বিসিএস ছাড়া কিছুই বোঝে না বা পারিবারিকভাবে এটার জন্য এক ধরনের প্রেশারও ক্রিয়েট হয় অনেকের। বিসিএসের বাইরে যে জগতটা অনেক বড় এটা মনে হয় তাদের জানা-শোনার বাইরে। আসলে দেশে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করেছে কতিপয় লোক যেন বিসিএসই একমাত্র মেধা প্রকাশের যায়গা। আমার জানা মতে, বিসিএস এবং চাকরির পরিক্ষাগুলো পরিশ্রমের যায়গা। মেধা-মননের পরিচয় দেয়ার যায়গা আলাদা। এই আলোচনায় এটা নিয়ে আসার কারনটা হলো অনেকের এটা বাস্তবতা বিবর্জিত আবেগের যায়গা।
সরকারী চাকরি ছাড়া যেন এদেশে শিক্ষিত লোকের জীবনটাই বৃথা। আজব লাগে ব্যাপারটা! অনেকের সরকারী চাকরির আবেদনের বয়স পার হয়ে যায় তারপরও না পাওয়ার বেদনায় হাহুতাশ করে সময় নষ্ট করতে থাকে। দেশে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া যে ধরনের তাতে করে ধৈয্য ধরে সফলতার সাথে কার্যক্রম শেষে নিয়োগ পেতে পেতে আধা বয়স শেষ। তখন কোন মেয়েই আর টাকলা চুলপাকা লোককে বিয়ে করতে চায় না! যদিও টাকের সাথে টাকার একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে!
অপরাধ দমনে শাস্তি প্রথা কি অপরাধ কমায়
একটা বিষয় নিয়ে আজকে ভাবছিলাম। সেটা হচ্ছে, অপরাধ দমনে শাস্তি প্রদান প্রথা আসলেই কি অপরাধ কমাতে পারছে নাকি এটা অপরাধ করতে মানুষকে উৎসাহিত করছে। নাকি অন্য কোন পদ্ধতি অপরাধ কমাতে পারে।
আমি পড়ালেখা করে, চিন্তা-ভাবনা করে, বাস্তবে দেখলাম শাস্তি প্রদান করে কোন অপরাধ কমছে না। বরঞ্চ, দিন দিন অপরাধ-প্রবনতা বেড়েই চলেছে জ্যামিতিক হারে। এমনকি যারা রক্ষকের ভূমিকায় তারাও অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
দেশে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন করার পরও দেশে কিন্তু বহু অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার মত। যেখানে মৃত্যু জেনেও মানুষ অপরাধ করছে। সেটাকে আপনি ঠিক সমাধান বলতে পারেন না। হ্যাঁ এটা ঠিক, চাইলেই আমরা খারাপকে পৃথিবী থেকে বিতাড়িত করতে পারবো না বা চাইলেই সবকিছু ভালো হয়ে যাবে না। তবে আমরা নিয়ন্ত্রন কাঠামোর আওতায় রাখতে পারি। এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকার কথা নয়। সেটা মূর্খতা বৈ কিছু নয়।
যখন কোন ব্যক্তি একটি বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে যায় তখন তার কাছে সেটা কোন পরোয়া মনে হয় না। অনেক সময় সেটা উৎসাহের ব্যাপার হয়ে দাড়ায়। যারা জেলখানায় গেছে তাদের কাছে ওটা ডাল-ভাতের মত মনে হয়। তখন তার কাছে মনে হয় আমাকে তো কয়েকদিন আটকে রাখবে বা মরে তো একদিন যেতে হবে! অপরাধে শাস্তি প্রদান অপরাধীকে অপরাধ করতে উৎসাহিত করে বলে আমার মনে হয়েছে। অপরাধীর অন্তর্নিহিত চিন্তা-ভাবনা খেয়াল করলে বুঝতে সমস্যা হবে না।
অপরাধ দমনে সবার আগে সামগ্রিকভাবে অপরাধ সংঘটনের কারন এবং উৎস খুজে বাহির করতে হবে। যাতে করে সমূলে উৎপাটন করা যায় এবং অপরাধীকে শাস্তি না দিয়ে তার মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। কারন, অপরাধ সংঘটনের সাথে মানুষের বিকৃত চিন্তা-ভাবনার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কাউন্সেলিং করানো, বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিয়োগ করা যেতে পারে। এতে করে তার মানসিকতার উন্নয়ন হবে। স্বাভাবিক সামাজিক জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ হবে। তার ভেতর থেকে অপরাধ-প্রবনতা দূর হতে সাহায্য করবে।
তাছাড়া, একজন অপরাধী একই সাথে একজন মানুষ। মানুষ হিসেবে তার পূর্ন-অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। হয়তোবা, সে পারিপার্শ্বিকতার কোন না কোন কারনে অপরাধীতে পরিনত হয়েছে। সুযোগ পেলে সেও ভালো কিছু করতে পারতো।
সর্বোপরি, শিক্ষার বিকল্প নাই। তবে সেটা হতে হবে সেক্যূলার শিক্ষা-ব্যবস্থা। কেননা, নির্দিষ্ট শিক্ষা মানুষকে গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলে। শাস্তির পরিবর্তে যদি অপরাধীকে সংশোধনের ব্যবস্থা করা যায় আমার মতে সেটা অনেক বেশি কার্যকরী হবে। জেলখানার পরিবর্তে অপরাধী সংশোধনাগার গড়ে তোলা যেতে পারে। সেখানে তাদের শিক্ষা, মানসিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত করা গেলে তারা অপরাধের খাঁচা থেকে বাহির হয়ে আসতে পারবে বলে আমার মনে হয়। যারা প্রমান চান তারা ইন্টারনেট ঘেটে দেখে নিতে পারেন। এমন অনেক দেশ রয়েছে সেখানে জেলখানা বলতে কিছু নেই। যা ছিল সব অপ্রয়োজনীয় হয়ে বাজেয়াপ্তের খাতায় নাম লিখিয়েছে। এমনকি জেলখানার পরিবর্তে যে সংশোধনাগারগুলো গড়ে তুলেছিল সেগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে অপরাধীর অভাবে।
আজকে এ পর্যন্ত। সবাইকে ধন্যবাদ।
জঙ্গিবাদ ও এর উত্থান নিয়ে তর্ক এবং আমার মত
গত কয়েকদিন আগে আমার এক বন্ধুর সাথে ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে তুমুল তর্ক-বিতর্ক হচ্ছিলো। বিষয়টা ছিলো-জঙ্গিবাদের উত্থান এবং এটা কাদের সৃষ্টি। একপক্ষে আমি। অপরপক্ষে আমার জনৈক বন্ধু। সে বলছিলো এটা ইউরোপ, আমেরিকার সৃষ্টি। তারা তাদের স্বার্থে এটা তৈরি করেছে। আর আমার মত ছিলো এরকম যে, নিজেদের ভেতরকার সমস্যাটাকে আমরা স্বীকার না করে; অন্যের উপর দোষটা চাপিয়ে দিচ্ছি। কি রকম?
আমার মত হলো, আমরা নিজেরা মারামারি করছি। এবং আমেরিকা বা অন্যদেশগুলো এটার সুযোগ নিচ্ছে। আর সে বলছে, না তারা মুসলমানদের মধ্য বিভেদ লাগিয়ে মুসলমানদের ধ্বংস করার পায়তারা করছে।
এটাতো সহজ হিসাব, আমেরিকা তার স্বার্থে সমস্যাকে জিইয়ে রাখে। শেষ করতে চায় না। কারন, শেষ হলে তার লস। এবং তারা সব সময় সবকিছু ব্যবসায়িক সেন্স থেকে দেখে থাকে। লস প্রজেক্টে কখনো তারা বিনিয়োগ করবেই না। সেটা হোক সামরিক-বেসামরিক বা ব্যবসায়িক।
আর বেসিক্যালি তারা কখনো নিজেরা এসে যুদ্ধ করতে চায় না। কারন, তারা জানে কিভাবে একটি গুষ্ঠি বা দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ধ লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করতে হয়। এ হিসাবে আমেরিকা সুযোগটা তৈরি করার আগে পেয়ে গেছে। যেহেতু মুসলমানরা মারামারি করছে সেহেতু নতুন করে বাঁধানোর কিছু নেই।
তাছাড়া সমস্যাটা মুসলমানদের মজ্জাগত হয়ে দাড়িয়েছে। নবীর মৃত্যুর পর খলিফা নির্বাচন করার সময় থেকে নিজেদের মধ্যে মারামারির সুত্রপাত। এখনো সেই ক্ষমতার দ্বন্দ্ধ চলছে প্রতিনিয়ত। ইতিহাসের ছাত্র হিসাবে স্যারগণ আমাদেরকে এগুলো সুন্দর করে পড়িয়েছেন।
না জেনে, না বুঝে আমরা প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করে চলেছি। অন্যায়ভাবে আমরা অন্যের উপর নিজের অপরাধের দোষ চাপিয়ে দিচ্ছি অহরহ।
ঠিক আছে, তর্কের খাতিরে অনেক সময় জেতার লক্ষ্যে আমরা অনেক কথা বলি। কিন্তু, মিথ্যাচার করাটাতো অন্যায়। নিজেদের মধ্যকার সমস্যাকে আমলে না নিয়ে। সেটার সমাধান না করে। অন্যকে দোষারোপ করে, নিজেদের সমস্যাটাকে জিইয়ে রেখে, অন্যদেরকে সুযোগটা হাতে তুলে দিচ্ছি। আর ইয়া রব, ইয়া রব বলে হাহুতাশ করছি!
১৪০০ বছর ধরে যে সমস্যাটা চলছে চাইলেই কি একদিনে সমাধান করাটা সম্ভব? না। এটার জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং বাস্তবায়নমূখী পরিকল্পনা দরকার। সেক্যূলার শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। যেখানে কোন রকমের বৈষম্যের বাণী থাকবে না। থাকবে শুধু মানবতার জয়গান। যেখানে মানুষ মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখবে।
বৈষম্যহীন এক নতুন, সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি।
মন্তব্য বিড়ম্বনা
বর্তমান সময়ের একটি ডিজিটাল বিড়ম্বনার নাম ভার্চুয়াল মন্তব্য। এটা ঠিক পাবলিক প্লেসে কাঁদার মধ্যে হঠাৎ পড়ে যাওয়ার মত বা মাঝে মধ্যে তার থেকেও বড় ধরনের বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দেয়। ধরুন,
ফেসবুকে কেউ একটি পোস্ট দিলো। সেখানে ৫০ জন কমেন্ট বা মন্তব্য করল। এর মধ্যে এমন একটি অনাকাঙ্খিত কমেন্ট আসলো। যেটা আদৌ আপনি প্রত্যাশা করেননি।
এমনটা হওয়ার কিছু কারন রয়েছে। আমি মোটামুটি পর্যবেক্ষন করে ব্যক্তিগতভাবে যে কারনগুলো আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি; সেগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
০১. না ভেবে, না বুঝে পোস্ট বা মন্তব্য করাঃ
বাস্তবের জগতে আমরা যেমন কথা বলার সময় ভেবে বলি; ঠিক তেমনি ভার্চুয়াল মন্তব্য করার সময় ভেবে-চিন্তে করা উচিত। পাবলিক প্লেসে যেমন আপনি হঠাৎ করে কোন বেফাস মন্তব্য বা অযাচিত কথা বলতে পারেন না বা বললে আপনার ইজ্জত যায়। ঠিক তেমনি এটাও একটি ভার্চুয়াল পাবলিক প্লেস। ভেবে-চিন্তে পোস্ট বা মন্তব্য করুন।
০২. ভার্চুয়াল জগতের সঠিক ব্যবহার না জানাঃ
অধিকাংশ মানুষ ভার্চুয়াল জগতের নিয়ম-নীতি বা সঠিক ব্যবহার জানে না। যার ফলে মানুষ প্রতি পদে পদে ভুল করে। সর্বাগ্রে সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। তারপর ব্যবহার করতে হবে।
০৩. ব্যক্তিত্ববোধের অভাবঃ
প্রত্যেকটা মানুষের নিজস্বতা রয়েছে। আর এই নিজস্বতায় মানুষকে ব্যক্তিস্বত্বার কাঠামো থেকে ব্যক্তিত্ব প্রদান করে। ভার্চুয়াল জগতের আবির্ভাবে মানুষ তার নিজস্বতা হারাতে বসেছে দিন দিন। কোন পূর্ব-পরিকল্পনা ছাড়ায় নিজের সংবাদ অন্যের নিকট পৌছে দেয়ার এক অলিখিত তাগিদ তৈরি হয়েছে। এটা তার ব্যক্তিত্বের উপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে; সেটা কখনো ভেবে দেখে না। কোনটা সঠিক আর বেঠিক। এটা না বুঝে পরিবেশন করাটা বিড়ম্বনা তৈরি করে।
০৪. মূল্যবোধের হন্তারকঃ
বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা ভার্চুয়াল জগতকে মূল্যবোধ চর্চার ক্ষেত্র না বানিয়ে মূল্যবোধের হন্তারকে পরিনত করে ফেলছি। একটাই কারন, সঠিক এবং পরিমানমত ব্যবহার না করতে জানা।
০৫. অতি আবেগঃ
কথা বলার সময়-সুযোগ না পেলে কথা বলা যায় না। আর ভার্চুয়াল জগতে মন্তব্য করার জন্য এটা রেডি থাকে। এজন্য আমরা আবেগ ধরে রাখতে পারি না। না বুঝেই মন্তব্য করে বসি। যেটা আমাদেরকে খুব সহজেই বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দেয়। আবেগকে বস মানাতে হবে।
০৬. সেলিব্রেটি মনোভাবঃ
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যেমগুলোতে খুব সহজেই নিজের মনের কথাগুলো তুলে ধরা যায়। তাই বলে যদি আপনি হাড়ির সব খবর প্রকাশ করতে যান; তাহলে তো মন্তব্য বিড়ম্বনায় আপনাকে পড়তেই হবে। নিজেকে সেলিব্রেটি ভাবা যায় সহজে, কিন্তু মানুষকে ভাবানো অনেক অনেক কঠিন। নিজেকে সেলিব্রেটির কাতারে উঠাতে গিয়ে; ট্রোলে পরিনত করার কি দরকার!
সবশেষে, ভাবিয়া করিও পোস্ট, করিও মন্তব্য। করিয়া বিড়ম্বনায় পড়িও না।
তত্ত্ব-ভঞ্জন
"মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক।" "পৃথিবীতে কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত।" এই বাস্তবতার মধ্য দিয়েই 'মানুষ সামাজিক জীব।' তাছাড়া, যারা নীতি বা তত্ত্ব তৈরি করে, তারা নিজেদের চিন্তা-ভাবনা এবং নিজেদের অবস্থানগত পরিবেশের দ্বারা তত্ত্বটিকে প্রভাবিত করে ফেলে। এ কারনে, ঐটার মধ্যে আঞ্চলিক আধিপত্যকামিতা ও শ্রেষ্ঠত্ববোধ গেড়ে বসে। সবাই সবারটা শেষ্ঠ মনে করে। কিন্তু, প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী অঞ্চল বিশেষে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। একেরটা অন্যের উপর চাপিয়ে দিলে সমস্যা তো হবেই। আর যদি একান্তই দরকার হয়, তাহলে ঐ স্থানের পরিবেশের সাথে যেনো যায় এমনভাবে কাস্টমাইজ করে তারপর দেওয়া যায়। তবেই, সমস্যাটা কম হবে। যেমন, ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম যারা ইসলাম প্রচার করতে আসে, তারা এখানকার মানুষের সাথে যায় এমনই এক নতুন বাদ, সুফিবাদ তৈরি করেন। পীরতত্ত্ব খাড়া করেন। যদিও পীরতত্ত্ব নিয়ে অনেক নেতিবাচক সমালোচনা রয়েছে বাস্তবে। তারপরও এটা ঐ সময় মানুষকে ইসলামিক ধ্যান-ধারণার প্রতি আকৃষ্ট করে। কারন, এগুলো ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিপরীতে নতুন একটি অবস্থান তৈরি করেছিলো।
আর উগ্রপন্থা যে ক্ষতিকর সেটা আমরা বর্তমান সময়ে স্বচক্ষে দেখি। সেটা যে কোন ধরনের উগ্রপন্থা হতে পারে। ধর্মীয় হোক বা আদর্শিক বা অন্যান্য।
পৃথিবীতে কোন জিনিসই স্থায়ী নয়। সব কিছুই নশ্বর। আমরাও একদিন হারিয়ে যাবো। মহাশূন্যের অতল গহ্বরে। কাজেই, উগ্র হয়ে বদ-মেজাজ দেখিয়ে কি লাভ ভাই। মানুষ যদি মানুষ না বলে।
মানুষের আরেকটি স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলো, সে যেমন সবাইকে ঠিক তেমনটাই মনে করে বা তেমনটা ভাবতে তার ভালোও লাগে বা এর বাইরে সে ভাবতে পারে না। আরে ভাই, আমরা তো সবাই সবার মত। আপনার সাথে সব বিষয়ে আমার মিলবে না। এটাই স্বাভাবিক। সামাজিক কারনে কতিপয় বিষয় আমরা বাধ্য হয়ে মেনে চলি বা সেটা প্রয়োজন বলে। এর বেশি কিছু নয়। এটার উর্দ্ধে উঠতে না পারলে মানুষ আপনাকে মানুষ না ভেবে অন্য কোন প্রাণী ভাবতে পারে।
সর্বাগ্রে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। ভালো-মন্দ মিলিয়েই জীবন।
কে খারাপ, কে ভালো।
সবার আগে,
নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ো।
প্রয়োজনের পূজার ফুল
"আমি হলাম প্রয়োজনের পূজার ফুল।" আবার আগের মত। হয়তোবা পুরোটা নয় বা তার থেকেও বেশি।
মূল্যায়নহীন জীবন আর প্রাণহীন জড়মূর্তি সমান। উপরের নাম সর্বস্ব সম্মান দিয়ে কিছু হয় না। এটা বুঝতে সময় লাগলেও; একটা সময় সম্পর্কের ইতি টানে। যেটা রিকভার করা খুবই কঠিন। মানুষকে শুধু ব্যবহায্য করে তুললে তা হয় ভুল; কারণ মানুষের আবেগ-অনুভূতি রয়েছে।
ছোটখাটো ভুল থাকে সম্পর্কের মধ্যে; তাই বলে অনুভূতি কাজে লাগিয়ে ব্যবহার করলে, সেটা সম্পর্কটাকে নষ্ট করে দেয়।
খুব কাছ থেকে যদি কেউ আঘাত করে; সেটা অনেক বেশি যন্ত্রনাদায়ক। আবার কেউ পেছন থেকে আঘাত করলে সেটা অনেক মর্ম পীড়াদায়ক। সম্পর্কগুলো কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, নাম-সর্বস্ব সম্মান দেখিয়ে মূল্যায়নহীন করে তোলে কোনো একপক্ষ। যে কারণে সম্পর্কটা ইতি থেকে তিক্ততায় পরিনত হয়। যা কখনোই ভালো ফল বয়ে আনে না। উভয়েরই কোনো না কোনো দিক থেকে ক্ষতি করে। কম বা বেশি। এক্ষেত্রে তৃতীয় চক্ষু সেন্সরের কাজ করে। আমরা সচরাচার যেটার ব্যবহার থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে থাকি।
তৃতীয় চক্ষু মানুষের জীবনবোধ, ব্যক্তিত্ববোধ তৈরি করে। যা হারিয়ে ফেলেছি। তাই আবারও আবিষ্কারের চেষ্টায় রত। সব সম্পর্ক হোক মানবিক মূল্যায়ন সম্পর্ন ভালোবাসায় ভরা। এ আশায়; আজকের এ পর্যন্ত।
নমস্তে শিক্ষগুরু
একজন শিক্ষক হচ্ছেন জাতি গড়ার কারিগর। এই কথাটির মর্মার্থ অনেক গভীরে। আমরা সচারাচার বলি। কিন্তু এর ভিতরকার কথা বা কর্মকে উপলব্ধিতে আনতে পারি না। অনেকে আছে শিক্ষকতার মত একটি পবিত্র দায়িত্বকে নিজের প্যাশনের জায়গা থেকে ফ্যাশন মানে লুইচ্চামীর যায়গায় নিয়ে যায়। যারা ভালো, তারা ইহ-পারো সব যায়গায় ভালো। তারা নমস্যি।
কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যারা এমন একটি মহান পেশাকে কলুষিত করে। একজন রক্ষক তখনই স্বার্থক যখন তার দায়িত্বের আওতাধীনস্থরা নিরাপধবোধ করে, তার সিকিউরিটির আওতায় থেকে।
কিন্তু আমাদের সমাজ এবং শিক্ষা ব্যবস্থা এমন একটি যায়গায় পড়ে রয়েছে, যেখান থেকে বাহির করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের সমাজ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করে নতুন এবং আধুনিক একটি সমাজ বিনির্মানের দিকে এগিয়ে যেতে পারছি না। কতিপয় বিষয় বা জিনিস টিপে ধরেছে আমাদের কন্ঠনালীকে, যাতে করে আমরা সংস্কার এবং নতুন, আধুনিক একটি সমাজ বিনির্মান করতে পারি। একটু অগ্রসর হতে চাইলেই কি এক ধো তুলে গো ধরে সমাজপতিরা বসে পড়ে। আর উঠানো যায় না। তাদের আবার দলও ভারি হয়ে থাকে। অবশ্য তারা মানুষকে অন্ধকারে রেখে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করে। আর মানুষের বুঝতে না পারার কারণ 'অন্ধকার'।
এজন্য আলোর দরকার। আর সেটা হলো শিক্ষা এবং মানুষের উন্মুক্ত জ্ঞানের চিন্তা ও চর্চা। আর জ্ঞানার্জনের জন্য চাই বই এবং শিক্ষাগুরু অর্থাৎ শিক্ষক। আর এই শিক্ষাগুরুর হাত ধরেই শুরু হয় অন্ধকার থেকে আলোর পথে নামা। এখন প্রশ্ন হলো, একজন শিক্ষকের আদর্শ বা উদ্দেশ্য কি হওয়া দরকার?
প্রথমত, একজন শিক্ষকের প্রধান ব্রত হলো শিক্ষার্থীদের শেখানো। এ যায়গা থেকে বোঝা যায় শিক্ষকের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে সুস্থ্য-স্বাভাবিক পাঠ দান।
দ্বিতীয়ত, এটাই হচ্ছে একজন শিক্ষকের প্রধান আদর্শ। সেটা হচ্ছে, নৈতিক অবস্থান এবং নৈতিক চরিত্র। একজন শিক্ষকের তার ছাত্রদের উপর ব্যাপক প্রভাব থাকে। অনেকটাই পরিবার এবং পরিবেশের মত। এখন এই শিক্ষকের যদি কোন নৈতিক ভিত্তি না থাকে তাহলে তো তার শিক্ষকতা করার কোন কোয়ালিফিকেশনই থাকলো না। ছাত্ররা পাঠ পাবে কিন্তু মানুষ হতে পারবে না। তার কাছ থেকে কি বা শেখার থাকলো। পাঠ দান তো অন্যভাবেও হতে পারে।
আর শিক্ষকের যদি চরিত্র ভালো না হয়, তাহলে তো সে একজন শিক্ষকের মর্যাদা না পেয়ে পাবে লুইচ্চা উপাধী। কারণ, শিক্ষক নামধারী এসকল লোক শিক্ষকতার মত একটি মহান পেশাকে কলুষিত করে। তাই তারা লুইচ্চা।
আমার চোখের সামনে অনেক কিছু হতে দেখেছি। কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারিনি। এখন তো হরহামেশাই প্রতিবাদ করে রুখে দাড়ায়। কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেই না। আবার এই ভণ্ডদের কিছু অনুচর থাকে। তারা সব সময় গুরুর কু-কীর্তিকথার প্রশংসায় পঞ্চমূখ। এদের জন্যই সমাজের এই কীটগুলো দীর্ঘদিন ধরে সমাজের গায়ে এটে থাকতে সক্ষম হচ্ছে। এই অনুচররা আবার আনুগত্যশীল গাঁধার মত। নিজেদের চিন্তা করার ক্ষমতাকে ঘরের চালে গুজে রেখে দিছে। বাহির করার শক্তি আবার গুরুর মহান বাণীতে খেয়ে ফেলেছে।
দেশের আনাচে-কানাচে কতিপয় তথাকথিত শিক্ষক নামধারীদের আকাম-কুকামের কথা ছড়িয়ে রয়েছ। তারপরও সমাজের কাছে সত্য পরাহত। শিক্ষক বলে তাদের সব পাপ মাফ। অথচ সমাজের কথা বললেও সমাজপতিরা সমাজের কথা ভেবেও দেখে না যে, এটা দ্বারা তার এবং তার ভবিষৎ চৌদ্দগোষ্ঠির ক্ষতি করে রেখে যাচ্ছে।
পরিমল মাষ্টার, পান্না মাষ্টার থেকে শুরু করে আরো কত ভণ্ড যে সমাজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তা বলার অপেক্ষা রাখে না! এখানে শুধু ছাত্রী নয়, কওমী মাদ্রাসা, আলিয়া মাদ্রাসাসহ স্কুল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের যৌন নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হতে দেখা যায়। ছাত্রী ধর্ষন, নম্বর বেশি দেয়ার নাম করে ছাত্রীদেন সাথে অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হওয়াসহ নানাবিধ আকাম-কুকামের রেকর্ড রয়েছে এসকল ভণ্ডদের আর্কাইভে।
মালালা ইউসুফ জাই। একজন নোবেল বিজয়ী শিশু অধিকার এবং নারী শিক্ষা অধিকার আন্দোলন কর্মী। তিনি বলেছেন, একজন শিক্ষক, একটি কলম আর একটি বই সমাজকে বদলে দিতে পারে।
এরকম হাজারো বর্ণনা আমরা শুনি। কিন্তু, কতটুকু আমরা পরিবর্তনের পথে; ভালোর পথে এগোতে পারলাম, সেটা ভাবার সময় এসেছে। পান্না আর পরিমলদের খুজে মানসিক চিকিৎসা এবং বয়কট করার সময় এসেছে। একবিংশ শতাব্দী অন্য সময় থেকে পুরোটাই ভিন্ন। এখন পৃথিবী দ্রুত বিবর্তনশীল, পরিবর্তনশীল হয়ে পড়েছে। নিজেকে, নিজের সমাজকে, পৃথিবীকে পিছিয়ে রাখার কোন মানেই হয় না। আর যদি কেউ এই অপচেষ্টা করেও থাকে, তাহলে সে হয় বোকা না হয় ভণ্ড।
সম্মানিত শিক্ষকগণই পারেন সমাজ, জাতি এবং পৃথিবীকে নতুন এবং সুন্দর রুপ দিতে। নমস্তে শিক্ষাগুরু।
পাঠক কথন
না বুঝে ১০০ পেজ পড়ার চেয়ে, বুঝে ২০ পেজ পড়া বুদ্ধিমানের কাজ। অনেককে দেখা যায়, সারাদিন বইয়ের মধ্যে মাথা গুজে বসে থাকতে। দিনশেষে খালি মস্তিস্কে ফেরা। সবার আগে মনোযোগ দরকার। তার আগে দরকার মানসিক শৃংখলা। এটা না থাকলে কোন কাজই আপনি ভালোভাবে করতে পারবেন না। মানসিক অস্থিরতা যাদের মধ্যে কাজ করে তারা কখনোই সুস্থ্য-স্বাভাবিক মানুষের ন্যায় কাজ করতে পারে না।
কাজেই আপনার যদি মনোযোগ বসাতে সমস্যা হয়, তাহলে সব বাদ দিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে, মানসিক শৃংখলা আনার চেষ্টা করুন।
সক্রেটিসীয় কাঞ্চণ
আধুনিক সভ্যতা যেটা দিতে পারেনি, উত্তোরাধুনিক সভ্যতা সেটা খুব সহজেই দিবে। এখনই তো মানুষ তার অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে না-ভাবতে শুরু করেছে। একটা সময় মানুষের জীবনে অপ্রয়োজনীয় বলে কিছু থাকবে না। মানুষ তখন শুধু প্রয়োজন নিয়ে ভাববে। তারপর, অটোমেটিক্যালি মানুষের প্রয়োজন, অ-প্রয়োজন নিয়ে ভাবা লাগবে না। অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকারক বিষয়গুলো আপন ইচ্ছায় ধ্বংস হয়ে যাবে। বর্তমান সময়ে কিছুটা এ পথে মানুষ অগ্রসর হলেও, বেশিদূর আগাতে না পারলেও ভিত্তিটা মজবুত করে ফেলেছে। আর সেটা হলো তথ্য-প্রযুক্তি। তথ্য-প্রযুক্তি মানুষকে কতদূর এগিয়ে দিছে তা বোঝার জন্য নিজের হাতে থাকা স্মার্ট ফোনটা রেখে একসপ্তাহ ঘুরে বেড়ান, বুঝতে পারবেন। ভার্চুয়ালি মানুষ খুব দ্রুত আপডেটেড হয়ে যাচ্ছে। আগের দিনের মত, মানুষ সামান্য তর্ক থেকে কুকুরে ন্যায় কামড়া-কামড়ি করতেছে না। যদিও অনেকে যুদ্ধ আর কুকুর কামড়া-কামড়িকে এক করে ফেলে। আজকে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে মানুষ নতুন নতুন জ্ঞানের জন্ম দিচ্ছে। তারা নতুনকে আকড়ে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আমরাও। তবে আমাদের সমস্যা হলো আমরা পুরাতনকে, অতীতকে ছাড়তে পারি না। আকড়ে বেঁচে থাকতে চায়। অনুভূতি এখনো আমাদের পীড়া দেয়। এ যায়গা থেকে যদি আমরা না বাহির হতে পারি তাহলে আমরা খুব দ্রুততার সাথে পিছিয়ে পড়তে থাকবো সমগ্র পৃথিবী থেকে। আমরা বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ভেতরে অনেক দেশপ্রেমের পাশাপাশি দেশদ্রোহীতা কাজ করে। এখান থেকে বের হতে হবে। আধুনিক পৃথিবী যতদিন তার গ্লামার ধরে রাখতে পারবে ততদিন রাষ্ট্র-ব্যবস্থা টিকে থাকবে। এজন্য নিজের দেশকে সব কিছুর উর্দ্ধে রাখতে হবে। অবশ্য, প্রযুক্তি বিশ্বে দেশ বলে তেমন কিছু নেই। কারনটা হলো, সেখানে কিতাবী কারবার নাই। সেখানে যে কেউ চাইলেই পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই অন্যের দেশ বা বাড়ি গিয়ে ঘুরে আসতে পারে ভার্চুয়ালি।
সেখানে কেউ আপনাকে কোন কিছু দিয়ে আটকে দিবে না বা শারীরিক আঘাত করবে না। মানে আপনি তো সেখানে স্ব-শরীরে নাই।
আপনি আপনার মতামত সেখানে তুলে ধরতে পারেন খুব সহজে ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়ায়। তবে, এ যায়গায় কিছু অলিখিত নিয়ম মেনে চলতে হয়। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা না করাই শ্রেয়। তবে চাইলে, ভণ্ডামী বা রুপকের যেকোন একটির আশ্রয় নিতে পারেন, ডিপ্লোমেসি হিসেবে। অনেকেই নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে করে থাকে। যদি তার মতামত সংখ্যাগুরু উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে হয়।
আজকের প্রযুক্তি বিশ্বে মানুষের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। সবার সাথে নিজের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেয়া যায়। যদিও আন্তরিকতা নামক জিনিসটা কিছুটা লোপ পেয়েছে। তারপরও, আপনি আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া এক-পা আগাতে পারবেন না।
অনেকে প্রযুক্তির খারাপ দিকগুলো নিয়ে, প্রযুক্তিকে গালি দেয়। অথচ, দেখা যায় সে প্রযুক্তির ট্রাপে পড়ে আছে।
এবার মূল কথায় যায়, সমালোচনা, প্রশ্ন। সমালোচনা করা, প্রশ্ন করা যেনো মহাপাপ। এটা এজগৎ ওজগৎ কোন জগতেই যেন করা যাবে না বলে অলিখিত সংবিধান হয়ে গেছে। প্রশ্ন উত্থাপন করা মানে জাতীয় ভাবে হেয় হওয়া, জেল জরিমানার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।
আজকে একজন শিক্ষককে নিয়ে সমালোচনা দূরে থাক, তাকে নিয়ে আলোচনা করাই দুষ্কর। একটু যদি তার বিপক্ষে কথা যায়! মনে হয় সুযোগ থাকলে আমার চৌদ্দগোষ্ঠির খাতা-খতিয়ান উদ্ধার করে ছাড়ত।
এটা শুধু শিক্ষক নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মজ্জাগত হয়ে গেছে।
আর ধর্ম, সেটা তো আর বলা যাবে না। ধর্মীয়ভাবেই নিষেধ। তাই করি না। মৃত্যূর ভয়ে।
রাজনীতিবিদদের অবস্থা এখানে আশণ্কাজনক। এমন অবস্থা করে দেবে সমালোচনার কথা মাথা থেকে হাওয়া হয়ে যাবে।
সাংবাদিকদের অবস্থা কিছুটা সাদা বকের মত সুযোগ থাকলে লিখে জবাব দেয়, প্রতিবাদ করে। আর না থাকলে মনে মনে গালি দিয় শেষ।
অন্যান্য যারা আছে মোটামুটি সবাই একই রকম।
সময় এসেছে পরিবর্তনের। মনের সুখে নিজের স্বাধীনতা ভোগ করার। অন্যকে স্বাধীনতা দেয়ার। মানুষকে মানুষ ভাবতে শেখার।
আজ থেকে ২৫০০ বছর আগে জ্ঞানের গুরু সক্রেটিসই প্রথম সমালোচনা করা, প্রশ্ন করা শিখিয়েছিলেন যুব সমাজকে। তার সে পথ ধরে আজকে আমরা এ আধুনিক সভ্যতার গোড়াপত্তন করতে সক্ষম হয়েছি। আরো এগিয়ে নিতে হবে পৃথিবীকে। সবাই সবার অবস্থান থেকে গুরু সক্রেটিসের দেয়া মহান থিওরিকে কাজে লাগিয়ে মানব জাতির কল্যানে আমরা কাজ করবো। মানব জাতিকে কল্যানের পথে এগিয়ে নেবো। এ হোক আমাদের অঙ্গিকার।
সমালোচনা এবং প্রশ্ন নতুন নতুন জ্ঞানের জন্ম দেয়। নতুন আবিষ্কারের সন্ধান দেয়। এক শ্রেণীর লোক আছে যারা নতুন জ্ঞানের পথকে রুদ্ধ করে দিতে চায়। তারা আবার এই নতুন জ্ঞান নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর নিজেদের অংশ করে নেয়, নিজেদের আবিষ্কার বা সে আবিষ্কারের পথ-প্রদর্শক বলে দাবি করে। মানুষের মিথ্যাচারও যে একটা শিল্প হতে পারে, এটা তাদের না দেখলে বোঝানো মুশকিল। আধুনিক ভণ্ডদের অবস্থা আরো বেগতিক। তারা নিজেদেরকে আধুনিক পুরাতনবাদী বলে দাবী করে থাকে। পুরাতন কিভাবে আধুনিক নতুন হয় তা আমার বুঝে আসে না!
ভালোবাসার মূল্য থেকে মূল্যায়ন
মানুষ আপনাকে ভালোবাসে, তাই বলে আপনি সেই ভালোবাসাকে যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যবহার করতে পারেন না। আগে আপনাকে ভালোবাসা এবং অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে। ভালোবাসা এক জিনিস আর অধিকার আর এক জিনিস। ভালোবাসা আপনি পেতেও পারেন, আবার নাও পেতে পারেন। তবে, অধিকার আপনার প্রাপ্য জিনিস। অধিকার আপনি চাইলেও পাবেন, না চাইলেও এটা আপনার প্রাপ্য। আর ভালোবাসা আপনার কৃতকর্মের উপর নির্ভর করে। মানুষ আপনাকে ভালোবাসবে কি না, সেটা আপনার কৃতকর্মই নির্ধারণ করে দেবে।
মানুষ আপনাকে ভালোবাসে বলে আপনি সেখানে ভুল করেও কখনো অধিকার খাটাতে যাবেন না। যখনই আপনি এ ভুলটা করবেন তখনই মানুষ আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে থাকবে এবং মানুষ আপনার প্রতি ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে যাবে। অনেক ক্ষেত্রে এটা প্রকাশিত হবে না। তবুও, কখনো কখনো মানুষ আপনার পাশে আসবে বা থাকবে, তবে সেটার ভেতরে কোন আন্তরিকতা থাকবে না। অন্তশারশূন্য ভালোবাসায় পরিনত হবে। কতৃত্বপরায়ণ মানুষকে কেউই পছন্দ করে না। এমনকি যে কতৃত্বপরায়ণ সেও চায় না, কেউ তার উপর কতৃত্ব করুক। কাজেই, কতৃত্বপরায়ণ না হয়ে, যৌক্তক হতে হবে।
আবার তেলবাজি করতে যাবেন না, ভালোবাসা পাওয়ার জন্য। কারণ, মানুষ একটা সময় আপনার তেলবাজি ধরে ফেলবে। তখন আপনার ব্যক্তিত্ব তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। মানুষকে যদি আপনি বোকা ভেবে থাকেন, তবে ভুল করছেন। সৃষ্টিজগতে প্রত্যেক মানুষই শিশু হয়ে জন্মগ্রহণ করে। সবাই সমান এখানে। আপন ভালো, পাগলেও বোঝে। সুতরাং, নিজে এই পাগলামি না করে, ভণ্ডামীটা বাদ দিন। কারণ, তেলবাজি করে কখনো মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায় না। ভালোবাসা জিনিসটা মানুষের ইচ্ছা এবং অনুভূতির সাথে সম্পৃক্ত। এখানে তেলবাজি খুব সহজেই ধরা খেয়ে যায়। হয়তোবা, আগে আর পরে।
আবার, ভালোবাসার নামে কাউকে ঠকাবেন না। কারণ, এ কাজটা এখনো পর্যন্ত পৃথিবীতে সবচেয়ে ঘৃন্য এবং নিকৃষ্ট একটি কাজ। একজন ব্যক্তি আপনার দ্বারা প্রতারিত হয়ে হয়তোবা সাময়িকভাবে বিপদগ্রস্ত বা দিশেহারা হবে। কিন্তু, একসময় সে এটা কাঁটিয়ে উঠবে। তবে, আপনার প্রতি তার যে ঘৃনাবোধের জন্ম হবে, সেটাই একদিন আপনার জন্য পরোক্ষ শনি হয়ে দাঁড়াবে। কি দরকার ভাই, দু'দিনের দুনিয়ায় সামান্য স্বল্পমেয়াদী সুখের জন্য কেনো একজন মানুষকে আপনি ঠকাবেন, প্রতারণা করবেন? এসব নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিয়ে, নিজেকে একজন ইতিবাক চিন্তা-সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। দেখবেন, আপনাকে প্রতারণা বা ঠকানোর কোন পন্থা অবলম্বন ছাড়ায় মানুষ আপনার কাছে আসবে, ভালোবাসবে। আপনার যদি একটি শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব থাকে তাহলে প্রয়োজনে মানুষ আপনাকে অঘোষিত নেতা মানবে। আপনাকে আর প্রতারণা, ভণ্ডামী, ঠকানো, তেলবাজির আশ্রয় গ্রহণ করা লাগবে না। আগে নিজের একটি শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব গঠন করুন।
মানুষের ভালোবাসাকে মূল্যায়ন করতে শিখুন। তাহলে, মানুষের ভালোবাসা পাবেন। একজন মানুষ আপনাকে ভালোবেসে যাবে, আর আপনি এটাকে তার দূর্বলতা ভেবে অপ-ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। আমি বলছি, হ্যাঁ আমি বলছি, আপনি ভুল করছেন। মূল্যায়ন দিতে না জানলে, মূল্যায়ন পাওয়া যায় না। অপরকে সম্মান করুন, মানুষও আপনাকে সম্মান করবে।
ভালোবাসার মূল্য অপার। এটার গুরুত্ব বা প্রয়োজন ব্যাখ্যা করে বোঝানো অসম্ভব। ভালোবাসাহীন মানুষ চরম একাকিত্বে ভোগে। যেটা মানুষকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দার-প্রান্তে উপনিত করে। কাজেই, সহজ-সরল ভাবে চলাফেরা করুন, যৌক্তিক জীবনাচারের চর্চা করুন। দেখবেন মানুষ আপনাকে এমনিতে ভালোবাসবে। ভালোবাসার অভাব হবে না।
কিছু বাদ বা ইজম
মূল্যবোধ ও নৈতিকতাবাদ, মানবতাবাদ, নারীবাদ, ধর্মনিরপেক্ষবাদ, নাস্তিক্যবাদ, শিক্ষাবাদ, বিশ্বায়নবাদ, সংস্কৃতিবাদ।
প্রসঙ্গঃ স্বাধীনতা
১৯৪৭ সালের আগে যখন ভারতের রাজনীতিবিদগন ভারতের স্বাধীনতার কথা বলতেন তখন তাদের মূলনীতি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। এবং এর উপর ভিত্তি করেই ভারতের স্বাধীনতার প্রস্তাব পাশ হয়। পরে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত পাকিস্তান ভাগ হলেও নেতারা দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ ঘোষনা করেন। এবং সংবিধানও প্রণয়ন করেন ধর্মনিরপেক্ষতার উপর। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয় ধর্মনিরপেক্ষতার উপর ভিত্তি করে। কারণ, পাকিস্তান বাংলাদেশকে ধর্মের দোহায় দিয়ে চরম বাজেভাবে শোষন-শাসন করতে থাকে। কিন্তু, ধর্মনিরপেক্ষতার ধারক-বাহক নেতারা একবারও কি ভেবেছিলেন তারা এই স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে মৌলবাদের অভয়ারণ্য গড়ে রেখে যাচ্ছেন?
প্রত্যেকটা দেশই স্বাধীন হওয়ার কিছু দিন পর সংখ্যাগরিষ্ঠের দৌরত্বে আর ভোটের রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার রুপ ধীরে ধীরে হারাতে শুরু করে। বতর্মানে ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ তার ধর্মনিরপেক্ষ রুপ হারিয়ে কঙ্কালসার হয়ে পড়েছে।
অনেকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে নাস্তিকতা মনে করে! আমি হাঁসবো না কাঁদবো, মাঝে মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। একটা সহজ বিষয়কে কেনো ত্যাঁনা পেঁচিয়ে, ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এত দুর্বোধ্য করে ফেলা হয়! সামান্য গোষ্ঠি স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে একটি সার্বিক স্বার্থকে কেনো বিসর্জন দিতে হবে? এটা তো কোন সুস্থ্য-স্বাভাবিক মানুষের কাজ হতে পারে না!
সবাই যদি সবার মত করে একত্রে বসবাস করতে পারে কোন রকম বাঁধা-বিপত্তি ছাড়া। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে একটি জাতির জন্য। আর এটার জন্য চায় একটি ধর্মনিরপেক্ষ আইন ও একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ।
প্রসঙ্গ ভাষা
ভাষার আসলে বাস্তবে কোন ধর্মীয় পরিচয় নেই। এটা আসলে মানুষ বিভাজনের রাজনীতি করতে গিয়ে স্বার্থের খাতিরে তৈরি করেছে। যেমন, আরবের খ্রিষ্টান বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা আরবি ভাষায় কথা বলে। তার মানে তো এটা নয় যে তারা আরবি ভাষায় কথা বলে তাই তারা মুসলমানের ভাষা ব্যবহার করছে। একটা সময় ছিলো মুসলমানদের নবী-রসূলগন হিব্রু ভাষায় কথা বলতেন। তার মানে কি হিব্রু মুসলমানের ভাষা? কখনো না! হিব্রু এখন ইহুদিরা নিজেদের ভাষা করে নিয়েছে। আসল কথা হলো, ভাষা হলো মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। এটা অঞ্চল বিশেষে পার্থক্য হয়। ধর্ম বিশেষে নয়। তবে হ্যা, এটা সত্য, যে একজন ধর্ম-প্রবর্তক, প্রচারক যে অঞ্চলে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি সে অঞ্চলের ভাষাকে ঐ ধর্মের ভাষা বলে চালিয়ে দেন। এবং ঐ ভাষায় ধর্মীয় গ্রন্থ রচনা করেন। এর অবশ্য কারণ রয়েছে, আগের দিনে মানুষ নিজের ভাষার বাইরে অন্য ভাষা জানতেন না বললে অতুক্ত্যি হবে না। আর নিজের মাতৃভাষার প্রতি সব মানুষের মমত্ববোধ কাজ করে সব সময়। যারা আমিত্ববোধকে ছাড়তে পারে না তারা বাদে। তবে, আমি ভিনদেশী ভাষাকে অবজ্ঞা করছি না। বর্তমানে ভিনদেশী ভাষা শিখতে পারা মানে নিজের সামনে হাজারো জ্ঞানের দরজা খুলে যাওয়া। কিন্তু, নিজের মাতুভাষাকে অবশ্যই আগে গুরুত্ব দিয়ে শিখতে হবে।
প্রসঙ্গ দেশপ্রেম
আমরা যারা বাংলাদেশের নাগরিক তারা কি কখনো বাংলাদেশকে নিয়ে একটু ভাবি? আমার তো মনে হয় আমরা অকৃতজ্ঞের মত আচারণ করি দেশের সাথে। কারণ, আমরা দেশের খেয়ে, দেশের সেবা নিয়ে, দেশকে গালি দেই। এটা নেই, ওটা নেই। সরকারে এটা দিল না, ওটা দিল না। বাহ! কত সুন্দর অকৃতজ্ঞ আচরণ। দেশ আপনাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে, আইনের সুরক্ষা দিচ্ছে, কেউ আপনাকে এসে ধরে নিয়ে দাসে পরিনত করছে না, যা ইচ্ছা তাই বলছে না। আরো বহু রকমের পরোক্ষ সেবা। আর কি চাই? আরে ভাই, কিছু করতে পারেন আর না পারেন অন্তত অযাচিতভাবে গালি দেয়াটা বন্ধ করেন।
আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে দূর্বার গতিতে। একদিন বিশ্ব-মানচিত্রে অন্যতম দেশ হিসাবে স্ব-গৌরবে মাথা উচু করে দাঁড়াবে।
এখানে থাকবে না খাদ্যের অভাব। মানুষকে চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য আর দেশের বাইরে যাওয়া লাগবে না। থাকবে না সাম্প্রদায়িক হানাহানি! সব ধর্ম ও মতের মানুষ একত্রে বাস করবে পারস্পারিক সম্প্রীতি ও সৌহাদ্যের মধ্যে। পারস্পারিক সম্মান ও শ্রদ্ধা বজায় থাকবে। একে-অন্যের ভেতর কোন সন্দেহ বা আস্থাহীনতা থাকবে না। কেউ কাউকে জোর-জবরদস্তি করবে না। সবাই নিজস্ব ব্যক্তি-স্বাধীনতা নিয়ে বাস করতে পারবে। সবাই সবার স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারবে। থাকবে না অশিক্ষা-কুশিক্ষা। সবাই শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হবে। বাংলাদেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ। মত প্রকাশের পূর্ণ-স্বাধীনতা থাকবে। অনুভূতির দোহায় দিয়ে কেউ কারো মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে আটকে দেবে না।
এটাই হবে আমাদের আগামীর বাংলাদেশ।
সমালোচনা করা না-জায়েজ
আমাদের দেশে সমালোচনা করা আর নিজের নিরাপত্তা নিজে ক্ষুন্ন করা, একই কথা। অর্থাৎ, নিজের পায়ে নিজে কুঁড়াল মারা। কিছু উদাহরণ দিলে খুব সহজে বোঝা যাবে। যেমনঃ শিক্ষক (সম্মানেন জায়গা থেকে বলতে হবে), রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক থেকে শুরু করে মোটামুটি সবার একটা তালিকাভিত্তিক উদাহরণ টানতে হবে।
এটা ঠিক যে, সীমাবদ্ধতা থাকবে। তবে সেটা মেনে নিয়ে যদি কেউ কাজ করতে থাকে তাহলে তো সমালোচনার যায়গাটা উদার হতো, যৌক্তিক হতো আরো বেশি। (অভিজ্ঞতার আলোকে)
আমাদের দেশের শিক্ষকগন সব ছাত্রকে একইভাবে দেখেন এবং একই দৃষ্টিকোন থেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু, "পৃথিবীতে কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত।" কেউ বলতে পারে ভালো, কেউ লিখতে পারে ভালো, কেউ যোগাযোগে দক্ষ, আরো অনেক বিষয়ে অনেকে দক্ষ থাকে। এখন, আমি ইতিহাস পড়ি বলে আমাকে এটা নিয়ে স্বপ্ন দেখতে হবে, এটা নিয়ে পড়ে থাকতে হবে বা এটাই আমার সব হবে, এটা আসলে নিজের অজ্ঞতা ও মূর্খতাকে প্রকাশ করে।